ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফি দ্বিগুণ করলো বিসিবি

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৬:৪৫:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৭৮ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : 

দেশের প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে এবার বড় আর্থিক পরিবর্তন আসছে। জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) একটি ম্যাচ খেললেই সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকা ম্যাচ ফি পাবেন ক্রিকেটাররা। এত দিন প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে একটি ম্যাচের জন্য সর্বোচ্চ ৭০ হাজার টাকা পেতেন ক্রিকেটাররা। শুধু প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটেই নয়, লিস্ট ‘এ’ ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও নারী-পুরুষ উভয় ক্রিকেটারের ম্যাচ ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। অতীতে জাতীয় লিগ, ঢাকা লিগ ও বিসিএলের মতো ঘরোয়া টুর্নামেন্ট ছিল। নতুন করে তামিমের বোর্ড একটি টুর্নামেন্ট শুরু করতে যাচ্ছে। সবকিছুই প্রায় চূড়ান্ত।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টম্বর) সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল।

তিনি বলেন, আমরা সবাই মিলে যেটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি চারদিনের ম্যাচের ম্যাচ ফি ৭০ হাজার থেকে দেড় লাখ করা হয়েছে। ওয়ানডেতে ৫০ হাজার ছিল, ১ লাখ করা হয়েছে। টি-টোয়েন্টিতে ৪০ হাজার ছিল, ৮০ হাজার করা হয়েছে।

পুরুষদের পাশাপাশি মেয়েদের ক্রিকেটেও ম্যাচ ফি বাড়ানো হয়েছে। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে মেয়েরা তিন দিনের ম্যাচ খেলে। সামনে চার দিনের ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা আছে বিসিবির। তিন ফরম্যাটেই দ্বিগুণ বেড়েছে মেয়েদের ম্যাচ ফি। চার দিনের ম্যাচে মেয়েরা এখন থেকে ৪০ হাজার, ওয়ানডেতে ৩০ হাজার এবং টি-টোয়েন্টিতে ২০ হাজার টাকা করে পাবেন।

ঘরোয়া ক্রিকেটের খেলোয়াড়দের আরও বেশি মনোনিবেশের জন্যই বিসিবির এই সিদ্ধান্ত। এতে নিজেদের খেলার মান বাড়িয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক দিকটাও হবে বেশ চওয়া। এ নিয়ে বিসিবি সভাপতি বলেন, কোয়াবের সঙ্গে দুটি মিটিং হয়েছে। তারা একটা প্রস্তাব দেয় আমরা কাউন্টার প্রস্তাব দেই। পরে আমরা আবার বসি। এরপর সময় চাই যেন আমাদের নিজেদের মিটিংটা করে নিতে পারি। এখানে আসার আগে কোয়াবের সিনিয়রদের সঙ্গে আলাপ করেছি। সবাই অনেক খুশি। একজন খেলোয়াড় ঘরোয়া ক্রিকেটের পুরো সিজন খেললে বছরে ৩৫-৪০ লাখ টাকা করে পাবে।

ক্রিকেটারদের সঙ্গে বোর্ডের সম্পর্ক আরও ভালো করার ওপরও গুরুত্ব দেন বিসিবি সভাপতি। তার ভাষায়, ‘আমরা এখানে ক্রিকেটারদের সার্ভ করার জন্য এসেছি। আমাদের সঙ্গে ক্রিকেটারদের সম্পর্ক খারাপ হওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। বরং ভালো হওয়া দরকার। কারণ অনেক সময় অনেক বেইজ্জতি করা হয়েছে ক্রিকেটারদের। আমার নতুন করে কিছু বলার দরকার নাই।’

