দেশ ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সৎ, যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে : জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সৎ, যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সততা, নৈতিকতা, জবাবদিহিতা এবং সমাজে গ্রহণযোগ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শনিবার (৪ জুলাই) মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর জেলা মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্যদের নিয়ে তিন দিনব্যাপী শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উপমহাদেশে মুসলমানরা বিভিন্ন ঐতিহাসিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দীর্ঘ ৮৬ বছরের পথচলায় অসংখ্য নেতাকর্মী ত্যাগ, কোরবানি ও আত্মোৎসর্গ করেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর পথে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের সেই অবদান জাতির কল্যাণে কাজে লাগবে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আল্লাহকে একনিষ্ঠতা ও ইখলাসের সঙ্গে স্মরণ করতে হবে। তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, নীতি-নৈতিকতা এবং আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার চেতনা সংগঠনটিকে শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম একটি ছোট ভুলের কারণেও ক্ষুণ্ন হতে পারে।

জামায়াত আমির বলেন, জামায়াতের মধ্যে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা একটি নেয়ামত, যা অন্য কোনো সংগঠনে নেই। এই সংগঠনের মধ্যে শৃঙ্খলা, নীতি-নৈতিকতা ও আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতা রয়েছে। মানুষের সারা জীবনের সুনাম ও অর্জন একটি ছোটখাটো দুর্ঘটনা ম্লান করে দিতে পারে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এই উপমহাদেশে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে মুসলমানরা। এর ফলে ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৮৬ বছরের অভিযাত্রায় অসংখ্য নেক বান্দা যুক্ত ছিলেন। তাদের ত্যাগ, কুরবানি ও সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং অনেকেই শহীদ হয়েছেন। আল্লাহর পথে তাদের ত্যাগ ও কুরবানির ফল এ জাতি পাবে, ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, আল্লাহকে ডাকতে হবে এক্বিন ও ইখলাসের সঙ্গে। এক্বিন ও ইখলাস যেখানে একসঙ্গে থাকে সেখানে কোনো ফারাক থাকে না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উপমহাদেশের চারটি দেশের মধ্যে আমাদের এ সংগঠনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগুলো এসেছে। অন্যদিকে ভারতে মুসলমানরা নিরাপদ নয়। তারা সবসময় জানমাল, ইজ্জত ও নিরাপত্তার ঝুঁকিতে রয়েছেন। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে মুসলিমরা সবসময় লড়াই করে যাচ্ছেন এবং তাদের রক্ত দিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, জামায়াতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও সামাজিক বাধা। মুসলিমরা সার্বজনীন গোষ্ঠী। কিন্তু আশ্চর্যজনক বিষয় হলো তাদেরই বলা হয় সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী।

বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বিষয়ে তিনি আরো বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনসহ আমরা ৯০টি আসন নিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছি। নির্বাচনে মানুষ প্রত্যাশা করেছিল যে, তারা একটি দুর্নীতিমুক্ত দলকে দায়িত্ব দেবে; যারা সমাজকে দুর্নীতি মুক্ত করবে। জামায়াতই একটি দল যারা এর উপযুক্ত। আল্লাহ আমাদের যতটুকু যোগ্য মনে করেছেন, ততটুকু দায়িত্ব দিয়েছেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের লক্ষ্য যদি হয় জামায়াতকে ক্ষমতায় আনা, তাহলে আমাদের ব্যাপ্তি দুনিয়া পর্যন্ত। আর যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হয়, তাহলে তার ব্যাপ্তি হবে আখিরাত পর্যন্ত। যিনি দেশ চালানোর সক্ষমতা রাখেন তার হক গোটা দেশের। দেশের অভ্যন্তরে থাকা পশুত্বকে দমনের আগে নিজের ভেতরের পশুত্বকে দমন করার আহ্বান জানান আমিরে জামায়াত।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহ ও আল্লাহর কিতাবকে যারা আঁকড়ে ধরেন, তারা কখনো পথ হারান না। আমাদের দুর্বল ঘর মজবুত করতে হবে। তা কেবল আল্লাহর নেয়ামতেই সম্ভব হবে। নারী ও পুরুষের সমন্বয়েই আমাদের সমাজ, সংগঠন ও দেশ। আমাদের মায়েদের সম্মান করতে হবে, তাদের কাজে সহযোগিতা করতে হবে ও দ্বীনের কাজে এগিয়ে আনতে হবে।

স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে সমাজ থেকে ভালো মানুষগুলোকে বাছাই করে নিতে হবে। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মানবিক যোগ্যতাসম্পন্নদের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এক্ষেত্রে যারা হালাল উপার্জন এবং সমাজে গ্রহণযোগ্যতা ও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন, তাকেই বাছাই করতে হবে; তিনি যে স্তরের জনশক্তিই হোন না কেন। এর মাধ্যমে সেখানে দায়িত্বশীল তৈরি হবে।

কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মাওলানা ছামিউল হক ফারুকীর সঞ্চালনায় তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা পেশ করেন সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ অন্যান্য নেতারা।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

সোনারগাঁয়ে আসামি ধরতে গিয়ে ৩ পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে জখম, গ্রেফতার ২

