জুলাই অভ্যুত্থান কোনো দল বা ব্যক্তির নয়, গণতন্ত্রকামী মানুষের অর্জন : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

জুলাই অভ্যুত্থান কোনো একক দল বা ব্যক্তির নয় দাবি করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এটি গণতন্ত্র ও শান্তিকামী সব মানুষের অর্জন।

শনিবার (৪ জুলাই) ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ এবং ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি’ আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

তারেক রহমান বলেন, যারা জুলাই আন্দোলনে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, স্বজন হারিয়েছেন তাদের জন্য রাষ্ট্র তার সামর্থ্যমতো মূল্যায়নের চেষ্টা করবে। আপনাদের প্রতি যারা অন্যায়, অবিচার করেছে তাতে জড়িতদের দেশের আইন অনুযায়ী বিচার হবে। তবে বিচারের আগ খেয়াল রাখতে হবে যাতে কারও প্রতি অবিচার না হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার ও তার পরিবার এবং দেশের মানুষের ওপর বিগত ১৭ বছরে যে অবিচার করা হয়েছে- আল্লাহ তাকে এখন সেই সবের প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছেন। কিন্তু তিনি প্রতিশোধ নিতে চান না।

তারেক রহমান বলেন, তার ও তার পরিবার এবং দেশের মানুষের ওপর বিগত ১৭ বছরে যে অবিচার করা হয়েছে—আল্লাহ তাকে এখন সেই সবের প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছেন। কিন্তু তিনি প্রতিশোধ নিতে চান না। তিনি জানান, তার দায়িত্ব দেশকে ঐক্যবদ্ধ করা।

May be an image of ‎dais and ‎text that says "‎জুলাই জাতীয় শহীদ সম্মেলন-২০ -২০২৬ বসামল্লাহির রহমানির রহিম জুলাই ২৪ পরিবার সসাইটি আমরা জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সবকারেব মাননীয় প্রধানমন্ধী ធនន জনাব তারেক রহমান জনাব সালাহউদ্দি सहरिव 저을, স্বষ্ জনাব জাকারিয়া มะลร้าย 双验 ושת o জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান 제약 জনাব আহমেদ আজম খান NOTE ផះក្ួម বिমহছ জনাব আতিকুর রহমান রুমন แองซ้ว মপলট্টার Edts জনাব সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন হাবিএ্রিক দাবি জনাব ইশরাক হোসেন wote ሞከሳ יויו সा ল ইসলাম মনি একমজা மஜ் এমদাবি এক η একদ সবার সবারআাকে আগে বাংলাদেশ‎"‎‎

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি যদি এই মুহূর্তে আমার মাকে জিজ্ঞেস করতে পারতাম—মা, গত ১৭ বছর আপনার ওপর যে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন হয়েছে, আপনি কি চান আমি তার প্রতিশোধ নিই। আমি যদি জিজ্ঞেস করতাম আপনার ওপর যে অবিচার-অন্যায় হয়েছে তার প্রতিশোধ আমি নিই…; কারণ সেই প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাকে দিয়েছেন। আমার মায়ের সন্তান হিসেবে আমি নিশ্চিত—আমার মা আমাকে বলতেন, তোমার দায়িত্ব দেশের সকলকে ঐক্যবন্ধ করে সামনে এগিয়ে যাওয়া। দেশকে সামনে নিয়ে যাওয়া। আমি যদি আমার ভাইকে জিজ্ঞেস করতে পারতাম, তুমি কি চাও—তোমার সাথে যে অন্যায় যে অবিচার হয়েছে—যেভাবে তোমাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, যারা এর জন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে আমি প্রতিশোধ নিই; কারণ সেই ক্ষমতা আল্লাহ আমাকে এখন দিয়েছেন…; আমি নিশ্চিত, দুই ভাই আমরা একসঙ্গে বড় হয়েছি, তাকে আমি চিনি, তাকে আমি জানি, একই রক্ত আমাদের শরীরে প্রবাহিত, আমার ভাইও আমাকে একই উত্ত দিতো, যে উত্তর আমাকে আমার মা দিতেন।

তিনি বলেন, আমি ১৭ বছর আগে দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলাম। দেশে ফিরে এসে আমার অনেক সহকর্মীকে পাইনি। আমার ছাত্রদলের অনেককে আমি রেখে গিয়েছিলাম। তাদের অনেককে পাইনি। অনেকে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন।

May be an image of dais and text

তারেক রহমান বলেন, যারা জুলাই হত্যাকাণ্ডে দায়ী তাদের বিচার করা হবে। বিচারের নামে যেন অবিচার না হয়; সেটিও লক্ষ রাখতে হবে। সময় নিয়ে হলেও যে হত্যাকারী তার সঠিক বিচার নিশ্চিত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঠিক কতজন নিহত হয়েছেন, তা নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা রয়েছে। তবে তার হিসাবে, অন্তত ২ হাজার মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩০ হাজারের বেশি। আর জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, প্রাণ হারিয়েছে ৬০ শিশু। তিনি বলেন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার করবে সরকার।

