Dhaka শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা-সিলেট রুটে ‘সড়ক ও রেল’ যোগাযোগ উন্নত করা হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

সিলেট জেলা প্রতিনিধি : 

সরকার ঢাকা-সিলেট রুটে ‘সড়ক ও রেল’ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার কাজ শুরু করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২ মে) সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় যখন আমি এসেছিলাম আমি প্লেনে এসেছিলাম কিন্তু যাবার সময় আমি সড়ক পথে গিয়েছিলাম নির্বাচনি জনসভা করতে করতে এবং সেদিন আমি বলেছিলাম যে সিলেট থেকে লন্ডন যেতে খুব সম্ভব নয় সাড়ে নয় ঘণ্টা সময় লাগে কিন্তু বাই রোড যাবার অবস্থা রাস্তার অবস্থা এতই খারাপ প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লেগে যায় এবং সেদিন বলেছিলাম যে আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে ইনশা আল্লাহ আমরা এই কাজটিতে হাত দেব যাতে এটা দ্রুত হয়।

তারেক রহমান বলেন, সরকার গঠনের পরে এ বিষয়ে সড়কের দায়িত্বে যে মন্ত্রণালয় আছে আমি তাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম, কাজটি যখন শুরু হয়, বিভিন্ন জায়গায় তাদের কোম্পানিগুলোর যে সাইট অফিস থাকে সেখানে ১১টিতে জমি অধিগ্রহণে সমস্যা রয়ে গেছে। এছাড়াও প্রশাসনিকও নানা জটিলতা রয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশা করছি দ্রুততম সময়ে আমরা এই কাজটি শুরু করতে পারব। দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে তা শেষও করা হবে। ফলে ঢাকা টু সিলেট, সিলেট টু ঢাকা বাই রোডে যাতায়াতে মানুষকে আর এত কষ্ট ভোগ করতে হবে না।

সড়কপথের চেয়ে রেলপথের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাস্তা যতই বাড়াতে থাকি তত বেশি গাড়ি নামবে। ট্রাফিক বাড়বেই। এছাড়াও রাস্তা সম্প্রসারণের কারণে ফসলের জমিও নষ্ট হয়। তবে অবশ্যই রাস্তার উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন আমরা করব। কিন্তু মূলত রেলটাকে আমরা বেশি গুরুত্ব দিতে চাই।

সিলেট-ঢাকা রেলপথে ডাবল লাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিলেট-ঢাকা রুটে রেল যোগাযোগ উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ বিষয়ে দ্রুত কাজ শুরু হবে এবং সিলেট-ঢাকা রেলপথে ডাবল লাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর ফলে আমরা কম খরচে যাতায়াত করতে পারব। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরাও কম খরচে তাদের ব্যবসায়িক মালামাল আনা-নেওয়া করতে পারবেন।

গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে সরকার বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে এবং যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ্ সার্ভিস (এনএইচএস)- এর আদলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহরের মানুষ স্বাস্থ্য সেবা পেলেও, গ্রামের মামুষ পরিপূর্ণ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত। তবে আমরা সচেতনতার মাধমে অসুস্থ মানুষের সংখ্যা কমিয়ে আনতে পারি। এ লক্ষ্যে সারাদেশে ১ লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যার প্রায় ৮০ শতাংশই নারী। এ সকল স্বাস্থ্যকর্মী সারাদেশের প্রান্তিক মানুষের কাছে গিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক পরামর্শ দেবেন।

তিনি বলেন, কোন খাবারটি খেলে ডায়াবেটিস হবে না, কোন খাবারটি খেলে কার্ডিয়াক সমস্যা হবে না বা লাইফস্টাইল কী হলে তার হার্টের সমস্যা হবে না, কোন খাবারটি খেলে কিডনির রোগ হবে বা হবে না এই বিষয়গুলো সম্পর্কে তাদেরকে সচেতন করবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। সারাদেশে মানুষকে যেভাবে সুস্থ রাখা যায় সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

সিলেট নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে খাল খননকে প্রধান উপায় হিসেবে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিলেটে অল্প বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়। অতিবৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন হাওর এলাকায় বিশেষ করে সুনামগঞ্জসহ অন্যান্য জেলায় বন্যায় কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বর্তমানে নগরের পানির বড় অংশই ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে, যার ফলে পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি শুধু সিলেটে নয়, ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য শহরেও দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্ষায় যে বিপুল পরিমাণ পানি আসে, তা ধরে রাখতে পারলে কৃষি ও নাগরিক জীবনে ব্যবহার করা যাবে। খাল খনন সেই সুযোগ তৈরি করবে।

