গুমের শিকার ব্যক্তিদের গত দুই বছর আন্ডারমাইনিং করা হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের নিয়ে গত দুই বছর ধরে আন্ডারমাইনিং করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তাদের নিয়ে এক ধরনের অপসংস্কৃতি চর্চা হচ্ছে, যা দুঃখজনক। গুমের শিকার ব্যক্তিদের বেঁচে থাকা নিয়ে হাস্যরস করা ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে হতাশাগ্রস্ত করবে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরে বিশ্ব গুম দিবস উপলক্ষে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের নিয়ে আন্ডারমাইনিং করার একটা প্রবণতা আমরা গত দুই বছর দেখছি। এটা অনেকটা অপসংস্কৃতিতে পরিণত হচ্ছে। আমরা অন্তত দয়া করে এই কাজটা না করার জন্য অনুরোধ জানাতে পারি, আহ্বান জানাতে পারি। যাতে আমাদের ডেমোক্রেটিক স্ট্রাগলটাকে কেউ আন্ডারমাইন্ড না করে।

তিনি বলেন, আমি বেঁচে আছি, হুম্মাম বেঁচে আছে, আরমান বেঁচে আছে। আমরা কি জানতাম আমরা বেঁচে থাকবো? বেঁচে থাকাটাকে নিয়ে হাস্যরস করা ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে হতাশাগ্রস্ত করবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের সংগ্রাম ও তাঁদের পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য না করে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

বিএনপি সরকার গুমের জন্য এমন আইন আনতে চায় যাতে প্রতিটি ভুক্তভোগী বিচার পায় বলে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ দেশের মানুষ দীর্ঘ ফ্যাসিজম থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করেছেন। আমরা গুমের জন্য এমন আইন আনতে চাই যাতে প্রতিটি ভুক্তভোগী বিচার পায়। যারা অপরাধী তারা সাজা পাবে। কিন্তু গুম কমিশনে এগুলো ছিল না। আমরা চেয়েছি যারা গুমের শিকার তারা যেন সরাসরি আদালতে যেতে পারে। এ ধরনের আইন আমরা সংসদে প্লেস করেছি।

তিনি বলেন, কোন ধরনের গুমে কী সাজা সেগুলো অ্যাড্রেস করেছি। তদন্ত কারা করবে, কীভাবে করবে সেগুলো ঠিক করেছি। গুমের শিকার কাউকে পাওয়া না গেলে তার ওয়ারিশগণ যেন তার সম্পদ পান সে বিধান করেছি। যারা গুম করেছে তারা যদি শেষ অবধি ক্ষতিপূরণ দিতে নাও পারে তবুও রাষ্ট্র যেন সেটা দিতে পারে সেই বিধান করেছি। এভাবেই গুম প্রতিকার আইন-২০২৬ নিয়ে এসেছি আমরা। এই আইনে কিছু ত্রুটি থাকতে পারে, কিন্তু এটা তো সংশোধন করা যাবে। আমরা সেই আইনটাই করেছি। এটা দরকার ছিল।

মন্ত্রী আরও বলেন, আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও গুমের শিকার। আমি কি চাইব না যে, একটি শক্তিশালী আইন হোক গুম নিয়ে? এখানে কি আর কোনো স্বার্থ থাকতে পারে? আমরা আজ সরকারে আছি, আগামীতে নাও থাকতে পারি। কিন্তু এই আইনটা থাকবে। ফলে গুমের শিকার যেই হোন, তারা বিচার পাবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের গত দুই বছর অবজ্ঞা ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হয়েছে। তাদের নিয়ে অপসংস্কৃতি চর্চা করা হয়েছে, যা দুঃখজনক। আমরা যারা গুম হয়েছি তাদের মধ্যে আমি বেঁচে আছি, হুম্মাম কাদের বেঁচে আছেন। আমরা কী জানতাম আমরা বেঁচে থাকবো? আমাদের বেঁচে থাকা নিয়ে হাস্যরস করা ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে হতাশাগ্রস্ত করবে।