তারেক রহমান বলেন, দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে।

বিগত শেখ হাসিনা সরকারের বিভিন্ন অন্যায়-অত্যাচারের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রায় প্রতিটি মানুষই অতীতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অসংখ্য মানুষকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হয়েছে। শুধু বিএনপিরই ৬০ লাখ নেতাকর্মী মিথ্যা মামলার কারণে বাড়িছাড়া হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

May be an image of one or more people, dais, crowd and text

তারেক রহমান বলেন, নিহত ও নির্যাতিত প্রতিটি মানুষের স্বপ্ন ছিল দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। তাই রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সবাইকে বিচারের নামে কারও প্রতি জুলুম না করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, এতে কবরে শুয়ে থাকা আমাদের স্বজনরা শান্তি পাবেন না। তাই বিচার করতে কিছুটা সময় লাগলেও সরকার ধৈর্যের সঙ্গে এগোবে, যাতে অপরাধীরা সঠিক বিচার পায়। আমরা প্রশ্নবিদ্ধ বিচার করতে চাই না। সব আইন অনুসরণ করেই বিচার সম্পন্ন করা হবে।

শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়ে তিনি বলেন, যে শহীদ হয়েছে, সে যদি ওপর থেকে দেখে যে তার হত্যার বিচার করতে গিয়ে আমরা অন্য কারো ওপর অন্যায়-অবিচারের আশ্রয় নিচ্ছি, তাহলে সেই শহীদ কষ্ট পাবে। আইন অনুযায়ী হত্যাকারীদের সঠিক বিচার করা হবে, প্রয়োজনে বিচার প্রক্রিয়ার জন্য সময় নেয়া হবে।

দেশে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিকে বিভক্ত করে দেশকে কোনোভাবেই সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া যায় না। দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এই গণ-অভ্যুত্থানে প্রত্যেকের ত্যাগের মূল্যায়ন করা হবে, তবে তার মানে এই নয় যে কাউকে বঞ্চিত করে তা করা হবে।

তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে যে অর্জন এসেছে তা কোনো একক ব্যক্তি বা একক দলের নয়; এ অর্জন দেশের প্রতিটি শান্তিপ্রিয়, প্রতিটি গণতান্ত্রিক মানুষের। জুলাইয়ে যারা শহীদ ও আহত হয়েছেন, তাদের লক্ষ্য ছিল এ দেশের ব্যবস্থার পরিবর্তন, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্যেই আমাদের সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।

উপস্থিত শহীদ পরিবার ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ জুলাই শহীদদের সত্যিকারের সম্মান করতে হলে আমাদের কাজের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। দেশকে যদি আমরা সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে পারি, তবেই ভবিষ্যতে আপনারা গর্ব করে বলতে পারবেন যে নিজেদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে আপনারা দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পেরেছেন। সবার কাছে আমার এটাই প্রত্যাশা।

তারেক রহমান বলেন, শহীদ পরিবার এবং আহত যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করাও জরুরি।

তিনি  বলেন, যারা অন্যায় করেছে, যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের বিচার অবশ্যই হবে। তবে আমরা চাই, বিচারের নামে যেন আরেকটি অবিচার না ঘটে। বিচার হতে হবে ন্যায়সংগত ও আইনের ভিত্তিতে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাদের হারানো হয়েছে তারা আর কখনো ফিরে আসবেন না। কিন্তু তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দায়িত্ব এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গর্ব করে বলতে পারবে-এই পরিবর্তনের পেছনে শহীদদের আত্মত্যাগ রয়েছে।

বক্তব্যের শেষে জুলাই শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের আত্মত্যাগের লক্ষ্য বাস্তবায়নই হবে তাদের প্রতি প্রকৃত সম্মান।

পরে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতেও স্মৃতি স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, গৃহায়ন মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সভাপতি আবু হুরায়রা, কওমী ছাত্র ফোরামের সভাপতি মাওলানা জামিল সিদ্দিকী, আয়োজক সংগঠন ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’র সভাপতি আমিনুল ইসলাম ইমন, সাধারণ সম্পাদক আল মিরাজ, শহীদ ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির সভাপতি গোলাম রহমান ও সাধারণ সম্পাদক রবিউল আওয়াল বক্তব্য রাখেন।

