Dhaka বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অভয়নগরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

যশোর জেলা প্রতিনিধি : 

যশোরের অভয়নগরে বাসা ভাড়া সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আনিছুর রহমান (৫৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নওয়াপাড়া এলাকার আনিছ প্লাজার সামনে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আনিছুর সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে। ব্যবসায়ীক কারণে তিনি অভয়নগর উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামে বসবাস করতেন। নওয়াপাড়া বাজারের সার আমদানি ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স জয়েন্ট ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেডের পরিচালক ছিলেন আনিছুর।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নওয়াপাড়া পীর বাড়ি এলাকার শাহ জুনায়েদের ছেলে শাহ মাহমুদ আনিছ প্লাজায় একটি বাসা ভাড়া নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে কোনো কারণে আনিছুর রহমান তাকে বাসা ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে কয়েকদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে আবারও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে শাহ মাহমুদ সঙ্গে থাকা একটি চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আনিছুর রহমানের মাথা ও মুখে এলোপাতাড়ি কোপ দেয় বলে অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। হামলায় গুরুতর জখম হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আনিছুর রহমান। এসময় স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। খুলনায় অবস্থার আরো অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। পরে স্বজনরা অ্যাম্বুল্যান্সে ঢাকায় নেওয়ার পথে বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং তদন্ত শুরু করেন।

অভয়নগর থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নিহত আনিছুর রহমানের সুরতহাল সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ যশোর মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাগ, পোশাক ও ফুটওয়্যার সামগ্রী বিতরণ করা হবে : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

অভয়নগরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশের সময় : ১২:৫৫:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

যশোর জেলা প্রতিনিধি : 

যশোরের অভয়নগরে বাসা ভাড়া সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আনিছুর রহমান (৫৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নওয়াপাড়া এলাকার আনিছ প্লাজার সামনে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আনিছুর সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে। ব্যবসায়ীক কারণে তিনি অভয়নগর উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামে বসবাস করতেন। নওয়াপাড়া বাজারের সার আমদানি ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স জয়েন্ট ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেডের পরিচালক ছিলেন আনিছুর।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নওয়াপাড়া পীর বাড়ি এলাকার শাহ জুনায়েদের ছেলে শাহ মাহমুদ আনিছ প্লাজায় একটি বাসা ভাড়া নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে কোনো কারণে আনিছুর রহমান তাকে বাসা ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে কয়েকদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে আবারও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে শাহ মাহমুদ সঙ্গে থাকা একটি চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আনিছুর রহমানের মাথা ও মুখে এলোপাতাড়ি কোপ দেয় বলে অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। হামলায় গুরুতর জখম হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আনিছুর রহমান। এসময় স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। খুলনায় অবস্থার আরো অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। পরে স্বজনরা অ্যাম্বুল্যান্সে ঢাকায় নেওয়ার পথে বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং তদন্ত শুরু করেন।

অভয়নগর থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নিহত আনিছুর রহমানের সুরতহাল সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ যশোর মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।