জামালপুর জেলা প্রতিনিধি :
জামালপুরের ইসলামপুরে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার প্রধান আসামি সাদিককে খালাস দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা ১১টার দিকে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-১ এর বিচারক আব্দুর রহিম এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো- ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের শিলদহ এলাকার আব্দুস সোবহানের ছেলে শিপন (২১), সিদ্দিক মোল্লার ছেলে ইব্রাহিম (২৭) ও আরমান আলীর ছেলে ইউসুফ আলী (২২)। এছাড়া একই এলাকার মুনতাজের ছেলে মো. সাদিককে খালাস প্রদান করা হয়।
আদালত ও মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার শিলদহ এলাকার ১৬ বছরের এক কিশোরীর সঙ্গে একই এলাকার সাদিকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ২০২৪ সালের ১৯ এপ্রিল রাতে সাদিক ওই কিশোরীকে বাড়ির পাশের ক্ষেতে ডেকে নিয়ে শারীকিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। এ সময় আগে থেকেই ওৎ পেতে থাকা শিপন, ইব্রাহীম ও ইউসুফ ঘটনাটি দেখে ফেললে সাদিক দৌড়ে পালিয়ে যায়। বিষয়টি এলাকার লোকজনকে জানিয়ে দেবে এই ভয় দেখিয়ে ওই তিনজন কিশোরীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। পরে তারা কিশোরীকে তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়। এই ঘটনায় ওই বছর ৫ মে নির্যাতনের শিকার কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে সাদিকসহ চারজনকে আসামি করে ইসলামপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় ৯ জন সাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিদের উপস্থিতিতে আজ রায় ঘোষণা করেন বিচারক। রায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ফজলুল হক আরও বলেন, নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরী আদালতে জবানবন্দি দেয় যে তার সম্মতিতে সাদিকের সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্ক হয়। এ কারণে আসামি সাদিককে আদালত মামলা থেকে খালাস প্রদান করেন। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ফজলুল হক ও রোজীনা আক্তার। আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আমান উল্লাহ আকাশ, রাফিউর রহমান ও আজিজুল হক।
জামালপুর জেলা প্রতিনিধি 




















