লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি :
ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে আন্তঃনগর মহানগর এক্সপ্রেস (৭২১ আপ ও ৭২২ ডাউন) ট্রেন চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ট্রেনটি এ রুটে চলাচল করবে কি না এবং লাকসাম রেলওয়ে জংশনে যাত্রাবিরতি দেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
বাংলাদেশ রেলওয়ের (পূর্বাঞ্চল) প্রধান প্রকৌশলী মো. তানভিরুল ইসলাম বলেন, মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার এবং কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় চলাচলের বিষয়ে আলোচনা চলছে। শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে।
বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস নামে দুটি ট্রেন চলাচল করছে। লাকসাম রেলওয়ে জংশন দেশের গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে জংশনগুলোর একটি।
ঢাকা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও চাঁদপুর—চারটি রেলপথের সঙ্গে যুক্ত এ জংশন দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ জোড়া বা ৪০টি ট্রেন চলাচল করে। তবে কক্সবাজারগামী কোনো ট্রেনের যাত্রাবিরতি নেই।
লাকসাম জংশনে কক্সবাজারগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে গত ১৩ আগস্ট কক্সবাজার রেলস্টেশনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন লাকসাম প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দ। তাঁরা লাকসাম জংশনে কক্সবাজারগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি জানান।
এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১ সেপ্টেম্বর থেকে মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচল করবে এবং লাকসাম জংশনে যাত্রাবিরতি দেবে—এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
বৃহত্তর কুমিল্লা কনটেন্ট ক্রিয়েটর অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল আজিম বলেন, আমরা গুজব ছড়াতে চাই না। আমরা চাই লাকসাম রেলওয়ে জংশনে কক্সবাজারগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতি। এটি এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের যৌক্তিক দাবি। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাবে বলে আমরা আশা করি।
লাকসাম পৌরসভা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র আলহাজ মজির আহমেদ বলেন, লাকসাম একটি প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে জংশন। এখানে কক্সবাজারগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতি দেওয়া হলে বৃহত্তর কুমিল্লাসহ আশপাশের অঞ্চলের মানুষের কক্সবাজার যাতায়াত সহজ হবে। তিনি দ্রুত এ দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
লাকসাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. আবদুল কুদ্দুস বলেন, বৃহত্তর কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনীসহ আশপাশের অঞ্চলের মানুষের কক্সবাজার যাতায়াত সহজ ও সাশ্রয়ী করতে লাকসাম জংশনে কক্সবাজারগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতি প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এ দাবি জানানো হচ্ছে।
লাকসাম উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির (দুপ্রক) সাবেক সভাপতি ও প্রেস ক্লাবের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ মুজিবুর রহমান দুলাল বলেন, আমাদের দাবি পরিষ্কার—গুজব নয়, আমরা চাই বাস্তবায়ন। ফেসবুকের পোস্ট নয়, আমরা চাই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।
লাকসাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আল শারাহ বলেন, লাকসাম জংশনে কক্সবাজারগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতি এ অঞ্চলের মানুষের যৌক্তিক দাবি। রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত উদ্যোগ নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ রেলওয়ের (পূর্বাঞ্চল) প্রধান প্রকৌশলী মো. তানভিরুল ইসলাম বলেন, আন্তঃনগর মহানগর এক্সপ্রেস (৭২১ আপ ও ৭২২ ডাউন) ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার এবং কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকা চলাচলের বিষয়ে আলোচনা চলছে। হয়তো অতি শিগগিরই একটি সিদ্ধান্ত জানানো হবে। পথিমধ্যে যেসব স্টেশনে ওই ট্রেনের পূর্বনির্ধারিত যাত্রাবিরতি ছিল, সেসব স্টেশনে যাত্রাবিরতি অব্যাহত থাকবে।
১ সেপ্টেম্বর থেকে ট্রেনটি চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১ সেপ্টেম্বর থেকে মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচলের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। তবে অতি শিগগিরই ওই ট্রেন চালু করা হবে বলে আমি আশাবাদী।
তিনি জানান, বিষয়টি বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম দেখভাল করছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের (পূর্বাঞ্চল) অতিরিক্ত মহাপরিচালক আতাউল হক ভূঁঞার সঙ্গেও যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মোহাম্মদ নাজমুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
একইভাবে বাংলাদেশ রেলওয়ের (পূর্বাঞ্চল) অতিরিক্ত মহাপরিচালক আতাউল হক ভূঁঞার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি 




















