বেগম খালেদা জিয়া আজীবন গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করেছেন : ভূমিমন্ত্রী

রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি : 

ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজীবন গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করেছেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য জীবন দিয়ে তিনি চিরদিনের জন্য আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছেন।

শনিবার (২২ আগস্ট) বেলা সোয়া ১১টায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) হেডকোয়ার্টারে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যক্রম শুরুর ঐতিহাসিক নামফলক পুনঃস্থাপন ও উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। আমরা প্রস্তাব করেছিলাম। তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের শুভ সূচনা করেছিলেন এবং সে সময় এখানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। আজকের এই দিনে আমি তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহ আমাদের মাকে জান্নাতবাসী করুন।

তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশের মানুষ নয়, সমগ্র জাতি আজ তাঁর জন্য কাঁদছে। ১৯৯২ সালে তিনি এই মাটিতে এসেছিলেন এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আরএমপি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে রাজশাহীর মানুষ খুব ভালো ও সচ্ছল ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আমরা দেখেছি, অবৈধভাবে চোরাচালান ও মাদক ব্যবসা করে অনেকে শত শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। মাদক ও মাদক ব্যবসায়ীরা দেশ ও জাতির শত্রু।

তিনি বলেন, আজকের এই শুভদিনে আমার সকল সহকর্মীকে অনুরোধ করব, আপনারা রাজশাহীর পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। ইতোমধ্যে আরএমপি মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। আমরা এখানে সব নেতাই আছি। এ বিষয়ে আমরা কেউ কখনো আপনাদের কিছু বলব না। আইন নিজস্ব গতিতে চলুক। আমার সন্তান যদি কোনো অন্যায় করে, তার বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

মিজানুর রহমান মিনু বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক ও চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোরভাবে কাজ করতে হবে।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, বিগত আমলে রাজশাহীর সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রায় হাজার খানেক মাদক ও পাচারকারী চক্র শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছে। এসব চক্রের বিরুদ্ধে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নিলে জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। এই চক্র দেশ ও জাতির শত্রু।

তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করছেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরেই দেশ সুখী ও সমৃদ্ধিশালী হবে।

আরএমপি পুলিশ কমিশনার মো. ফয়েজুল কবির এর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ও বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী-৩ আসনের এমপি অ্যাড. শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক এড. এরশাদ আলী ঈশা, রাজশাহী জেলা দায়রা জজ এ এইচ এম মাহমুদুর রহমান ও প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ভোলাকে সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করতে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত

বেগম খালেদা জিয়া আজীবন গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করেছেন : ভূমিমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৩:৩১:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি : 

ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজীবন গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করেছেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য জীবন দিয়ে তিনি চিরদিনের জন্য আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছেন।

শনিবার (২২ আগস্ট) বেলা সোয়া ১১টায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) হেডকোয়ার্টারে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যক্রম শুরুর ঐতিহাসিক নামফলক পুনঃস্থাপন ও উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। আমরা প্রস্তাব করেছিলাম। তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের শুভ সূচনা করেছিলেন এবং সে সময় এখানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। আজকের এই দিনে আমি তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহ আমাদের মাকে জান্নাতবাসী করুন।

তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশের মানুষ নয়, সমগ্র জাতি আজ তাঁর জন্য কাঁদছে। ১৯৯২ সালে তিনি এই মাটিতে এসেছিলেন এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আরএমপি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে রাজশাহীর মানুষ খুব ভালো ও সচ্ছল ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আমরা দেখেছি, অবৈধভাবে চোরাচালান ও মাদক ব্যবসা করে অনেকে শত শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। মাদক ও মাদক ব্যবসায়ীরা দেশ ও জাতির শত্রু।

তিনি বলেন, আজকের এই শুভদিনে আমার সকল সহকর্মীকে অনুরোধ করব, আপনারা রাজশাহীর পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। ইতোমধ্যে আরএমপি মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। আমরা এখানে সব নেতাই আছি। এ বিষয়ে আমরা কেউ কখনো আপনাদের কিছু বলব না। আইন নিজস্ব গতিতে চলুক। আমার সন্তান যদি কোনো অন্যায় করে, তার বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

মিজানুর রহমান মিনু বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক ও চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোরভাবে কাজ করতে হবে।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, বিগত আমলে রাজশাহীর সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রায় হাজার খানেক মাদক ও পাচারকারী চক্র শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছে। এসব চক্রের বিরুদ্ধে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নিলে জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। এই চক্র দেশ ও জাতির শত্রু।

তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করছেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরেই দেশ সুখী ও সমৃদ্ধিশালী হবে।

আরএমপি পুলিশ কমিশনার মো. ফয়েজুল কবির এর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ও বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী-৩ আসনের এমপি অ্যাড. শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক এড. এরশাদ আলী ঈশা, রাজশাহী জেলা দায়রা জজ এ এইচ এম মাহমুদুর রহমান ও প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।