‘আগামী দুই মাসের মধ্যে শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তি হতে পারে’

নিজস্ব প্রতিবেদক :

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল পরিচালনায় আগামী দুই মাসের মধ্যে চুক্তি হতে পারে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। এ আভাস দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী ডিসেম্বরেই টার্মিনালটি উদ্বোধনের জন্য ‘যথাসাধ্য চেষ্টা’ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে বেবিচক কার্যালয়ের এক কর্মশালায় সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন বেবিচক চেয়ারম্যান।

থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ। টার্মিনালটি নির্মাণের জন্য নেওয়া ঋণের কিস্তিও শুরু হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী ডিসেম্বর থেকে টার্মিনালটি চালু করতে চায় সরকার। কিন্তু টার্মিনাল টি যারা চালাবেন, সেই জাপানিজ কোম্পানিগুলোর জোট বা কনসার্টিয়ামের সঙ্গে সরকারের মন্ত্রী পর্যায়ে কয়েক দফা বৈঠকের পরেও চুক্তি সম্পন্ন হয়নি।

চুক্তির পর টার্মিনালে বসানো যন্ত্রগুলোর দায়িত্ব নিয়ে সেগুলো চালিয়ে পরীক্ষণ বা ক্যালিব্রেশনের কাজ শুরু করবে কনসোর্টিয়াম। তারা লোকবল নিয়োগ করবে। বড় টার্মিনানের ক্ষেত্রে ক্যালিব্রেশনেই কয়েক মাস সময় লাগে বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। এই পরিস্থিতিতে ডিসেম্বরে টার্মিনালটি চালু করা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

তবে মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলছেন, তারা যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ডিসেম্বরে টার্মিনালটা চালু করার জন্য। এই দফায় টার্মিনালিটি উদ্বোধনের পর এর অপারেশনাল কর্মকাণ্ড আর বন্ধ হবে না।

তিনি বলেন, জাপানিজরা ৩১ জুলাই দরপত্র জমা দেবে। এরপর সিদ্ধান্ত। চুক্তি স্বাক্ষরের পর জানা যাবে পরবর্তী তারিখ। তবে অগাস্টের শেষে অথবা সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একবার এই টার্মিনালের উদ্বোধন করেছিলেন। তখন এর নাম দেওয়া হয়েছিল ‘সফট ওপেনিং’। উদ্বোধন হলেও টার্মিনালটির কাজ তখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।

চেয়ারম্যান বলছেন, আমরা জাপানিজদের অনুরোধ করেছি, উদ্বোধনের পর যেন অপারেশন বন্ধ না হয়। প্রথমদিকে ২০ থেকে ২৫ ভাগ ট্রাফিক ওখানে নিতে পারব। এরপর ধাপে ধাপে সিডিউল ফ্লাইটগুলো সেখানে শিফট হবে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালু না হলেও এই জুন থেকেই ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হয়েছে। ২০৫৬ সাল পর্যন্ত এই কিস্তি চলবে।

২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার বা ২৫ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকার প্রকল্পটি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই ৯০ ভাগ শেষ হয় বলে দাবি করা হয়েছিল। বিগত অন্তর্বর্তী সরকার চেষ্টা করেও থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার জন্য কোনো কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করতে পারেনি।

বিএনপি সরকার গত ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা নিলে ওই মাসেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান থার্ড টার্মিনাল চালুর নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী তোড়জোড় শুরু করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা।

মূলত থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পটি অর্থায়নে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) থাকায় তাদের দেশি কোম্পানির কাছে এটা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার কথা শুরু থেকেই হচ্ছিল।

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের হাল ধরা অন্তর্বর্তী সরকারও চারটি কোম্পানির একটি জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তি করে বিরাট এই অবকাঠামোটাকে ব্যবহারযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে ওই চুক্তি হয়নি।

জাপানি এই কনসোর্টিয়ামে রয়েছে জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো কর্পোরেশন, সোজিৎজ কর্পোরেশন ও নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট কর্পোরেশন।

গেল মার্চ ও এপ্রিলে সেই জাপানি কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসেছিলেন সরকারের চার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এক উপদেষ্টা।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

