Dhaka বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বোয়িং থেকে ১৪ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তিতে স্বাক্ষর করল বিমান

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ১০:০২:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৭৭ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।একসঙ্গে এতগুলো প্লেন কেনার চুক্তি বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাত ৯টায় রাজধানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। এসময় বিমানের পক্ষ থেকে চুক্তিতে সই করেন বিমানের এমডি ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ এবং বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

অনুষ্ঠানে বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি বলেন, ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার এই চুক্তি দুই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং বিমানকে এমন একটি স্বল্পসংখ্যক এয়ারলাইন্সে পরিণত করেছে। নতুন ৭৮৭-১০ মধ্যপ্রাচ্য রুটে এবং ৭৮৭-৯ ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দীর্ঘ দূরত্বের রুটে ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি ৪টি ৭৩৭-৮ বিমান যুক্ত হওয়ায় বিমানের স্বল্প দূরত্বের রুট আরও আধুনিক হবে। এসব বিমান প্রায় ২০ শতাংশ বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং যাত্রীদের জন্য উন্নত সুবিধা দেবে।

বাণিজ্য ঘাটতি সমন্বয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিমান কেনা নিয়ে চুক্তি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সেই চুক্তির পরবর্তী ধাপই এই চুক্তি।

চুক্তির আওতায় বিমান ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কিনবে, যার মধ্যে রয়েছে ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স। আনুমানিক ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলারের এই বিনিয়োগ দেশের বিমান খাতে অন্যতম বৃহৎ ক্রয়চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে দীর্ঘ দূরত্বের রুটে সক্ষমতা বাড়বে এবং আঞ্চলিক ফ্লাইট পরিচালনাও আরও শক্তিশালী হবে।

সূত্র জানায়, চুক্তি অনুযায়ী প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালের অক্টোবর মাসে সরবরাহ করা হতে পারে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে ২০৩৫ সালের মধ্যে পুরো বহর হস্তান্তর সম্পন্ন হবে। বাংলাদেশি টাকায় এই চুক্তির মূল্যায়ন প্রায় ৩৭ হাজার কোটি।

অনুষ্ঠানে বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ. হোসেন এবং ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনও বক্তব্য রাখেন। তারা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও এভিয়েশন খাতের উন্নয়নে এ চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত বলেন, এটি শুধু বিমান ও বোয়িংয়ের মধ্যে একটি ক্রয়চুক্তি নয়, বরং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি শক্তিশালী অংশীদারিত্ব। নতুন উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বৈশ্বিক সক্ষমতা ও সংযোগ বাড়বে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, নতুন উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হওয়ার ফলে বিমানের বহর আধুনিকায়ন, দীর্ঘযাত্রার রুট সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক ফ্লাইট পরিচালনায় সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজগুলো ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দীর্ঘ দূরত্বের রুটে সেবা জোরদার করবে। অন্যদিকে ৭৩৭-৮ ম্যাক্স উড়োজাহাজগুলো স্বল্প ও মধ্যম দূরত্বের আঞ্চলিক রুটে কার্যক্রম শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ বলেন, ‘জ্বালানি সাশ্রয়ী ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই উড়োজাহাজগুলো সংযোজনের মাধ্যমে বিমানের অপারেশনাল দক্ষতা বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক রুট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ সহজ হবে।’ এতে বৈশ্বিক এভিয়েশন বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন জানান, বহর সম্প্রসারণের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানো, পুরোনো উড়োজাহাজ প্রতিস্থাপন, নতুন রুট চালু এবং সংস্থার লাভজনকতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘২০৩৪-৩৫ সালের মধ্যে বিমানের বহর ৪৭টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, এই চুক্তি এমন সময়ে সম্পন্ন হলো, যখন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি চলছে। নতুন টার্মিনাল ও আধুনিক বহর যুক্ত হলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরদার হবে।

