ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণে ১ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৬:১৯:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৮৭ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়নে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে ১০০ কোটি ডলারের চুক্তি সই করেছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইএসডিবি) গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসেরের উপস্থিতিতে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মিজানুর রহমান এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গ্রুপের পক্ষে সংস্থাটির ডিরেক্টর জেনারেল (কান্ট্রি প্রোগ্রামস) আনাসি আইসামি চুক্তিতে সই করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এ তথ্য জানান।

সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে। এটি কোনো স্লোগান নয়, বরং একটি পরিকল্পনা বলে উল্লেখ কওে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমরা একটি মাইলফলক উদযাপন করছি। আমরা ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের জন্য অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর করছি। এটি শুধু একটি লেনদেন নয়। এটি একটি বার্তা যে, ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক বাংলাদেশের ওপর আস্থা রাখে।

তিনি এ চুক্তি বাস্তবায়নে কাজ করা অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, ইআরএল এবং ঢাকায় আইডিবির আঞ্চলিক হাবের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, তাদের কঠোর পরিশ্রমেই এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

আইডিবির চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ সুলায়মান আল জাসেরের বাংলাদেশ সফরকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ তাকে ও তার পদকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেয়। বাংলাদেশে আসার জন্য তিনি ড. আল জাসেরের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান।

ড. আল জাসের আইডিবির চেয়ারম্যান পুনর্র্নিবাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত পাঁচ বছরে তার দূরদর্শী নেতৃত্বে ব্যাংকটি সদস্য দেশগুলো ও মুসলিম উম্মাহর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে। তার দ্বিতীয় মেয়াদে আরও বড় অর্জন হবে বলে বাংলাদেশ আত্মবিশ্বাসী। এ লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আইডিবির সঙ্গে পাশাপাশি কাজ করার প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, কয়েক দশক ধরে আইডিবি বাংলাদেশের পাশে রয়েছে। বাংলাদেশ এই ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হতে পেরে গর্বিত। এই সদস্যপদ শুধু অর্থায়নের বিষয় নয়; এর ভিত্তি হলো আস্থা, সংহতি ও মুসলিম উম্মাহর সদস্য হিসেবে অভিন্ন লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে নতুন সরকার এসেছে এবং নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি হয়েছে। ‘আমাদের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা। এটি কোনো স্লোগান নয়। এটি একটি পরিকল্পনা। রপ্তানি, বিনিয়োগ ও আর্থিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে এই দশকে আমাদের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করতে চাই আমরা,’ বলেন তিনি।

বাংলাদেশকে এ অঞ্চলের উৎপাদন কেন্দ্র ও প্রবেশদ্বারে পরিণত করার লক্ষ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পোশাকখাত বাংলাদেশের প্রথম প্রবৃদ্ধির গল্প তৈরি করেছে। এখন ইলেকট্রনিকস, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল ও সবুজ শিল্প পরবর্তী প্রবৃদ্ধির গল্প তৈরি করবে।

তিনি বলেন, সরকার এমন কারখানা চায়, যেগুলো কর্মসংস্থান তৈরি করবে এবং এমন কর্মসংস্থান চায়, যা মানুষের মর্যাদা তৈরি করবে।

তারেক রহমান জানান, সরকার ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করেছে এবং হেলথ কার্ডের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নাগরিকদের সরাসরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে ক্রমবর্ধমান জটিল চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাত, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং উন্নয়ন অর্থায়নের ব্যয় বৃদ্ধির কারণে উন্নয়নশীল অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, কোনো দেশ একা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে না। এখন অংশীদারত্ব আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ-আইডিবি সহযোগিতায় নতুন পদ্ধতি গড়ে তোলার প্রত্যাশা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই সহযোগিতা হবে আরও উদ্ভাবনী, সাড়া প্রদানকারী, ফলাফলভিত্তিক ও বাংলাদেশের পরিবর্তিত উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী পুনরায় বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়ন অর্থায়নের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে আইডিবি ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলোর জন্য স্বল্প ব্যয়ের অর্থায়নের সুযোগ হিসেবে ইসলামিক কনসেশনাল ফান্ড (আইসিএফ) প্রতিষ্ঠায় ড. আল জাসেরের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আইসিএফ আইডিবির সহানুভূতিশীল দিকটি সত্যিকার অর্থে তুলে ধরে, যা এটিকে অন্যান্য বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এমডিবি) থেকে আলাদা করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চ্যালেঞ্জগুলো দ্রুত বাড়ছে। তাই সদস্য দেশগুলোকে স্বল্প ব্যয়ের অর্থায়নে সহায়তা দেওয়ার জন্য আইসিএফের পরিধি বাড়ানো হবে বলে বাংলাদেশ আশা করে।

