অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় বাংলাদেশের

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৩০:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • ১৭৯ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : 

ক্রিকেটের দুনিয়ায় অন্যতম পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়া। সেই অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজ হারিয়েই বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। ঘরের মাঠে অজিদের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে সহজ জয়ে লিড নিরেছিল টাইগাররা। আজ দ্বিতীয় ম্যাচে জিতে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে লাল-সবুজের দল। হলুদ জার্সিধারীদের বিপক্ষে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের প্রথম সিরিজ জয় এটিই।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয় এলো বৃষ্টির বাধা উপেক্ষা করেই। আগে ব্যাট করতে নেমে অল আউটের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিল অজিরা। ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রান করতেই নামে বৃষ্টি। এরপর লম্বা সময় খেলা বন্ধ থাকার পর বিকাল ৫.১৫ মিনিটে যখন ম্যাচ আবার মাঠে গড়ায় ততক্ষণে শুরু হয়েছে ওভার কর্তন। ফলে অজিরা আর ব্যাট করতে নামতে পারেনি। ৪১ ওভারে নেমে আসে ম্যাচ, বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯২। সে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে হোঁচট খেলেও সৌম্য সরকার ও নাজমুল শান্তর ৪২ রানের ইনিংসের পর তাওহিদ হৃদয়-মেহেদি মিরাজ জুটিতে ৩৫ ওভারেই ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা।

১৯২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। গুড লেন্থে পড়া বলে স্ট্রেইট ড্রাইভ খেলতে গিয়ে বোলারের হাতে ফিরতি ক্যাচ দেন তানজিদ তামিম। এরপর শান্তকে নিয়ে দলের হাল ধরেন ওপেনার সৌম্য সরকার। দুই ব্যাটার মিলে গড়েন ৮৬ রানের জুটি। তবে রির্ভাস সুইপ খেলতে গিয়ে ৪২ রানে কাটা পড়েন সৌম্য।

৮৬ রানে দুই উইকেট হারানো বাংলাদেশের বিপদ বাড়ান শান্ত। ৯৮ রানের মাথায় ৪২ করে প্যাভিলিয়নে ফিরেন টাইগারদের সহ-অধিনায়ক। আউট হওয়ার আগে অবশ্য নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। দেশের ১১তম ব্যাটার হিসেবে ওয়ানডেতে দুই হাজার রান করেন শান্ত, যা বাংলাদেশের হয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় দ্রুততম।

মিরপুরে লিটনের ওয়ানডে পরিসংখ্যান ভালো নয়। প্রায় এক যুগের ক্যারিয়ারে করতে পারেননি কোনো ফিফটি। আজকের ম্যাচেও হলো একই দশা। দারুণ খেলতে থাকা লিটন আটকে গেলেন মিরপুরের ধাঁধায়। ক্যামরুন গ্রিনের আচমকা বাউন্সার লিটনের গ্লাভস ছুঁয়ে উইকেটরক্ষক ইংলিসের হাতে জমা হয়। তাতে ২১ রান করে বিদায় নেন এই ব্যাটার।

ছয়ে নামা মোসাদ্দেকের শুরুটা ছিল আত্মবিশ্বাসী। ডাউন দ্য ট্র্যাকেই এসে খেলেছেন প্রথম বল। অ্যাডাম জাম্পার ওপর বেশি চড়াও হয়েছিলেন এই ব্যাটার, হাঁকিয়েছেন তিন বাউন্ডারি। কিন্তু জাম্পার বলেই উচ্চবিলাসী শট খেলতে গিয়ে বিদায় নেন মোসাদ্দেক। ১৪৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে আচমকা ব্যাকফুটে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

Soumya Sarkar & Najmul Hossain Shanto

তবে ভয়কে জয় করেছেন মিরাজ-হৃদয়। ভালো বলকে সমীহ করেছেন, খারাপ বল থেকে করেছেন বাউন্ডারি আদায়। শেষ পর্যন্ত হৃদয় ৪০ ও মিরাজ ২২ রানে অপরাজিত থেকেই ম্যাচ শেষ করেন। তাতে ৩৬ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখেই অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমবার ওয়ানডে সিরিজ হারায় বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একটি করে উইকেট শিকার করেন ক্যামরুন গ্রিন, ম্যাট রেনশো, অ্যাডাম জাম্পা, জেভিয়ার বার্টলেট ও রাইলি মেরেডিথ।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ের নেমে ইনিংসের শুরুতেই একের পর এক ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। শুরুতেই প্রথম আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। আগের ম্যাচের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এবারও ম্যাথু শর্টকে শূন্য রানে বোল্ড করেন তিনি। মাত্র চতুর্থ বলেই ভেঙে যায় অস্ট্রেলিয়ার ওপেনিং জুটি।

দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই কুপার কনোলিকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন মোস্তাফিজুর রহমান। ফলে কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই দ্বিতীয় উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।

চাপ আরও বাড়ান মুস্তাফিজই। পরের ওভারের প্রথম বলেই আউট হন ম্যাট রেনশ। শুরুতে আম্পায়ার আউট না দিলেও বাংলাদেশ রিভিউ নিলে সিদ্ধান্ত বদলে যায় এবং রেনশ শূন্য রানে ফেরেন।

সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে কেরির বিদায়ে সপ্তম ওভারে। মুস্তাফিজের করা একটি বল অফ স্ট্যাম্পের বাইরে শর্ট ও ওয়াইড লেংথে পড়ে বাড়তি বাউন্স নেয়। কেরি সোজা ব্যাট চালিয়ে গ্যাপ খুঁজতে গিয়ে পয়েন্টে থাকা নাজমুল শান্তর হাতে ক্যাচ তুলে দেন। ফেরার আগে ১৭ বলে ১৩ রানের মন্থর এক ইনিংস সাজান।

মাঝে জস ইংলিস ও ক্যামেরন গ্রিন মিলে একটি সম্ভাবনাময় জুটিতে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। কিন্তু ঠিক সেই সময়ই আক্রমণে এসে ব্রেকথ্রু এনে দেন তানভীর আহমেদ। সেট হয়ে ওঠা ইংলিসকে আউট করে ম্যাচের গতি আবারও বাংলাদেশের দিকে ফিরিয়ে আনেন। ৩৮ বলে ৩৪ রানের ইনিংস খেলেই ফেরেন অজিদের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক।

বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের আবার হারিয়ে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়

পরের উইকেট নিতেও বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি তানভিরের, আগের ম্যাচে ফিফটি করা ক্যামেরন গ্রিনকেও ফিরিয়ে দেন এই স্পিনার। ২ ছক্কা ও এক বাউন্ডারিতে ৫০ বলে ২৫ রান করেন এই ব্যাটার।

গ্রিনের বিদায়ের পর অস্ট্রেলিয়া যেন দিশাহারা হয়ে পড়েছিল। সে সময়ে সফরকারীদের দুইশো রান করাও নিয়েও শঙ্কা জেগেছিল। তবে সেই চাপের মুহূর্তে দায়িত্ব তুলে নেন বার্টলেট ও মার্নাস লাবুশেন। দেখেশুনে খেলে দুজনেই ফিফটিতে তুলে নেন। এই জুটির একশোও পেরিয়ে যায় একপর্যায়ে।

তবে সেই জুটি আর বড় হতে দেননি তাসকিন আহমেদ। ৪৮ বলে ৫২ রান করা বার্টলেটকে বোল্ড করে ভাঙেন জুটি। এরপর নতুন ব্যাটার অ্যাডাম জাম্পাও এক বলের বেশি টিকতে পারেননি, তাসকিনের পরের বলে তিনিও বোল্ড হয়ে ফেরেন।

এর কিছুক্ষণ পর হঠাৎ করেই বৃষ্টি নেমে আসে। এতে দ্রুতই পিচ ঢেকে ফেলা হয় কাভারে। বৃষ্টি খুব বেশি জোরে না হলেও খেলা চালিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল না। মাঝে কিছু সময় বৃষ্টি থাকলে মাঠে প্রস্তুতির কাজে নেমেছিলেন মাঠকর্মীরা। তবে আবারও হঠাৎ করে নেমে আসে প্রাকৃতিক এই নিয়ামকের বাধা।

WhatsApp Image 2026-06-11 at 3.09.07 PM.jpeg

এবার অবশ্য বৃষ্টির বেগ অনেক বেশি ছিল। প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা বৃষ্টি একপর্যায়ে থামলেও আর মাঠে নামা হয়ে উঠেনি সফরকারীদের। ৪২ ওভার শেষে অজিদের সংগ্রহ ছিল ৮ উইকেটে ১৮৭ রান। পরে বৃষ্টি-আইনে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১ ওভারে ১৯২ রান।

এরপর বৃষ্টির কারণে দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ থাকে। পরে ডাকওয়ার্থ–লুইস–স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ম্যাচ ৪১ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। এতে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯২ রান।যেখানে তিনটি পাওয়ার প্লে প্রথমে ৮ ওভারে, দ্বিতীয়টি ৮ থেকে ২৫ ওভারে এবং তৃতীয়টি ২৬ থেকে ৪১ ওভারে। এ ছাড়া একজন বোলার সর্বোচ্চ ৯ ওভার বল করার সুযোগ পাবেন।

বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান তিনটি করে উইকেট নেন, তানভীর ইসলাম নেন দুই উইকেট।

