মিশরকে হারিয়ে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি শেষ ব্রাজিলের

স্পোর্টস ডেস্ক : 

বিশ্বকাপের মূল পর্বে নামার আগে শেষ আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে জয় পেয়েছে ব্রাজিল। আক্রমণাত্মক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে আফ্রিকার শক্তিশালী দল মিশরকে হারিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ওহাইহোর ক্লিভল্যান্ডে বাংলাদেশ সময় রোববার (৭ জুন) ভোরে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ২-১ গোলে জিতেছে ব্রাজিল। ব্রুনো গিমারেস সেলেসাওদের এগিয়ে নেওয়ার পর সমতা টানেন মোস্তাফা জিকো। পরে ওই গোলে ব্যবধান গড়ে দেন এন্দ্রিক।

এই নিয়ে টানা তিন জয় পেল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। এতে, কাতার বিশ্বকাপের পর থেকে কঠিন সময় কাটানো দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়বে। ম্যাচের শুরুতেই মাঠের দুই পাশের রক্ষণভাগ হাস্যকর দুটি ভুল করে এবং দুবারই গোলের দেখা মেলে।

প্রথম গোল উপহার পায় গত সপ্তাহে পানামাকে ৬-২ গোলে বিধ্বস্ত করা ব্রাজিল। সপ্তম মিনিটে ডি-বক্সের একটু সামনে গোলরক্ষকের পাস পেয়ে সময়ক্ষেপন করেন মিশরের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার মোহানাদ লাশিন। সেই সুযোগে তার পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে, শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন গিমারেস।

চার মিনিট পর ব্রাজিলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার মার্কিনিয়োসের ভুল অমার্জনীয়। আশেপাশে না দেখেই ব্যাকপাস দেন তিনি। গোলরক্ষক পর্যন্ত যাওয়ার মতো বলে ছিল না গতি, আবার কোনো সতীর্থের উদ্দেশেও ছিল না; ছুটে গিয়ে নিচু শটে আলিসনকে পরাস্ত করেন উইঙ্গার জিকো।

প্রথমার্ধের কুলিং ব্রেকের পর পুনরায় খেলা শুরু হতেই দারুণ সুযোগ তৈরি করেন ভিনিসিউস; তবে ছয় গজ বক্সে পাশ থেকে গোলরক্ষক বরাবর শট নেন তিনি। পাঁচ মিনিটে দুবার গোলের সম্ভাবনা জাগিয়ে ব্যর্থ হন রাফিনিয়াও।

৩৮তম মিনিটে আবার প্রতিপক্ষের সীমানায় হানা দেয় ব্রাজিল। ডি-বক্সে ফাঁকায় বল পেয়ে যান ইগো চিয়াগো, তবে তার জোরাল শট এক হাত দিয়ে রুখে দেন গোলরক্ষক।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ৯টি পরিবর্তন আনেন ব্রাজিল কোচ। তবে তাতে খেলায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে তারা।

ভিনিসিউসের বদলি নামার সাত মিনিটের মধ্যে ব্যবধান বাড়ান এন্দ্রিক। রাফিনিয়ার পাস ছয় গজ বক্সের বাইরে পেয়ে প্রথম ছোঁয়ায় জোরাল শটে গোলটি করেন রেয়াল মাদ্রিদের তরুণ ফরোয়ার্ড। জাতীয় দলের হয়ে ১৭ ম্যাচে চারটি গোল হলো এন্দ্রিকের।

শুরুর ওই সমতাসূচক গোলের পর, গোলের জন্য আর কোনো শটই নিতে পারছিল না মিশর। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম মিনিটে বদলি নেমে মোহামেদ সালাহ ৫৮তম মিনিটে দ্বিতীয় শটটি নিতে পারেন, যদিও তা লক্ষ্যে ছিল না।

ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে মিশর। মোহাম্মদ সালাহ এবং জিকোর বেশ কয়েকটি আক্রমণ ব্রাজিলের ডিফেন্স ও বদলি গোলরক্ষক ওয়েভারটন দারুণ দক্ষতার সঙ্গে নসাৎ করে দেন। বার্সেলোনার যুব দলে যোগ দেওয়া মিশরের ১৮ বছর বয়সী তরুণ হামজা আবদেলকারিম শেষ দিকে মাঠে নেমে একটি সুযোগ পেলেও তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। নির্ধারিত সময় শেষে অতিরিক্ত ৫ মিনিটেও গোল করতে না পারায় ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।

আগামী ১৪ জুন মরক্কোর বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে ব্রাজিল তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে। এই জয়ের ফলে বাড়তি আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামবে আনচেলত্তির শিষ্যরা। ‘সি’ গ্রুপের বাকি দুই দল হলো- হাইতি ও স্কটল্যান্ড।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ডেঙ্গু মোকাবেলায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