জুলাই বিপ্লবে শহীদ সন্তানদের নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন– শহীদ আবু সাইয়িদের ভাই আবু হোসেইন, শহীদ শাহরিয়ার হোসেন আলভীর বাবা আবুল হোসেন, শহীদ আবদুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ্জোহরা, শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবার শফিউল আলম এবং যাত্রাবাড়ীতে শহীদ মিরাজ হোসেনের বাবা আবদুর রব মিয়া।

সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করে গিয়েছেন যে, জাতিসংঘের হিসাবে প্রায় ১৪০০মানুষ সেদিন শহীদ হয়েছিলেন। সেই উত্তাল দিনগুলোতে যতটুকু সম্ভব হয়েছে আমার পক্ষে আমি যতটুকু বিভিন্নভাবে শত বাধা-বিপত্তির মধ্যেও বিভিন্নভাবে খোঁজ করছিলাম আমার নেতাকর্মীদের মাধ্যমে। অনেকে অনেক হিসাব দিয়েছে। কিন্তু আমার হিসাবে, শুধু জুলাই আন্দোলনে শহীদ হয়েছে ২ হাজারের মতো মানুষ, ৩০ হাজারের মতো মানুষ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সার্বিকভাবে।

আওয়ামী লীগ শাসনামলে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন, মামলা-হামলার বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আজকে আপনাদের সকলের কাছে একটু সহযোগিতা চাই আমি। আপনজনকে আপনারা হারিয়েছেন তারও তো লক্ষ্য ছিল এই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন, তারও তো লক্ষ্য ছিল এই দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন। আপনি নিজে যে মানুষটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, কোনোভাবে তারও তো লক্ষ্য ছিল—এই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন, এই দেশের মানুষের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।

জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি প্রথমেই বলেছি রাষ্ট্র দেশ তার যথাসাধ্য দিয়ে আপনাদেরকে মূল্যায়নের চেষ্টা করবে, আপনাদের আত্মত্যাগকে মূল্যায়ন করবে। একই সাথে আপনাদের আত্মত্যাগকে যেরকম মূল্যায়ন করবে। আপনাদের বিরুদ্ধে যে অন্যায় হয়েছে, যেভাবে আপনার আপনজনকে হত্যা করা অবশ্যই তার জন্য যারা দায়ী, তাদেরও বিচার হবে—এই দেশের আইন অনুযায়ী। তবে আপনারা দেখেছেন এখানে এই মঞ্চ থেকে আপনাদেরকে স্মরণ করে দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উনি উল্লেখ করেছেন- এরই ভেতরে কতগুলো বিচার কার্য সম্পন্ন হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, শুধু আমার দলেরই নয়, অন্যান্য আরো রাজনৈতিক দল এবং একই সাথে যে সকল অরাজনৈতিক ব্যক্তি—যারা ৫ অগাস্ট (ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন আন্দোলন) সফল করেছিলেন, তাদের সকলের কাছে বলতে চাই যে—আসুন আমাদের প্রতি স্বৈরাচার যেমন বাংলাদেশের লক্ষ কোটি মানুষের প্রতি স্বৈরাচার যেমন অবিচার করেছিল, আমরা বিচারের নামে কারো প্রতি যেন অবিচার না হয়, সে বিষয়টিতেও আমাদের সচেতন থাকতে হবে। কারণ যে আপনজনকে আপনি হারিয়েছেন, সে যদি দেখতে পারে আজকে যে তার তার প্রতি যে অন্যায় হয়েছে, সেই অন্যায়ের যে বিচার—সেটি করতে গিয়ে আমরা অবিচার করে ফেলেছি। নিশ্চয়ই সেই মানুষটি ওপার থেকে নিশ্চয়ই শান্তি পাবে না। সেজন্য অবশ্যই আমাদেরকে খেয়াল রাখতে হবে যে, আইন অনুযায়ী আইনের যে সকল নিয়ম সবগুলো বজায় রেখে …দরকার হলে আমরা একটু সময় নেব, কিন্তু যে অন্যায়কারী, যে হত্যাকারী তার যাতে সঠিক বিচার হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই ত্যাগের মূল্যায়ন হবে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে আরেকজনকে আমরা বঞ্চিত রেখে আমাদের মূল্যায়ন হবে। বরং আজকে সময় এসেছে আমরা দেশকে কীভাবে দিতে পারি? আজকে সময় এসেছে আমরা দেশের জন্য কী করতে পারি? আপনারা যা দাবি করেছেন আমি যদি…রাষ্ট্র যদি সকল কিছু আপনাদের পূরণ করে, যাকে আপনি হারিয়েছেন; তাকে কি আপনি ফিরে পাবেন? যে আপনজনকে আপনি হারিয়েছেন তাকে ফিরে পাবেন? আপনার যে দৃষ্টি শক্তি আপনি হারিয়েছেন, আপনার শরীরে যে আঘাতটি আছে এখনো, আপনার শরীরের যে আঘাতের চিহ্ন রয়ে গেছে বা যন্ত্রণা রয়েছে সেটি কি সম্পূর্ণ ঠিক হয়ে যাবে? যাবে না।

