নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তাগিদের কারণে ১০ বছর পর সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার জট খুলতে শুরু করেছে বলে জানিয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এ বছর ঈদের দিন সকালে তার মোবাইল ফোনে একটি দৈনিক পত্রিকার প্রতিবেদন পাঠিয়ে তনু হত্যা মামলার অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
শনিবার (২ মে) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পদ্ধতিগত প্রতিবন্ধকতা এবং উক্ত প্রতিবন্ধকতাসমূহ নিরসনের কার্যকর উপায় চিহ্নিতকরণ’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে গবেষণাটি চালানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে একজন আইনমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান, তনু হত্যার বিচার যেন হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, গত ঈদের দিন সকালে প্রধানমন্ত্রী তাকে ফোনে একটি বার্তা পাঠান, যেখানে পত্রিকার একটি প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মামলার হালনাগাদ তথ্য জানাতে বলা হয়।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঈদের পর প্রথম অফিস খোলার দিনই এ বিষয়ে বিস্তারিত আপডেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসে আলোচনা করি। দীর্ঘ ১০ বছর পর এ মামলার জট খুলতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে একজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অনুষ্ঠান শেষে তনু হত্যা মামলার অগ্রগতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছরে যে কাজগুলো করা সম্ভব হয়নি, সেগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা এই দুই মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছি। তবে এটি এখন পর্যন্ত আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো নির্দিষ্ট আওতাভুক্ত বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এটি বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত একটি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ। স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা এবং জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লব।
এদিকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পদ্ধতিগত প্রতিবন্ধকতা এবং তা নিরসনের কার্যকর উপায় চিহ্নিতকরণ’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে এ পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্। স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা এবং জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লব।
কনসালটেন্ট হিসেবে সভায় গবেষণা পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করেন প্রাক্তন জেলা ও দায়রা জজ উম্মে কুলসুম।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন, জুডিশিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (জেএটিআই)-এর কর্মকর্তারা, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, সাংবাদিক এবং ব্র্যাকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 