দেশ ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সৎ, যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে : জামায়াত আমির

প্রকাশের সময় : ০৩:৪৯:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সৎ, যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সততা, নৈতিকতা, জবাবদিহিতা এবং সমাজে গ্রহণযোগ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শনিবার (৪ জুলাই) মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর জেলা মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্যদের নিয়ে তিন দিনব্যাপী শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উপমহাদেশে মুসলমানরা বিভিন্ন ঐতিহাসিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দীর্ঘ ৮৬ বছরের পথচলায় অসংখ্য নেতাকর্মী ত্যাগ, কোরবানি ও আত্মোৎসর্গ করেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর পথে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের সেই অবদান জাতির কল্যাণে কাজে লাগবে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আল্লাহকে একনিষ্ঠতা ও ইখলাসের সঙ্গে স্মরণ করতে হবে। তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, নীতি-নৈতিকতা এবং আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার চেতনা সংগঠনটিকে শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম একটি ছোট ভুলের কারণেও ক্ষুণ্ন হতে পারে।

জামায়াত আমির বলেন, জামায়াতের মধ্যে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা একটি নেয়ামত, যা অন্য কোনো সংগঠনে নেই। এই সংগঠনের মধ্যে শৃঙ্খলা, নীতি-নৈতিকতা ও আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতা রয়েছে। মানুষের সারা জীবনের সুনাম ও অর্জন একটি ছোটখাটো দুর্ঘটনা ম্লান করে দিতে পারে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এই উপমহাদেশে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে মুসলমানরা। এর ফলে ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৮৬ বছরের অভিযাত্রায় অসংখ্য নেক বান্দা যুক্ত ছিলেন। তাদের ত্যাগ, কুরবানি ও সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং অনেকেই শহীদ হয়েছেন। আল্লাহর পথে তাদের ত্যাগ ও কুরবানির ফল এ জাতি পাবে, ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, আল্লাহকে ডাকতে হবে এক্বিন ও ইখলাসের সঙ্গে। এক্বিন ও ইখলাস যেখানে একসঙ্গে থাকে সেখানে কোনো ফারাক থাকে না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উপমহাদেশের চারটি দেশের মধ্যে আমাদের এ সংগঠনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগুলো এসেছে। অন্যদিকে ভারতে মুসলমানরা নিরাপদ নয়। তারা সবসময় জানমাল, ইজ্জত ও নিরাপত্তার ঝুঁকিতে রয়েছেন। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে মুসলিমরা সবসময় লড়াই করে যাচ্ছেন এবং তাদের রক্ত দিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, জামায়াতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও সামাজিক বাধা। মুসলিমরা সার্বজনীন গোষ্ঠী। কিন্তু আশ্চর্যজনক বিষয় হলো তাদেরই বলা হয় সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী।

বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বিষয়ে তিনি আরো বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনসহ আমরা ৯০টি আসন নিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছি। নির্বাচনে মানুষ প্রত্যাশা করেছিল যে, তারা একটি দুর্নীতিমুক্ত দলকে দায়িত্ব দেবে; যারা সমাজকে দুর্নীতি মুক্ত করবে। জামায়াতই একটি দল যারা এর উপযুক্ত। আল্লাহ আমাদের যতটুকু যোগ্য মনে করেছেন, ততটুকু দায়িত্ব দিয়েছেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের লক্ষ্য যদি হয় জামায়াতকে ক্ষমতায় আনা, তাহলে আমাদের ব্যাপ্তি দুনিয়া পর্যন্ত। আর যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হয়, তাহলে তার ব্যাপ্তি হবে আখিরাত পর্যন্ত। যিনি দেশ চালানোর সক্ষমতা রাখেন তার হক গোটা দেশের। দেশের অভ্যন্তরে থাকা পশুত্বকে দমনের আগে নিজের ভেতরের পশুত্বকে দমন করার আহ্বান জানান আমিরে জামায়াত।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহ ও আল্লাহর কিতাবকে যারা আঁকড়ে ধরেন, তারা কখনো পথ হারান না। আমাদের দুর্বল ঘর মজবুত করতে হবে। তা কেবল আল্লাহর নেয়ামতেই সম্ভব হবে। নারী ও পুরুষের সমন্বয়েই আমাদের সমাজ, সংগঠন ও দেশ। আমাদের মায়েদের সম্মান করতে হবে, তাদের কাজে সহযোগিতা করতে হবে ও দ্বীনের কাজে এগিয়ে আনতে হবে।

স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে সমাজ থেকে ভালো মানুষগুলোকে বাছাই করে নিতে হবে। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মানবিক যোগ্যতাসম্পন্নদের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এক্ষেত্রে যারা হালাল উপার্জন এবং সমাজে গ্রহণযোগ্যতা ও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন, তাকেই বাছাই করতে হবে; তিনি যে স্তরের জনশক্তিই হোন না কেন। এর মাধ্যমে সেখানে দায়িত্বশীল তৈরি হবে।

কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মাওলানা ছামিউল হক ফারুকীর সঞ্চালনায় তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা পেশ করেন সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ অন্যান্য নেতারা।