আমাদের রাজনীতি বাংলাদেশের মানুষের জন্য : প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি : 

বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমাদের রাজনীতি হচ্ছে এই বাংলাদেশের মানুষের জন্য এবং সে জন্যই আমরা কৃষক ভাইদের পাশের দাঁড়ানোর জন্য খাল খনন কর্মসূচি যেমন শুরু করেছি। একই সাথে আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, কৃষক ভাইদের বীজ ও কীটনাশক ওষুধ কেনার জন্য এককালীন আড়াই হাজার টাকার একটি সুবিধা দিতে চাই এবং সেটি দেব কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ।

শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী এলাকায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনকালে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগেই বলেছি, আমাদের রাজনীতি হচ্ছে এই বাংলাদেশের মানুষের জন্য। আমরা জানি, গ্রামে-গঞ্জে মিলিয়ে বাংলাদেশে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ খেটে খাওয়া মানুষ। বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক হচ্ছে নারী, এই নারীদের দেশনেত্রী খালেদা জিয়া বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করে দিয়ে গেছেন। এই নারীরা যদি স্বাবলম্বী না হয়, তাহলে পুরুষের পাশে দাঁড়াতে পারবে না এবং বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারবে না। সে জন্য এই নারীদের স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষা বর্তমান সরকার ফ্রি করার ঘোষণা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, যারা ভালো করবে তাদেরকে আমরা উপবৃত্তিও দেব, সে ব্যবস্থাও আমরা রেখেছি।

বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস হচ্ছে জনগণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের শক্তি হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। সরকারের সাথে জনগণের সমর্থন আছে বলেই, যতক্ষণ আমাদের দেহে প্রাণ থাকবে, আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত এই দেশ এবং এই দেশের মানুষের জন্যই কাজ করে যাবো। এই কাজের মাধ্যমেই আমরা চেষ্টা করবো সর্বোচ্চ শক্তিতে দেশ ও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করার জন্য, কারণ এই দেশই হচ্ছে বিএনপির প্রথম ঠিকানা ও শেষ ঠিকানা।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় খাল খনন কর্মসূচির কাজ শুরু করতে চাই, পুনঃখননের কাজ শুরু করতে চাই। আগামী পাঁচ বছরে আমরা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করবো।

May be an image of crowd

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীদের স্বাবলম্বী করতে স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি করেছে সরকার। ভালো ফলাফলের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা। গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড।

দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করা এবং নারীদের স্বাবলম্বী করতে আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার ‘কৃষক কার্ড’ এবং মায়েদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে এখন থেকে স্নাতক (ডিগ্রি) পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোটের দাগ শুকানোর আগেই আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি। আমরা খাল খননের কাজ শুরু করেছি, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কার্যক্রমও শুরু করেছি।

তারেক রহমান বলেন, আমাদের দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া মেয়েদের ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। মেয়েরা শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী না হলে দেশ এগোতে পারবে না। তাই বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, স্নাতক বা ডিগ্রি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা সম্পূর্ণ ফ্রি করা হবে। শুধু তাই নয়, যারা ভালো ফলাফল করবে তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বাজেটে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে। এসব গ্রামীণ পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে মায়েদের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেওয়া হবে।

May be an image of one or more people and text

দেশের মানুষের চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ যাতে স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা পায়, সেদিকে আমরা বিশেষ নজর দিয়েছি। আগে একটি হার্টের রিং পরাতে প্রায় সোয়া লাখ টাকা খরচ হতো। আমরা হার্টের রিং ও কিডনি ডায়ালাইসিস-সংক্রান্ত ওষুধের ওপর থেকে ট্যাক্স ও ভ্যাট প্রত্যাহার করেছি। আগামী জুলাই থেকে এ খরচ অর্ধেকেরও নিচে নেমে আসবে।

সদ্য প্রস্তাবিত বাজেটের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেটের পর সাধারণত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ে। কিন্তু আল্লাহর রহমতে এবার কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। কারণ, চাল, ডাল, তেল, লবণসহ ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে বর্তমান সরকার ট্যাক্স প্রত্যাহার করেছে।

দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় বিদেশি পণ্যের ওপর কর বাড়ানোর বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা কৃষিপ্রধান দেশ হলেও শিল্প ও বাণিজ্য খাতকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। তাই দেশে উৎপাদিত পণ্যের সমজাতীয় বিদেশি পণ্যের ওপর আমরা কর বাড়িয়েছি, যাতে দেশীয় শিল্পকারখানাগুলো প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে পারে। পাশাপাশি মানুষের জন্য ক্ষতিকর মদ ও সিগারেটের ওপরও কর বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ওপর ট্যাক্স কমালাম, হার্টের রিংয়ের ট্যাক্স কমালাম; কিন্তু বিরোধী দল বলে তারা এই বাজেট মানে না। আমরা মদ ও সিগারেটের ওপর ট্যাক্স বাড়ালাম, বিদেশি পণ্যের ওপর কর বাড়ালাম; বিরোধী দল সেটিও মানে না। তাহলে তারা আসলে কী চায়? তাদের একটাই লক্ষ্য—দেশে অস্থিতিশীলতা ও অশান্তি সৃষ্টি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা। তারা জনগণের বন্ধু নয়।

