গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি :
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় কিস্তির টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের এক মাঠকর্মী লাঠি দিয়ে একজন নারী গ্রাহকের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আহত ওই নারী বর্তমানে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে সাদুল্লাপুরে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই সুপদ হালদার বিষয়টি নিশ্চিত করছেন। এর আগে বুধবার দুপুরে উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের ধাপেরহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
আহত গ্রাহক লাকী বেগম উপজেলার পালানপাড়া গ্রামের মিন্টু মিয়ার স্ত্রী। অভিযুক্ত এনজিও কর্মীর নাম ছালমা বেগম। তিনি ব্র্যাকের ধাপেরহাট শাখায় মাঠ সংগঠক হিসেবে কর্মরত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্র্যাকের ধাপেরহাট শাখা থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন লাকী বেগম। প্রায় দেড় বছর পরও কিছু বকেয়া থাকায় বুধবার বেলা ১১টার দিকে ব্র্যাক অফিসের সামনে লাকী বেগমের কাছে কিস্তির টাকা দাবি করেন মাঠ সংগঠক ছালমা বেগম। এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে ব্র্যাক অফিসের ভেতরে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে লাকী বেগম বাড়ি চলে যান। পরবর্তীতে স্বামীকে নিয়ে পুনরায় বাজারে এলে দ্বিতীয় দফায় বিবাদ শুরু হয়। এ সময় ছালমা বেগম পড়ে থাকা একটি লাঠি দিয়ে লাকী বেগমের মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মাথা ফেটে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আহত লাকী বেগমের স্বামী মিন্টু মিয়া জানান, গৃহীত ঋণের প্রায় সব টাকাই পরিশোধ হয়েছে, মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকা পাওনা ছিল। সেই সামান্য টাকার জন্য মাঠকর্মী সালমা তার স্ত্রীর মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাঠ সংগঠক সালমা বেগম জানান, ঋণগ্রহীতা লাকী বেগমের কাছে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে তিন হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। তিনি টাকা দিচ্ছি-দেব বলে টালবাহানা করে আসছিলেন। আজ সেই টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে লাকী ও তার স্বামী তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পাশে পড়ে থাকা লাঠি দিয়ে আঘাত করলে লাকী বেগম আহত হন।
ব্র্যাকের ধাপেরহাট শাখা ব্যবস্থাপক আজহারুল ইসলাম এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়কারী (ক্ষুদ্রঋণ) মোশাররফ হোসেন বলেন, ওই সদস্য ২০২৪ সালে ঋণ নিয়েছিলেন, কিন্তু তিন হাজার টাকা পরিশোধ করেননি। বকেয়া টাকা নিয়ে উভয় পক্ষের বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির একপর্যায়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে, যা মোটেও কাম্য নয়, এটি সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। ব্র্যাক যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী এবং যে অপরাধ করবে সে শাস্তি পাবে।
ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুপদ হালদার জানান, এই ঘটনায় দুই পক্ষই লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি 






















