স্পোর্টস ডেস্ক :
হেক্সা মিশনের শুরুতেই হোঁচট খেলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। গ্রুপপর্বের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর ভিনিসিয়ুসের দুর্দান্ত গোলে ম্যাচে ফিরেছিল ঠিকই, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর ব্যবধান বাড়াতে পারেনি সেলেসাওরা। ম্যাচ শেষ হয় ১-১ গোলে। এ নিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে জয়বঞ্চিত হলো ব্রাজিল।
সেই সঙ্গে সামনে এসেছে অস্বস্তিকর এক ইতিহাসও। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ড্র করার পর কখনোই বিশ্বকাপ জিততে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এবারের আগে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তিনবার ড্র করেছিল ব্রাজিল। ১৯৭৪ সালে যুগোস্লাভিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র, ১৯৭৮ সালে সুইডেনের বিপক্ষে ১-১ এবং ২০১৮ সালে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ১–১ গোলে সমতা। এই তিন আসরের একটিতেও শিরোপা ছুঁতে পারেনি তারা।
১৯৭৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিল শেষ করেছিল চতুর্থ হয়ে। ১৯৭৮ সালে তৃতীয় স্থান পেলেও ট্রফির দেখা মেলেনি। আর ২০১৮ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল নেইমারদের।
অন্যদিকে ব্রাজিলের পাঁচটি বিশ্বকাপজয়ী অভিযানের দিকে তাকালে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ ও ২০০২—প্রতিবারই প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল সেলেসাওরা। পরে সেই আসরগুলোতেই শিরোপা জিতেছে তারা।
অবশ্য কাগজের পরিসংখ্যানে নয়, মাঠের পারফরম্যান্সেই ফলাফল নির্ধারিত হয়। এবারের আসরে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা কতদূর যেতে পারে এখন সেটাই দেখার বিষয়।
বাংলাদেশ সময় রোববার (১৪ জুন) ভোরে নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে ব্রাজিল। আরব দেশটির হয়ে একমাত্র গোলটি করেন ইসমাইল সাইবারি, আর ব্রাজিলের পক্ষে সমতাসূচক গোলটি আসে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পা থেকে।

দুই দলই ঘর সামলে আক্রমণের কৌশল নেওয়ায় কখনোই তেমন গতিময় ফুটবলের দেখা মেলেনি। গোলের জন্য শট নেওয়ার হিসেবে প্রথমার্ধে পরিষ্কার আধিপত্য ছিল মরক্কোর, প্রতিপক্ষের দ্বিগুণ তারা ১২টি শট নেয়; অবশ্য উভয় পক্ষেরই দুটি করে শট লক্ষ্যে ছিল।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ছয় ও সাত নম্বর দলের লড়াইয়ে দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি কমে যায় আরও। এই অর্ধে গোলে আরও সাতটি শট নেয় ষষ্ঠ স্থানে থাকা ব্রাজিল, মরক্কো দুটি; কিন্তু প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের কেউই তেমন আর পরীক্ষা নিতে পারেনি।
ম্যাচের শুরুর দিকে ব্রাজিল ছিল এলোমেলো, মরক্কো বেশ গোছানো। প্রথম কয়েক মিনিটে খেলাও চলে ব্রাজিলের অর্ধে। ষষ্ঠ মিনিটে একটি হাফ চান্সও পায় মরক্কো, নাইল এল আইনাউইয়ের শটটি ঠেকিয়ে দেন ডিফেন্ডার গাব্রিয়েল।
এরপর ধীরে ধীরে ওপরে উঠতে থাকে ব্রাজিল। দ্বাদশ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার নিশ্চিত সুযোগও পায় তারা; কিন্তু বাঁ দিক থেকে ভিনিসিউসের বাড়ানো ক্রস গোলমুখে পেয়ে ঠিকমতো হেড করতে পারেননি ইগোর থিয়াগো।
তাদের ওই হতাশা আরও বড় আকার ধারণ করে ২১তম মিনিটে, চমৎকার এক প্রতি-আক্রমণে এগিয়ে যায় মরক্কো। মাঝমাঠ থেকে হাওয়ায় ভাসিয়ে দারুণ এক থ্রু বল বাড়ান ব্রাহিম দিয়াস, বলের গতি-প্রকৃতি ঠিকমতো বুঝতে না পেরে ডি-বক্সের বাইরে চলে আসেন আলিসন, আর গতিতে দুই ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে চিপ শটে গোলরক্ষককের ওপর দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন সাইবারি।
বিশ্বকাপ অভিষেকেই জালের দেখা পেলেন পিএসভি আইন্দহোভেনের ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
ওই ধাক্কা সামলে ৩২তম মিনিটে লক্ষ্যে প্রথম শট নিতে পারে ব্রাজিল এবং তা থেকেই দুর্দান্ত একটি গোল করেন ভিনিসিউস। ব্রুনো গিমারেসের ফিরতি পাস ধরে, ডি-বক্সে বাঁ দিকে কাট করে একজনের বাধা এড়িয়ে জোরাল শটে দূরের পোস্ট দিয়ে গোলটি করেন রেয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড।
জাতীয় দলের হয়ে ৫০ ম্যাচে এটি তার দশম গোল, বিশ্বকাপে দ্বিতীয়।
বিরতির দুই মিনিট আগে গোল পেতে পারতেন লুকাস পাকেতা। তবে তার অ্যাক্রোবেটিব ভলি ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক।
দ্বিতীয়ার্ধে সময়ের সঙ্গে দুই দল যেন আরও বেশি সতর্ক হয়ে পড়ে। কারো খেলাতেই তেমন ধার ছিল না, বারবার ভুল পাসে দুই পাশেই সম্ভাবনাময় আক্রমণ ব্যর্থ হয়েছে।
৭৯তম মিনিটে শাণানো দ্রুত গতির এক প্রতি-আক্রমণে সুবর্ণ সুযোগ পান রাফিনিয়া। ভিনিসিউসের পাস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে গোলরক্ষক বরাবর দুর্বল শট নিয়ে হতাশা বাড়ান বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড।

কিছুক্ষণ পর ডিফেন্ডার ইসা দিওপের ভুলে বিপদে পড়তে যাচ্ছিল মরক্কো। তার ব্যাকপাসে তেমন গতি ছিল না, বলের দিকে ছুটে যাচ্ছিলেন রাফিনিয়া, সময়মতো ছুটে এসে ক্লিয়ার করেন ইয়াসিন বোনো।
১০ মিনিট যোগ করা সময়ের শেষ দিকে প্রতিপক্ষের একটি শট ঝাঁপিয়ে ধরতে গিয়ে বল হাতে রাখতে পারেননি আলিসন, ছুটে গিয়ে শট নেন আইনাউই, হাত বাড়িয়ে রুখে দেন লিভারপুল গোলরক্ষক।
এই ম্যাচের দুই গোলদাতা সাইবারি ও ভিনিসিউস জাতীয় দলের হয়ে যেসব ম্যাচে গোল করেছেন, সেসব ম্যাচে কখনও হারেনি তাদের দল। সেই ধারা বজায় রইল এখানেও।
বাংলাদেশ সময় আগামী শনিবার সকালে পরের ম্যাচে হাইতির মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। ওই দিনই ভোরে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে মরক্কো।
স্পোর্টস ডেস্ক 
























