গণভোটের রায় উপেক্ষা করা বিএনপির সুস্পষ্ট রাজনৈতিক প্রতারণা : মুহাম্মদ শাহজাহান

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : 

গণভোটের রায় উপেক্ষা করে দেশ পরিচালনা বিএনপির সুস্পষ্ট রাজনৈতিক প্রতারণা বলে মন্তব্য করে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, জনগণের মতামত ও গণরায় কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে গণভোটের রায় অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াত কার্যালয়ের বিআইএ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, গণভোটের গণরায় উপেক্ষা করে কারও দেশ চালানোর ক্ষমতা নেই। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে শুরু হওয়া ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হবে। পথে বিভিন্ন জেলা থেকে গাড়ির বহর যুক্ত হবে। চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানের সমাপনী সমাবেশ থেকে গণভোটের গণরায় উপেক্ষা করে দেশ পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই—এমন বার্তা দেওয়া হবে।

শাহজাহান বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে জনগণের ন্যায্য দাবি আদায় এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দাবি জোরালো করার লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। শনিবার বিকেল সোয়া ৫টায় ঐতিহাসিক লালদিঘি ময়দানে লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ নানা সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাস সংকট, সারের সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলীয়করণের কারণে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে, সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় এখনো অনিষ্পন্ন রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

১১ দলীয় ঐক্যের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে, অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবিও জানান তারা।

লংমার্চে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততার প্রস্তুতির কথা জানিয়ে শাহজাহান বলেন, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী পুরো মহাসড়কের বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চকে স্বাগত জানাতে মানুষের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, একটু আগেও ফেনীর ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের পক্ষ থেকে আমাদের মেসেজ দেওয়া হয়েছে, শুধু ফেনী থেকেই ৫০০-এর বেশি গাড়ি এই বহরে যুক্ত হবে। একটি জেলার এই দৃষ্টান্ত থেকেই বোঝা যায়, লংমার্চের সঙ্গে কী পরিমাণ মানুষের সম্পৃক্ততা তৈরি হয়েছে। ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চটি এক হাজারের বেশি গাড়ি নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করবে। পথে কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে আরও গাড়ি ও নেতাকর্মী এতে যুক্ত হবেন। কক্সবাজার লংমার্চের মূল রুটে না থাকলেও সেখান থেকেও পৃথকভাবে ‘মিনি লংমার্চ’ করে গাড়ির বহর নিয়ে চট্টগ্রামের সমাপনী কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।

এ ছাড়া তিন পার্বত্য জেলা থেকেও নেতাকর্মীরা চট্টগ্রামে আসবেন বলে জানান শাহজাহান। চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকেও ব্যাপকসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক লালদিঘী ময়দানের সমাবেশে অংশ নেবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সমাবেশের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের যে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তার তুলনায় এবার লালদিঘি ময়দানে মঞ্চের বিস্তৃতি বাড়ানো হয়েছে। আমরা আশা করছি, এই লালদিঘির সমাবেশে লাখ লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করবেন ইনশাআল্লাহ। চট্টগ্রামের পক্ষ থেকে এখান থেকে একটি বার্তা দেওয়া হবে—গণভোটের গণরায়কে উপেক্ষা করে কারও দেশ চালানোর কোনো ক্ষমতা নেই, সুযোগ নেই।

এদিকে লংমার্চ ঘিরে কোনো ধরনের ঝুঁকি বা বাধার আশঙ্কা রয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শাহজাহান বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে গণতান্ত্রিক শাসনে এসেছে। আগের সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন এবং গণমাধ্যমে স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, এখন একটি গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে। লংমার্চটি অনেক আগে ঘোষণা করা একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি। তাই সরকার ও প্রশাসনের সব মহল গণতান্ত্রিক মনোভাব নিয়ে কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করতে সহযোগিতা করবে বলে তারা আশা করছেন। প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের যে মিটিং-বৈঠক হয়েছে, তারা আমাদের আন্তরিকভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা এখন কোনো ধরনের ঝুঁকি মনে করছি না।’

তবে পরিকল্পিতভাবে কোনো বাধা সৃষ্টি করা হলে তা গণস্রোত দিয়ে মোকাবিলা করা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। যদি কোনো ঝুঁকি পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়, যারা বাধা তৈরি করতে চাইবে, তাদের পক্ষে এই গণস্রোতকে কোনো অবস্থাতেই ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবি জানিয়ে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করে যোগ্যতা, দক্ষতা ও ন্যায়নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

৫ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেবেন। লংমার্চ ও সমাবেশ সফল করতে এরই মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সমাবেশস্থলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, আগত মানুষের নিরাপত্তা ও সার্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবক ও দায়িত্বশীলদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের প্রতি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামবাসীসহ সর্বস্তরের জনগণকে ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ ও লালদিঘী ময়দানের সমাবেশে শান্তিপূর্ণভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মুহাম্মদ শাহজাহান। এতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহছানুল্লাহ ভুঁইয়া, সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মুহাম্মদ জাফর সাদেক, অধ্যাপক নুরুল আমিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন দলের চট্টগ্রাম মহানগরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

