নিজস্ব প্রতিবেদক :
মানবতাবিরোধী অপরাধসহ বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনার জন্য সরকার কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
সোমবার (২০ জুলাই) ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘বিমসটেকের তিন দশক : যৌথ সমৃদ্ধির জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতার অগ্রগতি’ শীর্ষক সেমিনারে শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বা সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল নন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সব পলাতক আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার সর্বোচ্চ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের সেই ঘটনায় প্রাণহানি ও রক্তক্ষয়ের স্মৃতি এখনো জাতিকে বেদনাহত করে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার প্রত্যাশা সরকারের রয়েছে।
ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়টি উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ ইসলাম আশা প্রকাশ করেন, প্রত্যর্পণের অনুরোধের বিষয়ে ভারত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।
সম্প্রতি আবারও আসাদুজ্জামান খানকে ফেরত চেয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতকে পৃথকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, আসাদুজ্জামান খান বাংলাদেশের আইনে বিচারাধীন। তিনি যেহেতু পলাতক আসামি, তাই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় চিঠি আমরা দিয়েছি। কূটনৈতিক রীতি, প্রোটোকল এবং প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার সম্পন্ন করা হবে।শেখ হাসিনাসহ অন্য পলাতক আসামিদের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
ভারতের কাছ থেকে কী ধরনের সাড়া প্রত্যাশা করছেন-এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, চিঠিটি সম্প্রতি পাঠানো হয়েছে এবং এটি শুধু সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করেই দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, যখন যে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, আইন মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা করবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। যারা পলাতক আসামি, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের ঘটনাবলির দুই বছর পূর্তিতেও নিহতদের পরিবার শোক বহন করছে। তাই সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি, চিঠি পাঠিয়েছি। এখন ভারতের প্রতিক্রিয়া তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে আমরা আশা করি, ভারত ইতিবাচক সাড়া দেবে এবং দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রতি সম্মান দেখিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
ওবায়দুল কাদেরসহ অন্য পলাতক আসামিদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, সাধারণত প্রত্যেকের জন্য পৃথক চিঠি পাঠানো হয়। যারা পলাতক আসামি, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা চিঠি দিচ্ছি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