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় বাংলাদেশের

প্রকাশের সময় : ০৯:৩০:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক : 

ক্রিকেটের দুনিয়ায় অন্যতম পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়া। সেই অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজ হারিয়েই বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। ঘরের মাঠে অজিদের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে সহজ জয়ে লিড নিরেছিল টাইগাররা। আজ দ্বিতীয় ম্যাচে জিতে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে লাল-সবুজের দল। হলুদ জার্সিধারীদের বিপক্ষে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের প্রথম সিরিজ জয় এটিই।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয় এলো বৃষ্টির বাধা উপেক্ষা করেই। আগে ব্যাট করতে নেমে অল আউটের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিল অজিরা। ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রান করতেই নামে বৃষ্টি। এরপর লম্বা সময় খেলা বন্ধ থাকার পর বিকাল ৫.১৫ মিনিটে যখন ম্যাচ আবার মাঠে গড়ায় ততক্ষণে শুরু হয়েছে ওভার কর্তন। ফলে অজিরা আর ব্যাট করতে নামতে পারেনি। ৪১ ওভারে নেমে আসে ম্যাচ, বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯২। সে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে হোঁচট খেলেও সৌম্য সরকার ও নাজমুল শান্তর ৪২ রানের ইনিংসের পর তাওহিদ হৃদয়-মেহেদি মিরাজ জুটিতে ৩৫ ওভারেই ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা।

১৯২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। গুড লেন্থে পড়া বলে স্ট্রেইট ড্রাইভ খেলতে গিয়ে বোলারের হাতে ফিরতি ক্যাচ দেন তানজিদ তামিম। এরপর শান্তকে নিয়ে দলের হাল ধরেন ওপেনার সৌম্য সরকার। দুই ব্যাটার মিলে গড়েন ৮৬ রানের জুটি। তবে রির্ভাস সুইপ খেলতে গিয়ে ৪২ রানে কাটা পড়েন সৌম্য।

৮৬ রানে দুই উইকেট হারানো বাংলাদেশের বিপদ বাড়ান শান্ত। ৯৮ রানের মাথায় ৪২ করে প্যাভিলিয়নে ফিরেন টাইগারদের সহ-অধিনায়ক। আউট হওয়ার আগে অবশ্য নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। দেশের ১১তম ব্যাটার হিসেবে ওয়ানডেতে দুই হাজার রান করেন শান্ত, যা বাংলাদেশের হয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় দ্রুততম।

মিরপুরে লিটনের ওয়ানডে পরিসংখ্যান ভালো নয়। প্রায় এক যুগের ক্যারিয়ারে করতে পারেননি কোনো ফিফটি। আজকের ম্যাচেও হলো একই দশা। দারুণ খেলতে থাকা লিটন আটকে গেলেন মিরপুরের ধাঁধায়। ক্যামরুন গ্রিনের আচমকা বাউন্সার লিটনের গ্লাভস ছুঁয়ে উইকেটরক্ষক ইংলিসের হাতে জমা হয়। তাতে ২১ রান করে বিদায় নেন এই ব্যাটার।

ছয়ে নামা মোসাদ্দেকের শুরুটা ছিল আত্মবিশ্বাসী। ডাউন দ্য ট্র্যাকেই এসে খেলেছেন প্রথম বল। অ্যাডাম জাম্পার ওপর বেশি চড়াও হয়েছিলেন এই ব্যাটার, হাঁকিয়েছেন তিন বাউন্ডারি। কিন্তু জাম্পার বলেই উচ্চবিলাসী শট খেলতে গিয়ে বিদায় নেন মোসাদ্দেক। ১৪৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে আচমকা ব্যাকফুটে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

Soumya Sarkar & Najmul Hossain Shanto

তবে ভয়কে জয় করেছেন মিরাজ-হৃদয়। ভালো বলকে সমীহ করেছেন, খারাপ বল থেকে করেছেন বাউন্ডারি আদায়। শেষ পর্যন্ত হৃদয় ৪০ ও মিরাজ ২২ রানে অপরাজিত থেকেই ম্যাচ শেষ করেন। তাতে ৩৬ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখেই অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমবার ওয়ানডে সিরিজ হারায় বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একটি করে উইকেট শিকার করেন ক্যামরুন গ্রিন, ম্যাট রেনশো, অ্যাডাম জাম্পা, জেভিয়ার বার্টলেট ও রাইলি মেরেডিথ।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ের নেমে ইনিংসের শুরুতেই একের পর এক ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। শুরুতেই প্রথম আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। আগের ম্যাচের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এবারও ম্যাথু শর্টকে শূন্য রানে বোল্ড করেন তিনি। মাত্র চতুর্থ বলেই ভেঙে যায় অস্ট্রেলিয়ার ওপেনিং জুটি।

দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই কুপার কনোলিকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন মোস্তাফিজুর রহমান। ফলে কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই দ্বিতীয় উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।

চাপ আরও বাড়ান মুস্তাফিজই। পরের ওভারের প্রথম বলেই আউট হন ম্যাট রেনশ। শুরুতে আম্পায়ার আউট না দিলেও বাংলাদেশ রিভিউ নিলে সিদ্ধান্ত বদলে যায় এবং রেনশ শূন্য রানে ফেরেন।

সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে কেরির বিদায়ে সপ্তম ওভারে। মুস্তাফিজের করা একটি বল অফ স্ট্যাম্পের বাইরে শর্ট ও ওয়াইড লেংথে পড়ে বাড়তি বাউন্স নেয়। কেরি সোজা ব্যাট চালিয়ে গ্যাপ খুঁজতে গিয়ে পয়েন্টে থাকা নাজমুল শান্তর হাতে ক্যাচ তুলে দেন। ফেরার আগে ১৭ বলে ১৩ রানের মন্থর এক ইনিংস সাজান।

মাঝে জস ইংলিস ও ক্যামেরন গ্রিন মিলে একটি সম্ভাবনাময় জুটিতে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। কিন্তু ঠিক সেই সময়ই আক্রমণে এসে ব্রেকথ্রু এনে দেন তানভীর আহমেদ। সেট হয়ে ওঠা ইংলিসকে আউট করে ম্যাচের গতি আবারও বাংলাদেশের দিকে ফিরিয়ে আনেন। ৩৮ বলে ৩৪ রানের ইনিংস খেলেই ফেরেন অজিদের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক।

বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের আবার হারিয়ে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়

পরের উইকেট নিতেও বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি তানভিরের, আগের ম্যাচে ফিফটি করা ক্যামেরন গ্রিনকেও ফিরিয়ে দেন এই স্পিনার। ২ ছক্কা ও এক বাউন্ডারিতে ৫০ বলে ২৫ রান করেন এই ব্যাটার।

গ্রিনের বিদায়ের পর অস্ট্রেলিয়া যেন দিশাহারা হয়ে পড়েছিল। সে সময়ে সফরকারীদের দুইশো রান করাও নিয়েও শঙ্কা জেগেছিল। তবে সেই চাপের মুহূর্তে দায়িত্ব তুলে নেন বার্টলেট ও মার্নাস লাবুশেন। দেখেশুনে খেলে দুজনেই ফিফটিতে তুলে নেন। এই জুটির একশোও পেরিয়ে যায় একপর্যায়ে।

তবে সেই জুটি আর বড় হতে দেননি তাসকিন আহমেদ। ৪৮ বলে ৫২ রান করা বার্টলেটকে বোল্ড করে ভাঙেন জুটি। এরপর নতুন ব্যাটার অ্যাডাম জাম্পাও এক বলের বেশি টিকতে পারেননি, তাসকিনের পরের বলে তিনিও বোল্ড হয়ে ফেরেন।

এর কিছুক্ষণ পর হঠাৎ করেই বৃষ্টি নেমে আসে। এতে দ্রুতই পিচ ঢেকে ফেলা হয় কাভারে। বৃষ্টি খুব বেশি জোরে না হলেও খেলা চালিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল না। মাঝে কিছু সময় বৃষ্টি থাকলে মাঠে প্রস্তুতির কাজে নেমেছিলেন মাঠকর্মীরা। তবে আবারও হঠাৎ করে নেমে আসে প্রাকৃতিক এই নিয়ামকের বাধা।

WhatsApp Image 2026-06-11 at 3.09.07 PM.jpeg

এবার অবশ্য বৃষ্টির বেগ অনেক বেশি ছিল। প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা বৃষ্টি একপর্যায়ে থামলেও আর মাঠে নামা হয়ে উঠেনি সফরকারীদের। ৪২ ওভার শেষে অজিদের সংগ্রহ ছিল ৮ উইকেটে ১৮৭ রান। পরে বৃষ্টি-আইনে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১ ওভারে ১৯২ রান।

এরপর বৃষ্টির কারণে দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ থাকে। পরে ডাকওয়ার্থ–লুইস–স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ম্যাচ ৪১ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। এতে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯২ রান।যেখানে তিনটি পাওয়ার প্লে প্রথমে ৮ ওভারে, দ্বিতীয়টি ৮ থেকে ২৫ ওভারে এবং তৃতীয়টি ২৬ থেকে ৪১ ওভারে। এ ছাড়া একজন বোলার সর্বোচ্চ ৯ ওভার বল করার সুযোগ পাবেন।

বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান তিনটি করে উইকেট নেন, তানভীর ইসলাম নেন দুই উইকেট।