রামিসা হত্যার বিচার দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে, ছয় শিশুর মৃত্যুতে পোস্টমর্টেম জরুরি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার বিচারকাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়া আদালতের বিষয় হলেও সাক্ষ্যগ্রহণসহ প্রসিকিউশনের দায়িত্ব সরকার যথাযথভাবে পালন করছে। একইসঙ্গে আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশু মৃত্যুর ঘটনায় পোস্টমর্টেম জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

মঙ্গলবার (২ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মামলায় এখন পর্যন্ত অধিকাংশ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। বাকি সাক্ষীদের আদালতে হাজির করার বিষয়ে সরকার সহযোগিতা করছে। তবে বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবার প্রত্যাশা দ্রুত বিচার সম্পন্ন হোক। আমরা সেই পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। তবে রায় কখন হবে বা কী হবে, তা সম্পূর্ণ আদালতের বিষয়।

মামলার তদন্তে নতুন কোনো ব্যক্তি জড়িত থাকার তথ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তিনি জানান, চিকিৎসক ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্যগ্রহণের মতো কিছু আনুষ্ঠানিকতা এখনও বাকি রয়েছে।

অন্যদিকে, রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ছয় শিশু মৃত্যুর ঘটনায় পোস্টমর্টেম জরুরি। ঘটনার কারণ এখনও তদন্তাধীন। হাসপাতালের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) বন্ধ থাকা, শ্বাসরোধজনিত পরিস্থিতি বা গ্যাস লিকেজ- সবকিছুই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, কী কারণে শিশুগুলো মারা গেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলতে তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ ঘটনায় মৃত শিশুদের ময়নাতদন্ত না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, পোস্টমর্টেম ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা কঠিন। এতে ভবিষ্যতে বিচারিক প্রক্রিয়ায় আসামিপক্ষ সুবিধা পেতে পারে।

অভিভাবকদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা তাদের দায়িত্ব। প্রয়োজনে দাফনের পরও আদালতের অনুমতি নিয়ে মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করা সম্ভব।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, যদি সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়ে থাকে, তা অবশ্যই নিন্দনীয়। আমরা এর নিন্দা জানাই।

তবে এ বিষয়ে মামলা হয়েছে কি না, তা জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমার জানামতে কোনো মামলা হয়নি। মামলা হলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের অধিকার রয়েছে এবং কোনো অবস্থাতেই তাদের বাধাগ্রস্ত করা উচিত নয়। তবে নির্দিষ্ট অভিযোগ ও আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তারের তথ্যও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক পর্যায়ের আসন্ন বৈঠকে সীমান্তসংক্রান্ত সব বিষয় উত্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছে সালাহউদ্দিন আহমদ।

সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্ডার কিলিং’ বলতে সাধারণত সীমান্ত বা শূন্যরেখায় এক দেশের বাহিনীর হাতে অন্য দেশের নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাকে বোঝায়। কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে অন্য দেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে সেখানে আইন ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট দেশ তাদের নিজস্ব আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে। এমন সব ঘটনাকে সীমান্ত হত্যা হিসেবে অভিহিত করা ঠিক হবে না।

পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে অভিযান ও সম্ভাব্য পুশব্যাকের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের তথ্য সরকারের নজরে এসেছে এবং সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ পুশইন বা পুশব্যাকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ অবস্থান নিয়েছে। তবে বৈধ প্রক্রিয়ায় পরিচয় যাচাই শেষে কোনো বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠানোর বিষয় হলে তা আইনানুগভাবে বিবেচনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

চট্টগ্রামের সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাস দমনে বিশেষ অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার এখনই পুরো পরিকল্পনা প্রকাশ করতে চায় না। কারণ আগাম তথ্য প্রকাশ পেলে অভিযান পরিচালনায় সমস্যা হতে পারে।

সরকারি খাসজমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত সাধারণ মানুষকে উচ্ছেদের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। তবে সেখানে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করা হবে বলেও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