তিনি বলেন, তবে আমরা যদি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি, আপনি গর্ব করে বলতে পারবেন, একদিন আপনার পরবর্তী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আপনি বলতে পারবেন যে, আপনার আপনজনের আত্মত্যাগের বিনিময়, নিজের ত্যাগের বিনিময় এই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে, এই দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। আপনি যার জন্য কষ্ট করেছেন, আপনার আপনজন যেজন্য আত্মত্যাগ করেছে, সেটি সফলতার দিকে এগিয়ে যাবে। এটি আমি মনে করি, আমাদের সকলের আজকের প্রত্যাশা হওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি জানি, এখানে অনেক মা উপস্থিত আছেন, উনি দেখেছেন কীভাবে সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে; এখানে মা উপস্থিত আছেন, উনি দেখেছেন কীভাবে তার সন্তানকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এখানে ভাই উপস্থিত আছেন, সে দেখেছে কীভাবে তার ভাইকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আপনাদের এই কষ্টের বিপরীতে শুধু একটি কথাই আমি বলতে চাই, দেখুন আপনাদের যে কষ্ট—সেই কষ্টটি আমিও বুঝি, অনুভব করতে পারি। শারীরিকভাবে নির্যাতিত হয়েছেন, যেই নির্যাতনের কষ্ট আপনাদেরকে এখনো স্বৈরাচারের সময় থেকে শুরু করে ৫ অগাস্ট জুলাই আন্দোলনে অনেকেই বহু হাজারো লক্ষ মানুষ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সেই নির্যাতনের যে কষ্ট আপনাদেরকে এখনো ভোগ করে বেড়াতে হচ্ছে, সেরকম শারীরিক কষ্ট বলুন, মানসিক কষ্ট বলুন —প্রত্যেকটি কিন্তু আমাকেও ব্যক্তি হিসেবে ভোগ করতে হচ্ছে বা আমাকেও বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। আপনাদের সেই কষ্ট সেদিন মানসিক হোক, সেটি শারীরিক হোক; আমি কিছুটা হলেও অনুভব করতে সক্ষম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্যাগ সেই করতে পারে, যার ত্যাগ করার মত শক্তি এবং সাহস আছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার দল, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দল, বাংলাদেশের অস্তিত্বে যারা বিশ্বাস করে, বাংলাদেশের গণতন্ত্রে যারা বিশ্বাস করে; আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে বিশ্বাস করি—এইরকম প্রত্যেকটি মানুষের সেই সাহস এবং সেই শক্তি আছে, যার বলে আমরা ক্ষমতা রাখি যে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করা, যার বলে আমরা সেই শক্তি রাখি দেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখার। আসুন আমাদের মূল লক্ষ্য, আমাদের মূল উদ্দেশ্য আমি না, আমরা। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশ; আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশের জনগণ।

সরকারপ্রধান বলেন, আজকের এই দিনে জুলাই অভ্যুত্থানে, জুলাই শহীদ, জুলাই যোদ্ধা এবং বিগত ১৭ বছরের যতজন শহীদ হয়েছে, তাদেরকে প্রতি যদি সম্পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করতে হয়; তাহলে যার জন্য তারা স্যাক্রিফাইস করেছেন, সেই লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা…এটি হোক আজকের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের গৃহীত শপথ, এটি হোক আজকের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের গৃহীত প্রতিজ্ঞা।

জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, গৃহায়ন মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সভাপতি আবু হুরায়রা, কওমী ছাত্র ফোরামের সভাপতি জামিল সিদ্দিকী, আয়োজক সংগঠন ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’র সভাপতি আমিনুল ইসলাম ইমন, সাধারণ সম্পাদক আল মিরাজ, শহীদ ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির সভাপতি গোলাম রহমান ও সাধারণ সম্পাদক রবিউল আওয়াল বক্তব্য রাখেন।

জুলাই বিপ্লবে শহীদদের নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেইন, শহীদ শাহরিয়ার হোসেন আলভীর বাবা আবুল হোসেন, শহীদ আবদুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ্জোহরা, শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা শফিউল আলম এবং যাত্রাবাড়ীতে শহীদ মিরাজ হোসেনের বাবা আবদুর রব মিয়া।

জুলাই বিপ্লবে আহত শাহিন মালু, সুজন মোল্লা, মিল্লাত হোসেন, আল-আমীন, মেহেদি হাসান মিরাজ তাদের মনোবেদনার কথা অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন।

সম্মেলনে রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাই কমিশনার, সামরিক ও বেসামরিক ঊধর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

