Dhaka বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৮:১৪:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৯৭ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক  : 

ব্যাট হাতে শুরুটা খুব একটা আশাব্যঞ্জক ছিল না। তবে শুরুর সেই ধাক্কা সামলে নাজমুল হোসেন শান্তর অনবদ্য এক সেঞ্চুরিতে লড়াকু পুঁজি পায় দল। এরপর বাকি কাজটুকু দারুণভাবে সেরেছেন বোলাররা, সামনে থেকে যার নেতৃত্ব দিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। আর তাতেই নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লে. মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ৫৫ রানে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৬৫ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ৪৪.৫ ওভারে ২১০ রানে গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড।

এই নিয়ে টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। আগের দুই সিরিজে জয় ছিল পাকিস্তান ও নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে।

২৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি কিউইদের। চতুর্থ ওভারেই উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। মুস্তাফিজুর রহমান নিজের করা দ্বিতীয় ওভারেই এনে দেন ব্রেক থ্রু।

চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলে মুস্তাফিজের বলে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসবন্দী হয়ে আউট হন কিউই ওপেনার হেনরি নিকোলস। ফেরার আগে তিনি ১০ বলে করেন ৪ রান। হেনরি ফেরার পর ক্রিজে আরেক ওপেনার নিক কেলির সঙ্গী হন উইল ইয়াং। এ দুজন মিলে পাওয়ার প্লের বাকি ওভারগুলো রয়েসয়েই খেলেছেন। টাইগার বোলারদের আঁটসাঁট বোলিংয়ের সামনে হাত খুলে খেলে ঝুঁকি বাড়াতে চাননি। পাওয়ার প্লে শেষে কিউইদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৩৩ রানে।

ইয়াংকে নিয়ে এরপর বড় জুটিই গড়েছিলেন কেলি। দুজন মিলে স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ৪৬ রান। কিন্তু এ জুটি ভাঙেন নাহিদ রানা। তরুণ এই বোলারের বলে লিটন দাসের গ্লাভসবন্দী হয়ে সাজঘরে ফিরেন ইয়াং। এরপর দ্রুতই আঘাত হানেন অধিনায়ক মিরাজ। দলীয় ৫৪ রানে ইয়াং ফেরার পর দলীয় ৬১ রানেই ফেরেন কিউই অধিনায়ক ল্যাথাম।

দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে নিউজিল্যান্ড। তবে চতুর্থ উইকেটে আবার দলের হাল ধরেন কেলি। এবার তাঁর সঙ্গী ছিলেন মুহাম্মদ আব্বাস। দুজন মিলে স্কোরবোর্ডে রান যোগ করে লড়াইয়ের আশা যোগান। এ জুটিতে স্কোরবোর্ডে ৪৭ রান ওঠার পরই আঘাত হানেন জুস্তাফিজ। এবার তাঁর শিকার হয়ে ব্যক্তিগত ৫৯ রানে সাজঘরে ফিরেন কেলি।

কেলি ফেরার পর শরিফুল ইসলামের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরেন আব্বাস। নাহিদ রানার দুর্দান্ত এক ইয়ার্কারে আউট হন ক্লার্কসন। এরপর মুস্তাফিজ নেন আরও ৩ উইকেট। তবে দ্রুত বেশ কয়েকটি উইকেট হারালেও টাইগার বোলারদের পরীক্ষা নিয়েছেন ডিন ফক্সক্রফট। শেষদিকে তিনি খেলেন আক্রমণাত্মক মেজাজে। দশম উইকেটে বেন লিস্টারকে সঙ্গে নিয়ে তিনি স্কোরবোর্ডে রান বাড়ান, পেয়ে যান নিজের ব্যক্তিগত অর্ধশতকের দেখাও।

কিউই এই ব্যাটার দশম উইকেটে লিস্টারের সঙ্গে ৫০ রানের জুটি। তাঁর এই আক্রমোণাত্মক ব্যাটিংয়ে দলীয় দুইশ রানের সংগ্রহ পেরিয়ে যায় কিউইরা। তবে শেষ পর্যন্ত আর পারেননি তিনি। মিরাজের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হতে হয় তাঁকে। ফেরার আগে তিনি করেন ৭২ বলে ৭৫ রান। তাঁর এই ইনিংসে নেই একটিও চার, ৭টি ছয় হাঁকিয়েছেন তিনি। ফক্সক্রফটের ইনিংস থামলে ৫৫ রানের জয়ে সিরিজ নিশ্চিত হয় টাইগারদের।

স্বাগতিকদের হয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ, ২ টি করে উইকেট পেয়েছেন মিরাজ ও নাহিদ রানা, একটি উইকেট পেয়েছেন শরিফুল ইসলাম।