ঈদুল আজহার ছুটিকালে সারাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব উদযাপন হয়েছে এবং রাজধানী ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এসেছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে এবং আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থায় আরও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এসব ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি গোষ্ঠী বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে।
ঈদকালীন নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের ধারণা, নিরাপদভাবেই ঈদ উদযাপন করা গেছে। জনগণও এর প্রশংসা করেছে। একইসঙ্গে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে যানজট কিছুটা হলেও কমেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তি ও এআইভিত্তিক ব্যবস্থাপনা চালু করা হয়েছে। এর ফলে যান চলাচলে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা ধাপে ধাপে সব গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অটোমেটেড ট্রাফিক সিস্টেম চালুর পরিকল্পনা নিয়েছি। এখন পর্যন্ত যে অংশ চালু হয়েছে, তার সুফল জনগণ পাচ্ছে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী, পুলিশ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশীয় প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষিত জনবল ব্যবহার করেই এই ব্যবস্থা পরিচালনা করা হচ্ছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কেবল সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়। এ কাজে ট্রাফিক পুলিশ, সিটি করপোরেশন এবং জনসচেতনতা সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন।

তিনি বলেন, জনগণ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ট্রাফিক আইন মেনে চলছেন। অটোমেটেড নজরদারি ও মামলা ব্যবস্থার কারণে সড়কে শৃঙ্খলা বাড়ছে।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও টমটম চলাচলের কারণে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সৃষ্টি হওয়া জটিলতার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে কয়েক বছরে বিপুলসংখ্যক ব্যাটারিচালিত যানবাহন সড়কে নেমেছে। এসব যানবাহনের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা জড়িত।

তিনি বলেন, পুনর্বাসনের বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া একসঙ্গে হাজার হাজার মানুষকে বেকার করে দেওয়া সম্ভব নয়। আমরা এমন একটি সমাধান খুঁজছি, যাতে তাদের কর্মসংস্থান বজায় থাকে, আবার মেট্রোপলিটন এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থাও বিঘ্নিত না হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্যাটারিচালিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন দুই বিষয়কে সমন্বয় করেই সরকার এগোতে চায়।

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের প্রথম জানাজার পর কিছু মানুষের মিছিল করার মধ্যে কোনো ‘অস্বাভাবিকতা’ দেখছেন না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রাজধানীর ধানমন্ডিতে সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমদের জানাজাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত কিছু ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে। তবে প্রথম জানাজার পর কিছু মানুষের মিছিল করার মধ্যে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখছি না।

তিনি বলেন, যদি কেউ অন্য কোনো মামলার আসামি হন বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করেন, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জামিন পাওয়া কয়েকজন আলোচিত সন্ত্রাসীর পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের কাছে শীর্ষ বা ক্ষুদ্র সন্ত্রাসী বলে আলাদা কোনো শ্রেণি নেই।কেউ অপরাধী বা অভিযুক্ত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জামিন দেওয়ার এখতিয়ার আদালতের।আদালত তাদের দায়িত্ব পালন করেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তাদের দায়িত্ব পালন করবে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে দীর্ঘদিনের অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি নতুন কোনো সমস্যা নয়; দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা একটি সংকট। রাতারাতি এর সমাধান সম্ভব না হলেও সরকার পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।

তিনি বলেন, এলাকাটিতে মাদকের বিস্তার তুলনামূলক বেশি। এ কারণে সরকার মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি অনলাইন ও অফলাইন জুয়া এবং বেটিং নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন প্রণয়নের কাজ চলছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রচলিত ১৮৬৭ সালের জুয়া আইন আধুনিক অপরাধ মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট নয়। নতুন আইনে অনলাইন জুয়া, বেটিং, অর্থপাচার ও আন্তঃদেশীয় অপরাধের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আগামী সংসদ অধিবেশনেই এ আইন উত্থাপনের চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে সার্কাস, অশ্লীল নৃত্য ও জুয়ার আসর বসার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেবে না। স্থানীয় প্রশাসন অনুমতি দিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। অনুমতি ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আবহাওয়া