বাংলাদেশ আইসিএফ থেকে সুবিধা নেওয়ার বিষয়ে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি। সম্ভাব্য প্রকল্প চিহ্নিত করতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তারা ঢাকায় আইডিবির আঞ্চলিক হাবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করছেন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের চুক্তি দেখিয়েছে অংশীদারত্ব কী করতে পারে। অভিন্ন লক্ষ্যকে বাস্তব ফলাফলে রূপান্তর করে অংশীদারত্ব।

ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পকে শুধু জ্বালানিখাতে বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে চান না প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষায়, এটি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সক্ষমতায় বিনিয়োগ।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, প্রকল্পটি বাংলাদেশ ও ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে উঠবে এবং আস্থাভিত্তিক ও ফলাফলমুখী অংশীদারত্ব কী অর্জন করতে পারে, তার উদাহরণ তৈরি করবে।

আইডিবিকে মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ড. আল জাসেরের নেতৃত্বে এই প্ল্যাটফর্ম সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সংযোগ তৈরিতে ব্যবহৃত হবে বলে বাংলাদেশ আশা করে।

তারেক রহমান বলেন, কোনো কোনো সদস্য দেশ জ্বালানিখাতে এগিয়ে আছে, আবার কোনো কোনো দেশ অবকাঠামোখাতে এগিয়ে আছে। ব্যাংকটি এসব দেশের মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করতে পারে। সদস্য দেশগুলো শুধু পাশাপাশি নয়, পরস্পরের সঙ্গে নির্মাণ ও উন্নয়নে কাজ করবে— এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

সবশেষে আইডিবির চেয়ারম্যান ড. আল জাসেরের বাংলাদেশ সফর এবং বাংলাদেশ-আইডিবি সম্পর্ক জোরদারে তার ব্যক্তিগত নেতৃত্বের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে ড. আল জাসেরের উপস্থিতি দুই পক্ষের বন্ধনের শক্তির কথা তুলে ধরে। এই আয়োজনের মাধ্যমে অংশীদারত্ব, সংহতি, উদ্ভাবন ও অভিন্ন সমৃদ্ধির জন্য অভিন্ন অঙ্গীকার নতুন করে শক্তিশালী হবে।

ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী হবে এবং তা বাংলাদেশের জনগণ ও বৃহত্তর মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে কাজ করবে— এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত; পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির; প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন; প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ; প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তানভীর গনি; মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা

ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণে ১ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি

প্রকাশের সময় : ০৬:১৯:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়নে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে ১০০ কোটি ডলারের চুক্তি সই করেছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইএসডিবি) গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসেরের উপস্থিতিতে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মিজানুর রহমান এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গ্রুপের পক্ষে সংস্থাটির ডিরেক্টর জেনারেল (কান্ট্রি প্রোগ্রামস) আনাসি আইসামি চুক্তিতে সই করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এ তথ্য জানান।

সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে। এটি কোনো স্লোগান নয়, বরং একটি পরিকল্পনা বলে উল্লেখ কওে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমরা একটি মাইলফলক উদযাপন করছি। আমরা ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের জন্য অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর করছি। এটি শুধু একটি লেনদেন নয়। এটি একটি বার্তা যে, ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক বাংলাদেশের ওপর আস্থা রাখে।

তিনি এ চুক্তি বাস্তবায়নে কাজ করা অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, ইআরএল এবং ঢাকায় আইডিবির আঞ্চলিক হাবের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, তাদের কঠোর পরিশ্রমেই এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

আইডিবির চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ সুলায়মান আল জাসেরের বাংলাদেশ সফরকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ তাকে ও তার পদকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেয়। বাংলাদেশে আসার জন্য তিনি ড. আল জাসেরের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান।

ড. আল জাসের আইডিবির চেয়ারম্যান পুনর্র্নিবাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত পাঁচ বছরে তার দূরদর্শী নেতৃত্বে ব্যাংকটি সদস্য দেশগুলো ও মুসলিম উম্মাহর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে। তার দ্বিতীয় মেয়াদে আরও বড় অর্জন হবে বলে বাংলাদেশ আত্মবিশ্বাসী। এ লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আইডিবির সঙ্গে পাশাপাশি কাজ করার প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, কয়েক দশক ধরে আইডিবি বাংলাদেশের পাশে রয়েছে। বাংলাদেশ এই ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হতে পেরে গর্বিত। এই সদস্যপদ শুধু অর্থায়নের বিষয় নয়; এর ভিত্তি হলো আস্থা, সংহতি ও মুসলিম উম্মাহর সদস্য হিসেবে অভিন্ন লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে নতুন সরকার এসেছে এবং নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি হয়েছে। ‘আমাদের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা। এটি কোনো স্লোগান নয়। এটি একটি পরিকল্পনা। রপ্তানি, বিনিয়োগ ও আর্থিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে এই দশকে আমাদের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করতে চাই আমরা,’ বলেন তিনি।

