Dhaka বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লাশ চুরির শঙ্কায় ছেলের কবর পাহারায় বাবা

টঙ্গীবাড়ী উপজেলা প্রতিনিধি : 

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে বজ্রপাতের নিহত এক যুবকের লাশ রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন তার বৃদ্ধ বাবা। এমনকি ঋণ করে লোক রেখেও চলছে এই পাহারা দেওয়ার কার্যক্রম। বজ্রপাতে কেউ মারা গেলে তার লাশ চুরি হয় এমনই আশঙ্কা থেকেই রাত জেগে সন্তানের কবর পাহারা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার কামারখাড়া সামাজিক কবরস্থানে বজ্রপাতে নিহত আরাফাতের কবরের পাশে বসে আছেন বাবা জসিম খান। সন্তানের কবর অক্ষত রাখা এবং মরদেহ চুরির শঙ্কা থেকেই রাতভর পাহারা দিচ্ছেন।

মৃত আরাফাতের বাবা জসিম খান বলেন, আমার ছেলে দর্জির কাজ করে সংসার চালাত। গরুর জন্য ঘাস আনতে গিয়ে বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়। লোকমুখে শুনেছি, বজ্রপাতে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের লাশ চুরি হয়ে যায়। এই লাশের হাড় গোড়সহ দেহ নানা কাজে লাগে। সেই ভয় থেকেই কবর পাহারা দিচ্ছি।

তিনি বলেন, আমি অসুস্থ মানুষ, সবসময় থাকতে পারি না। ২ ছেলের মধ্যে আরাফাত বড় ছিল। ছোট ছেলের বয়স মাত্র ১২ বছর। এই জন্য এলাকাবাসী মাঝে মধ্যে সহযোগিতা করলেও সব সময় পাহারা দিতে পারিনা। তাই ঋণ করে লোক রেখে কবর পাহারা দিতে হচ্ছে। নিজের সংসারই ঠিকমতো চালাতে পারছি না, তবুও ছেলের কবর রক্ষায় প্রতিদিন খরচ করতে হচ্ছে। প্রশাসন যদি কবর পাহারার ব্যবস্থা করত, তাহলে কিছুটা শান্তি পেতাম।

স্থানীয় বিপু মাতব্বর বলেন, কিছু দুষ্কৃতিকারী আমাদের এলাকা থেকে প্রায়ই মরদহ চুরি করে নিচ্ছে। বজ্রপাতে মারা গেলে ওই মরদেহের দাম নাকি অনেক বেশি। যার কারণে সেই ভয় আশংকা থেকেই পরিবারটি রাত জেগে তাদের সন্তানের লাশ পাহারা দিচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক এবং উদ্বেগজনক। তারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কবরস্থানের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে পরিবারটি এমন মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পায়।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার জানান, আমরা ইতোমধ্যে নিহতের দাফন কাফনের জন্য আর্থিক সহায়তা করেছি। কবর পাহারায় বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে পাহারার ব্যবস্থা করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও যদি আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজন হয় তাহলে আমরা সেটারও ব্যবস্থা করবো।

এদিকে বজ্রপাতে মৃতের মরদেহ চুরি কারণ জানতে স্থানীয় সচেতন মহলের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বজ্রপাতে মৃত ব্যক্তির মরদেহ চুরির মূল কারণ একটি ভ্রান্ত কুসংস্কার, যা সাধারণত গ্রাম এলাকায় বেশি প্রচলন আছে ।

ধারণা করা হয়, বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তির শরীর প্রাকৃতিক চুম্বক বা মূল্যবান কোনো ধাতুতে পরিণত হয়। এই কুসংস্কারের কারণেই অনেক সময় কবর থেকে লাশ চুরির আশঙ্কা দেখা দেয়। তবে বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এই ধারণার কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। এই লাশের বিশেষ কোনো কার্যকারিতা দেখা যায়নি। তবে সেই ধারণার বসবত হয়ে একটি চক্র কবর খুঁড়ে লাশ চুরি করে তা কোনো কঙ্কাল সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করে থাকে।

প্রসংগত, গত বৃহস্পতিবার মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার হাইয়ার পার এলাকায় বজ্রপাতে আরাফাত খান নামে ওই যুবক মারা যায়। তাকে দাফনের পর থেকেই প্রতিরাতে পাহারা দিচ্ছে তার পরিবার।

