স্পোর্টস ডেস্ক :
চলমান বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে হাইভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে নেমেছিল ক্রোয়েশিয়া ও ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধে দুই দল সমানে লড়াই করলেও দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের সেরাটা দিতে পারেনি ক্রোয়েশিয়া। আর এই সুযোগে প্রতিপক্ষে জালের আরও ২ গোল দেয় ইংল্যান্ড। এতে রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালিস্টদের ৪-২ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে ইংলিশরা।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ম্যাচে পেনাল্টি থেকে ইংল্যান্ডকে শুরুতে এগিয়ে নেন হ্যারি কেইন। পরে বাতুরিনার গোলে ক্রোয়েশিয়া কামব্যাক করলেও দুর্দান্ত হেডে দলকে আবারও লিড এনে দেন কেইন। বিরতিতে যাওয়ার আগে পিটার মুসা সমতা ফেরালেও দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ডের হয়ে জুড বেলিংহ্যাম ও মার্কাস রাশফোর্ড একটি করে গোল করেন।
কেইন ইংল্যান্ডকে এগিয়ে নেওয়ার পর, প্রথমবার সমতা ফেরান মার্তিন বাতুরিনা। কেইনের দ্বিতীয় গোলের পর, প্রথমার্ধেই স্কোরলাইন ২-২ করেন পেতার মুসা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে লিড পুনরুদ্ধার করেন জুড বেলিংহ্যাম। বদলি নেমে শেষ দিকে ব্যবধান বাড়ান মার্কাস র্যাশফোর্ড। এই দুটি গোলে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে গ্যারি লিনেকারের পাশে বসলেন কেইন, দুজনেরই ১০টি করে।
ম্যাচে প্রায় ৫২ শতাংশ পজেশন রেখে গোলের জন্য ২২টি শট নিয়ে ১১টি লক্ষ্যে রাখতে পারে ইংল্যান্ড। ২০১৮ বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট ক্রোয়েশিয়ার ১০ শটের পাঁচটি লক্ষ্যে ছিল।
ঘটনাবহুল এক পেনাল্টিতে দ্বাদশ মিনিটে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। বক্সে ননি মাদুয়েকেকে ক্রোয়েশিয়া অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। প্রথম দফায় কেইনের স্পট-কিক ঠেকিয়ে দেন দমিনিক লিভাকোভিচ। কিন্তু শট নেওয়ার আগেই তিনি লাইন ছেড়ে বেরিয়ে আসায় ভিএআরের সাহায্যে পুনরায় শট নিতে দেন রেফারি। এবার আর ভুল করেননি ইংল্যান্ডের সফলতম গোলস্কোরার।
দ্বিতীয় ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের তিন ভিন্ন আসরে (২০১৮, ২০২২, ২০২৬) গোল করার কীর্তি গড়লেন কেইন। প্রথম জন ডেভিড বেকহ্যাম (১৯৯৮, ২০০২, ২০০৬)।
বল দখলে আধিপত্য করে বারবার আক্রমণে উঠছিল ইংল্যান্ড। যদিও প্রতিপক্ষের রক্ষণে গিয়ে সুবিধা করতে পারছিল না তারা। এর মাঝেই ৩৬তম মিনিটে লক্ষ্যে নিজেদের প্রথম শটেই সমতা টানে ক্রোয়েশিয়া। বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির শটে গোলটি করেন বিশ্বকাপে অভিষিক্ত মার্তিন বাতুরিনা।
যদিও ক্রোয়াটদের ওই স্বস্তি বেশিক্ষণ থাকেনি। পাঁচ মিনিট পরই ডেক্লান রাইসের কর্নারে হেডে আবার দলকে এগিয়ে নেন কেইন। ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দারুণ একটি মৌসুম কাটিয়ে আসা কেইনের জাতীয় দলের জার্সিতে গোল হলো ৮১টি।
তবে ইংল্যান্ডের আনন্দ আবার মাটি হয়ে যায় প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে। মারিওর ক্রসে বক্সে ইভান পেরিসিচের হেড পাসে কাছ থেকে লক্ষ্যভেদ করেন পেতার মুসা।
দ্বিতীয়ার্ধের দ্বিতীয় মিনিটে ম্যাচে তৃতীয়বারের মতো এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ডান দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠেন জুড বেলিংহ্যাম। সঙ্গে লেগে থাকা প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে সুযোগ না দিয়ে বক্সে ঢুকে নিচু শট নেন রেয়াল মাদ্রিদ তারকা, বল দূরের পোস্টে লেগে জালে জড়ায়।
তিন মিনিট পর ব্যবধান বাড়তে পারত। ২০ গজ দূর থেকে বেলিংহ্যামের শট ব্লকড হয়ে কর্নার পায় ইংল্যান্ড। রাইসের কর্নারে নিকো ও’রাইলির প্রচেষ্টা লক্ষ্যে থাকেনি।
৫৫তম মিনিটে ডাবল সেভে ব্যবধান বাড়তে দেননি লিভাকোভিচ। কাছ থেকে ও’রাইলির পর অ্যান্থনি গর্ডনের হেড ফিরিয়ে দেন তিনি। একটু পর কেইনের শটও আটকে দেন ৩১ বছর বয়সী গোলরক্ষক।
৭৬তম মিনিটে মারিওর শট ফিরিয়ে দলকে এগিয়ে রাখেন ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মিনিট বাকি থাকতে ক্রোয়েশিয়ার ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ আশাটুকুও প্রায় শেষ করে দেন র্যাশফোর্ড। ৭২তম মিনিটে বদলি নামা এই ফরোয়ার্ড বক্সের বাইরে ফাঁকায় পাস পেয়ে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের বাধা এড়িয়ে গোলটি করেন।
২০২৪ ইউরোর ইংল্যান্ড স্কোয়াডে জায়গা পাননি তিনি। এবার বিশ্বকাপে দলের প্রথম ম্যাচেই করলেন গোল। বিশ্ব মঞ্চে তার চতুর্থ গোল এটি।
ম্যাচ শেষে বেলিংহাম বলেন, যখনই মাঠে নামি এবং বুকে দেশের লোগো আর পিঠে ১০ নম্বর জার্সিটা থাকে, দলের জন্য নিজের সবটুকু উজাড় করে দেওয়া আমার দায়িত্ব।
কেইন ম্যাচ নিয়ে বলেন, ম্যাচটি আসলে দুই অর্ধে দুই রকম হয়েছে। প্রথমার্ধের পর কোচ আমাদের বলেছিলেন, “হারলে হারব, কিন্তু আমরা আমাদের চেনা ছন্দ হারিয়ে ফেলছি।” দ্বিতীয়ার্ধে আমরা পুরো শক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম এবং ওরা আমাদের সেই গতির সঙ্গে পেরে ওঠেনি।
স্পোর্টস ডেস্ক 
























