স্পোর্টস ডেস্ক :
ওয়ানডে সিরিজে নিউজিল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর দারুণ এক জয় দিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজও শুরু করেছিল বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ অবশ্য বৃষ্টিতে ভেসে যায়। শেষ ম্যাচেও আজ হানা দেয় বেরসিক বৃষ্টি। তাতে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমেছে, তবে ফলাফল এসেছে। ডিএল মেথডে বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে কিউইরা। ফলে ১-১ এ সিরিজ ভাগাভাগি করেছে দুই দল।
শনিবার (২ মে) মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে বৃষ্টি বিঘ্নিত ১৫ ওভারের ম্যাচে ১৪ ওভার ২ বল খেলে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১০২ রান করে বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন তাওহিদ হৃদয়। জবাবে ১১ ওভার ৪ বলে ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড।
মাঝারি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে চরম বিপর্যয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করতে ব্যাগ পেতে হয়নি নিউজিল্যান্ডকে। কিউইদের এই জয়ের মূল নায়ক বেভান জ্যাকব, যিনি ধ্বংসস্তূপ থেকে দলকে টেনে তুলে অপরাজিত ফিফটি করে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন।
বোলারদের লড়াই করার মতো বড় লক্ষ্য না থাকলেও বল হাতে শরিফুল ইসলামের তোপে শুরুটা দারুণ করেছিল স্বাগতিকরা। কিউইদের টপ অর্ডার ধসিয়ে দিয়ে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই মাত্র ৩ বলের ব্যবধানে কাতেনে ক্লার্ক ও ডেন ক্লেভারকে ফিরিয়ে দেন এই পেসার।
এরপর ২ চার ও ১ ছক্কায় ২৩ রান করে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করা টিম রবিনসনকেও সরাসরি বোল্ড করেন শরিফুল। ২৫ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর কিউই শিবিরে আরও এক ধাক্কা দেন শেখ মেহেদী হাসান। নিক কেলিকে বোল্ড করে ৩৩ রানেই সফরকারীদের ৪ উইকেট তুলে নিয়ে দারুণ সম্ভাবনা জাগায় বাংলাদেশ।
তবে শুরুর এই চাপ দারুণভাবে সামাল দেন বেভব জ্যাকব ও ডিন ফক্সক্রাফট। একপ্রান্তে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি তুলে নেন জ্যাকব। ৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৬২ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
অপর প্রান্তে তাকে দারুণ সঙ্গ দিয়ে ফক্সক্রাফট খেলেন ১৫ রানের কার্যকর ইনিংস। এই জুটির দৃঢ়তায় আর কোনো উইকেট না হারিয়ে সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের হয়ে ১৯ রানের খরচায় ৩টি উইকেট নেন শরিফুল।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি বাংলাদেশের। দলীয় ২১ রানে জেইডন লেনক্সের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন সাইফ হাসান। দুই বাউন্ডারিতে তার সংগ্রহ ছিল ১৬ রান। কোনোমতে ৩০ গজ পার করে আটকা পড়েন রবিনসনের হাতে। তার বিদায়ে ২১ রানে পতন হয় বাংলাদেশের প্রথম উইকেটের।
এরপর অধিনায়ক লিটন দাস এসে উড়ন্ত শুরু করলেও পরপর দুই বলে অন্য ওপেনার তানজিদ তামিম ও পারভেজ হোসেন দ্রুত আউট হলে ৩৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে স্বাগতিকরা।
দলীয় ৩৫ রানে নাথান স্মিথের বলে বোল্ড হন তানজিদ হাসান তামিম, ৬ রান করেন ১০ বল খেলে। পরের বলেই বাউন্স বুঝতে না পেরে বিভ্রান্ত হয়ে ক্যাচ দিয়ে গোল্ডেন ডাকে সাজঘরে ফেরেন পারভেজ হোসেন ইমন।
এরপর বৃষ্টিবাধায় পড়ে ম্যাচ। বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ৬.৪ ওভারে ৩ উইকেটে ৫০ রান ছিল বাংলাদেশের। বৃষ্টির পর চালিয়ে খেলার চেষ্টা করে স্বাগতিকরা।
কিন্তু লিটন দাস আর বেশিদূর এগোতে পারেননি। ১৭ বলে ৩ চার আর ১ ছক্কায় ২৬ রান করে ক্লার্কসনের বলে সুইপার কভারে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ৬৩ রানে ৪ উইকেট হারায় টাইগাররা।
এরপর হাত খোলেন তাওহীদ হৃদয়। তবে শামীম হোসেন পাটোয়ারী আজ সুবিধা করতে পারেননি। ৮ বলে ৩ রান করে ইশ সোধির ফুুলটস বলে রিভার্স শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
কিউই বোলাররা চেপে ধরে বাংলাদেশকে। শেখ মেহেদী নো বলে একবার জীবন পান, বেঁচে যান এলবিডব্লিউ থেকে। কিন্তু বাঁচতে পারেননি হৃদয়। ক্লার্কসনের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন বাউন্ডারিতে। ২৪ বলে ৩ চার আর ২ ছক্কায় হৃদয় করেন ৩৩ রান।
দলে সুযোগ পাওয়া মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ব্যাট হাতে হতাশ করেছেন, ফেরেন গোল্ডেন ডাকে। রানআউট হওয়ার আগে রিশাদ হোসেন করেন ৪ বলে ৫। একশর আগেই (৯৫ রানে) ৮ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
সেখান থেকে আর বেশিদূর এগোতে পারেনি টাইগাররা। শেখ মেহেদী ৬ বলে ৭ রানে অপরাজিত থাকেন। ১৪.২ ওভারে ১০২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন জশ ক্লার্কসন। দুই ওভারে মাত্র ৯ রান খরচায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন তিনি। এছাড়া নাথান স্মিথ ও বেন সিয়ার্স দুটি করে উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধস নামান।
স্পোর্টস ডেস্ক 



