নিজের গুমের ৬১ দিনের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চোখ ও হাত বেঁধে তাকে সীমান্ত পার করে ভারতের শিলংয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে প্রথমে মানসিকভাবে অসুস্থ (পাগল) ব্যক্তি মনে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গুম অবস্থায় প্রতিটি মুহূর্তে মনে হতো পরের ভোরটি দেখতে পারবো কি না। কারণ বন্দিদশায় দিনের আলো দেখার সুযোগ ছিল না। সকালের নাশতা এলে বুঝতাম সকাল হয়েছে। নখের আঁচড় দিয়ে দেওয়ালে দাগ কেটে কেটে দিন গুনতাম। আমার গুমের ৬১ দিন… তার যতটা মিনিট, যতটা মুহূর্ত কেটেছে, তার প্রত্যেকটা যদি আমি লিখে রাখতে পারতাম, তাহলে জাদুঘরের সংকলন হতো না কোনো কিতাব।

গুমকারীরা তাকে প্রায় ৮ ফুট বাই ৪ ফুটের একটি সংকীর্ণ স্থানে রাখত বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, জায়গাটি ছিল অনেকটা কবরের মতো। সেখানে একটি পানির কল এবং প্রস্রাব-পায়খানার জন্য একটি ছিদ্র ছিল। দুর্গন্ধের পাশাপাশি সেখানে বিষাক্ত পোকামাকড়ও দেখা যেত।

মেঝেতে একটি কম্বল পেতে ঘুমাতে হতো এবং পাতলা একটি বালিশ দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। খাবার, পানি ও ওষুধ নিয়মিত দেওয়া হলেও অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসকের সহায়তা পাওয়া যেত না।

সালাহউদ্দিন বলেন, গুমকারীদের তিনি নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে বলতেন, আমার হার্টে স্টেন্টিং আছে, অন্যান্য জটিলতা আছে, কিডনিতে জটিলতা আছে। এই পরিবেশে কতক্ষণ টিকে থাকব জানি না। আমার মৃত্যু হলে তোমরা আমার লাশটা আমার পরিবারের কাছে ফেরত দিও।

একদিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, খাবার দিতে এসে তার সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা খোলা হয়। পরে গামছা ফেলে তাকে টেনে তোলা হয়।

তখন বুকের তীব্র ব্যথার কথা জানালে তাকে বলা হয়, এখানে ডাক্তার আসা নিষেধ। নিজে নিজে সুস্থ থাকার চেষ্টা করেন।

এর কিছুদিন পর তাকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সেদিন সকালে পানি কম খেতে বলা হয়েছিল। তখন তার মনে হয়েছিল, হয়তো আজকেই শেষ।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তাকে মোটা কাপড় দিয়ে চোখ বাঁধা হয়। এরপর হাত বেঁধে একটি মাইক্রোবাসে তোলা হয়। গাড়িতে আরও কয়েকজন মানুষ ছিল বলে তিনি ধারণা করেন। কয়েক ঘণ্টা যাত্রার পর একটি স্থানে দীর্ঘ সময় গাড়িতে বসিয়ে রাখা হয়। পরে তাকে কিছুটা হাঁটিয়ে একটি জিপের মতো গাড়িতে তোলা হয়। এরপর আবার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে একটি উঁচু জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মানুষের হিন্দিতে কথা বলার শব্দ শুনে তিনি নিশ্চিত হন যে তাকে ভারতের কোনো এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সালাহউদ্দিন বলেন, আরও কয়েক ঘণ্টা গাড়িতে যাওয়ার পর ভোরের দিকে তার চোখ খুলে দেওয়া হয়। তখন তিনি একটি চৌরাস্তা, ক্যান্টনমেন্ট এলাকা ও বড় একটি মাঠ দেখতে পান। পরবর্তী সময়ে তিনি জানতে পারেন, সেটি শিলংয়ের গলফ লিংক এলাকা। তাকে নির্জন একটি এলাকায় ফুটপাতে নামিয়ে দিয়ে বলা হয়, ইউ আর ফ্রি নাউ। তখন তার পা ফুলে যাওয়ায় ঠিকমতো হাঁটতে পারছিলেন না। আশপাশের পথচারীদের কাছে সাহায্য চান তিনি। কিন্তু তার দাড়ি, ময়লা পোশাক ও শারীরিক অবস্থা দেখে অনেকে তাকে মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি মনে করেছিলেন বলে জানান সালাহউদ্দিন।

পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তাকে একটি বিট হাউসে নেওয়া হয়। সেখানেও নিজের পরিচয় দেওয়ার পর প্রথমে তাকে বিশ্বাস করা হয়নি বলে জানান তিনি। এরপর তাকে শিলং সিভিল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে নর্থ ইস্টার্ন ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড সায়েন্সেসে (মিমহানস) নেওয়া হয়।

সেখানে একজন চিকিৎসকের কাছে নিজের পরিচয় ও বাংলাদেশের পরিবারের ফোন নম্বর দিয়ে যোগাযোগের অনুরোধ করেন তিনি।

চিকিৎসককে সালাহউদ্দিন বলেন, তুমি যদি একটু আমার এখানে টেলিফোন করো, আমি কে বুঝতে পারবা। আমাকে একটু সেন্ড ব্যাক করার ব্যবস্থা করো।

একপর্যায়ে তার দেওয়া নম্বরে বাংলাদেশে ফোন করার চেষ্টা করা হয়। তার স্ত্রী তখন বাইরে থাকায় প্রথমে ফোনটি ধরতে পারেননি। পরে বিদেশি নম্বর দেখে তিনি কলব্যাক করেন।

সালাহউদ্দিন বলেন, ফোনে নিজের পরিচয় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার স্ত্রী চিৎকার করে বলেন, আমি জান্নাত পেয়ে গেছি।

ওই মুহূর্তটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পরে তাকে শিলংয়ের সিভিল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকের মাধ্যমে তার মানসিক সুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয় বলে জানান তিনি।

পুলিশের কঠোর নজরদারির মধ্যেও কোনো একটি ভারতীয় টেলিভিশন ক্যামেরা দূর থেকে তাকে ধারণ করে। সেখানে মাত্র এক সেকেন্ডের জন্য তিনি বলেন, ‘ইয়েস, আই অ্যাম সালাহউদ্দিন।’ পরে ওই ভিডিও বাংলাদেশে প্রচারিত হয়।

এরপর তাকে ভারতে গ্রেফতার দেখিয়ে ফরেনার্স অ্যাক্টের মামলায় আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়। দীর্ঘ কয়েক বছর আদালতে আইনি লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর পথ তৈরি হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, দীর্ঘ সময় পর দেশে ফিরতে পারার পেছনে বাংলাদেশের মানুষের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের অবদান রয়েছে।

তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা দীর্ঘ ফ্যাসিজম থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করেছেন, বাংলাদেশটাকে মুক্ত করেছেন। গণতন্ত্রের পথে যাত্রা করেছেন।

বাগেরহাটের মোংলায় মিরাজ শেখ নিখোঁজের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুমের কাহিনী সাজানোর চেষ্টা হতে পারে বলে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনাটি নিয়ে স্বাধীন তদন্ত করানো হয়েছে, তবে তদন্তে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মিরাজ শেখকে ঘিরে মোংলায় ঘটে যাওয়া ঘটনাকে বিভিন্ন জলদস্যু গ্রুপের পারস্পরিক বিরোধের ফল হতে পারে।

তিনি বলেন, মিরাজ শেখের লোকজন নদীর তীরে একটি পন্টুন স্থাপন করেছিল। ওই পন্টুন ব্যবহার করে জলদস্যুদের জন্য সমুদ্র থেকে রসদ সংগ্রহ ও সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। কোস্টগার্ড পন্টুনটি সরিয়ে দেওয়ার পর এ নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়।

