নিজস্ব প্রতিবেদক :
যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, এর জন্য সরকার দায়ী নয় বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে চলমান জ্বালানি সংকটের জন্য সরকার দায়ী নয়। যুদ্ধের কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। তাছাড়া মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটি হয়েছে। এরইমধ্যে সেটি ঠিক করা হয়েছে। এলএনজি ভর্তি কার্গো ইতোমধ্যে এসে পৌঁছেছেন এবং গ্যাসের সরবরাহ ও চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, এলএনজি ভর্তি কার্গো এরইমধ্যে এসে পৌঁছেছে। গ্যাসের সরবরাহ ও চাপও বেড়েছে। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল মেরামতের পর গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, নেতাকর্মীদের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এবং তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সংগঠনের যেসব ত্রুটিবিচ্যুতি থাকবে বা সৃষ্টি হবে, তা কীভাবে সমাধান ও মেরামত করা যায়—তা নিয়ে কাজ করব।
তিনি বলেন, এই ক্ষেত্রে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের যে নির্দেশনা এবং তিনি যেভাবে গাইড করবেন সেটি আমরা সাংগঠনিক স্তরে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সেটি বাস্তবায়ন করবো।
তিনি আরো বলেন, এ ক্ষেত্রে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান যেভাবে নির্দেশনা ও দিকনির্দেশনা দেবেন, আমরা সাংগঠনিকভাবে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করব।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সংগঠনকে শক্তিশালী করা, নেতাকর্মীদের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক বৃদ্ধি এবং তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিদ্যমান ত্রুটিবিচ্যুতি দূর করাই তাদের মূল লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে দলের চেয়ারম্যানের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত তা সাংগঠনিকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধ ও জনগণের কাছে দায়বদ্ধ একটি রাজনৈতিক দল উপহার দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য, যাদের বিরুদ্ধে কোনো অনৈতিক অভিযোগ থাকবে না। এমন পরিচ্ছন্ন নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে আমাদের কাঠামো শক্তিশালী করা হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা ও সহযোগী সংগঠনগুলোতে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি দেওয়া হবে। তবে পদ হারালেই কেউ বিদায় নিচ্ছেন না; বরং পদোন্নতি দিয়ে তাদের ওপরের পদে বা মূল দলে আনা হবে। এভাবে নতুন নেতৃত্ব আসার মধ্য দিয়ে সংগঠনে নতুন রক্ত সঞ্চালন ঘটবে, যা সাংগঠনিক প্রক্রিয়ারই নিয়ম। এই ধারা নিশ্চিত ও চলমান রাখাই হবে আমার প্রধান প্রচেষ্টা।
চলমান গ্যাস সংকট ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বর্তমানে অনেক সংকটের মধ্যে দিয়ে এই সরকার যে জায়গাটি নির্মাণ করেছেন, সেটি হল আস্থা। জনগণের প্রতি নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি করেছিলেন দলের চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী। সেটি সুচারুভাবে বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নিরন্তর, নিরলসভাবে এবং এই প্রচেষ্টা দৃশ্যমান।
তিনি বলেন, কিছু কিছু সংকট তৈরি হয়েছে, যার জন্য সরকার বা অন্য কেউ দায়ী নয়; এগুলো মূলত প্রাকৃতিক ও পরিস্থিতির সৃষ্টি। বিশ্বপরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট এবং এলএনজি সরবরাহের টার্মিনাল কারিগরি ত্রুটির মুখে পড়ায় গ্যাসের চাপ কমে যায়। ফলে কয়েকদিন কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাসাবাড়ির চুলা জ্বালাতেও সংকট দেখা দেয়।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, গত পরশু মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি পুরোপুরি মেরামত করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই এলএনজিবাহী কার্গো এসে পৌঁছেছে এবং গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কমে যাওয়া গ্যাসের চাপ আবারও বাড়তে শুরু করেছে এবং লোডশেডিং লক্ষণীয়ভাবে কমে গেছে। সরকার আন্তরিক ও জনকল্যাণে মনোনিবেশ করলে সাফল্য আসে তারেক রহমানের সরকার তা আবারও প্রমাণ করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি গণভিত্তিক, জনকল্যাণমুখী ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকারী সরকার। সব ধরনের দুর্নীতির ঊর্ধ্বে উঠে বর্তমান সরকার যেভাবে অবকাঠামো নির্মাণ করছে, অতীতে ফ্যাসিস্ট আমলে তার কোনো নজির ছিল না। তখন মেগা প্রজেক্টের নামে ভয়াবহ মেগা দুর্নীতি হয়েছে। সেই জায়গা থেকে বের হয়ে আজ প্রকৃত উন্নয়ন হচ্ছে। একটি জনবান্ধব ও দায়বদ্ধ সরকার যে দুর্নীতিমুক্ত উন্নয়ন পরিকাঠামো গড়ে তুলতে পারে, তারেক রহমানের সরকার আজ তা প্রমাণ করছে এবং ভবিষ্যতেও এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। গণতান্ত্রিক সরকারের ক্ষেত্রে এটি এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সরকারের প্রতিটি কাজের জবাবদিহিতা থাকবে। পার্লামেন্ট, দলের নেতাকর্মী ও গণমাধ্যম— সব ক্ষেত্রেই সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে। ইতোমধ্যে এর কয়েকটি দৃষ্টান্ত দেখা গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিজের সাংগঠনিক দায়িত্বের বিষয়ে রিজভী বলেন, তার মূল দায়িত্ব হলো সংগঠনকে আরও মজবুত করা, নেতাকর্মীদের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক বৃদ্ধি করা এবং তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সংগঠনের যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে, সেগুলো দূর করার বিষয়ে কাজ করা।
তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে দলের চেয়ারম্যানের যে নির্দেশনা রয়েছে, আমরা সাংগঠনিকভাবে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করব। এটাই আমার মূল লক্ষ্য। আমি এই লক্ষ্যেই কাজ করতে চাই।
সরকার ও দলের সহযোগী নেতাদের সহযোগিতা কামনা করে রিজভী বলেন, আমার সহযোগী সহকর্মীরা, যারা সরকারে ও দলে রয়েছেন— স্বপন ভাইয়ের মতো নেতারাও— আমি মনে করি, তারা প্রত্যেকেই এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবেন।
তিনি বলেন, আমরা যাতে একটি ঐক্যবদ্ধ এবং জনগণের কাছে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারি, যাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অনৈতিক অভিযোগ উঠবে না, সেই লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের একত্রিত করে আমাদের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও মজবুত করে তুলবো।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপি, গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলা এবং পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলার আহ্বায়ক, সদস্য সচিব, পৌর ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

