এর আগে টস হেরে ইনিংসের শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই উইকেট হারান সাইফ হাসান। উইল ও’রুর্ক অফ স্টাম্পের বাইরের বল ঠিকভাবে খেলতে পারেননি তিনি, ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যায় উইকেটরক্ষক টম ল্যাথামের গ্লাভসে। কোনো রান না করেই ফিরতে হয় এই ওপেনারকে।

দ্বিতীয় ওভারে একবার সুযোগ তৈরি করেও সফল হতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। ন্যাথান স্মিথের বল প্যাডে লাগার পর জোরালো আবেদন করা হলেও আম্পায়ার সাড়া দেননি।

মুস্তাফিজের ফাইফারে নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

তৃতীয় ওভারে আবার আঘাত হানেন ও’রুর্ক। অফ স্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান তানজিদ হাসান। ৫ বলে ১ রান করে ফিরে যান তিনি।

এরপর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন সৌম্য সরকার ও শান্ত। সৌম্য কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন শট খেললেও পুরোপুরি স্বচ্ছন্দ ছিলেন না। ৩৮ বলের ছোট্ট জুটিতে আসে ২৩ রান। তবে আবারও ও’রুর্ক আঘাতে ভাঙে এই জুটি। অফ স্টাম্পের বাইরের বল ব্যাটের কানায় লেগে বল গিয়ে লাগে স্টাম্পে। ২৬ বলে ১৮ রান করেন সৌম্য। ফলে ১০ ওভারর আগেই বাংলাদেশকে খোঁয়াতে হয় টপ অর্ডারকে।

শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে চট্টগ্রামে ইনিংস গড়ার পথে ভরসার জুটি গড়েন শান্ত ও লিটন। চতুর্থ উইকেটে ধীরে শুরু করলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রানের গতি বাড়ান এই দুই ব্যাটার।ইনিংসের ২৬তম ওভারে শান্ত পৌঁছে যান ব্যক্তিগত অর্ধশতকে, ৭০ বলে ফিফটি করেন তিনি। পরপর দুই ম্যাচেই ফিফটির দেখা পান এই অধিনায়ক। অন্যদিকে লিটন শুরুতে বেশ সংযত ছিলেন, ঝুঁকি না নিয়ে উইকেটে টিকে থাকার দিকেই মনোযোগ দেন।

২৯তম ওভারে এসে লিটনের ব্যাট থেকে আসে প্রথম বাউন্ডারি, সেটিও ৬০ বল খেলার পর। জেডেন লেনক্সকে চার মেরে স্বস্তি পান এই ডানহাতি ব্যাটার। পরের ওভারে বেন লিস্টারের বিপক্ষে আরেকটি চার মেরে জুটির রান তিন অঙ্কে নিয়ে যান তিনি। লিটনও তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৩তম ফিফটি, যদিও শুরুটা ছিল ধীরগতির। প্রথম ৫৯ বলে তিনি শুধু সিঙ্গেল-ডাবলেই সীমাবদ্ধ ছিলেন।

৩৯তম ওভারে ভাঙে গুরুত্বপূর্ণ চতুর্থ উইকেট জুটি। লেনক্সের বলে স্টাম্প ছেড়ে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন লিটন দাস। ১৭৮ বলের জুটিতে আসে ১৬০ রান। ৯১ বলে ৭৬ রান করে ফেরেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। এরপর ইনিংসের হাল ধরেন শান্ত। ৪১তম ওভারে সিঙ্গেল নিয়ে তুলে নেন নিজের সেঞ্চুরি, ১১৪ বলে তিন অঙ্ক ছোঁন তিনি। এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ শতক। তবে বড় ইনিংস খেলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি শান্ত। ৪৩তম ওভারে লেনক্সের বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে আউট হন তিনি।

শেষদিকে দ্রুত রান তুলতে নেমে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তাওহীদ হৃদয়কে নিয়ে ২০ বলে ৩৫ রানের জুটি গড়েন তিনি। কিন্তু ৪৮তম ওভারে ডিন ফক্সক্রফটের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন মিরাজ। ১৮ বলে ২২ রান করে ফেরেন তিনি। এরপর শেষ ওভারে জোড়া আঘাত হানেন বেন লিস্টার। প্রথমে শরিফুল ইসলামকে কিপারের ক্যাচে ফেরান, রিভিউ নিয়ে আউট নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ড। পরের বলেই তানভির ইসলাম বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন। হৃদয় ২৯ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন, বাংলাদেশ থামে ২৬৫ রানে।

বল হাতে সবচেয়ে সফল উইল ও’রুর্ক; ৩২ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন বেন লিস্টার ও জেডেন লেনক্স।