তিনি আরো বলেন, ওই ঘটনার জেরে একপর্যায়ে কোস্টগার্ডের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় কম্পিউটার ভাঙচুর এবং কয়েকজনকে আহত করার অভিযোগও ওঠে। এ ঘটনায় কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পন্টুন অপসারণকে কেন্দ্র করে ক্ষোভের পাশাপাশি মিরাজ শেখকে কোস্টগার্ড নিয়ে গেছে এমন অভিযোগও সামনে আনা হয়। তবে বিষয়টি জলদস্যুদের পরস্পরবিরোধী গ্রুপগুলোর সংঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

মিরাজ শেখ ও তার পরিবারের অতীত কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মিরাজ শেখ ও তার বাবার রেকর্ডও একই ধরনের ছিল। তার বিরোধী গ্রুপের ক্ষেত্রেও একই ধরনের তথ্য রয়েছে।

তবে এসবের পরও ঘটনাটি নিয়ে স্বাধীন তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, অন্য একটি বাহিনীকে দিয়ে তদন্ত করানো হলেও সেখান থেকে কোনো ফাইন্ডিংস পাওয়া যায়নি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এখানে তো কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে না।

মিরাজ শেখের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে কেউ গুমের কাহিনী তৈরি করার চেষ্টা করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে সরকারের অবস্থানকে স্বচ্ছ দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘উই আর ট্রান্সপারেন্ট’।

এরপরও কেউ স্বাধীন তদন্ত চাইলে সরকার তাতে প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আপনারা কোনো স্বাধীন তদন্ত করতে চান, উই আর রেডি। আমরা স্বাধীন তদন্ত করবো।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান, ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি এবং নেত্র নিউজের নির্বাহী সম্পাদক নাজমুল আহসান।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

খুলে দেওয়া হয়েছে কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট

গুমের শিকার ব্যক্তিদের গত দুই বছর আন্ডারমাইনিং করা হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৯:৪৬:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের নিয়ে গত দুই বছর ধরে আন্ডারমাইনিং করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তাদের নিয়ে এক ধরনের অপসংস্কৃতি চর্চা হচ্ছে, যা দুঃখজনক। গুমের শিকার ব্যক্তিদের বেঁচে থাকা নিয়ে হাস্যরস করা ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে হতাশাগ্রস্ত করবে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরে বিশ্ব গুম দিবস উপলক্ষে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের নিয়ে আন্ডারমাইনিং করার একটা প্রবণতা আমরা গত দুই বছর দেখছি। এটা অনেকটা অপসংস্কৃতিতে পরিণত হচ্ছে। আমরা অন্তত দয়া করে এই কাজটা না করার জন্য অনুরোধ জানাতে পারি, আহ্বান জানাতে পারি। যাতে আমাদের ডেমোক্রেটিক স্ট্রাগলটাকে কেউ আন্ডারমাইন্ড না করে।

তিনি বলেন, আমি বেঁচে আছি, হুম্মাম বেঁচে আছে, আরমান বেঁচে আছে। আমরা কি জানতাম আমরা বেঁচে থাকবো? বেঁচে থাকাটাকে নিয়ে হাস্যরস করা ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে হতাশাগ্রস্ত করবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের সংগ্রাম ও তাঁদের পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য না করে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

বিএনপি সরকার গুমের জন্য এমন আইন আনতে চায় যাতে প্রতিটি ভুক্তভোগী বিচার পায় বলে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ দেশের মানুষ দীর্ঘ ফ্যাসিজম থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করেছেন। আমরা গুমের জন্য এমন আইন আনতে চাই যাতে প্রতিটি ভুক্তভোগী বিচার পায়। যারা অপরাধী তারা সাজা পাবে। কিন্তু গুম কমিশনে এগুলো ছিল না। আমরা চেয়েছি যারা গুমের শিকার তারা যেন সরাসরি আদালতে যেতে পারে। এ ধরনের আইন আমরা সংসদে প্লেস করেছি।