রামিসা হত্যার বিচার দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে, ছয় শিশুর মৃত্যুতে পোস্টমর্টেম জরুরি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৫:৪২:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার বিচারকাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়া আদালতের বিষয় হলেও সাক্ষ্যগ্রহণসহ প্রসিকিউশনের দায়িত্ব সরকার যথাযথভাবে পালন করছে। একইসঙ্গে আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশু মৃত্যুর ঘটনায় পোস্টমর্টেম জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

মঙ্গলবার (২ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মামলায় এখন পর্যন্ত অধিকাংশ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। বাকি সাক্ষীদের আদালতে হাজির করার বিষয়ে সরকার সহযোগিতা করছে। তবে বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবার প্রত্যাশা দ্রুত বিচার সম্পন্ন হোক। আমরা সেই পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। তবে রায় কখন হবে বা কী হবে, তা সম্পূর্ণ আদালতের বিষয়।

মামলার তদন্তে নতুন কোনো ব্যক্তি জড়িত থাকার তথ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তিনি জানান, চিকিৎসক ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্যগ্রহণের মতো কিছু আনুষ্ঠানিকতা এখনও বাকি রয়েছে।

অন্যদিকে, রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ছয় শিশু মৃত্যুর ঘটনায় পোস্টমর্টেম জরুরি। ঘটনার কারণ এখনও তদন্তাধীন। হাসপাতালের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) বন্ধ থাকা, শ্বাসরোধজনিত পরিস্থিতি বা গ্যাস লিকেজ- সবকিছুই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, কী কারণে শিশুগুলো মারা গেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলতে তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ ঘটনায় মৃত শিশুদের ময়নাতদন্ত না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, পোস্টমর্টেম ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা কঠিন। এতে ভবিষ্যতে বিচারিক প্রক্রিয়ায় আসামিপক্ষ সুবিধা পেতে পারে।

অভিভাবকদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা তাদের দায়িত্ব। প্রয়োজনে দাফনের পরও আদালতের অনুমতি নিয়ে মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করা সম্ভব।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, যদি সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়ে থাকে, তা অবশ্যই নিন্দনীয়। আমরা এর নিন্দা জানাই।

তবে এ বিষয়ে মামলা হয়েছে কি না, তা জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমার জানামতে কোনো মামলা হয়নি। মামলা হলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের অধিকার রয়েছে এবং কোনো অবস্থাতেই তাদের বাধাগ্রস্ত করা উচিত নয়। তবে নির্দিষ্ট অভিযোগ ও আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তারের তথ্যও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক পর্যায়ের আসন্ন বৈঠকে সীমান্তসংক্রান্ত সব বিষয় উত্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছে সালাহউদ্দিন আহমদ।

সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্ডার কিলিং’ বলতে সাধারণত সীমান্ত বা শূন্যরেখায় এক দেশের বাহিনীর হাতে অন্য দেশের নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাকে বোঝায়। কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে অন্য দেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে সেখানে আইন ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট দেশ তাদের নিজস্ব আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে। এমন সব ঘটনাকে সীমান্ত হত্যা হিসেবে অভিহিত করা ঠিক হবে না।

পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে অভিযান ও সম্ভাব্য পুশব্যাকের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের তথ্য সরকারের নজরে এসেছে এবং সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ পুশইন বা পুশব্যাকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ অবস্থান নিয়েছে। তবে বৈধ প্রক্রিয়ায় পরিচয় যাচাই শেষে কোনো বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠানোর বিষয় হলে তা আইনানুগভাবে বিবেচনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

চট্টগ্রামের সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাস দমনে বিশেষ অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার এখনই পুরো পরিকল্পনা প্রকাশ করতে চায় না। কারণ আগাম তথ্য প্রকাশ পেলে অভিযান পরিচালনায় সমস্যা হতে পারে।

সরকারি খাসজমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত সাধারণ মানুষকে উচ্ছেদের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। তবে সেখানে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করা হবে বলেও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