নিজে দীর্ঘদিন জাতীয় দলের ক্রিকেটার থাকায় খেলোয়াড়দের বাস্তবতা বোঝার সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তামিম। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেই যেহেতু ক্রিকেটার ছিলাম, ক্রিকেট খেলেছি তাদের সঙ্গে। তাদের ভালো-খারাপ কিছুটা হলেও বুঝার সামর্থ্য আল্লাহ আমাকে দিয়েছে। তাদের জন্য আমার যেটা করা দরকার হবে আমি তাই করব। ক্রিকেটারদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খারাপ হওয়ার প্রশ্নই আসে না। এটা ভালো হওয়ারই দরকার।’

বিপিএল এক মৌসুম না হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো শক্তিশালী করা এবং ক্রিকেটারদের আর্থিকভাবে স্বস্তিতে রাখার দিকেই এখন নজর দিচ্ছে বিসিবি।

বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে আগামী নভেম্বরে। তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটকে একটি প্যাকেজের আওতায় এনে নতুন একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে টুর্নামেন্টটির চূড়ান্ত নাম এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

নতুন এই ব্যবস্থায় টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে ও চার দিনের—তিন ফরম্যাটের জন্য একসঙ্গেই ক্রিকেটার ড্রাফট অনুষ্ঠিত হবে। তিন ফরম্যাটের ড্রাফট একসঙ্গে হলেও টুর্নামেন্টগুলো মাঠে গড়াবে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে। তবে ড্রাফট এক বছর নাকি তিন দীর্ঘমেয়াদী হবে, সেই বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
বিসিবি সভাপতি বলেন,সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে—২৫ বা ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে—বড় পরিসরে নতুন টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। পরিকল্পনার বড় অংশই এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তামিম বলেন, ‘আমরা যেভাবে পরিকল্পনা করছি, আশা করি আপনারা খুশি হবেন। নতুন যে টুর্নামেন্ট নিয়ে কথা বলছি, সেটা ক্রিকেটারদের যেমন উপকার করবে, সাংবাদিকদের জন্যও কভার করা আনন্দের হবে। আমার কাজের প্রায় ৮৫ শতাংশ শেষ। এখন নিয়মকানুন ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কাজ হচ্ছে।’নতুন টুর্নামেন্টে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদেরও খেলানোর পরিকল্পনা করছে বিসিবি। তবে জাতীয় দলের ব্যস্ত সূচি এবং ক্রিকেটারদের বিশ্রাম ও কাজের চাপ বিবেচনা করেই তাঁদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। প্রথম আসরেই জাতীয় দলের সব ক্রিকেটারকে দেখা যাবে বলেও আশা করছেন তামিম, ‘জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা আর্থিকভাবেও এখন ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলে লাভবান হবে। তবে তারা সারা বছরই ব্যস্ত থাকে। তাদের শরীরের বিশ্রামও প্রয়োজন। তাই কাজের চাপ বা ওয়ার্কলোডের কোনো সমস্যা না থাকলে আমি নিশ্চিত, তারা খেলবে।’

ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন করে আকর্ষণ ফিরিয়ে আনাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। তামিম মনে করেন, শুধু টুর্নামেন্টের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না, দেশের ক্রিকেটে প্রতিযোগিতার পরিবেশ এবং দর্শকদের আগ্রহও বাড়াতে হবে, ‘বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে ফ্লেভার আনা খুব গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের আগ্রহ ফিরিয়ে আনাও জরুরি। কতটা সফল হব, সেটা সময়ই বলবে। তবে আশা করি, এই টুর্নামেন্ট ঘরোয়া ক্রিকেটে সেই আগ্রহ ফিরিয়ে আনবে।’

এই নতুন টুর্নামেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে চায় বিসিবি। বিশেষ করে চার দিনের ক্রিকেটের দেশের একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগে (বিসিএল) দীর্ঘদিন ধরে একটি দল নিজ খরচে পরিচালনা করেছে বোর্ড।