তিনি বলেন, কোন ধরনের গুমে কী সাজা সেগুলো অ্যাড্রেস করেছি। তদন্ত কারা করবে, কীভাবে করবে সেগুলো ঠিক করেছি। গুমের শিকার কাউকে পাওয়া না গেলে তার ওয়ারিশগণ যেন তার সম্পদ পান সে বিধান করেছি। যারা গুম করেছে তারা যদি শেষ অবধি ক্ষতিপূরণ দিতে নাও পারে তবুও রাষ্ট্র যেন সেটা দিতে পারে সেই বিধান করেছি। এভাবেই গুম প্রতিকার আইন-২০২৬ নিয়ে এসেছি আমরা। এই আইনে কিছু ত্রুটি থাকতে পারে, কিন্তু এটা তো সংশোধন করা যাবে। আমরা সেই আইনটাই করেছি। এটা দরকার ছিল।

মন্ত্রী আরও বলেন, আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও গুমের শিকার। আমি কি চাইব না যে, একটি শক্তিশালী আইন হোক গুম নিয়ে? এখানে কি আর কোনো স্বার্থ থাকতে পারে? আমরা আজ সরকারে আছি, আগামীতে নাও থাকতে পারি। কিন্তু এই আইনটা থাকবে। ফলে গুমের শিকার যেই হোন, তারা বিচার পাবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের গত দুই বছর অবজ্ঞা ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হয়েছে। তাদের নিয়ে অপসংস্কৃতি চর্চা করা হয়েছে, যা দুঃখজনক। আমরা যারা গুম হয়েছি তাদের মধ্যে আমি বেঁচে আছি, হুম্মাম কাদের বেঁচে আছেন। আমরা কী জানতাম আমরা বেঁচে থাকবো? আমাদের বেঁচে থাকা নিয়ে হাস্যরস করা ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে হতাশাগ্রস্ত করবে।

নিজের গুমের ৬১ দিনের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চোখ ও হাত বেঁধে তাকে সীমান্ত পার করে ভারতের শিলংয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে প্রথমে মানসিকভাবে অসুস্থ (পাগল) ব্যক্তি মনে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গুম অবস্থায় প্রতিটি মুহূর্তে মনে হতো পরের ভোরটি দেখতে পারবো কি না। কারণ বন্দিদশায় দিনের আলো দেখার সুযোগ ছিল না। সকালের নাশতা এলে বুঝতাম সকাল হয়েছে। নখের আঁচড় দিয়ে দেওয়ালে দাগ কেটে কেটে দিন গুনতাম। আমার গুমের ৬১ দিন… তার যতটা মিনিট, যতটা মুহূর্ত কেটেছে, তার প্রত্যেকটা যদি আমি লিখে রাখতে পারতাম, তাহলে জাদুঘরের সংকলন হতো না কোনো কিতাব।

গুমকারীরা তাকে প্রায় ৮ ফুট বাই ৪ ফুটের একটি সংকীর্ণ স্থানে রাখত বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, জায়গাটি ছিল অনেকটা কবরের মতো। সেখানে একটি পানির কল এবং প্রস্রাব-পায়খানার জন্য একটি ছিদ্র ছিল। দুর্গন্ধের পাশাপাশি সেখানে বিষাক্ত পোকামাকড়ও দেখা যেত।

মেঝেতে একটি কম্বল পেতে ঘুমাতে হতো এবং পাতলা একটি বালিশ দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। খাবার, পানি ও ওষুধ নিয়মিত দেওয়া হলেও অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসকের সহায়তা পাওয়া যেত না।