নদী দূষণের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্লাস্টিক ও পলিথিনসহ বিভিন্ন বর্জ্য নদীতে জমে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য জমে নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে যাচ্ছে এবং পানি দূষিত হচ্ছে। বুড়িগঙ্গা নদীর পানি অসম্ভব রকম বিষাক্ত হয়ে গেছে। এইভাবে যদি সবগুলো নদী বিষাক্ত হতে থাকে তাহলে একটা সময় অসম্ভব ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে। কাজেই এই বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে।

সিলেটসহ সবকটি সিটি করপোরেশনকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। যেমন প্লাস্টিক পলিথিন কাগজ বা যেকোনো বর্জ্য হোক না কেন এই জিনিসগুলো যাতে আমরা যত্রতত্র না ফেলি। এক্ষেত্রে বিশেষ করে সিটি করপোরেশন এলাকায় যতগুলো স্কুল আছে সেসব প্রতিষ্ঠানের শিশুদের এটা শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হোক। কারণ বড়রা শুনলেও সহজে শিখতে চায় না। কিন্তু যদি একটা ছোট বাচ্চাকে ভালো কিছু শেখান এটা তার মাথায় ঢুকে যায়। সে তার বাবা-মাকেও ওটা মানতে বাধ্য করবে।

সড়ক যোগাযোগে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় আমি সিলেটে এসেছিলাম বিমানে। কিন্তু যাওয়ার সময় সড়কপথে গিয়েছিলাম। সেদিন আমি বলেছিলাম যে- সিলেট থেকে লন্ডন যেতে খুব সম্ভব সাড়ে ৯ ঘণ্টা সময় লাগে। কিন্তু সড়কপথে সিলেট থেকে ঢাকা যেতে প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লেগে যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। সেজন্য শুধু রাস্তা বড় করতে থাকলে কৃষি জমি নষ্ট হবে। এই বিষয়টাকে আমাদের মাথায় রাখতে হবে। এজন্য সড়কপথের উন্নয়নের পাশাপাশি দ্রুততম সময়ে ঢাকা-সিলেট রেলপথ ডাবল লাইনে উন্নীত করা হবে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সুধী সমাবেশে বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সংসদের হুইপ জি কে গউছ প্রমুখ, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে অতিথি সারিতে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, সংরক্ষিত নারী আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শাম্মী আখতার, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এনামুল হক চৌধুরী।

আবহাওয়া

প্রধানমন্ত্রীর তাগিদের কারণে ১০ বছর পর তনু হত্যা মামলার জট খুলছে : আইনমন্ত্রী

ঢাকা-সিলেট রুটে ‘সড়ক ও রেল’ যোগাযোগ উন্নত করা হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৫:১৬:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

সিলেট জেলা প্রতিনিধি : 

সরকার ঢাকা-সিলেট রুটে ‘সড়ক ও রেল’ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার কাজ শুরু করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২ মে) সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় যখন আমি এসেছিলাম আমি প্লেনে এসেছিলাম কিন্তু যাবার সময় আমি সড়ক পথে গিয়েছিলাম নির্বাচনি জনসভা করতে করতে এবং সেদিন আমি বলেছিলাম যে সিলেট থেকে লন্ডন যেতে খুব সম্ভব নয় সাড়ে নয় ঘণ্টা সময় লাগে কিন্তু বাই রোড যাবার অবস্থা রাস্তার অবস্থা এতই খারাপ প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লেগে যায় এবং সেদিন বলেছিলাম যে আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে ইনশা আল্লাহ আমরা এই কাজটিতে হাত দেব যাতে এটা দ্রুত হয়।

তারেক রহমান বলেন, সরকার গঠনের পরে এ বিষয়ে সড়কের দায়িত্বে যে মন্ত্রণালয় আছে আমি তাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম, কাজটি যখন শুরু হয়, বিভিন্ন জায়গায় তাদের কোম্পানিগুলোর যে সাইট অফিস থাকে সেখানে ১১টিতে জমি অধিগ্রহণে সমস্যা রয়ে গেছে। এছাড়াও প্রশাসনিকও নানা জটিলতা রয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশা করছি দ্রুততম সময়ে আমরা এই কাজটি শুরু করতে পারব। দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে তা শেষও করা হবে। ফলে ঢাকা টু সিলেট, সিলেট টু ঢাকা বাই রোডে যাতায়াতে মানুষকে আর এত কষ্ট ভোগ করতে হবে না।

সড়কপথের চেয়ে রেলপথের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাস্তা যতই বাড়াতে থাকি তত বেশি গাড়ি নামবে। ট্রাফিক বাড়বেই। এছাড়াও রাস্তা সম্প্রসারণের কারণে ফসলের জমিও নষ্ট হয়। তবে অবশ্যই রাস্তার উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন আমরা করব। কিন্তু মূলত রেলটাকে আমরা বেশি গুরুত্ব দিতে চাই।

