নিজস্ব প্রতিবেদক :
নির্বাচন বর্জনে কেউ প্রচারণা চালালে, তাকে আটক করা মোটেও ঠিক নয় বলে জানিয়েছেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন।
শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কার্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী পর্যবেক্ষক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে তাকে বাধা দেয়া যাবে না, এটা তাদের অধিকার। অপরদিকে কেউ যদি নির্বাচন বর্জনের বিষয়ে প্রচারণা করতে চায় তাকে বাধা দেয়া যাবে না। এটাও তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। পক্ষ-বিপক্ষ মতামত থাকতে পারে। তবে ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমণ করা যাবে না।
তিনি আরো বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আজ আমেরিকান দুটি সংস্থা মানবাধিকার কমিশনের এসেছিল। তাদের সঙ্গে আমাদের মত বিনিময় সভা হয়েছে। তারা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে।
ড. কামাল উদ্দিন বলেন, পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলো নিয়ে নানা ধরনের কথাবার্তা শুনেছেন। সেই বিষয়গুলো শুধুমাত্র আমাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বিভিন্ন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জনের কাছেই ছড়িয়ে পড়ে। আমেরিকান এই দুটি পর্যবেক্ষক দলও বিষয়গুলো নিয়ে জানেন। আর এসব প্রেক্ষিতেই আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচনকালীন সহিংসতা ও মানবাধিকারের সুরক্ষার বিষয়ে জানতে আমাদের দেশে এসেছেন।
কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, তারা জানতে চান আমাদের দেশের নির্বাচনটি কেমন হবে। একটি সহিংসতাপূর্ণ নির্বাচন হওয়াটা সবার কাছেই চিন্তার বিষয়। সাম্প্রতিক সময়ের কিছু কিছু বিষয়ও হয়তো তাদের নজরে এসেছে। তবে তারা চায়, যেই পার্টিই ক্ষমতায় আসুক তারা যেন সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে যেন আসে।
তিনি বলেন, আমরা ইসির সঙ্গে কিছু বিষয়ে আলোচনা করেছি। সেখানে নির্বাচনের পূর্বে কেমন আচরণ করা উচিৎ, নির্বাচনের সময় কেমন আচরণবিধি মেনে চলা উচিৎ এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ের আচরণবিধি সম্পর্কে দিক নির্দেশনা দিয়েছি। এ বিষয়গুলো আজ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলগুলোকেও জানিয়েছি। তারা আমাদের এই কার্যক্রমে সন্তুষ্ট হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী পর্যবেক্ষক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কি না, কোনো সহিংসতার আশঙ্কা আছে কি না জানতে চেয়েছে। আমরা এরই মধ্যে একটি নির্দেশিকা তৈরি করেছি সেটি তাদের দিয়েছি। তারা সেটি নিয়েছে এবং সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছে। নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের কাজ এবং প্রার্থীদের কেমন আচরণ বিধি মেনে চলা উচিৎ তার একটা ধারণা দিয়েছি। নির্বাচন পরবর্তী সময়ের আচরণবিধি সম্পর্কেও কথা হয়েছে।
তিনি বলেন, যেই দলই ক্ষমতায় আসুক তারা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে আসুক। আমরা এ বিষয়ে ইসির সঙ্গে যে আলোচনা সে বিষয়টিও জানিয়েছি। ২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী যে সহিংসতা হয়েছে, তা যেন না হয় সে বিষয়ে কথা হয়েছ। ৪২টির রাজনৈতিক দলের ভেতর ২৯টি দলের অংশ নেয়ার কথা জানিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, এটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যে, কোনো দল যদি নির্বাচনে অংশ নিতে না চায়, এটা একান্ত তাদের ব্যাপার। এতে কারও কোনো কিছু বলার নাই। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় কোনো উদ্বেগ নেই প্রতিনিধি দলের। এ নিয়ে একবারও জানতে চায়নি। পর্যবেক্ষক দলটি ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে থাকবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 