আবহাওয়া

লাশ চুরির শঙ্কায় ছেলের কবর পাহারায় বাবা

প্রকাশের সময় : ০২:৪৮:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

টঙ্গীবাড়ী উপজেলা প্রতিনিধি : 

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে বজ্রপাতের নিহত এক যুবকের লাশ রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন তার বৃদ্ধ বাবা। এমনকি ঋণ করে লোক রেখেও চলছে এই পাহারা দেওয়ার কার্যক্রম। বজ্রপাতে কেউ মারা গেলে তার লাশ চুরি হয় এমনই আশঙ্কা থেকেই রাত জেগে সন্তানের কবর পাহারা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার কামারখাড়া সামাজিক কবরস্থানে বজ্রপাতে নিহত আরাফাতের কবরের পাশে বসে আছেন বাবা জসিম খান। সন্তানের কবর অক্ষত রাখা এবং মরদেহ চুরির শঙ্কা থেকেই রাতভর পাহারা দিচ্ছেন।

মৃত আরাফাতের বাবা জসিম খান বলেন, আমার ছেলে দর্জির কাজ করে সংসার চালাত। গরুর জন্য ঘাস আনতে গিয়ে বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়। লোকমুখে শুনেছি, বজ্রপাতে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের লাশ চুরি হয়ে যায়। এই লাশের হাড় গোড়সহ দেহ নানা কাজে লাগে। সেই ভয় থেকেই কবর পাহারা দিচ্ছি।

তিনি বলেন, আমি অসুস্থ মানুষ, সবসময় থাকতে পারি না। ২ ছেলের মধ্যে আরাফাত বড় ছিল। ছোট ছেলের বয়স মাত্র ১২ বছর। এই জন্য এলাকাবাসী মাঝে মধ্যে সহযোগিতা করলেও সব সময় পাহারা দিতে পারিনা। তাই ঋণ করে লোক রেখে কবর পাহারা দিতে হচ্ছে। নিজের সংসারই ঠিকমতো চালাতে পারছি না, তবুও ছেলের কবর রক্ষায় প্রতিদিন খরচ করতে হচ্ছে। প্রশাসন যদি কবর পাহারার ব্যবস্থা করত, তাহলে কিছুটা শান্তি পেতাম।

স্থানীয় বিপু মাতব্বর বলেন, কিছু দুষ্কৃতিকারী আমাদের এলাকা থেকে প্রায়ই মরদহ চুরি করে নিচ্ছে। বজ্রপাতে মারা গেলে ওই মরদেহের দাম নাকি অনেক বেশি। যার কারণে সেই ভয় আশংকা থেকেই পরিবারটি রাত জেগে তাদের সন্তানের লাশ পাহারা দিচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক এবং উদ্বেগজনক। তারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কবরস্থানের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে পরিবারটি এমন মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পায়।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার জানান, আমরা ইতোমধ্যে নিহতের দাফন কাফনের জন্য আর্থিক সহায়তা করেছি। কবর পাহারায় বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে পাহারার ব্যবস্থা করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও যদি আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজন হয় তাহলে আমরা সেটারও ব্যবস্থা করবো।

এদিকে বজ্রপাতে মৃতের মরদেহ চুরি কারণ জানতে স্থানীয় সচেতন মহলের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বজ্রপাতে মৃত ব্যক্তির মরদেহ চুরির মূল কারণ একটি ভ্রান্ত কুসংস্কার, যা সাধারণত গ্রাম এলাকায় বেশি প্রচলন আছে ।

ধারণা করা হয়, বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তির শরীর প্রাকৃতিক চুম্বক বা মূল্যবান কোনো ধাতুতে পরিণত হয়। এই কুসংস্কারের কারণেই অনেক সময় কবর থেকে লাশ চুরির আশঙ্কা দেখা দেয়। তবে বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এই ধারণার কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। এই লাশের বিশেষ কোনো কার্যকারিতা দেখা যায়নি। তবে সেই ধারণার বসবত হয়ে একটি চক্র কবর খুঁড়ে লাশ চুরি করে তা কোনো কঙ্কাল সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করে থাকে।

প্রসংগত, গত বৃহস্পতিবার মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার হাইয়ার পার এলাকায় বজ্রপাতে আরাফাত খান নামে ওই যুবক মারা যায়। তাকে দাফনের পর থেকেই প্রতিরাতে পাহারা দিচ্ছে তার পরিবার।