May be an image of one or more people, speaker, crowd and text

জনগণের শক্তির ওপর আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের মালিক কোনো রাজনৈতিক দল বা পরিবার নয়, দেশের মালিক ২০ কোটি জনগণ। জনগণের সমর্থনই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। যতক্ষণ আমাদের ধড়ে প্রাণ থাকবে, আমরা এই দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব।

‘করবো কাজ, গড়ব দেশ’—এই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে কৃষক, নারী, শিক্ষার্থী ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের জন্য। সরকার দেশের ২০ কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বেলা ১১টার দিকে নিজ হাতে মাটি কেটে খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে দেশের জন্য কাজ করব—এমন প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছিলাম। আজ সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথেই এগিয়ে যাচ্ছি। পাতলী খাল পুনঃখনন শুধু একটি প্রকল্প নয়, এটি কৃষি, সেচ ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

তিনি বলেন, খালটি পুনঃখনন হলে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং বছরে প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। এসব কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের নগদ আড়াই হাজার টাকা প্রণোদনা দেওয়া হবে।

No photo description available.

তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর রাজনীতি। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই কৃষকদের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এবং তাদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নারী শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার পথ উন্মুক্ত করেছিলেন। আমরা সেই ধারাবাহিকতায় স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার উদ্যোগ নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, নারী শিক্ষার প্রসারে উপবৃত্তি কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েরাও উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গ্রামের সাধারণ মানুষ যাতে সহজে স্বাস্থ্যসেবা পায়, সেজন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। স্বল্পমূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।

এ সময় তারেক রহমান জানান, হার্টের রিং এবং কিডনি ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ ও ওষুধের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। যাতে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমে আসে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মালিক কোনো রাজনৈতিক দল নয়, দেশের মালিক ২০ কোটি জনগণ। তাদের কল্যাণেই সরকারের সব পরিকল্পনা ও কর্মসূচি।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান উচ্চারণ করে দেশের সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

পথসভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াত ত্যাগের ঘোষণা শেখ তারেকের

আমাদের রাজনীতি বাংলাদেশের মানুষের জন্য : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০১:০১:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি : 

বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমাদের রাজনীতি হচ্ছে এই বাংলাদেশের মানুষের জন্য এবং সে জন্যই আমরা কৃষক ভাইদের পাশের দাঁড়ানোর জন্য খাল খনন কর্মসূচি যেমন শুরু করেছি। একই সাথে আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, কৃষক ভাইদের বীজ ও কীটনাশক ওষুধ কেনার জন্য এককালীন আড়াই হাজার টাকার একটি সুবিধা দিতে চাই এবং সেটি দেব কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ।

শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী এলাকায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনকালে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগেই বলেছি, আমাদের রাজনীতি হচ্ছে এই বাংলাদেশের মানুষের জন্য। আমরা জানি, গ্রামে-গঞ্জে মিলিয়ে বাংলাদেশে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ খেটে খাওয়া মানুষ। বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক হচ্ছে নারী, এই নারীদের দেশনেত্রী খালেদা জিয়া বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করে দিয়ে গেছেন। এই নারীরা যদি স্বাবলম্বী না হয়, তাহলে পুরুষের পাশে দাঁড়াতে পারবে না এবং বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারবে না। সে জন্য এই নারীদের স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষা বর্তমান সরকার ফ্রি করার ঘোষণা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, যারা ভালো করবে তাদেরকে আমরা উপবৃত্তিও দেব, সে ব্যবস্থাও আমরা রেখেছি।

বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস হচ্ছে জনগণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের শক্তি হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। সরকারের সাথে জনগণের সমর্থন আছে বলেই, যতক্ষণ আমাদের দেহে প্রাণ থাকবে, আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত এই দেশ এবং এই দেশের মানুষের জন্যই কাজ করে যাবো। এই কাজের মাধ্যমেই আমরা চেষ্টা করবো সর্বোচ্চ শক্তিতে দেশ ও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করার জন্য, কারণ এই দেশই হচ্ছে বিএনপির প্রথম ঠিকানা ও শেষ ঠিকানা।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় খাল খনন কর্মসূচির কাজ শুরু করতে চাই, পুনঃখননের কাজ শুরু করতে চাই। আগামী পাঁচ বছরে আমরা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করবো।

May be an image of crowd

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীদের স্বাবলম্বী করতে স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি করেছে সরকার। ভালো ফলাফলের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা। গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড।

দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করা এবং নারীদের স্বাবলম্বী করতে আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার ‘কৃষক কার্ড’ এবং মায়েদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে এখন থেকে স্নাতক (ডিগ্রি) পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোটের দাগ শুকানোর আগেই আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি। আমরা খাল খননের কাজ শুরু করেছি, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কার্যক্রমও শুরু করেছি।

তারেক রহমান বলেন, আমাদের দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া মেয়েদের ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। মেয়েরা শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী না হলে দেশ এগোতে পারবে না। তাই বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, স্নাতক বা ডিগ্রি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা সম্পূর্ণ ফ্রি করা হবে। শুধু তাই নয়, যারা ভালো ফলাফল করবে তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বাজেটে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে। এসব গ্রামীণ পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে মায়েদের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেওয়া হবে।

May be an image of one or more people and text

দেশের মানুষের চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ যাতে স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা পায়, সেদিকে আমরা বিশেষ নজর দিয়েছি। আগে একটি হার্টের রিং পরাতে প্রায় সোয়া লাখ টাকা খরচ হতো। আমরা হার্টের রিং ও কিডনি ডায়ালাইসিস-সংক্রান্ত ওষুধের ওপর থেকে ট্যাক্স ও ভ্যাট প্রত্যাহার করেছি। আগামী জুলাই থেকে এ খরচ অর্ধেকেরও নিচে নেমে আসবে।

সদ্য প্রস্তাবিত বাজেটের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেটের পর সাধারণত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ে। কিন্তু আল্লাহর রহমতে এবার কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। কারণ, চাল, ডাল, তেল, লবণসহ ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে বর্তমান সরকার ট্যাক্স প্রত্যাহার করেছে।

দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় বিদেশি পণ্যের ওপর কর বাড়ানোর বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা কৃষিপ্রধান দেশ হলেও শিল্প ও বাণিজ্য খাতকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। তাই দেশে উৎপাদিত পণ্যের সমজাতীয় বিদেশি পণ্যের ওপর আমরা কর বাড়িয়েছি, যাতে দেশীয় শিল্পকারখানাগুলো প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে পারে। পাশাপাশি মানুষের জন্য ক্ষতিকর মদ ও সিগারেটের ওপরও কর বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ওপর ট্যাক্স কমালাম, হার্টের রিংয়ের ট্যাক্স কমালাম; কিন্তু বিরোধী দল বলে তারা এই বাজেট মানে না। আমরা মদ ও সিগারেটের ওপর ট্যাক্স বাড়ালাম, বিদেশি পণ্যের ওপর কর বাড়ালাম; বিরোধী দল সেটিও মানে না। তাহলে তারা আসলে কী চায়? তাদের একটাই লক্ষ্য—দেশে অস্থিতিশীলতা ও অশান্তি সৃষ্টি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা। তারা জনগণের বন্ধু নয়।

May be an image of one or more people, speaker, crowd and text

জনগণের শক্তির ওপর আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের মালিক কোনো রাজনৈতিক দল বা পরিবার নয়, দেশের মালিক ২০ কোটি জনগণ। জনগণের সমর্থনই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। যতক্ষণ আমাদের ধড়ে প্রাণ থাকবে, আমরা এই দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব।

‘করবো কাজ, গড়ব দেশ’—এই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে কৃষক, নারী, শিক্ষার্থী ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের জন্য। সরকার দেশের ২০ কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বেলা ১১টার দিকে নিজ হাতে মাটি কেটে খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে দেশের জন্য কাজ করব—এমন প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছিলাম। আজ সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথেই এগিয়ে যাচ্ছি। পাতলী খাল পুনঃখনন শুধু একটি প্রকল্প নয়, এটি কৃষি, সেচ ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

তিনি বলেন, খালটি পুনঃখনন হলে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং বছরে প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। এসব কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের নগদ আড়াই হাজার টাকা প্রণোদনা দেওয়া হবে।

No photo description available.

তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর রাজনীতি। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই কৃষকদের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এবং তাদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নারী শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার পথ উন্মুক্ত করেছিলেন। আমরা সেই ধারাবাহিকতায় স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার উদ্যোগ নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, নারী শিক্ষার প্রসারে উপবৃত্তি কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েরাও উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গ্রামের সাধারণ মানুষ যাতে সহজে স্বাস্থ্যসেবা পায়, সেজন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। স্বল্পমূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।

এ সময় তারেক রহমান জানান, হার্টের রিং এবং কিডনি ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ ও ওষুধের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। যাতে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমে আসে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মালিক কোনো রাজনৈতিক দল নয়, দেশের মালিক ২০ কোটি জনগণ। তাদের কল্যাণেই সরকারের সব পরিকল্পনা ও কর্মসূচি।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান উচ্চারণ করে দেশের সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

পথসভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।