খুলে দেওয়া হয়েছে কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট

জুলাই অভ্যুত্থান কোনো দল বা ব্যক্তির নয়, গণতন্ত্রকামী মানুষের অর্জন : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০২:২৩:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

জুলাই অভ্যুত্থান কোনো একক দল বা ব্যক্তির নয় দাবি করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এটি গণতন্ত্র ও শান্তিকামী সব মানুষের অর্জন।

শনিবার (৪ জুলাই) ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ এবং ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি’ আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

তারেক রহমান বলেন, যারা জুলাই আন্দোলনে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, স্বজন হারিয়েছেন তাদের জন্য রাষ্ট্র তার সামর্থ্যমতো মূল্যায়নের চেষ্টা করবে। আপনাদের প্রতি যারা অন্যায়, অবিচার করেছে তাতে জড়িতদের দেশের আইন অনুযায়ী বিচার হবে। তবে বিচারের আগ খেয়াল রাখতে হবে যাতে কারও প্রতি অবিচার না হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার ও তার পরিবার এবং দেশের মানুষের ওপর বিগত ১৭ বছরে যে অবিচার করা হয়েছে- আল্লাহ তাকে এখন সেই সবের প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছেন। কিন্তু তিনি প্রতিশোধ নিতে চান না।

তারেক রহমান বলেন, তার ও তার পরিবার এবং দেশের মানুষের ওপর বিগত ১৭ বছরে যে অবিচার করা হয়েছে—আল্লাহ তাকে এখন সেই সবের প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছেন। কিন্তু তিনি প্রতিশোধ নিতে চান না। তিনি জানান, তার দায়িত্ব দেশকে ঐক্যবদ্ধ করা।

May be an image of ‎dais and ‎text that says "‎জুলাই জাতীয় শহীদ সম্মেলন-২০ -২০২৬ বসামল্লাহির রহমানির রহিম জুলাই ২৪ পরিবার সসাইটি আমরা জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সবকারেব মাননীয় প্রধানমন্ধী ធនន জনাব তারেক রহমান জনাব সালাহউদ্দি सहरिव 저을, স্বষ্ জনাব জাকারিয়া มะลร้าย 双验 ושת o জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান 제약 জনাব আহমেদ আজম খান NOTE ផះក្ួម বिমহছ জনাব আতিকুর রহমান রুমন แองซ้ว মপলট্টার Edts জনাব সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন হাবিএ্রিক দাবি জনাব ইশরাক হোসেন wote ሞከሳ יויו সा ল ইসলাম মনি একমজা மஜ் এমদাবি এক η একদ সবার সবারআাকে আগে বাংলাদেশ‎"‎‎

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি যদি এই মুহূর্তে আমার মাকে জিজ্ঞেস করতে পারতাম—মা, গত ১৭ বছর আপনার ওপর যে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন হয়েছে, আপনি কি চান আমি তার প্রতিশোধ নিই। আমি যদি জিজ্ঞেস করতাম আপনার ওপর যে অবিচার-অন্যায় হয়েছে তার প্রতিশোধ আমি নিই…; কারণ সেই প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাকে দিয়েছেন। আমার মায়ের সন্তান হিসেবে আমি নিশ্চিত—আমার মা আমাকে বলতেন, তোমার দায়িত্ব দেশের সকলকে ঐক্যবন্ধ করে সামনে এগিয়ে যাওয়া। দেশকে সামনে নিয়ে যাওয়া। আমি যদি আমার ভাইকে জিজ্ঞেস করতে পারতাম, তুমি কি চাও—তোমার সাথে যে অন্যায় যে অবিচার হয়েছে—যেভাবে তোমাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, যারা এর জন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে আমি প্রতিশোধ নিই; কারণ সেই ক্ষমতা আল্লাহ আমাকে এখন দিয়েছেন…; আমি নিশ্চিত, দুই ভাই আমরা একসঙ্গে বড় হয়েছি, তাকে আমি চিনি, তাকে আমি জানি, একই রক্ত আমাদের শরীরে প্রবাহিত, আমার ভাইও আমাকে একই উত্ত দিতো, যে উত্তর আমাকে আমার মা দিতেন।

তিনি বলেন, আমি ১৭ বছর আগে দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলাম। দেশে ফিরে এসে আমার অনেক সহকর্মীকে পাইনি। আমার ছাত্রদলের অনেককে আমি রেখে গিয়েছিলাম। তাদের অনেককে পাইনি। অনেকে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন।