কিন্তু নানা কারণে সময়ের সঙ্গে বিসিএল থেকে আগ্রহ হারাতে শুরু করে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো। গত আসরে চারটি দলই নিজেদের খরচে পরিচালনা করতে হয়েছিল বিসিবিকে। একই অভিজ্ঞতা হয়েছে বিপিএলেও। একটি আসর শুরুর আগে চট্টগ্রাম রয়্যালসের মালিক দল পরিচালনায় অপারগতা জানিয়ে সরে গেলে বিসিবিকেই দলটির দায়িত্ব নিতে হয়।

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে বারবার দল পরিচালনা করতে গিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে বিসিবি। তাই এবার নতুন টুর্নামেন্টে নিজেদের কোনো দল পরিচালনা করতে চায় না বোর্ড। সব ছয়টি দলই করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে স্পন্সরশিপ বা মালিকানার ভিত্তিতে দেওয়া হবে।

বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘টুর্নামেন্টের নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এনসিএল টি-টোয়েন্টি, যেখানে আগে আটটি দল অংশ নিত; বিসিএলের চার দিনের ম্যাচ এবং বিসিএল ওয়ানডে—এই তিনটি টুর্নামেন্টকে একটি প্যাকেজের আওতায় এনে ছয়টি দল গঠন করা হচ্ছে। এরপর দলগুলোর স্পন্সরশিপ বা মালিকানা করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হবে। আমরা, বিসিবি, সেখানে কোনো দল পরিচালনা করব না।’

তবে এই নতুন প্রতিযোগিতার নাম নিয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে পড়লেও সেগুলো সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন তামিম। তার মতে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে কোনো নাম বা তথ্য নিশ্চিতভাবে প্রকাশ করা উচিত নয়, ‘টুর্নামেন্ট নিয়ে ছড়িয়ে পড়া নামগুলো সঠিক নয়। বোর্ডের পক্ষ থেকে অফিশিয়াল ঘোষণার আগে আমাদের সকলেরই তথ্য গোপন রাখা উচিত, যাতে কোনো একজন সাংবাদিক একক সুবিধা না পেয়ে সবাই সমান তথ্য পান।’

বিগত বিপিএলের অব্যবস্থাপনা ও ক্রিকেটারদের পেমেন্ট-সংক্রান্ত সমস্যার কথাও মাথায় রেখেছে বিসিবি। তামিম জানিয়েছেন, অতীতের সেই অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়েই নতুন টুর্নামেন্টের আর্থিক ও সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।

নতুন টুর্নামেন্টের পাশাপাশি দ্বিতীয় একাদশের ক্রিকেটও চালু হচ্ছে। এতে জাতীয় লিগ কিংবা অন্য কোনো দলের স্কোয়াড থেকে বাদ পড়া ক্রিকেটারদের জন্য বাড়তি খেলার সুযোগ তৈরি হবে। তামিমের হিসাবে, প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ ক্রিকেটার নতুন করে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলার সুযোগ পাবেন।

নতুন ব্যবস্থায় টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে ও চার দিনের ক্রিকেটকে একই কাঠামোর মধ্যে আনার পরিকল্পনা দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। একসঙ্গে ক্রিকেটার ড্রাফটের মাধ্যমে দল গঠন করা হলেও তিনটি টুর্নামেন্ট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে না। ভিন্ন ভিন্ন সময়ে মাঠে গড়াবে তিন ফরম্যাটের প্রতিযোগিতা।

নভেম্বরে নতুন টুর্নামেন্ট শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বিসিবি। তার আগে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

পারিশ্রমিক কমিয়ে হলেও ফারুককে তখন বিপিএল আয়োজনের যে অনুরোধ করেছিলেন, সেটি নিয়ে তামিমের ব্যাখ্যা, ‘আমি একজন ক্রিকেটার হিসেবে ওই সময় যিনি সভাপতি ছিলেন, তাঁর কাছে গিয়েছি। অনুরোধ করেছি। জোরপূর্বক বিপিএল করা হয়েছে, এটা বলাটা ভুল। আমরা বলেছি যে এটা তো এটা করেন ভাই। তা না হলে আমাদের ক্রিকেটারদের ক্ষতি হবে। আবার ২০-২৫ শতাংশ (পারিশ্রমিক) কমায় দেব। সবই সত্যি।’

