অস্ত্রের বিনিময়ে ফুল দিয়ে বরণ করে নিলো পুলিশ

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি : 

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের সংঘাত ও সহিংসতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসন। তিনটি গ্রামের ২৫ জন ব্যক্তি দাঙ্গা-কাইজ্জা পরিহার করে শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিজেদের ব্যবহৃত ২৩টি দেশীয় অস্ত্র জমা দিয়েছেন পুলিশ-প্রশাসনের কাছে। স্বেচ্ছায় দেশীয় অস্ত্র জমাদান এবং সেই উদ্যোগকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেওয়ার মাধ্যমে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে নতুন এক মানবিক বার্তা।

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে মাঝারদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের কাছে থাকা দেশীয় অস্ত্র প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেন। বিনিময়ে পুলিশ তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়। দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ভুলে সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রত্যয়ে এই উদ্যোগকে এলাকাবাসীও ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহাম্মদ আল ফাহাদ এবং সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন।

এলাকার মাতব্বরদের মধ্যে মাঝারদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আফসার মাতুব্বর, সাবেক চেয়ারম্যান শাহিদুজ্জামান শাহিদ, মাঝারদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম বলেন,শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে জনগণের অংশগ্রহণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যারা স্বেচ্ছায় অস্ত্র জমা দিয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছেন, তারা সমাজের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

তিনি বলেন, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার সমাজে সহিংসতা, অপরাধ ও অস্থিরতা বাড়ায়। তাই অবৈধ অস্ত্রমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গঠনে প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। স্বেচ্ছায় অস্ত্র জমা দেওয়ার এই উদ্যোগ অন্যদের জন্যও অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, মাঝারদিয়া ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের ২৫ জন ব্যক্তি এসব অস্ত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ১০টি ঢাল ও ১৩টি সড়কি রয়েছে।

তিনি বলেন,এই এলাকায় প্রচুর দেশীয় অস্ত্র রয়েছে। যা আমাদের কাছে জমা পড়েছে, তা খুবই নগণ্য—আমরা জানি। তবুও আমরা শুরু করেছি। ধীরে ধীরে উপজেলার সংঘর্ষপ্রবণ ইউনিয়ন সোনাপুর ও গট্টি এলাকাতেও আমরা এসব অস্ত্র উদ্ধারের আয়োজন করব।

ওসি আরও বলেন, মূলত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের নির্দেশনায় এ কাজ আমরা করছি। উপজেলা প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা করছে। যারা গতকাল অস্ত্র জমা দিয়েছেন, তাদের কারও নামে মামলা নেই। তবে এলাকার মাতব্বরদের অসহযোগিতার কারণেই আমরা আশানুরূপ সাড়া এলাকার মানুষের কাছ থেকে পাইনি।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

অস্ত্রের বিনিময়ে ফুল দিয়ে বরণ করে নিলো পুলিশ

প্রকাশের সময় : ১২:৫৬:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি : 

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের সংঘাত ও সহিংসতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসন। তিনটি গ্রামের ২৫ জন ব্যক্তি দাঙ্গা-কাইজ্জা পরিহার করে শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিজেদের ব্যবহৃত ২৩টি দেশীয় অস্ত্র জমা দিয়েছেন পুলিশ-প্রশাসনের কাছে। স্বেচ্ছায় দেশীয় অস্ত্র জমাদান এবং সেই উদ্যোগকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেওয়ার মাধ্যমে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে নতুন এক মানবিক বার্তা।

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে মাঝারদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের কাছে থাকা দেশীয় অস্ত্র প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেন। বিনিময়ে পুলিশ তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়। দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ভুলে সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রত্যয়ে এই উদ্যোগকে এলাকাবাসীও ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহাম্মদ আল ফাহাদ এবং সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন।

এলাকার মাতব্বরদের মধ্যে মাঝারদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আফসার মাতুব্বর, সাবেক চেয়ারম্যান শাহিদুজ্জামান শাহিদ, মাঝারদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম বলেন,শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে জনগণের অংশগ্রহণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যারা স্বেচ্ছায় অস্ত্র জমা দিয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছেন, তারা সমাজের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

তিনি বলেন, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার সমাজে সহিংসতা, অপরাধ ও অস্থিরতা বাড়ায়। তাই অবৈধ অস্ত্রমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গঠনে প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। স্বেচ্ছায় অস্ত্র জমা দেওয়ার এই উদ্যোগ অন্যদের জন্যও অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, মাঝারদিয়া ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের ২৫ জন ব্যক্তি এসব অস্ত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ১০টি ঢাল ও ১৩টি সড়কি রয়েছে।

তিনি বলেন,এই এলাকায় প্রচুর দেশীয় অস্ত্র রয়েছে। যা আমাদের কাছে জমা পড়েছে, তা খুবই নগণ্য—আমরা জানি। তবুও আমরা শুরু করেছি। ধীরে ধীরে উপজেলার সংঘর্ষপ্রবণ ইউনিয়ন সোনাপুর ও গট্টি এলাকাতেও আমরা এসব অস্ত্র উদ্ধারের আয়োজন করব।

ওসি আরও বলেন, মূলত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের নির্দেশনায় এ কাজ আমরা করছি। উপজেলা প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা করছে। যারা গতকাল অস্ত্র জমা দিয়েছেন, তাদের কারও নামে মামলা নেই। তবে এলাকার মাতব্বরদের অসহযোগিতার কারণেই আমরা আশানুরূপ সাড়া এলাকার মানুষের কাছ থেকে পাইনি।