আবহাওয়া

নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

প্রকাশের সময় : ০৮:১৪:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক  : 

ব্যাট হাতে শুরুটা খুব একটা আশাব্যঞ্জক ছিল না। তবে শুরুর সেই ধাক্কা সামলে নাজমুল হোসেন শান্তর অনবদ্য এক সেঞ্চুরিতে লড়াকু পুঁজি পায় দল। এরপর বাকি কাজটুকু দারুণভাবে সেরেছেন বোলাররা, সামনে থেকে যার নেতৃত্ব দিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। আর তাতেই নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লে. মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ৫৫ রানে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৬৫ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ৪৪.৫ ওভারে ২১০ রানে গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড।

এই নিয়ে টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। আগের দুই সিরিজে জয় ছিল পাকিস্তান ও নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে।

২৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি কিউইদের। চতুর্থ ওভারেই উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। মুস্তাফিজুর রহমান নিজের করা দ্বিতীয় ওভারেই এনে দেন ব্রেক থ্রু।

চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলে মুস্তাফিজের বলে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসবন্দী হয়ে আউট হন কিউই ওপেনার হেনরি নিকোলস। ফেরার আগে তিনি ১০ বলে করেন ৪ রান। হেনরি ফেরার পর ক্রিজে আরেক ওপেনার নিক কেলির সঙ্গী হন উইল ইয়াং। এ দুজন মিলে পাওয়ার প্লের বাকি ওভারগুলো রয়েসয়েই খেলেছেন। টাইগার বোলারদের আঁটসাঁট বোলিংয়ের সামনে হাত খুলে খেলে ঝুঁকি বাড়াতে চাননি। পাওয়ার প্লে শেষে কিউইদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৩৩ রানে।

ইয়াংকে নিয়ে এরপর বড় জুটিই গড়েছিলেন কেলি। দুজন মিলে স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ৪৬ রান। কিন্তু এ জুটি ভাঙেন নাহিদ রানা। তরুণ এই বোলারের বলে লিটন দাসের গ্লাভসবন্দী হয়ে সাজঘরে ফিরেন ইয়াং। এরপর দ্রুতই আঘাত হানেন অধিনায়ক মিরাজ। দলীয় ৫৪ রানে ইয়াং ফেরার পর দলীয় ৬১ রানেই ফেরেন কিউই অধিনায়ক ল্যাথাম।

দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে নিউজিল্যান্ড। তবে চতুর্থ উইকেটে আবার দলের হাল ধরেন কেলি। এবার তাঁর সঙ্গী ছিলেন মুহাম্মদ আব্বাস। দুজন মিলে স্কোরবোর্ডে রান যোগ করে লড়াইয়ের আশা যোগান। এ জুটিতে স্কোরবোর্ডে ৪৭ রান ওঠার পরই আঘাত হানেন জুস্তাফিজ। এবার তাঁর শিকার হয়ে ব্যক্তিগত ৫৯ রানে সাজঘরে ফিরেন কেলি।

কেলি ফেরার পর শরিফুল ইসলামের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরেন আব্বাস। নাহিদ রানার দুর্দান্ত এক ইয়ার্কারে আউট হন ক্লার্কসন। এরপর মুস্তাফিজ নেন আরও ৩ উইকেট। তবে দ্রুত বেশ কয়েকটি উইকেট হারালেও টাইগার বোলারদের পরীক্ষা নিয়েছেন ডিন ফক্সক্রফট। শেষদিকে তিনি খেলেন আক্রমণাত্মক মেজাজে। দশম উইকেটে বেন লিস্টারকে সঙ্গে নিয়ে তিনি স্কোরবোর্ডে রান বাড়ান, পেয়ে যান নিজের ব্যক্তিগত অর্ধশতকের দেখাও।

কিউই এই ব্যাটার দশম উইকেটে লিস্টারের সঙ্গে ৫০ রানের জুটি। তাঁর এই আক্রমোণাত্মক ব্যাটিংয়ে দলীয় দুইশ রানের সংগ্রহ পেরিয়ে যায় কিউইরা। তবে শেষ পর্যন্ত আর পারেননি তিনি। মিরাজের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হতে হয় তাঁকে। ফেরার আগে তিনি করেন ৭২ বলে ৭৫ রান। তাঁর এই ইনিংসে নেই একটিও চার, ৭টি ছয় হাঁকিয়েছেন তিনি। ফক্সক্রফটের ইনিংস থামলে ৫৫ রানের জয়ে সিরিজ নিশ্চিত হয় টাইগারদের।

স্বাগতিকদের হয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ, ২ টি করে উইকেট পেয়েছেন মিরাজ ও নাহিদ রানা, একটি উইকেট পেয়েছেন শরিফুল ইসলাম।