সালাহউদ্দিন বলেন, গুমকারীদের তিনি নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে বলতেন, আমার হার্টে স্টেন্টিং আছে, অন্যান্য জটিলতা আছে, কিডনিতে জটিলতা আছে। এই পরিবেশে কতক্ষণ টিকে থাকব জানি না। আমার মৃত্যু হলে তোমরা আমার লাশটা আমার পরিবারের কাছে ফেরত দিও।

একদিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, খাবার দিতে এসে তার সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা খোলা হয়। পরে গামছা ফেলে তাকে টেনে তোলা হয়।

তখন বুকের তীব্র ব্যথার কথা জানালে তাকে বলা হয়, এখানে ডাক্তার আসা নিষেধ। নিজে নিজে সুস্থ থাকার চেষ্টা করেন।

এর কিছুদিন পর তাকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সেদিন সকালে পানি কম খেতে বলা হয়েছিল। তখন তার মনে হয়েছিল, হয়তো আজকেই শেষ।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তাকে মোটা কাপড় দিয়ে চোখ বাঁধা হয়। এরপর হাত বেঁধে একটি মাইক্রোবাসে তোলা হয়। গাড়িতে আরও কয়েকজন মানুষ ছিল বলে তিনি ধারণা করেন। কয়েক ঘণ্টা যাত্রার পর একটি স্থানে দীর্ঘ সময় গাড়িতে বসিয়ে রাখা হয়। পরে তাকে কিছুটা হাঁটিয়ে একটি জিপের মতো গাড়িতে তোলা হয়। এরপর আবার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে একটি উঁচু জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মানুষের হিন্দিতে কথা বলার শব্দ শুনে তিনি নিশ্চিত হন যে তাকে ভারতের কোনো এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সালাহউদ্দিন বলেন, আরও কয়েক ঘণ্টা গাড়িতে যাওয়ার পর ভোরের দিকে তার চোখ খুলে দেওয়া হয়। তখন তিনি একটি চৌরাস্তা, ক্যান্টনমেন্ট এলাকা ও বড় একটি মাঠ দেখতে পান। পরবর্তী সময়ে তিনি জানতে পারেন, সেটি শিলংয়ের গলফ লিংক এলাকা। তাকে নির্জন একটি এলাকায় ফুটপাতে নামিয়ে দিয়ে বলা হয়, ইউ আর ফ্রি নাউ। তখন তার পা ফুলে যাওয়ায় ঠিকমতো হাঁটতে পারছিলেন না। আশপাশের পথচারীদের কাছে সাহায্য চান তিনি। কিন্তু তার দাড়ি, ময়লা পোশাক ও শারীরিক অবস্থা দেখে অনেকে তাকে মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি মনে করেছিলেন বলে জানান সালাহউদ্দিন।

পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তাকে একটি বিট হাউসে নেওয়া হয়। সেখানেও নিজের পরিচয় দেওয়ার পর প্রথমে তাকে বিশ্বাস করা হয়নি বলে জানান তিনি। এরপর তাকে শিলং সিভিল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে নর্থ ইস্টার্ন ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড সায়েন্সেসে (মিমহানস) নেওয়া হয়।

সেখানে একজন চিকিৎসকের কাছে নিজের পরিচয় ও বাংলাদেশের পরিবারের ফোন নম্বর দিয়ে যোগাযোগের অনুরোধ করেন তিনি।

চিকিৎসককে সালাহউদ্দিন বলেন, তুমি যদি একটু আমার এখানে টেলিফোন করো, আমি কে বুঝতে পারবা। আমাকে একটু সেন্ড ব্যাক করার ব্যবস্থা করো।

একপর্যায়ে তার দেওয়া নম্বরে বাংলাদেশে ফোন করার চেষ্টা করা হয়। তার স্ত্রী তখন বাইরে থাকায় প্রথমে ফোনটি ধরতে পারেননি। পরে বিদেশি নম্বর দেখে তিনি কলব্যাক করেন।

সালাহউদ্দিন বলেন, ফোনে নিজের পরিচয় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার স্ত্রী চিৎকার করে বলেন, আমি জান্নাত পেয়ে গেছি।