ঈদুল আজহার ছুটিকালে সারাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব উদযাপন হয়েছে এবং রাজধানী ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এসেছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে এবং আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থায় আরও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এসব ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি গোষ্ঠী বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে।
ঈদকালীন নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের ধারণা, নিরাপদভাবেই ঈদ উদযাপন করা গেছে। জনগণও এর প্রশংসা করেছে। একইসঙ্গে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে যানজট কিছুটা হলেও কমেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তি ও এআইভিত্তিক ব্যবস্থাপনা চালু করা হয়েছে। এর ফলে যান চলাচলে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা ধাপে ধাপে সব গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অটোমেটেড ট্রাফিক সিস্টেম চালুর পরিকল্পনা নিয়েছি। এখন পর্যন্ত যে অংশ চালু হয়েছে, তার সুফল জনগণ পাচ্ছে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী, পুলিশ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশীয় প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষিত জনবল ব্যবহার করেই এই ব্যবস্থা পরিচালনা করা হচ্ছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কেবল সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়। এ কাজে ট্রাফিক পুলিশ, সিটি করপোরেশন এবং জনসচেতনতা সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন।

তিনি বলেন, জনগণ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ট্রাফিক আইন মেনে চলছেন। অটোমেটেড নজরদারি ও মামলা ব্যবস্থার কারণে সড়কে শৃঙ্খলা বাড়ছে।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও টমটম চলাচলের কারণে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সৃষ্টি হওয়া জটিলতার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে কয়েক বছরে বিপুলসংখ্যক ব্যাটারিচালিত যানবাহন সড়কে নেমেছে। এসব যানবাহনের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা জড়িত।

তিনি বলেন, পুনর্বাসনের বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া একসঙ্গে হাজার হাজার মানুষকে বেকার করে দেওয়া সম্ভব নয়। আমরা এমন একটি সমাধান খুঁজছি, যাতে তাদের কর্মসংস্থান বজায় থাকে, আবার মেট্রোপলিটন এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থাও বিঘ্নিত না হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্যাটারিচালিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন দুই বিষয়কে সমন্বয় করেই সরকার এগোতে চায়।

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের প্রথম জানাজার পর কিছু মানুষের মিছিল করার মধ্যে কোনো ‘অস্বাভাবিকতা’ দেখছেন না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রাজধানীর ধানমন্ডিতে সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমদের জানাজাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত কিছু ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে। তবে প্রথম জানাজার পর কিছু মানুষের মিছিল করার মধ্যে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখছি না।

তিনি বলেন, যদি কেউ অন্য কোনো মামলার আসামি হন বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করেন, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জামিন পাওয়া কয়েকজন আলোচিত সন্ত্রাসীর পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের কাছে শীর্ষ বা ক্ষুদ্র সন্ত্রাসী বলে আলাদা কোনো শ্রেণি নেই।কেউ অপরাধী বা অভিযুক্ত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জামিন দেওয়ার এখতিয়ার আদালতের।আদালত তাদের দায়িত্ব পালন করেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তাদের দায়িত্ব পালন করবে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে দীর্ঘদিনের অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি নতুন কোনো সমস্যা নয়; দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা একটি সংকট। রাতারাতি এর সমাধান সম্ভব না হলেও সরকার পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।

তিনি বলেন, এলাকাটিতে মাদকের বিস্তার তুলনামূলক বেশি। এ কারণে সরকার মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি অনলাইন ও অফলাইন জুয়া এবং বেটিং নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন প্রণয়নের কাজ চলছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রচলিত ১৮৬৭ সালের জুয়া আইন আধুনিক অপরাধ মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট নয়। নতুন আইনে অনলাইন জুয়া, বেটিং, অর্থপাচার ও আন্তঃদেশীয় অপরাধের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আগামী সংসদ অধিবেশনেই এ আইন উত্থাপনের চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে সার্কাস, অশ্লীল নৃত্য ও জুয়ার আসর বসার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেবে না। স্থানীয় প্রশাসন অনুমতি দিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। অনুমতি ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।