নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি :
নেত্রকোণায় বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে মা ও দুই মেয়েসহ একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
রোববার (৩১ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সদর উপজেলার চল্লিশা নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের আমলী কেশবপুর গ্রামের নূরজাহান বেগম (৩৩) এবং তার দুই মেয়ে স্মৃতি আক্তার (১৬) ও ইতি আক্তার (১০)। নূরজাহান ওই গ্রামের আইনুল হকের স্ত্রী।
আহতরা হলেন, আমলী কেশবপুরের আয়নুল হক (৬০), রাইতুল জাংশি গ্রামের মোস্তাফিজ (২৫) ও অটোরিকশা চালক কাঞ্চনপুর গ্রামের রেহান মিয়া (৪০)। তাঁদের মধ্যে আয়নুল হল ও রেহান মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদেরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপরজন সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শহরে কেনাকাটাসহ অন্যান্য কাজ শেষে স্ত্রী আর দুই মেয়েকে নিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন আয়নুল হক। পথে চল্লিশা বাসপাই মোড়ে পৌঁছালে ময়মনসিংহ থেকে আসা বিপরীতমুখী একটি যাত্রীবাহী বাস তাদের অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে অটোরিকশায় থাকা মা ও দুই মেয়ে নিহত এবং আয়নুল হক গুরুতর আহত হন। এছাড়া অটোরিকশাচালক ও অপর যাত্রীও গুরুতর আহত হন। আহতদের প্রথমে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পরে অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য নিহত নূর জাহানের স্বামী আইনুল হকসহ পাঁচজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সড়ক দুর্ঘটনা পর উত্তেজিত জনতা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। এতে সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী ঘটনাস্থলে গিয়ে স্পিডব্রেকারসহ গোল চত্বর নির্মাণের আশ্বাস দিলে স্থানীয়রা অবরোধ তুলে নেয়। ফলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি 






















