নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি :
নেত্রকোনার মদনে আলোচিত এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক আমানুল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা ১১টার দিকে অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহসিনা ইসলাম রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নূরুল কবির রুবেল এ তথ্য জানিয়েছেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল বিচারকের উদ্দেশ্যে বলেন, ধর্ষণের এই ঘটনাটি এখন ‘টক অব দ্যা কান্ট্রি’। আসামির পক্ষের লোকজন সোশ্যাল মিডিয়াতে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছেন। মেয়েটির চিকিৎসা করেছিলেন যে চিকিৎসক তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য একটি দল বা গোষ্ঠী দলগতভাবে কাজ করছে। আসামি নিজেও ফেসবুক লাইভে এসে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছেন। যার কারণে অনলাইনে একটি ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। তার আরো কোন অনৈতিক কাজ আছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখার দরকার বলেও দাবি করেন এই আইনজীবী। এই ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করার আবেদন করছি।
আসামি পক্ষের আইনজীবী টিপু সুলতানের (ডায়মন্ড) প্যানেল থেকে অ্যাডভোকেট জিয়াউদ্দিন খান জিয়া বিচারকের উদ্দেশ্যে বলেন, কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেই তাকে অপরাধী বলা যায় না। এভাবে কেউ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে তাকে অপরাধী সাজাতে পারে না। আমি রিমান্ডের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার জামিন মঞ্জুর করার আবেদন করছি। সে অপরাধী হলে তার বিচার হবে।
দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মোসসিনা ইসলাম বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেল ৪টা থেকে রোববার (১০ মে) বিকেল ৪টা পর্যন্ত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে বুধবার (৬ মে) ভোরে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সোনামপুর এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে র্যাব-১৪-এর একটি দল সাগরকে গ্রেপ্তার করে। ওইদিন দুপুরে ময়মনসিংহের আকুয়া বাইপাস এলাকায় র্যাব-১৪-এর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নয়মুল হাসান জানান, গ্রেপ্তার এড়াতে সাগর বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন। তিনি গাজীপুরের টঙ্গী হয়ে গৌরীপুরে আত্মগোপন করেন এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার করা থেকে বিরত ছিলেন।
পরে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। গ্রেপ্তারের আগে মঙ্গলবার (৫ মে) অজ্ঞাত স্থান থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা ছড়িয়ে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন।
জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক আমানুল্লাহ সাগর চার বছর আগে একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ভুক্তভোগী শিশুটি নানাবাড়িতে থেকে সেখানে পড়াশোনা করত। শিশুটির বাবা তাদের ছেড়ে চলে যাওয়ায় তার মা জীবিকার তাগিদে সিলেটের একটি বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। সম্প্রতি শিশুটি অসুস্থ বোধ করলে এবং তার শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে মা সিলেট থেকে এসে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে গত ১৮ এপ্রিল মদন উপজেলা শহরের একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। এরপরই মেয়ের মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।
এদিকে, শারীরিক পরীক্ষা করে শিশুটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা চিকিৎসক নানাভাবে হুমকি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে র্যাব অধিনায়ক নয়মুল হাসান জানান, চিকিৎসকের হুমকি পাওয়ার বিষয়টি আমরা অবগত আছি। তার নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি এবং তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ডিএনএ রিপোর্টের তথ্য সঠিক নয় বলেও জানান তিনি।
নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি 






