সিলেট-ঢাকা রেলপথে ডাবল লাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিলেট-ঢাকা রুটে রেল যোগাযোগ উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ বিষয়ে দ্রুত কাজ শুরু হবে এবং সিলেট-ঢাকা রেলপথে ডাবল লাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর ফলে আমরা কম খরচে যাতায়াত করতে পারব। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরাও কম খরচে তাদের ব্যবসায়িক মালামাল আনা-নেওয়া করতে পারবেন।

গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে সরকার বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে এবং যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ্ সার্ভিস (এনএইচএস)- এর আদলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহরের মানুষ স্বাস্থ্য সেবা পেলেও, গ্রামের মামুষ পরিপূর্ণ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত। তবে আমরা সচেতনতার মাধমে অসুস্থ মানুষের সংখ্যা কমিয়ে আনতে পারি। এ লক্ষ্যে সারাদেশে ১ লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যার প্রায় ৮০ শতাংশই নারী। এ সকল স্বাস্থ্যকর্মী সারাদেশের প্রান্তিক মানুষের কাছে গিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক পরামর্শ দেবেন।

তিনি বলেন, কোন খাবারটি খেলে ডায়াবেটিস হবে না, কোন খাবারটি খেলে কার্ডিয়াক সমস্যা হবে না বা লাইফস্টাইল কী হলে তার হার্টের সমস্যা হবে না, কোন খাবারটি খেলে কিডনির রোগ হবে বা হবে না এই বিষয়গুলো সম্পর্কে তাদেরকে সচেতন করবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। সারাদেশে মানুষকে যেভাবে সুস্থ রাখা যায় সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

সিলেট নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে খাল খননকে প্রধান উপায় হিসেবে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিলেটে অল্প বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়। অতিবৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন হাওর এলাকায় বিশেষ করে সুনামগঞ্জসহ অন্যান্য জেলায় বন্যায় কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বর্তমানে নগরের পানির বড় অংশই ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে, যার ফলে পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি শুধু সিলেটে নয়, ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য শহরেও দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্ষায় যে বিপুল পরিমাণ পানি আসে, তা ধরে রাখতে পারলে কৃষি ও নাগরিক জীবনে ব্যবহার করা যাবে। খাল খনন সেই সুযোগ তৈরি করবে।

নদী দূষণের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্লাস্টিক ও পলিথিনসহ বিভিন্ন বর্জ্য নদীতে জমে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য জমে নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে যাচ্ছে এবং পানি দূষিত হচ্ছে। বুড়িগঙ্গা নদীর পানি অসম্ভব রকম বিষাক্ত হয়ে গেছে। এইভাবে যদি সবগুলো নদী বিষাক্ত হতে থাকে তাহলে একটা সময় অসম্ভব ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে। কাজেই এই বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে।

সিলেটসহ সবকটি সিটি করপোরেশনকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। যেমন প্লাস্টিক পলিথিন কাগজ বা যেকোনো বর্জ্য হোক না কেন এই জিনিসগুলো যাতে আমরা যত্রতত্র না ফেলি। এক্ষেত্রে বিশেষ করে সিটি করপোরেশন এলাকায় যতগুলো স্কুল আছে সেসব প্রতিষ্ঠানের শিশুদের এটা শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হোক। কারণ বড়রা শুনলেও সহজে শিখতে চায় না। কিন্তু যদি একটা ছোট বাচ্চাকে ভালো কিছু শেখান এটা তার মাথায় ঢুকে যায়। সে তার বাবা-মাকেও ওটা মানতে বাধ্য করবে।

সড়ক যোগাযোগে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় আমি সিলেটে এসেছিলাম বিমানে। কিন্তু যাওয়ার সময় সড়কপথে গিয়েছিলাম। সেদিন আমি বলেছিলাম যে- সিলেট থেকে লন্ডন যেতে খুব সম্ভব সাড়ে ৯ ঘণ্টা সময় লাগে। কিন্তু সড়কপথে সিলেট থেকে ঢাকা যেতে প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লেগে যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। সেজন্য শুধু রাস্তা বড় করতে থাকলে কৃষি জমি নষ্ট হবে। এই বিষয়টাকে আমাদের মাথায় রাখতে হবে। এজন্য সড়কপথের উন্নয়নের পাশাপাশি দ্রুততম সময়ে ঢাকা-সিলেট রেলপথ ডাবল লাইনে উন্নীত করা হবে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সুধী সমাবেশে বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সংসদের হুইপ জি কে গউছ প্রমুখ, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে অতিথি সারিতে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, সংরক্ষিত নারী আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শাম্মী আখতার, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এনামুল হক চৌধুরী।