লং মার্চে সরকার থেকে বাধা আসলে পরিণতি ভালো হবে না : আখতার হোসেন

গণভোটের রায় উপেক্ষা করা বিএনপির সুস্পষ্ট রাজনৈতিক প্রতারণা : মুহাম্মদ শাহজাহান

প্রকাশের সময় : ০৩:৪২:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : 

গণভোটের রায় উপেক্ষা করে দেশ পরিচালনা বিএনপির সুস্পষ্ট রাজনৈতিক প্রতারণা বলে মন্তব্য করে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, জনগণের মতামত ও গণরায় কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে গণভোটের রায় অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াত কার্যালয়ের বিআইএ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, গণভোটের গণরায় উপেক্ষা করে কারও দেশ চালানোর ক্ষমতা নেই। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে শুরু হওয়া ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হবে। পথে বিভিন্ন জেলা থেকে গাড়ির বহর যুক্ত হবে। চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানের সমাপনী সমাবেশ থেকে গণভোটের গণরায় উপেক্ষা করে দেশ পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই—এমন বার্তা দেওয়া হবে।

শাহজাহান বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে জনগণের ন্যায্য দাবি আদায় এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দাবি জোরালো করার লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। শনিবার বিকেল সোয়া ৫টায় ঐতিহাসিক লালদিঘি ময়দানে লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ নানা সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাস সংকট, সারের সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলীয়করণের কারণে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে, সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় এখনো অনিষ্পন্ন রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

১১ দলীয় ঐক্যের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে, অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবিও জানান তারা।

লংমার্চে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততার প্রস্তুতির কথা জানিয়ে শাহজাহান বলেন, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী পুরো মহাসড়কের বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চকে স্বাগত জানাতে মানুষের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, একটু আগেও ফেনীর ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের পক্ষ থেকে আমাদের মেসেজ দেওয়া হয়েছে, শুধু ফেনী থেকেই ৫০০-এর বেশি গাড়ি এই বহরে যুক্ত হবে। একটি জেলার এই দৃষ্টান্ত থেকেই বোঝা যায়, লংমার্চের সঙ্গে কী পরিমাণ মানুষের সম্পৃক্ততা তৈরি হয়েছে। ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চটি এক হাজারের বেশি গাড়ি নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করবে। পথে কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে আরও গাড়ি ও নেতাকর্মী এতে যুক্ত হবেন। কক্সবাজার লংমার্চের মূল রুটে না থাকলেও সেখান থেকেও পৃথকভাবে ‘মিনি লংমার্চ’ করে গাড়ির বহর নিয়ে চট্টগ্রামের সমাপনী কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।

এ ছাড়া তিন পার্বত্য জেলা থেকেও নেতাকর্মীরা চট্টগ্রামে আসবেন বলে জানান শাহজাহান। চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকেও ব্যাপকসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক লালদিঘী ময়দানের সমাবেশে অংশ নেবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সমাবেশের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের যে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তার তুলনায় এবার লালদিঘি ময়দানে মঞ্চের বিস্তৃতি বাড়ানো হয়েছে। আমরা আশা করছি, এই লালদিঘির সমাবেশে লাখ লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করবেন ইনশাআল্লাহ। চট্টগ্রামের পক্ষ থেকে এখান থেকে একটি বার্তা দেওয়া হবে—গণভোটের গণরায়কে উপেক্ষা করে কারও দেশ চালানোর কোনো ক্ষমতা নেই, সুযোগ নেই।

এদিকে লংমার্চ ঘিরে কোনো ধরনের ঝুঁকি বা বাধার আশঙ্কা রয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শাহজাহান বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে গণতান্ত্রিক শাসনে এসেছে। আগের সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন এবং গণমাধ্যমে স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, এখন একটি গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে। লংমার্চটি অনেক আগে ঘোষণা করা একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি। তাই সরকার ও প্রশাসনের সব মহল গণতান্ত্রিক মনোভাব নিয়ে কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করতে সহযোগিতা করবে বলে তারা আশা করছেন। প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের যে মিটিং-বৈঠক হয়েছে, তারা আমাদের আন্তরিকভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা এখন কোনো ধরনের ঝুঁকি মনে করছি না।’

তবে পরিকল্পিতভাবে কোনো বাধা সৃষ্টি করা হলে তা গণস্রোত দিয়ে মোকাবিলা করা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। যদি কোনো ঝুঁকি পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়, যারা বাধা তৈরি করতে চাইবে, তাদের পক্ষে এই গণস্রোতকে কোনো অবস্থাতেই ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবি জানিয়ে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করে যোগ্যতা, দক্ষতা ও ন্যায়নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

৫ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেবেন। লংমার্চ ও সমাবেশ সফল করতে এরই মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সমাবেশস্থলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, আগত মানুষের নিরাপত্তা ও সার্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবক ও দায়িত্বশীলদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের প্রতি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামবাসীসহ সর্বস্তরের জনগণকে ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ ও লালদিঘী ময়দানের সমাবেশে শান্তিপূর্ণভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মুহাম্মদ শাহজাহান। এতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহছানুল্লাহ ভুঁইয়া, সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মুহাম্মদ জাফর সাদেক, অধ্যাপক নুরুল আমিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন দলের চট্টগ্রাম মহানগরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।