May be an image of dais and text

তারেক রহমান বলেন, যারা জুলাই হত্যাকাণ্ডে দায়ী তাদের বিচার করা হবে। বিচারের নামে যেন অবিচার না হয়; সেটিও লক্ষ রাখতে হবে। সময় নিয়ে হলেও যে হত্যাকারী তার সঠিক বিচার নিশ্চিত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঠিক কতজন নিহত হয়েছেন, তা নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা রয়েছে। তবে তার হিসাবে, অন্তত ২ হাজার মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩০ হাজারের বেশি। আর জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, প্রাণ হারিয়েছে ৬০ শিশু। তিনি বলেন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার করবে সরকার।

তারেক রহমান বলেন, দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে।

বিগত শেখ হাসিনা সরকারের বিভিন্ন অন্যায়-অত্যাচারের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রায় প্রতিটি মানুষই অতীতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অসংখ্য মানুষকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হয়েছে। শুধু বিএনপিরই ৬০ লাখ নেতাকর্মী মিথ্যা মামলার কারণে বাড়িছাড়া হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

May be an image of one or more people, dais, crowd and text

তারেক রহমান বলেন, নিহত ও নির্যাতিত প্রতিটি মানুষের স্বপ্ন ছিল দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। তাই রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সবাইকে বিচারের নামে কারও প্রতি জুলুম না করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, এতে কবরে শুয়ে থাকা আমাদের স্বজনরা শান্তি পাবেন না। তাই বিচার করতে কিছুটা সময় লাগলেও সরকার ধৈর্যের সঙ্গে এগোবে, যাতে অপরাধীরা সঠিক বিচার পায়। আমরা প্রশ্নবিদ্ধ বিচার করতে চাই না। সব আইন অনুসরণ করেই বিচার সম্পন্ন করা হবে।

শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়ে তিনি বলেন, যে শহীদ হয়েছে, সে যদি ওপর থেকে দেখে যে তার হত্যার বিচার করতে গিয়ে আমরা অন্য কারো ওপর অন্যায়-অবিচারের আশ্রয় নিচ্ছি, তাহলে সেই শহীদ কষ্ট পাবে। আইন অনুযায়ী হত্যাকারীদের সঠিক বিচার করা হবে, প্রয়োজনে বিচার প্রক্রিয়ার জন্য সময় নেয়া হবে।

দেশে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিকে বিভক্ত করে দেশকে কোনোভাবেই সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া যায় না। দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এই গণ-অভ্যুত্থানে প্রত্যেকের ত্যাগের মূল্যায়ন করা হবে, তবে তার মানে এই নয় যে কাউকে বঞ্চিত করে তা করা হবে।

তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে যে অর্জন এসেছে তা কোনো একক ব্যক্তি বা একক দলের নয়; এ অর্জন দেশের প্রতিটি শান্তিপ্রিয়, প্রতিটি গণতান্ত্রিক মানুষের। জুলাইয়ে যারা শহীদ ও আহত হয়েছেন, তাদের লক্ষ্য ছিল এ দেশের ব্যবস্থার পরিবর্তন, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্যেই আমাদের সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।

উপস্থিত শহীদ পরিবার ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ জুলাই শহীদদের সত্যিকারের সম্মান করতে হলে আমাদের কাজের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। দেশকে যদি আমরা সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে পারি, তবেই ভবিষ্যতে আপনারা গর্ব করে বলতে পারবেন যে নিজেদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে আপনারা দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পেরেছেন। সবার কাছে আমার এটাই প্রত্যাশা।

তারেক রহমান বলেন, শহীদ পরিবার এবং আহত যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করাও জরুরি।

তিনি  বলেন, যারা অন্যায় করেছে, যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের বিচার অবশ্যই হবে। তবে আমরা চাই, বিচারের নামে যেন আরেকটি অবিচার না ঘটে। বিচার হতে হবে ন্যায়সংগত ও আইনের ভিত্তিতে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাদের হারানো হয়েছে তারা আর কখনো ফিরে আসবেন না। কিন্তু তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দায়িত্ব এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গর্ব করে বলতে পারবে-এই পরিবর্তনের পেছনে শহীদদের আত্মত্যাগ রয়েছে।

বক্তব্যের শেষে জুলাই শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের আত্মত্যাগের লক্ষ্য বাস্তবায়নই হবে তাদের প্রতি প্রকৃত সম্মান।

পরে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতেও স্মৃতি স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, গৃহায়ন মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সভাপতি আবু হুরায়রা, কওমী ছাত্র ফোরামের সভাপতি মাওলানা জামিল সিদ্দিকী, আয়োজক সংগঠন ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’র সভাপতি আমিনুল ইসলাম ইমন, সাধারণ সম্পাদক আল মিরাজ, শহীদ ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির সভাপতি গোলাম রহমান ও সাধারণ সম্পাদক রবিউল আওয়াল বক্তব্য রাখেন।