এর আগে টস হেরে ইনিংসের শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই উইকেট হারান সাইফ হাসান। উইল ও’রুর্ক অফ স্টাম্পের বাইরের বল ঠিকভাবে খেলতে পারেননি তিনি, ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যায় উইকেটরক্ষক টম ল্যাথামের গ্লাভসে। কোনো রান না করেই ফিরতে হয় এই ওপেনারকে।

দ্বিতীয় ওভারে একবার সুযোগ তৈরি করেও সফল হতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। ন্যাথান স্মিথের বল প্যাডে লাগার পর জোরালো আবেদন করা হলেও আম্পায়ার সাড়া দেননি।

মুস্তাফিজের ফাইফারে নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

তৃতীয় ওভারে আবার আঘাত হানেন ও’রুর্ক। অফ স্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান তানজিদ হাসান। ৫ বলে ১ রান করে ফিরে যান তিনি।

এরপর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন সৌম্য সরকার ও শান্ত। সৌম্য কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন শট খেললেও পুরোপুরি স্বচ্ছন্দ ছিলেন না। ৩৮ বলের ছোট্ট জুটিতে আসে ২৩ রান। তবে আবারও ও’রুর্ক আঘাতে ভাঙে এই জুটি। অফ স্টাম্পের বাইরের বল ব্যাটের কানায় লেগে বল গিয়ে লাগে স্টাম্পে। ২৬ বলে ১৮ রান করেন সৌম্য। ফলে ১০ ওভারর আগেই বাংলাদেশকে খোঁয়াতে হয় টপ অর্ডারকে।

শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে চট্টগ্রামে ইনিংস গড়ার পথে ভরসার জুটি গড়েন শান্ত ও লিটন। চতুর্থ উইকেটে ধীরে শুরু করলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রানের গতি বাড়ান এই দুই ব্যাটার।ইনিংসের ২৬তম ওভারে শান্ত পৌঁছে যান ব্যক্তিগত অর্ধশতকে, ৭০ বলে ফিফটি করেন তিনি। পরপর দুই ম্যাচেই ফিফটির দেখা পান এই অধিনায়ক। অন্যদিকে লিটন শুরুতে বেশ সংযত ছিলেন, ঝুঁকি না নিয়ে উইকেটে টিকে থাকার দিকেই মনোযোগ দেন।

২৯তম ওভারে এসে লিটনের ব্যাট থেকে আসে প্রথম বাউন্ডারি, সেটিও ৬০ বল খেলার পর। জেডেন লেনক্সকে চার মেরে স্বস্তি পান এই ডানহাতি ব্যাটার। পরের ওভারে বেন লিস্টারের বিপক্ষে আরেকটি চার মেরে জুটির রান তিন অঙ্কে নিয়ে যান তিনি। লিটনও তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৩তম ফিফটি, যদিও শুরুটা ছিল ধীরগতির। প্রথম ৫৯ বলে তিনি শুধু সিঙ্গেল-ডাবলেই সীমাবদ্ধ ছিলেন।

৩৯তম ওভারে ভাঙে গুরুত্বপূর্ণ চতুর্থ উইকেট জুটি। লেনক্সের বলে স্টাম্প ছেড়ে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন লিটন দাস। ১৭৮ বলের জুটিতে আসে ১৬০ রান। ৯১ বলে ৭৬ রান করে ফেরেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। এরপর ইনিংসের হাল ধরেন শান্ত। ৪১তম ওভারে সিঙ্গেল নিয়ে তুলে নেন নিজের সেঞ্চুরি, ১১৪ বলে তিন অঙ্ক ছোঁন তিনি। এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ শতক। তবে বড় ইনিংস খেলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি শান্ত। ৪৩তম ওভারে লেনক্সের বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে আউট হন তিনি।

শেষদিকে দ্রুত রান তুলতে নেমে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তাওহীদ হৃদয়কে নিয়ে ২০ বলে ৩৫ রানের জুটি গড়েন তিনি। কিন্তু ৪৮তম ওভারে ডিন ফক্সক্রফটের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন মিরাজ। ১৮ বলে ২২ রান করে ফেরেন তিনি। এরপর শেষ ওভারে জোড়া আঘাত হানেন বেন লিস্টার। প্রথমে শরিফুল ইসলামকে কিপারের ক্যাচে ফেরান, রিভিউ নিয়ে আউট নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ড। পরের বলেই তানভির ইসলাম বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন। হৃদয় ২৯ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন, বাংলাদেশ থামে ২৬৫ রানে।

বল হাতে সবচেয়ে সফল উইল ও’রুর্ক; ৩২ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন বেন লিস্টার ও জেডেন লেনক্স।