বাংলাদেশকে এ অঞ্চলের উৎপাদন কেন্দ্র ও প্রবেশদ্বারে পরিণত করার লক্ষ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পোশাকখাত বাংলাদেশের প্রথম প্রবৃদ্ধির গল্প তৈরি করেছে। এখন ইলেকট্রনিকস, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল ও সবুজ শিল্প পরবর্তী প্রবৃদ্ধির গল্প তৈরি করবে।

তিনি বলেন, সরকার এমন কারখানা চায়, যেগুলো কর্মসংস্থান তৈরি করবে এবং এমন কর্মসংস্থান চায়, যা মানুষের মর্যাদা তৈরি করবে।

তারেক রহমান জানান, সরকার ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করেছে এবং হেলথ কার্ডের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নাগরিকদের সরাসরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে ক্রমবর্ধমান জটিল চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাত, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং উন্নয়ন অর্থায়নের ব্যয় বৃদ্ধির কারণে উন্নয়নশীল অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, কোনো দেশ একা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে না। এখন অংশীদারত্ব আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ-আইডিবি সহযোগিতায় নতুন পদ্ধতি গড়ে তোলার প্রত্যাশা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই সহযোগিতা হবে আরও উদ্ভাবনী, সাড়া প্রদানকারী, ফলাফলভিত্তিক ও বাংলাদেশের পরিবর্তিত উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী পুনরায় বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়ন অর্থায়নের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে আইডিবি ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলোর জন্য স্বল্প ব্যয়ের অর্থায়নের সুযোগ হিসেবে ইসলামিক কনসেশনাল ফান্ড (আইসিএফ) প্রতিষ্ঠায় ড. আল জাসেরের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আইসিএফ আইডিবির সহানুভূতিশীল দিকটি সত্যিকার অর্থে তুলে ধরে, যা এটিকে অন্যান্য বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এমডিবি) থেকে আলাদা করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চ্যালেঞ্জগুলো দ্রুত বাড়ছে। তাই সদস্য দেশগুলোকে স্বল্প ব্যয়ের অর্থায়নে সহায়তা দেওয়ার জন্য আইসিএফের পরিধি বাড়ানো হবে বলে বাংলাদেশ আশা করে।

বাংলাদেশ আইসিএফ থেকে সুবিধা নেওয়ার বিষয়ে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি। সম্ভাব্য প্রকল্প চিহ্নিত করতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তারা ঢাকায় আইডিবির আঞ্চলিক হাবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করছেন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের চুক্তি দেখিয়েছে অংশীদারত্ব কী করতে পারে। অভিন্ন লক্ষ্যকে বাস্তব ফলাফলে রূপান্তর করে অংশীদারত্ব।

ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পকে শুধু জ্বালানিখাতে বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে চান না প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষায়, এটি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সক্ষমতায় বিনিয়োগ।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, প্রকল্পটি বাংলাদেশ ও ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে উঠবে এবং আস্থাভিত্তিক ও ফলাফলমুখী অংশীদারত্ব কী অর্জন করতে পারে, তার উদাহরণ তৈরি করবে।

আইডিবিকে মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ড. আল জাসেরের নেতৃত্বে এই প্ল্যাটফর্ম সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সংযোগ তৈরিতে ব্যবহৃত হবে বলে বাংলাদেশ আশা করে।

তারেক রহমান বলেন, কোনো কোনো সদস্য দেশ জ্বালানিখাতে এগিয়ে আছে, আবার কোনো কোনো দেশ অবকাঠামোখাতে এগিয়ে আছে। ব্যাংকটি এসব দেশের মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করতে পারে। সদস্য দেশগুলো শুধু পাশাপাশি নয়, পরস্পরের সঙ্গে নির্মাণ ও উন্নয়নে কাজ করবে— এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

সবশেষে আইডিবির চেয়ারম্যান ড. আল জাসেরের বাংলাদেশ সফর এবং বাংলাদেশ-আইডিবি সম্পর্ক জোরদারে তার ব্যক্তিগত নেতৃত্বের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে ড. আল জাসেরের উপস্থিতি দুই পক্ষের বন্ধনের শক্তির কথা তুলে ধরে। এই আয়োজনের মাধ্যমে অংশীদারত্ব, সংহতি, উদ্ভাবন ও অভিন্ন সমৃদ্ধির জন্য অভিন্ন অঙ্গীকার নতুন করে শক্তিশালী হবে।

ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী হবে এবং তা বাংলাদেশের জনগণ ও বৃহত্তর মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে কাজ করবে— এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত; পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির; প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন; প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ; প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তানভীর গনি; মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।