মিশরকে হারিয়ে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি শেষ ব্রাজিলের

প্রকাশের সময় : ১২:৩৮:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক : 

বিশ্বকাপের মূল পর্বে নামার আগে শেষ আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে জয় পেয়েছে ব্রাজিল। আক্রমণাত্মক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে আফ্রিকার শক্তিশালী দল মিশরকে হারিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ওহাইহোর ক্লিভল্যান্ডে বাংলাদেশ সময় রোববার (৭ জুন) ভোরে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ২-১ গোলে জিতেছে ব্রাজিল। ব্রুনো গিমারেস সেলেসাওদের এগিয়ে নেওয়ার পর সমতা টানেন মোস্তাফা জিকো। পরে ওই গোলে ব্যবধান গড়ে দেন এন্দ্রিক।

এই নিয়ে টানা তিন জয় পেল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। এতে, কাতার বিশ্বকাপের পর থেকে কঠিন সময় কাটানো দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়বে। ম্যাচের শুরুতেই মাঠের দুই পাশের রক্ষণভাগ হাস্যকর দুটি ভুল করে এবং দুবারই গোলের দেখা মেলে।

প্রথম গোল উপহার পায় গত সপ্তাহে পানামাকে ৬-২ গোলে বিধ্বস্ত করা ব্রাজিল। সপ্তম মিনিটে ডি-বক্সের একটু সামনে গোলরক্ষকের পাস পেয়ে সময়ক্ষেপন করেন মিশরের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার মোহানাদ লাশিন। সেই সুযোগে তার পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে, শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন গিমারেস।

চার মিনিট পর ব্রাজিলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার মার্কিনিয়োসের ভুল অমার্জনীয়। আশেপাশে না দেখেই ব্যাকপাস দেন তিনি। গোলরক্ষক পর্যন্ত যাওয়ার মতো বলে ছিল না গতি, আবার কোনো সতীর্থের উদ্দেশেও ছিল না; ছুটে গিয়ে নিচু শটে আলিসনকে পরাস্ত করেন উইঙ্গার জিকো।

প্রথমার্ধের কুলিং ব্রেকের পর পুনরায় খেলা শুরু হতেই দারুণ সুযোগ তৈরি করেন ভিনিসিউস; তবে ছয় গজ বক্সে পাশ থেকে গোলরক্ষক বরাবর শট নেন তিনি। পাঁচ মিনিটে দুবার গোলের সম্ভাবনা জাগিয়ে ব্যর্থ হন রাফিনিয়াও।

৩৮তম মিনিটে আবার প্রতিপক্ষের সীমানায় হানা দেয় ব্রাজিল। ডি-বক্সে ফাঁকায় বল পেয়ে যান ইগো চিয়াগো, তবে তার জোরাল শট এক হাত দিয়ে রুখে দেন গোলরক্ষক।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ৯টি পরিবর্তন আনেন ব্রাজিল কোচ। তবে তাতে খেলায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে তারা।

ভিনিসিউসের বদলি নামার সাত মিনিটের মধ্যে ব্যবধান বাড়ান এন্দ্রিক। রাফিনিয়ার পাস ছয় গজ বক্সের বাইরে পেয়ে প্রথম ছোঁয়ায় জোরাল শটে গোলটি করেন রেয়াল মাদ্রিদের তরুণ ফরোয়ার্ড। জাতীয় দলের হয়ে ১৭ ম্যাচে চারটি গোল হলো এন্দ্রিকের।

শুরুর ওই সমতাসূচক গোলের পর, গোলের জন্য আর কোনো শটই নিতে পারছিল না মিশর। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম মিনিটে বদলি নেমে মোহামেদ সালাহ ৫৮তম মিনিটে দ্বিতীয় শটটি নিতে পারেন, যদিও তা লক্ষ্যে ছিল না।

ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে মিশর। মোহাম্মদ সালাহ এবং জিকোর বেশ কয়েকটি আক্রমণ ব্রাজিলের ডিফেন্স ও বদলি গোলরক্ষক ওয়েভারটন দারুণ দক্ষতার সঙ্গে নসাৎ করে দেন। বার্সেলোনার যুব দলে যোগ দেওয়া মিশরের ১৮ বছর বয়সী তরুণ হামজা আবদেলকারিম শেষ দিকে মাঠে নেমে একটি সুযোগ পেলেও তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। নির্ধারিত সময় শেষে অতিরিক্ত ৫ মিনিটেও গোল করতে না পারায় ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।

আগামী ১৪ জুন মরক্কোর বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে ব্রাজিল তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে। এই জয়ের ফলে বাড়তি আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামবে আনচেলত্তির শিষ্যরা। ‘সি’ গ্রুপের বাকি দুই দল হলো- হাইতি ও স্কটল্যান্ড।