খুলনা জেলা প্রতিনিধি :
খুলনার কয়রা এলাকায় সুন্দরবনে নৌকার তলা ফুটো হয়ে পানি উঠতে শুরু করলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে উদ্ধারের সহায়তা পেয়েছেন মাঝিসহ নয়জন পর্যটক। পরে বাগেরহাট নৌ-পুলিশ ও মংলা কোস্টগার্ডের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের নিরাপদে উদ্ধার করেন।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে সুন্দরবনের সিংহের টেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- নৌকার মাঝি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নাপিতখালী এলাকার কিসমত আলী (৪৮), নাঈম হোসেন (২২), রাকিবুল হাসান (১৮), মো. আশিক (২৫), মো. পলাশ হোসেন (২৩), মো. শাহীন (২৫), ইমামুল হোসেন (২৫), যশোরের বেনাপোল পৌরসভার কাগজপুকুর এলাকার মো. গালিব (২৫) ও মো. আবদুল্যাহ (২২)।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর গণমাধ্যম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার জানান, বিকেলে বাগেরহাট সদর সুন্দরবন সিংহের বাজার থেকে একজন কলার ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে জানান, তার ভাইসহ আটজন পর্যটক সুন্দরবন ঘুরতে গিয়েছেন। ঘোরাঘুরির একপর্যায়ে তাদের বহনকারী নৌকার তলা ফুটো হয়ে পানি উঠতে শুরু করে। যেকোনো সময় নৌকাটি ডুবে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করে দ্রুত উদ্ধারের অনুরোধ জানান তিনি।
তিনি বলেন, কল পাওয়ার পর ৯৯৯ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বাগেরহাট নৌ-পুলিশ ও মংলা কোস্টগার্ডকে বিষয়টি জানিয়ে দ্রুত উদ্ধারের ব্যবস্থা করতে বলা হয়। ৯৯৯ নম্বরে কলটি গ্রহণ করেন কলটেকার মালিহা আক্তার। পরে উদ্ধার কার্যক্রমে কোস্টগার্ডের সঙ্গে সমন্বয় ও তদারকি করেন ৯৯৯ পুলিশ ডিসপাচার এসআই মো. মহিউদ্দিন মুন্না।
৯৯৯-এর এই কর্মকর্তা আরও জানান, আট পর্যটক সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার নাপিতখালী এলাকা থেকে সুন্দরবন ঘুরতে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় রওনা হন। তারা সুন্দরবনের সিংহের টেক এলাকায় পৌঁছালে নৌকার তলা ফুটো হয়ে পানি উঠতে শুরু করে।
পরে ৯৯৯ থেকে খবর পেয়ে বাগেরহাট নৌ-পুলিশ ও মংলা কোস্টগার্ডের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাঝিসহ নয়জনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।
নৌকাডুবির স্থানটি সুন্দরবনের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের আন্দারমানিক টহল ফাঁড়ির আওতাধীন। কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা নাসির উদ্দীন জানান, নৌকাডুবির স্থানটি শাকবাড়িয়া ও আড়পাঙ্গাশিয়া নদীর মোহনা। ব্রিটিশ আমলের মানচিত্রে ওই স্থান রাই নদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নদীটি লোকালয়ের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সেখানে নিয়মিত নৌযান চলাচল করে।
নাসির উদ্দীন বলেন, বর্তমানে সুন্দরবনে বন্য প্রাণীর প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে বনজীবী ও পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে লোকালয়ের পাশের নদীপথে চলাচলে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। ওই নৌকাও মূলত লোকালয়ের পাশের নদীপথ দিয়েই চলাচল করছিল।
খুলনা জেলা প্রতিনিধি 





















