আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালকের পদত্যাগ, দায়িত্বে জামালুন্নেসা

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাম্প্রতিক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সৃষ্ট বিতর্ক ও তদন্তের প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের প্রশাসনিক পরিবর্তন এসেছে আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন স্বেচ্ছায় দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন। তার পদত্যাগের পর নতুন নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অধ্যাপক জামালুন্নেসা।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক (কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স) তারিকুল ইসলাম মুকুল স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় ধারাবাহিকতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তে অধ্যাপক জামালুন্নেসাকে নতুন নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন এবং সম্প্রতি স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন।

তার শিক্ষাগত যোগ্যতার মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অণুজীববিজ্ঞানে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিকাল মেডিসিন থেকে পিএইচডি অর্জন।

আদ-দ্বীন কর্তৃপক্ষ জানায়, সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটি গভীরভাবে মর্মাহত। প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার ইঙ্গিত পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে হাসপাতালের তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং চিকিৎসা প্রটোকল পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন ও নিরাপত্তা জোরদার করতে অবকাঠামোগত সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আলো-বাতাস চলাচল ও অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নে তিনজন স্বাধীন পরামর্শকের মাধ্যমে কাজ চলছে। এছাড়া কর্পোরেট অফিসের ওপরে থাকা একটি বেকারি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।

জানা গেছে, অধ্যাপক জামালুন্নেসা বিগত ২৫ বছরের অধিক সময় ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীববিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা করে সম্প্রতি স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছেন। তিনি ১৯৮৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিকাল মেডিসিন থেকে পিএইচডি লাভ করেন।

অলাভজনক প্রতিষ্ঠান আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশন ১৯৮০ সাল থেকে সমাজের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা, সাধারণ শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও আয়বৃদ্ধিমূলক প্রকল্প নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের অধীনে ৯ টি হাসপাতাল, ৫ টি মেডিকেল কলেজ, ১ টি নার্সিং কলেজ, ৪ টি নার্সিং ইনস্টিটিউট, ১ টি ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি, ১ টি কলেজিয়েট স্কুল এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশন জানায়, শুধুমাত্র আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মগবাজার ঢাকায় বিগত ২৯ বছরে ১ কোটি ৫৭ লক্ষ ৭৩ হাজার ২৯১ জন রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে এবং ১১ জুন ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রতিদিন বহির্বিভাগে প্রায় দুই হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন। এই হাসপাতালের সাথে সরাসরি ১,৭৯০ জন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মী যুক্ত রয়েছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী। আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজে বর্তমানে ২০৯ জন বিদেশি শিক্ষার্থীসহ ৬৪৬ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। দুই সহস্রাধিক চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী এবং শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষা ও পেশাগত ভবিষ্যতের জন্য এই প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল।

রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতার ব্যাপারে আদ্-দ্বীন অঙ্গীকার করছে।

আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, সম্প্রতি আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঘটে যাওয়া শিশু মৃত্যু জনিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় সমস্ত দেশের সাথে আমরাও গভীরভাবে শোকাহত। ইতোমধ্যে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও তদারকি ব্যবস্থা জোরদার এবং প্রোটকল পূণর্মুল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশন আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী আমরা আমাদের অবকাঠামো এবং ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে দৃঢ়ভাবে ইচ্ছুক। আমরা ইতোমধ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ পুরোদমে শুরু করেছি। আলো-বাতাস চলাচল তথা অক্সিজেনের উপস্থিতি সুগম করার জন্য তিনজন ইন্ডিপেনডেন্ট কনসালটেন্ট এর নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও পরিমার্জনের কাজ চলমান। কর্পোরেট অফিসের উপরে অবস্থিত বেকারিটি আমরা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছি।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ফতুল্লায় পদ্মা রেল সেতুর পিলারের নিচ থেকে মাটি উত্তোলন

আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালকের পদত্যাগ, দায়িত্বে জামালুন্নেসা

প্রকাশের সময় : ১২:১৫:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাম্প্রতিক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সৃষ্ট বিতর্ক ও তদন্তের প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের প্রশাসনিক পরিবর্তন এসেছে আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন স্বেচ্ছায় দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন। তার পদত্যাগের পর নতুন নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অধ্যাপক জামালুন্নেসা।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক (কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স) তারিকুল ইসলাম মুকুল স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় ধারাবাহিকতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তে অধ্যাপক জামালুন্নেসাকে নতুন নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন এবং সম্প্রতি স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন।

তার শিক্ষাগত যোগ্যতার মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অণুজীববিজ্ঞানে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিকাল মেডিসিন থেকে পিএইচডি অর্জন।

আদ-দ্বীন কর্তৃপক্ষ জানায়, সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটি গভীরভাবে মর্মাহত। প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার ইঙ্গিত পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে হাসপাতালের তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং চিকিৎসা প্রটোকল পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন ও নিরাপত্তা জোরদার করতে অবকাঠামোগত সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আলো-বাতাস চলাচল ও অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নে তিনজন স্বাধীন পরামর্শকের মাধ্যমে কাজ চলছে। এছাড়া কর্পোরেট অফিসের ওপরে থাকা একটি বেকারি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।

জানা গেছে, অধ্যাপক জামালুন্নেসা বিগত ২৫ বছরের অধিক সময় ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীববিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা করে সম্প্রতি স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছেন। তিনি ১৯৮৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিকাল মেডিসিন থেকে পিএইচডি লাভ করেন।

অলাভজনক প্রতিষ্ঠান আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশন ১৯৮০ সাল থেকে সমাজের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা, সাধারণ শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও আয়বৃদ্ধিমূলক প্রকল্প নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের অধীনে ৯ টি হাসপাতাল, ৫ টি মেডিকেল কলেজ, ১ টি নার্সিং কলেজ, ৪ টি নার্সিং ইনস্টিটিউট, ১ টি ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি, ১ টি কলেজিয়েট স্কুল এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশন জানায়, শুধুমাত্র আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মগবাজার ঢাকায় বিগত ২৯ বছরে ১ কোটি ৫৭ লক্ষ ৭৩ হাজার ২৯১ জন রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে এবং ১১ জুন ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রতিদিন বহির্বিভাগে প্রায় দুই হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন। এই হাসপাতালের সাথে সরাসরি ১,৭৯০ জন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মী যুক্ত রয়েছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী। আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজে বর্তমানে ২০৯ জন বিদেশি শিক্ষার্থীসহ ৬৪৬ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। দুই সহস্রাধিক চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী এবং শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষা ও পেশাগত ভবিষ্যতের জন্য এই প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল।

রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতার ব্যাপারে আদ্-দ্বীন অঙ্গীকার করছে।

আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, সম্প্রতি আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঘটে যাওয়া শিশু মৃত্যু জনিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় সমস্ত দেশের সাথে আমরাও গভীরভাবে শোকাহত। ইতোমধ্যে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও তদারকি ব্যবস্থা জোরদার এবং প্রোটকল পূণর্মুল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশন আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী আমরা আমাদের অবকাঠামো এবং ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে দৃঢ়ভাবে ইচ্ছুক। আমরা ইতোমধ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ পুরোদমে শুরু করেছি। আলো-বাতাস চলাচল তথা অক্সিজেনের উপস্থিতি সুগম করার জন্য তিনজন ইন্ডিপেনডেন্ট কনসালটেন্ট এর নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও পরিমার্জনের কাজ চলমান। কর্পোরেট অফিসের উপরে অবস্থিত বেকারিটি আমরা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছি।