মেয়াদ শেষ হলেও শেষ হয়নি সেতু নির্মাণ কাজ, দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ

মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি : 

মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের চান্দেরচর বাজার থেকে ডিগ্রির চর এলাকায় যেতে এক সময়ের মরা নদীর (বর্তমানে খাল) ওপর নির্মাণাধীন মাত্র ৬৬ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটির কাজ বন্ধ রয়েছে প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে। জমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত জটিলতায় ২০২৪ সালের আগস্টের পরবর্তী সময়ে কাজ বন্ধ করে দেন জমির মালিকেরা। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা না হওয়ায় সেতুর কাজ বন্ধ রয়েছে।

সেতু নির্মাণের সময় চলাচলের জন্য পাশেই খালটি ভরাট করে নির্মাণ করা হয় একটি বিকল্প সড়ক। সেতু না হওয়ায় ওই সড়ক দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয়দের। আর এতে বাড়ছে ভোগান্তি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালে ১০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৬ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ২০২৫ সালের মে মাসে যার কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। একইসঙ্গে শিবচরের আরও তিনটি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হলেও তা শেষ হয়েছে বেশ আগে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত জটিলতায় কাজ বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ এখন এলাকাবাসীর।

এই সেতু দিয়ে উমেদপুর ইউনিয়নের চান্দেরচর বাজারসহ শিবচরের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে আশপাশের বিভিন্ন এলাকার। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা এবং সাপ্তাহিক চান্দেরহাটে মালামাল নিয়ে আসা-যাওয়ায় হাজারো মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। সেতুর পাশের অস্থায়ী সড়ক দিয়ে যাতায়াতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

স্থানীয় মো. জামিল বলেন, বৃষ্টিতে পিচ্ছিল হয়ে যায় বিকল্প সড়ক। বর্ষায় ডুবে যায় পানিতেও। এ ছাড়া প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা! ভেবেছিলাম, সেতুটি দ্রুত হয়ে যাবে। অথচ সেতু নির্মাণ করতে গিয়ে এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে এটি। গত প্রায় তিন বছর ধরে হাজারো মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করে আছে অসম্পূর্ণ এই সেতুটি।

এই পথ দিয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী স্থানীয় তোতা মিয়া বলেন, এখানে আগে একটা ব্রিজ ছিল। ওইটা ভাইঙ্গা আবার নতুন কইরা ব্রিজের কাজ শুরু হয়। ব্রিজের চান্দেরচর বাজার প্রান্তে একজনের জায়গা। তার বিল্ডিং। ব্রিজ করতে হলে ওইটা ভাঙতে হবে। জমির মালিক টাকা না পাইয়া মামলা দিছে। এরপর থেকে কাজ বন্ধ। আর আমরা পড়ছি ভোগান্তিতে।

ভ্যানচালক লিটন ঢালী বলেন, ব্রিজের কাজ অর্ধেক হওয়ার পর থেকে বন্ধ। ২০২৪ সালের সরকার পরিবর্তনের পর জমির মালিক বাধা দিলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পাশে যে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে, এখান দিয়ে চলাচলে ভীষণ সমস্যা হয়। অনেকবার ভ্যানগাড়ি উল্টে গেছে। যাত্রীরা আহত হয় প্রায়ই।

স্থানীয় ওয়াসিম বেপারী বলেন, ব্রিজের পরেই চান্দেরচর বাজার। সপ্তাহে হাট বসে। ব্রিজের কাজ না হওয়ায় লোকজনের মালামাল নিয়ে আসা-যাওয়া করতে কষ্ট হয়। বৃষ্টির দিনে দুর্ভোগের শেষ নেই। প্রায় আড়াই বছর ধরে কাজ বন্ধ। সব মিলিয়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে মানুষের ভোগান্তি। অথচ দেখার কেউ নাই!

জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মাদারীপুর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী হায়দার খান বলেন, ওই স্থানে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত একটি জটিলতা রয়েছে। এর কারণে কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে কাজ চলছে। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুত সমাধান হবে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ভোলাকে সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করতে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত

মেয়াদ শেষ হলেও শেষ হয়নি সেতু নির্মাণ কাজ, দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ

প্রকাশের সময় : ০১:১৮:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি : 

মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের চান্দেরচর বাজার থেকে ডিগ্রির চর এলাকায় যেতে এক সময়ের মরা নদীর (বর্তমানে খাল) ওপর নির্মাণাধীন মাত্র ৬৬ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটির কাজ বন্ধ রয়েছে প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে। জমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত জটিলতায় ২০২৪ সালের আগস্টের পরবর্তী সময়ে কাজ বন্ধ করে দেন জমির মালিকেরা। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা না হওয়ায় সেতুর কাজ বন্ধ রয়েছে।

সেতু নির্মাণের সময় চলাচলের জন্য পাশেই খালটি ভরাট করে নির্মাণ করা হয় একটি বিকল্প সড়ক। সেতু না হওয়ায় ওই সড়ক দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয়দের। আর এতে বাড়ছে ভোগান্তি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালে ১০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৬ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ২০২৫ সালের মে মাসে যার কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। একইসঙ্গে শিবচরের আরও তিনটি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হলেও তা শেষ হয়েছে বেশ আগে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত জটিলতায় কাজ বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ এখন এলাকাবাসীর।

এই সেতু দিয়ে উমেদপুর ইউনিয়নের চান্দেরচর বাজারসহ শিবচরের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে আশপাশের বিভিন্ন এলাকার। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা এবং সাপ্তাহিক চান্দেরহাটে মালামাল নিয়ে আসা-যাওয়ায় হাজারো মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। সেতুর পাশের অস্থায়ী সড়ক দিয়ে যাতায়াতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

স্থানীয় মো. জামিল বলেন, বৃষ্টিতে পিচ্ছিল হয়ে যায় বিকল্প সড়ক। বর্ষায় ডুবে যায় পানিতেও। এ ছাড়া প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা! ভেবেছিলাম, সেতুটি দ্রুত হয়ে যাবে। অথচ সেতু নির্মাণ করতে গিয়ে এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে এটি। গত প্রায় তিন বছর ধরে হাজারো মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করে আছে অসম্পূর্ণ এই সেতুটি।

এই পথ দিয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী স্থানীয় তোতা মিয়া বলেন, এখানে আগে একটা ব্রিজ ছিল। ওইটা ভাইঙ্গা আবার নতুন কইরা ব্রিজের কাজ শুরু হয়। ব্রিজের চান্দেরচর বাজার প্রান্তে একজনের জায়গা। তার বিল্ডিং। ব্রিজ করতে হলে ওইটা ভাঙতে হবে। জমির মালিক টাকা না পাইয়া মামলা দিছে। এরপর থেকে কাজ বন্ধ। আর আমরা পড়ছি ভোগান্তিতে।

ভ্যানচালক লিটন ঢালী বলেন, ব্রিজের কাজ অর্ধেক হওয়ার পর থেকে বন্ধ। ২০২৪ সালের সরকার পরিবর্তনের পর জমির মালিক বাধা দিলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পাশে যে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে, এখান দিয়ে চলাচলে ভীষণ সমস্যা হয়। অনেকবার ভ্যানগাড়ি উল্টে গেছে। যাত্রীরা আহত হয় প্রায়ই।

স্থানীয় ওয়াসিম বেপারী বলেন, ব্রিজের পরেই চান্দেরচর বাজার। সপ্তাহে হাট বসে। ব্রিজের কাজ না হওয়ায় লোকজনের মালামাল নিয়ে আসা-যাওয়া করতে কষ্ট হয়। বৃষ্টির দিনে দুর্ভোগের শেষ নেই। প্রায় আড়াই বছর ধরে কাজ বন্ধ। সব মিলিয়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে মানুষের ভোগান্তি। অথচ দেখার কেউ নাই!

জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মাদারীপুর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী হায়দার খান বলেন, ওই স্থানে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত একটি জটিলতা রয়েছে। এর কারণে কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে কাজ চলছে। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুত সমাধান হবে।