জমজমাট ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি করল ইরান-নিউজিল্যান্ড

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ১১:২৪:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • ১৭৮ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : 

যুক্তরাষ্ট্রে হতে যাওয়া বিশ্বকাপে ইরানের খেলা নিয়ে শুরু থেকেই ছিল শঙ্কা। নানা নাটক ও বহুবার বয়কটের হুমকির পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে খেলতে নেমেছে ইরান। গ্রুপ জি তে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুইবার পিছিয়ে পড়েও ২-২ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে এশিয়ার দেশটি।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে লস অ্যাঞ্জেলেসে ঐতিহাসিক ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ইরান ও নিউজিল্যান্ড। ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য পিছিয়ে পড়ে এলোমেলো ফুটবল খেলা ইরান। নিউজিল্যান্ডের হয়ে জোড়া গোল করেন এলিজাহ জাস্ট। ইরানের প্রথম গোলটি করেন ম্যাচজুড়ে দারুণ খেলা রামিন রেজাইয়ান। পরে তার ক্রস থেকেই হেডে গোল করেন মোহাম্মাদ মোহেবি।

র‌্যাঙ্কিংয়ে ৮২ নম্বর নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ড্র করায় ২৩ নম্বরে থাকা ইরান নিশ্চিতভাবেই হতাশ। ম্যাচ শেষে ফুটবলাররা শরীরী ভাষাতে সেটা বুঝিয়েও দেন।

প্রতিযোগিতামূলক আসরে এই দুই দলের প্রথম লড়াই ছিল এটি। সবশেষটি ছিল সেই ২০০৩ সালে।

লস অ্যাঞ্জেলসে ম্যাচের প্রথম কয়েক মিনিটে ইরান চেপে নিউ জিল্যান্ডকে। কিন্তু নিউ জিল্যান্ড গোল পেয়ে যায় ম্যাচে তাদের প্রথম আক্রমণেই।

সপ্তম মিনিটে নিউ জিল্যান্ডের অর্ধের ভেতর থেকে আসা লম্বা বল বক্সের বাইরে ক্রিস উডের কাছে পৌঁছায়। তিনি বল ধরে রেখে ডান দিকে থাকা জাস্টের দিকে একটি পাস বাড়িয়ে দেন। ২৬ বছর বয়সী উইঙ্গার কিছুটা জায়গা তৈরি করে ডান পাশ দিয়ে বল পাঠান জালে।

গোল হজম করে হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলতে থাকে ইরান। বক্সের বাঁ পাশ থেকে তারেমি কাটব্যাক করে শট নিলেও লুফে নেন নিউজিল্যান্ডের গোলকিপার ম্যাক্স ক্রোকোম্ব। ইরানের আরও কয়েকটি আক্রমণ রুখে দেয় নিউ জিল্যান্ডের রক্ষণ।

ইরান হাই-লাইনে খেলতে থাকায় খেলা অনেকটা উন্মুক্ত হয়ে ওঠে ও প্রচুর আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ চলতে থাকে।

২৩তম মিনিটে গোলের সুবাস পেয়েও হারায় ইরান। মাঝখান দিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গিয়ে মেহদি তারেমি দূরপাল্লার এক শট নেন। গোলকিপার ক্রোকোম্ব বাঁ দিকে ঝাঁপিয়েও নাগাল পাননি, তবে বল ফিরে আসে ডান পাশে পোস্টে লেগে।

২৮তম মিনিটে বক্সের ভেতরে মার্কো স্টামেনিচের বাঁ পায়ের শট ধরে ফেলেন ইরানের গোলকিপার। পরের মিনিটেই ইরানের সামান গাডুসের ভলি ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপরই সমতা ফেরায় ইরান।

সামান গাদুস চেষ্টা করেন সামনের দিকে শাহরিয়ার মোগানলুকে পাস দেওয়ার, কিন্তু তিনি মাটিতে পড়ে যান। সতর্ক রেজাইয়ান কাছাকাছিই ছিলেন। তিনি ঘুরে গিয়ে ডান পায়ের পাশ দিয়ে বল জালে জড়ান।