জুলাই বিপ্লবে শহীদ সন্তানদের নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন– শহীদ আবু সাইয়িদের ভাই আবু হোসেইন, শহীদ শাহরিয়ার হোসেন আলভীর বাবা আবুল হোসেন, শহীদ আবদুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ্জোহরা, শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবার শফিউল আলম এবং যাত্রাবাড়ীতে শহীদ মিরাজ হোসেনের বাবা আবদুর রব মিয়া।

সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করে গিয়েছেন যে, জাতিসংঘের হিসাবে প্রায় ১৪০০মানুষ সেদিন শহীদ হয়েছিলেন। সেই উত্তাল দিনগুলোতে যতটুকু সম্ভব হয়েছে আমার পক্ষে আমি যতটুকু বিভিন্নভাবে শত বাধা-বিপত্তির মধ্যেও বিভিন্নভাবে খোঁজ করছিলাম আমার নেতাকর্মীদের মাধ্যমে। অনেকে অনেক হিসাব দিয়েছে। কিন্তু আমার হিসাবে, শুধু জুলাই আন্দোলনে শহীদ হয়েছে ২ হাজারের মতো মানুষ, ৩০ হাজারের মতো মানুষ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সার্বিকভাবে।

আওয়ামী লীগ শাসনামলে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন, মামলা-হামলার বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আজকে আপনাদের সকলের কাছে একটু সহযোগিতা চাই আমি। আপনজনকে আপনারা হারিয়েছেন তারও তো লক্ষ্য ছিল এই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন, তারও তো লক্ষ্য ছিল এই দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন। আপনি নিজে যে মানুষটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, কোনোভাবে তারও তো লক্ষ্য ছিল—এই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন, এই দেশের মানুষের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।

জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি প্রথমেই বলেছি রাষ্ট্র দেশ তার যথাসাধ্য দিয়ে আপনাদেরকে মূল্যায়নের চেষ্টা করবে, আপনাদের আত্মত্যাগকে মূল্যায়ন করবে। একই সাথে আপনাদের আত্মত্যাগকে যেরকম মূল্যায়ন করবে। আপনাদের বিরুদ্ধে যে অন্যায় হয়েছে, যেভাবে আপনার আপনজনকে হত্যা করা অবশ্যই তার জন্য যারা দায়ী, তাদেরও বিচার হবে—এই দেশের আইন অনুযায়ী। তবে আপনারা দেখেছেন এখানে এই মঞ্চ থেকে আপনাদেরকে স্মরণ করে দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উনি উল্লেখ করেছেন- এরই ভেতরে কতগুলো বিচার কার্য সম্পন্ন হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, শুধু আমার দলেরই নয়, অন্যান্য আরো রাজনৈতিক দল এবং একই সাথে যে সকল অরাজনৈতিক ব্যক্তি—যারা ৫ অগাস্ট (ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন আন্দোলন) সফল করেছিলেন, তাদের সকলের কাছে বলতে চাই যে—আসুন আমাদের প্রতি স্বৈরাচার যেমন বাংলাদেশের লক্ষ কোটি মানুষের প্রতি স্বৈরাচার যেমন অবিচার করেছিল, আমরা বিচারের নামে কারো প্রতি যেন অবিচার না হয়, সে বিষয়টিতেও আমাদের সচেতন থাকতে হবে। কারণ যে আপনজনকে আপনি হারিয়েছেন, সে যদি দেখতে পারে আজকে যে তার তার প্রতি যে অন্যায় হয়েছে, সেই অন্যায়ের যে বিচার—সেটি করতে গিয়ে আমরা অবিচার করে ফেলেছি। নিশ্চয়ই সেই মানুষটি ওপার থেকে নিশ্চয়ই শান্তি পাবে না। সেজন্য অবশ্যই আমাদেরকে খেয়াল রাখতে হবে যে, আইন অনুযায়ী আইনের যে সকল নিয়ম সবগুলো বজায় রেখে …দরকার হলে আমরা একটু সময় নেব, কিন্তু যে অন্যায়কারী, যে হত্যাকারী তার যাতে সঠিক বিচার হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই ত্যাগের মূল্যায়ন হবে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে আরেকজনকে আমরা বঞ্চিত রেখে আমাদের মূল্যায়ন হবে। বরং আজকে সময় এসেছে আমরা দেশকে কীভাবে দিতে পারি? আজকে সময় এসেছে আমরা দেশের জন্য কী করতে পারি? আপনারা যা দাবি করেছেন আমি যদি…রাষ্ট্র যদি সকল কিছু আপনাদের পূরণ করে, যাকে আপনি হারিয়েছেন; তাকে কি আপনি ফিরে পাবেন? যে আপনজনকে আপনি হারিয়েছেন তাকে ফিরে পাবেন? আপনার যে দৃষ্টি শক্তি আপনি হারিয়েছেন, আপনার শরীরে যে আঘাতটি আছে এখনো, আপনার শরীরের যে আঘাতের চিহ্ন রয়ে গেছে বা যন্ত্রণা রয়েছে সেটি কি সম্পূর্ণ ঠিক হয়ে যাবে? যাবে না।

তিনি বলেন, তবে আমরা যদি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি, আপনি গর্ব করে বলতে পারবেন, একদিন আপনার পরবর্তী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আপনি বলতে পারবেন যে, আপনার আপনজনের আত্মত্যাগের বিনিময়, নিজের ত্যাগের বিনিময় এই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে, এই দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। আপনি যার জন্য কষ্ট করেছেন, আপনার আপনজন যেজন্য আত্মত্যাগ করেছে, সেটি সফলতার দিকে এগিয়ে যাবে। এটি আমি মনে করি, আমাদের সকলের আজকের প্রত্যাশা হওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি জানি, এখানে অনেক মা উপস্থিত আছেন, উনি দেখেছেন কীভাবে সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে; এখানে মা উপস্থিত আছেন, উনি দেখেছেন কীভাবে তার সন্তানকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এখানে ভাই উপস্থিত আছেন, সে দেখেছে কীভাবে তার ভাইকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আপনাদের এই কষ্টের বিপরীতে শুধু একটি কথাই আমি বলতে চাই, দেখুন আপনাদের যে কষ্ট—সেই কষ্টটি আমিও বুঝি, অনুভব করতে পারি। শারীরিকভাবে নির্যাতিত হয়েছেন, যেই নির্যাতনের কষ্ট আপনাদেরকে এখনো স্বৈরাচারের সময় থেকে শুরু করে ৫ অগাস্ট জুলাই আন্দোলনে অনেকেই বহু হাজারো লক্ষ মানুষ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সেই নির্যাতনের যে কষ্ট আপনাদেরকে এখনো ভোগ করে বেড়াতে হচ্ছে, সেরকম শারীরিক কষ্ট বলুন, মানসিক কষ্ট বলুন —প্রত্যেকটি কিন্তু আমাকেও ব্যক্তি হিসেবে ভোগ করতে হচ্ছে বা আমাকেও বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। আপনাদের সেই কষ্ট সেদিন মানসিক হোক, সেটি শারীরিক হোক; আমি কিছুটা হলেও অনুভব করতে সক্ষম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্যাগ সেই করতে পারে, যার ত্যাগ করার মত শক্তি এবং সাহস আছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার দল, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দল, বাংলাদেশের অস্তিত্বে যারা বিশ্বাস করে, বাংলাদেশের গণতন্ত্রে যারা বিশ্বাস করে; আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে বিশ্বাস করি—এইরকম প্রত্যেকটি মানুষের সেই সাহস এবং সেই শক্তি আছে, যার বলে আমরা ক্ষমতা রাখি যে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করা, যার বলে আমরা সেই শক্তি রাখি দেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখার। আসুন আমাদের মূল লক্ষ্য, আমাদের মূল উদ্দেশ্য আমি না, আমরা। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশ; আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশের জনগণ।

সরকারপ্রধান বলেন, আজকের এই দিনে জুলাই অভ্যুত্থানে, জুলাই শহীদ, জুলাই যোদ্ধা এবং বিগত ১৭ বছরের যতজন শহীদ হয়েছে, তাদেরকে প্রতি যদি সম্পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করতে হয়; তাহলে যার জন্য তারা স্যাক্রিফাইস করেছেন, সেই লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা…এটি হোক আজকের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের গৃহীত শপথ, এটি হোক আজকের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের গৃহীত প্রতিজ্ঞা।

জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, গৃহায়ন মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সভাপতি আবু হুরায়রা, কওমী ছাত্র ফোরামের সভাপতি জামিল সিদ্দিকী, আয়োজক সংগঠন ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’র সভাপতি আমিনুল ইসলাম ইমন, সাধারণ সম্পাদক আল মিরাজ, শহীদ ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির সভাপতি গোলাম রহমান ও সাধারণ সম্পাদক রবিউল আওয়াল বক্তব্য রাখেন।

জুলাই বিপ্লবে শহীদদের নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেইন, শহীদ শাহরিয়ার হোসেন আলভীর বাবা আবুল হোসেন, শহীদ আবদুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ্জোহরা, শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা শফিউল আলম এবং যাত্রাবাড়ীতে শহীদ মিরাজ হোসেনের বাবা আবদুর রব মিয়া।

জুলাই বিপ্লবে আহত শাহিন মালু, সুজন মোল্লা, মিল্লাত হোসেন, আল-আমীন, মেহেদি হাসান মিরাজ তাদের মনোবেদনার কথা অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন।

সম্মেলনে রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাই কমিশনার, সামরিক ও বেসামরিক ঊধর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।