ফারুককে ২০২৫ বিপিএল আয়োজনের সময়ই দুইটা ফ্র্যাঞ্চাইজির ব্যাপারে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তামিম। রাজশাহী ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে অনেক বিতর্কিত ঘটনা ঘটেছে তখন। তামিমের দাবি, তিনি তখনকার বিসিবি সভাপতিকে রাজশাহী ফ্র্যাঞ্চাইজিকে না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘কী হয়েছে, এটা আমি বলে দিচ্ছি। যে সভাপতির (ফারুক) কাছে আমরা গিয়েছিলাম, আমি তাঁকেই এক সপ্তাহ পরে এসে এটাও বলেছি যে, এই দুই ফ্র্যাঞ্চাইজিকে দল দিয়েন না। আপনি ঝামেলায় পড়বেন। তার একটা ফ্র্যাঞ্চাইজি ছিল রাজশাহী।’

আগের বিপিএলে নেতিবাচক ঘটনা বেশি ঘটায় আপাতত স্থগিত করা হয়েছে বলে দাবি তামিমের। বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘চুক্তি স্বাক্ষর না করে দলগুলোকে খেলানো, ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক না দেওয়া, যাতায়াত ভাড়া, হোটেল খরচ না দেওয়া। দুইটা অংশ তো খারাপ হতে পারে না। যেকোনো একটা দিকও যদি ভালো থাকত, আমি তাও জিনিসটা দেখতাম। আবারও বলি, বিপিএল বন্ধ, বিপিএল বাদ সেটা না। বিপিএল স্থগিত। বিপিএল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বিপিএলটাকে ভালো করে করার যথেষ্ট পরিমাণ চেষ্টা করব।’

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়ার সমাধিতে মির্জা আব্বাসের শ্রদ্ধা

ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফি দ্বিগুণ করলো বিসিবি

প্রকাশের সময় : ০৬:৪৫:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক : 

দেশের প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে এবার বড় আর্থিক পরিবর্তন আসছে। জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) একটি ম্যাচ খেললেই সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকা ম্যাচ ফি পাবেন ক্রিকেটাররা। এত দিন প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে একটি ম্যাচের জন্য সর্বোচ্চ ৭০ হাজার টাকা পেতেন ক্রিকেটাররা। শুধু প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটেই নয়, লিস্ট ‘এ’ ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও নারী-পুরুষ উভয় ক্রিকেটারের ম্যাচ ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। অতীতে জাতীয় লিগ, ঢাকা লিগ ও বিসিএলের মতো ঘরোয়া টুর্নামেন্ট ছিল। নতুন করে তামিমের বোর্ড একটি টুর্নামেন্ট শুরু করতে যাচ্ছে। সবকিছুই প্রায় চূড়ান্ত।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টম্বর) সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল।

তিনি বলেন, আমরা সবাই মিলে যেটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি চারদিনের ম্যাচের ম্যাচ ফি ৭০ হাজার থেকে দেড় লাখ করা হয়েছে। ওয়ানডেতে ৫০ হাজার ছিল, ১ লাখ করা হয়েছে। টি-টোয়েন্টিতে ৪০ হাজার ছিল, ৮০ হাজার করা হয়েছে।

পুরুষদের পাশাপাশি মেয়েদের ক্রিকেটেও ম্যাচ ফি বাড়ানো হয়েছে। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে মেয়েরা তিন দিনের ম্যাচ খেলে। সামনে চার দিনের ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা আছে বিসিবির। তিন ফরম্যাটেই দ্বিগুণ বেড়েছে মেয়েদের ম্যাচ ফি। চার দিনের ম্যাচে মেয়েরা এখন থেকে ৪০ হাজার, ওয়ানডেতে ৩০ হাজার এবং টি-টোয়েন্টিতে ২০ হাজার টাকা করে পাবেন।