পরের সময়টায় কিছুটা ভাটা পড়ে উত্তেজনায়। বলের নিয়ন্ত্রণ যদিও বেশি ছিল নিউজিল্যান্ডের। ৪৪তম মিনিটে উডের ফ্রি কিক সহজেই ধরে ফেলেন ইরানের গোলকিপার। পরের মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ক্যালাম ম্যাককাউয়াটের শটও ধরে নেন গোলকিপার। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে লম্বা থ্রো থেকে মোগারলুর হেড একটুর জন্য চলে যায় ওপর দিয়ে।

পরের মিনিটে ফ্রি কিক থেকে ইরানের ডিফেন্ডার আলি নেমাতির হেড জালে জড়িয়ে গেলেও তাদের উল্লাস দ্রুতই থেমে যায় সহকারী রেফারির উঁচিয়ে ধরা পতাকায়। অফসাইড!

প্রথমার্ধে গোলে ৯টি শট নিয়ে ৫টি লক্ষ্যে রাখে নিউ জিল্যান্ড। ইরানের ৭টির ২টি ছিল লক্ষে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবারও ধাক্কা খায় ইরান। ৫৪ মিনিটে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করে নিউজিল্যান্ডকে এগিয়ে নেন এলি জাস্ট। এই জোড়া গোলের মাধ্যমে ফিফা বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেন তিনি।

তবে নিউজিল্যান্ডের এই লিড বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি ইরান। ১০ মিনিট পরেই (৬৪ মিনিটে) মোহাম্মদ মোহেব্বির নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ম্যাচে ২-২ সমতা ফেরায় এশিয়ান পরাশক্তিরা।

ম্যাচের শেষ দিকে দুই দলই জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে লড়ে। বদলি খেলোয়াড় নামিয়ে আক্রমণের ধার বাড়ায় দুই পক্ষই। খেলা শেষের ঠিক আগে ৮৯ মিনিটে ইরানের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার এহসান হাজসাফি হলুদ কার্ড দেখেন। অতিরিক্ত সময়ে ইরানের একটি আক্রমণ নিউজিল্যান্ডের ডিফেন্ডার টমাস কর্নারের বিনিময়ে নসাৎ করলে জয় হাতছাড়া হয় ইরানের।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনের খসড়া ২০ কর্মদিবসের মধ্যে জমার নির্দেশ

জমজমাট ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি করল ইরান-নিউজিল্যান্ড

প্রকাশের সময় : ১১:২৪:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক : 

যুক্তরাষ্ট্রে হতে যাওয়া বিশ্বকাপে ইরানের খেলা নিয়ে শুরু থেকেই ছিল শঙ্কা। নানা নাটক ও বহুবার বয়কটের হুমকির পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে খেলতে নেমেছে ইরান। গ্রুপ জি তে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুইবার পিছিয়ে পড়েও ২-২ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে এশিয়ার দেশটি।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে লস অ্যাঞ্জেলেসে ঐতিহাসিক ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ইরান ও নিউজিল্যান্ড। ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য পিছিয়ে পড়ে এলোমেলো ফুটবল খেলা ইরান। নিউজিল্যান্ডের হয়ে জোড়া গোল করেন এলিজাহ জাস্ট। ইরানের প্রথম গোলটি করেন ম্যাচজুড়ে দারুণ খেলা রামিন রেজাইয়ান। পরে তার ক্রস থেকেই হেডে গোল করেন মোহাম্মাদ মোহেবি।

র‌্যাঙ্কিংয়ে ৮২ নম্বর নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ড্র করায় ২৩ নম্বরে থাকা ইরান নিশ্চিতভাবেই হতাশ। ম্যাচ শেষে ফুটবলাররা শরীরী ভাষাতে সেটা বুঝিয়েও দেন।

প্রতিযোগিতামূলক আসরে এই দুই দলের প্রথম লড়াই ছিল এটি। সবশেষটি ছিল সেই ২০০৩ সালে।

লস অ্যাঞ্জেলসে ম্যাচের প্রথম কয়েক মিনিটে ইরান চেপে নিউ জিল্যান্ডকে। কিন্তু নিউ জিল্যান্ড গোল পেয়ে যায় ম্যাচে তাদের প্রথম আক্রমণেই।