সালমানের ভাইরাল ভিডিও দেখে চিন্তিত অনুরাগীরা

‘আগামী দুই মাসের মধ্যে শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তি হতে পারে’

প্রকাশের সময় : ০৬:৫৮:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল পরিচালনায় আগামী দুই মাসের মধ্যে চুক্তি হতে পারে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। এ আভাস দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী ডিসেম্বরেই টার্মিনালটি উদ্বোধনের জন্য ‘যথাসাধ্য চেষ্টা’ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে বেবিচক কার্যালয়ের এক কর্মশালায় সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন বেবিচক চেয়ারম্যান।

থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ। টার্মিনালটি নির্মাণের জন্য নেওয়া ঋণের কিস্তিও শুরু হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী ডিসেম্বর থেকে টার্মিনালটি চালু করতে চায় সরকার। কিন্তু টার্মিনাল টি যারা চালাবেন, সেই জাপানিজ কোম্পানিগুলোর জোট বা কনসার্টিয়ামের সঙ্গে সরকারের মন্ত্রী পর্যায়ে কয়েক দফা বৈঠকের পরেও চুক্তি সম্পন্ন হয়নি।

চুক্তির পর টার্মিনালে বসানো যন্ত্রগুলোর দায়িত্ব নিয়ে সেগুলো চালিয়ে পরীক্ষণ বা ক্যালিব্রেশনের কাজ শুরু করবে কনসোর্টিয়াম। তারা লোকবল নিয়োগ করবে। বড় টার্মিনানের ক্ষেত্রে ক্যালিব্রেশনেই কয়েক মাস সময় লাগে বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। এই পরিস্থিতিতে ডিসেম্বরে টার্মিনালটি চালু করা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

তবে মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলছেন, তারা যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ডিসেম্বরে টার্মিনালটা চালু করার জন্য। এই দফায় টার্মিনালিটি উদ্বোধনের পর এর অপারেশনাল কর্মকাণ্ড আর বন্ধ হবে না।

তিনি বলেন, জাপানিজরা ৩১ জুলাই দরপত্র জমা দেবে। এরপর সিদ্ধান্ত। চুক্তি স্বাক্ষরের পর জানা যাবে পরবর্তী তারিখ। তবে অগাস্টের শেষে অথবা সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একবার এই টার্মিনালের উদ্বোধন করেছিলেন। তখন এর নাম দেওয়া হয়েছিল ‘সফট ওপেনিং’। উদ্বোধন হলেও টার্মিনালটির কাজ তখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।

চেয়ারম্যান বলছেন, আমরা জাপানিজদের অনুরোধ করেছি, উদ্বোধনের পর যেন অপারেশন বন্ধ না হয়। প্রথমদিকে ২০ থেকে ২৫ ভাগ ট্রাফিক ওখানে নিতে পারব। এরপর ধাপে ধাপে সিডিউল ফ্লাইটগুলো সেখানে শিফট হবে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালু না হলেও এই জুন থেকেই ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হয়েছে। ২০৫৬ সাল পর্যন্ত এই কিস্তি চলবে।

২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার বা ২৫ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকার প্রকল্পটি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই ৯০ ভাগ শেষ হয় বলে দাবি করা হয়েছিল। বিগত অন্তর্বর্তী সরকার চেষ্টা করেও থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার জন্য কোনো কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করতে পারেনি।

বিএনপি সরকার গত ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা নিলে ওই মাসেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান থার্ড টার্মিনাল চালুর নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী তোড়জোড় শুরু করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা।

মূলত থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পটি অর্থায়নে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) থাকায় তাদের দেশি কোম্পানির কাছে এটা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার কথা শুরু থেকেই হচ্ছিল।

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের হাল ধরা অন্তর্বর্তী সরকারও চারটি কোম্পানির একটি জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তি করে বিরাট এই অবকাঠামোটাকে ব্যবহারযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে ওই চুক্তি হয়নি।

জাপানি এই কনসোর্টিয়ামে রয়েছে জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো কর্পোরেশন, সোজিৎজ কর্পোরেশন ও নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট কর্পোরেশন।

গেল মার্চ ও এপ্রিলে সেই জাপানি কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসেছিলেন সরকারের চার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এক উপদেষ্টা।