ঘরোয়া ক্রিকেটের খেলোয়াড়দের আরও বেশি মনোনিবেশের জন্যই বিসিবির এই সিদ্ধান্ত। এতে নিজেদের খেলার মান বাড়িয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক দিকটাও হবে বেশ চওয়া। এ নিয়ে বিসিবি সভাপতি বলেন, কোয়াবের সঙ্গে দুটি মিটিং হয়েছে। তারা একটা প্রস্তাব দেয় আমরা কাউন্টার প্রস্তাব দেই। পরে আমরা আবার বসি। এরপর সময় চাই যেন আমাদের নিজেদের মিটিংটা করে নিতে পারি। এখানে আসার আগে কোয়াবের সিনিয়রদের সঙ্গে আলাপ করেছি। সবাই অনেক খুশি। একজন খেলোয়াড় ঘরোয়া ক্রিকেটের পুরো সিজন খেললে বছরে ৩৫-৪০ লাখ টাকা করে পাবে।

ক্রিকেটারদের সঙ্গে বোর্ডের সম্পর্ক আরও ভালো করার ওপরও গুরুত্ব দেন বিসিবি সভাপতি। তার ভাষায়, ‘আমরা এখানে ক্রিকেটারদের সার্ভ করার জন্য এসেছি। আমাদের সঙ্গে ক্রিকেটারদের সম্পর্ক খারাপ হওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। বরং ভালো হওয়া দরকার। কারণ অনেক সময় অনেক বেইজ্জতি করা হয়েছে ক্রিকেটারদের। আমার নতুন করে কিছু বলার দরকার নাই।’

নিজে দীর্ঘদিন জাতীয় দলের ক্রিকেটার থাকায় খেলোয়াড়দের বাস্তবতা বোঝার সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তামিম। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেই যেহেতু ক্রিকেটার ছিলাম, ক্রিকেট খেলেছি তাদের সঙ্গে। তাদের ভালো-খারাপ কিছুটা হলেও বুঝার সামর্থ্য আল্লাহ আমাকে দিয়েছে। তাদের জন্য আমার যেটা করা দরকার হবে আমি তাই করব। ক্রিকেটারদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খারাপ হওয়ার প্রশ্নই আসে না। এটা ভালো হওয়ারই দরকার।’

বিপিএল এক মৌসুম না হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো শক্তিশালী করা এবং ক্রিকেটারদের আর্থিকভাবে স্বস্তিতে রাখার দিকেই এখন নজর দিচ্ছে বিসিবি।

বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে আগামী নভেম্বরে। তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটকে একটি প্যাকেজের আওতায় এনে নতুন একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে টুর্নামেন্টটির চূড়ান্ত নাম এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

নতুন এই ব্যবস্থায় টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে ও চার দিনের—তিন ফরম্যাটের জন্য একসঙ্গেই ক্রিকেটার ড্রাফট অনুষ্ঠিত হবে। তিন ফরম্যাটের ড্রাফট একসঙ্গে হলেও টুর্নামেন্টগুলো মাঠে গড়াবে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে। তবে ড্রাফট এক বছর নাকি তিন দীর্ঘমেয়াদী হবে, সেই বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
বিসিবি সভাপতি বলেন,সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে—২৫ বা ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে—বড় পরিসরে নতুন টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। পরিকল্পনার বড় অংশই এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তামিম বলেন, ‘আমরা যেভাবে পরিকল্পনা করছি, আশা করি আপনারা খুশি হবেন। নতুন যে টুর্নামেন্ট নিয়ে কথা বলছি, সেটা ক্রিকেটারদের যেমন উপকার করবে, সাংবাদিকদের জন্যও কভার করা আনন্দের হবে। আমার কাজের প্রায় ৮৫ শতাংশ শেষ। এখন নিয়মকানুন ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কাজ হচ্ছে।’নতুন টুর্নামেন্টে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদেরও খেলানোর পরিকল্পনা করছে বিসিবি। তবে জাতীয় দলের ব্যস্ত সূচি এবং ক্রিকেটারদের বিশ্রাম ও কাজের চাপ বিবেচনা করেই তাঁদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। প্রথম আসরেই জাতীয় দলের সব ক্রিকেটারকে দেখা যাবে বলেও আশা করছেন তামিম, ‘জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা আর্থিকভাবেও এখন ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলে লাভবান হবে। তবে তারা সারা বছরই ব্যস্ত থাকে। তাদের শরীরের বিশ্রামও প্রয়োজন। তাই কাজের চাপ বা ওয়ার্কলোডের কোনো সমস্যা না থাকলে আমি নিশ্চিত, তারা খেলবে।’

ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন করে আকর্ষণ ফিরিয়ে আনাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। তামিম মনে করেন, শুধু টুর্নামেন্টের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না, দেশের ক্রিকেটে প্রতিযোগিতার পরিবেশ এবং দর্শকদের আগ্রহও বাড়াতে হবে, ‘বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে ফ্লেভার আনা খুব গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের আগ্রহ ফিরিয়ে আনাও জরুরি। কতটা সফল হব, সেটা সময়ই বলবে। তবে আশা করি, এই টুর্নামেন্ট ঘরোয়া ক্রিকেটে সেই আগ্রহ ফিরিয়ে আনবে।’

এই নতুন টুর্নামেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে চায় বিসিবি। বিশেষ করে চার দিনের ক্রিকেটের দেশের একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগে (বিসিএল) দীর্ঘদিন ধরে একটি দল নিজ খরচে পরিচালনা করেছে বোর্ড।

কিন্তু নানা কারণে সময়ের সঙ্গে বিসিএল থেকে আগ্রহ হারাতে শুরু করে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো। গত আসরে চারটি দলই নিজেদের খরচে পরিচালনা করতে হয়েছিল বিসিবিকে। একই অভিজ্ঞতা হয়েছে বিপিএলেও। একটি আসর শুরুর আগে চট্টগ্রাম রয়্যালসের মালিক দল পরিচালনায় অপারগতা জানিয়ে সরে গেলে বিসিবিকেই দলটির দায়িত্ব নিতে হয়।

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে বারবার দল পরিচালনা করতে গিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে বিসিবি। তাই এবার নতুন টুর্নামেন্টে নিজেদের কোনো দল পরিচালনা করতে চায় না বোর্ড। সব ছয়টি দলই করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে স্পন্সরশিপ বা মালিকানার ভিত্তিতে দেওয়া হবে।

বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘টুর্নামেন্টের নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এনসিএল টি-টোয়েন্টি, যেখানে আগে আটটি দল অংশ নিত; বিসিএলের চার দিনের ম্যাচ এবং বিসিএল ওয়ানডে—এই তিনটি টুর্নামেন্টকে একটি প্যাকেজের আওতায় এনে ছয়টি দল গঠন করা হচ্ছে। এরপর দলগুলোর স্পন্সরশিপ বা মালিকানা করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হবে। আমরা, বিসিবি, সেখানে কোনো দল পরিচালনা করব না।’

তবে এই নতুন প্রতিযোগিতার নাম নিয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে পড়লেও সেগুলো সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন তামিম। তার মতে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে কোনো নাম বা তথ্য নিশ্চিতভাবে প্রকাশ করা উচিত নয়, ‘টুর্নামেন্ট নিয়ে ছড়িয়ে পড়া নামগুলো সঠিক নয়। বোর্ডের পক্ষ থেকে অফিশিয়াল ঘোষণার আগে আমাদের সকলেরই তথ্য গোপন রাখা উচিত, যাতে কোনো একজন সাংবাদিক একক সুবিধা না পেয়ে সবাই সমান তথ্য পান।’