সপ্তম মিনিটে নিউ জিল্যান্ডের অর্ধের ভেতর থেকে আসা লম্বা বল বক্সের বাইরে ক্রিস উডের কাছে পৌঁছায়। তিনি বল ধরে রেখে ডান দিকে থাকা জাস্টের দিকে একটি পাস বাড়িয়ে দেন। ২৬ বছর বয়সী উইঙ্গার কিছুটা জায়গা তৈরি করে ডান পাশ দিয়ে বল পাঠান জালে।

গোল হজম করে হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলতে থাকে ইরান। বক্সের বাঁ পাশ থেকে তারেমি কাটব্যাক করে শট নিলেও লুফে নেন নিউজিল্যান্ডের গোলকিপার ম্যাক্স ক্রোকোম্ব। ইরানের আরও কয়েকটি আক্রমণ রুখে দেয় নিউ জিল্যান্ডের রক্ষণ।

ইরান হাই-লাইনে খেলতে থাকায় খেলা অনেকটা উন্মুক্ত হয়ে ওঠে ও প্রচুর আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ চলতে থাকে।

২৩তম মিনিটে গোলের সুবাস পেয়েও হারায় ইরান। মাঝখান দিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গিয়ে মেহদি তারেমি দূরপাল্লার এক শট নেন। গোলকিপার ক্রোকোম্ব বাঁ দিকে ঝাঁপিয়েও নাগাল পাননি, তবে বল ফিরে আসে ডান পাশে পোস্টে লেগে।

২৮তম মিনিটে বক্সের ভেতরে মার্কো স্টামেনিচের বাঁ পায়ের শট ধরে ফেলেন ইরানের গোলকিপার। পরের মিনিটেই ইরানের সামান গাডুসের ভলি ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপরই সমতা ফেরায় ইরান।

সামান গাদুস চেষ্টা করেন সামনের দিকে শাহরিয়ার মোগানলুকে পাস দেওয়ার, কিন্তু তিনি মাটিতে পড়ে যান। সতর্ক রেজাইয়ান কাছাকাছিই ছিলেন। তিনি ঘুরে গিয়ে ডান পায়ের পাশ দিয়ে বল জালে জড়ান।

পরের সময়টায় কিছুটা ভাটা পড়ে উত্তেজনায়। বলের নিয়ন্ত্রণ যদিও বেশি ছিল নিউজিল্যান্ডের। ৪৪তম মিনিটে উডের ফ্রি কিক সহজেই ধরে ফেলেন ইরানের গোলকিপার। পরের মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ক্যালাম ম্যাককাউয়াটের শটও ধরে নেন গোলকিপার। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে লম্বা থ্রো থেকে মোগারলুর হেড একটুর জন্য চলে যায় ওপর দিয়ে।

পরের মিনিটে ফ্রি কিক থেকে ইরানের ডিফেন্ডার আলি নেমাতির হেড জালে জড়িয়ে গেলেও তাদের উল্লাস দ্রুতই থেমে যায় সহকারী রেফারির উঁচিয়ে ধরা পতাকায়। অফসাইড!

প্রথমার্ধে গোলে ৯টি শট নিয়ে ৫টি লক্ষ্যে রাখে নিউ জিল্যান্ড। ইরানের ৭টির ২টি ছিল লক্ষে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবারও ধাক্কা খায় ইরান। ৫৪ মিনিটে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করে নিউজিল্যান্ডকে এগিয়ে নেন এলি জাস্ট। এই জোড়া গোলের মাধ্যমে ফিফা বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেন তিনি।

তবে নিউজিল্যান্ডের এই লিড বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি ইরান। ১০ মিনিট পরেই (৬৪ মিনিটে) মোহাম্মদ মোহেব্বির নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ম্যাচে ২-২ সমতা ফেরায় এশিয়ান পরাশক্তিরা।

ম্যাচের শেষ দিকে দুই দলই জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে লড়ে। বদলি খেলোয়াড় নামিয়ে আক্রমণের ধার বাড়ায় দুই পক্ষই। খেলা শেষের ঠিক আগে ৮৯ মিনিটে ইরানের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার এহসান হাজসাফি হলুদ কার্ড দেখেন। অতিরিক্ত সময়ে ইরানের একটি আক্রমণ নিউজিল্যান্ডের ডিফেন্ডার টমাস কর্নারের বিনিময়ে নসাৎ করলে জয় হাতছাড়া হয় ইরানের।