আবহাওয়া

কেরাণীগঞ্জে অটোরিকশাচালককে হত্যার দায়ে ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

বোয়িং থেকে ১৪ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তিতে স্বাক্ষর করল বিমান

প্রকাশের সময় : ১০:০২:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।একসঙ্গে এতগুলো প্লেন কেনার চুক্তি বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাত ৯টায় রাজধানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। এসময় বিমানের পক্ষ থেকে চুক্তিতে সই করেন বিমানের এমডি ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ এবং বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

অনুষ্ঠানে বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি বলেন, ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার এই চুক্তি দুই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং বিমানকে এমন একটি স্বল্পসংখ্যক এয়ারলাইন্সে পরিণত করেছে। নতুন ৭৮৭-১০ মধ্যপ্রাচ্য রুটে এবং ৭৮৭-৯ ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দীর্ঘ দূরত্বের রুটে ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি ৪টি ৭৩৭-৮ বিমান যুক্ত হওয়ায় বিমানের স্বল্প দূরত্বের রুট আরও আধুনিক হবে। এসব বিমান প্রায় ২০ শতাংশ বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং যাত্রীদের জন্য উন্নত সুবিধা দেবে।

বাণিজ্য ঘাটতি সমন্বয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিমান কেনা নিয়ে চুক্তি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সেই চুক্তির পরবর্তী ধাপই এই চুক্তি।

চুক্তির আওতায় বিমান ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কিনবে, যার মধ্যে রয়েছে ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স। আনুমানিক ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলারের এই বিনিয়োগ দেশের বিমান খাতে অন্যতম বৃহৎ ক্রয়চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে দীর্ঘ দূরত্বের রুটে সক্ষমতা বাড়বে এবং আঞ্চলিক ফ্লাইট পরিচালনাও আরও শক্তিশালী হবে।

সূত্র জানায়, চুক্তি অনুযায়ী প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালের অক্টোবর মাসে সরবরাহ করা হতে পারে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে ২০৩৫ সালের মধ্যে পুরো বহর হস্তান্তর সম্পন্ন হবে। বাংলাদেশি টাকায় এই চুক্তির মূল্যায়ন প্রায় ৩৭ হাজার কোটি।

অনুষ্ঠানে বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ. হোসেন এবং ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনও বক্তব্য রাখেন। তারা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও এভিয়েশন খাতের উন্নয়নে এ চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত বলেন, এটি শুধু বিমান ও বোয়িংয়ের মধ্যে একটি ক্রয়চুক্তি নয়, বরং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি শক্তিশালী অংশীদারিত্ব। নতুন উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বৈশ্বিক সক্ষমতা ও সংযোগ বাড়বে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, নতুন উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হওয়ার ফলে বিমানের বহর আধুনিকায়ন, দীর্ঘযাত্রার রুট সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক ফ্লাইট পরিচালনায় সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজগুলো ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দীর্ঘ দূরত্বের রুটে সেবা জোরদার করবে। অন্যদিকে ৭৩৭-৮ ম্যাক্স উড়োজাহাজগুলো স্বল্প ও মধ্যম দূরত্বের আঞ্চলিক রুটে কার্যক্রম শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ বলেন, ‘জ্বালানি সাশ্রয়ী ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই উড়োজাহাজগুলো সংযোজনের মাধ্যমে বিমানের অপারেশনাল দক্ষতা বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক রুট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ সহজ হবে।’ এতে বৈশ্বিক এভিয়েশন বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন জানান, বহর সম্প্রসারণের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানো, পুরোনো উড়োজাহাজ প্রতিস্থাপন, নতুন রুট চালু এবং সংস্থার লাভজনকতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘২০৩৪-৩৫ সালের মধ্যে বিমানের বহর ৪৭টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, এই চুক্তি এমন সময়ে সম্পন্ন হলো, যখন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি চলছে। নতুন টার্মিনাল ও আধুনিক বহর যুক্ত হলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরদার হবে।