বিগত বিপিএলের অব্যবস্থাপনা ও ক্রিকেটারদের পেমেন্ট-সংক্রান্ত সমস্যার কথাও মাথায় রেখেছে বিসিবি। তামিম জানিয়েছেন, অতীতের সেই অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়েই নতুন টুর্নামেন্টের আর্থিক ও সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।

নতুন টুর্নামেন্টের পাশাপাশি দ্বিতীয় একাদশের ক্রিকেটও চালু হচ্ছে। এতে জাতীয় লিগ কিংবা অন্য কোনো দলের স্কোয়াড থেকে বাদ পড়া ক্রিকেটারদের জন্য বাড়তি খেলার সুযোগ তৈরি হবে। তামিমের হিসাবে, প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ ক্রিকেটার নতুন করে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলার সুযোগ পাবেন।

নতুন ব্যবস্থায় টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে ও চার দিনের ক্রিকেটকে একই কাঠামোর মধ্যে আনার পরিকল্পনা দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। একসঙ্গে ক্রিকেটার ড্রাফটের মাধ্যমে দল গঠন করা হলেও তিনটি টুর্নামেন্ট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে না। ভিন্ন ভিন্ন সময়ে মাঠে গড়াবে তিন ফরম্যাটের প্রতিযোগিতা।

নভেম্বরে নতুন টুর্নামেন্ট শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বিসিবি। তার আগে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

পারিশ্রমিক কমিয়ে হলেও ফারুককে তখন বিপিএল আয়োজনের যে অনুরোধ করেছিলেন, সেটি নিয়ে তামিমের ব্যাখ্যা, ‘আমি একজন ক্রিকেটার হিসেবে ওই সময় যিনি সভাপতি ছিলেন, তাঁর কাছে গিয়েছি। অনুরোধ করেছি। জোরপূর্বক বিপিএল করা হয়েছে, এটা বলাটা ভুল। আমরা বলেছি যে এটা তো এটা করেন ভাই। তা না হলে আমাদের ক্রিকেটারদের ক্ষতি হবে। আবার ২০-২৫ শতাংশ (পারিশ্রমিক) কমায় দেব। সবই সত্যি।’

ফারুককে ২০২৫ বিপিএল আয়োজনের সময়ই দুইটা ফ্র্যাঞ্চাইজির ব্যাপারে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তামিম। রাজশাহী ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে অনেক বিতর্কিত ঘটনা ঘটেছে তখন। তামিমের দাবি, তিনি তখনকার বিসিবি সভাপতিকে রাজশাহী ফ্র্যাঞ্চাইজিকে না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘কী হয়েছে, এটা আমি বলে দিচ্ছি। যে সভাপতির (ফারুক) কাছে আমরা গিয়েছিলাম, আমি তাঁকেই এক সপ্তাহ পরে এসে এটাও বলেছি যে, এই দুই ফ্র্যাঞ্চাইজিকে দল দিয়েন না। আপনি ঝামেলায় পড়বেন। তার একটা ফ্র্যাঞ্চাইজি ছিল রাজশাহী।’

আগের বিপিএলে নেতিবাচক ঘটনা বেশি ঘটায় আপাতত স্থগিত করা হয়েছে বলে দাবি তামিমের। বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘চুক্তি স্বাক্ষর না করে দলগুলোকে খেলানো, ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক না দেওয়া, যাতায়াত ভাড়া, হোটেল খরচ না দেওয়া। দুইটা অংশ তো খারাপ হতে পারে না। যেকোনো একটা দিকও যদি ভালো থাকত, আমি তাও জিনিসটা দেখতাম। আবারও বলি, বিপিএল বন্ধ, বিপিএল বাদ সেটা না। বিপিএল স্থগিত। বিপিএল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বিপিএলটাকে ভালো করে করার যথেষ্ট পরিমাণ চেষ্টা করব।’