ওই মুহূর্তটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পরে তাকে শিলংয়ের সিভিল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকের মাধ্যমে তার মানসিক সুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয় বলে জানান তিনি।

পুলিশের কঠোর নজরদারির মধ্যেও কোনো একটি ভারতীয় টেলিভিশন ক্যামেরা দূর থেকে তাকে ধারণ করে। সেখানে মাত্র এক সেকেন্ডের জন্য তিনি বলেন, ‘ইয়েস, আই অ্যাম সালাহউদ্দিন।’ পরে ওই ভিডিও বাংলাদেশে প্রচারিত হয়।

এরপর তাকে ভারতে গ্রেফতার দেখিয়ে ফরেনার্স অ্যাক্টের মামলায় আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়। দীর্ঘ কয়েক বছর আদালতে আইনি লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর পথ তৈরি হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, দীর্ঘ সময় পর দেশে ফিরতে পারার পেছনে বাংলাদেশের মানুষের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের অবদান রয়েছে।

তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা দীর্ঘ ফ্যাসিজম থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করেছেন, বাংলাদেশটাকে মুক্ত করেছেন। গণতন্ত্রের পথে যাত্রা করেছেন।

বাগেরহাটের মোংলায় মিরাজ শেখ নিখোঁজের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুমের কাহিনী সাজানোর চেষ্টা হতে পারে বলে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনাটি নিয়ে স্বাধীন তদন্ত করানো হয়েছে, তবে তদন্তে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মিরাজ শেখকে ঘিরে মোংলায় ঘটে যাওয়া ঘটনাকে বিভিন্ন জলদস্যু গ্রুপের পারস্পরিক বিরোধের ফল হতে পারে।

তিনি বলেন, মিরাজ শেখের লোকজন নদীর তীরে একটি পন্টুন স্থাপন করেছিল। ওই পন্টুন ব্যবহার করে জলদস্যুদের জন্য সমুদ্র থেকে রসদ সংগ্রহ ও সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। কোস্টগার্ড পন্টুনটি সরিয়ে দেওয়ার পর এ নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়।

তিনি আরো বলেন, ওই ঘটনার জেরে একপর্যায়ে কোস্টগার্ডের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় কম্পিউটার ভাঙচুর এবং কয়েকজনকে আহত করার অভিযোগও ওঠে। এ ঘটনায় কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পন্টুন অপসারণকে কেন্দ্র করে ক্ষোভের পাশাপাশি মিরাজ শেখকে কোস্টগার্ড নিয়ে গেছে এমন অভিযোগও সামনে আনা হয়। তবে বিষয়টি জলদস্যুদের পরস্পরবিরোধী গ্রুপগুলোর সংঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

মিরাজ শেখ ও তার পরিবারের অতীত কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মিরাজ শেখ ও তার বাবার রেকর্ডও একই ধরনের ছিল। তার বিরোধী গ্রুপের ক্ষেত্রেও একই ধরনের তথ্য রয়েছে।

তবে এসবের পরও ঘটনাটি নিয়ে স্বাধীন তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, অন্য একটি বাহিনীকে দিয়ে তদন্ত করানো হলেও সেখান থেকে কোনো ফাইন্ডিংস পাওয়া যায়নি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এখানে তো কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে না।

মিরাজ শেখের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে কেউ গুমের কাহিনী তৈরি করার চেষ্টা করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে সরকারের অবস্থানকে স্বচ্ছ দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘উই আর ট্রান্সপারেন্ট’।

এরপরও কেউ স্বাধীন তদন্ত চাইলে সরকার তাতে প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আপনারা কোনো স্বাধীন তদন্ত করতে চান, উই আর রেডি। আমরা স্বাধীন তদন্ত করবো।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান, ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি এবং নেত্র নিউজের নির্বাহী সম্পাদক নাজমুল আহসান।