দেশ পুনর্গঠনে সব দলের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব চান প্রধানমন্ত্রী : নজরুল ইসলাম

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৬:২৪:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৯১ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

দেশ পুনর্গঠনের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মরহুম কাজী জাফর আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্মরণসভাটির আয়োজন করে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর অংশ)।

তিনি বলেন, দেশের সমস্যা সমাধানে সরকার কোনো অনমনীয় অবস্থানে নেই। দেশ পুনর্গঠনে সব রাজনৈতিক দল, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ নিতে সরকার আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে দেশ পুনর্গঠনে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব চেয়েছেন। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে বিভিন্ন পক্ষের পরামর্শ ও প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে দেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করা।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, শুধু রাজনৈতিক দল নয়, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের কাছ থেকেও সুনির্দিষ্ট পরামর্শ নিতে সরকার আগ্রহী। দেশের মানুষের দুর্ভোগ কমাতে এবং দেশকে এগিয়ে নিতে পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সরকার কোনো নির্দিষ্ট অবস্থানে অনড় না থেকে দেশের স্বার্থে কার্যকর প্রস্তাব ও পরামর্শ গ্রহণ করতে প্রস্তুত।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তেজগাঁওয়ের বড় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে না বসে সচিবালয়ে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একই ভবনে একটি ছোট অফিসে বসছেন। এতে সচিবদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে তেজগাঁওয়ে যেতে হচ্ছে না।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে পৌঁছে যাচ্ছেন। ফলে সচিবালয়ের পিয়ন থেকে শুরু করে সচিব পর্যন্ত সবাই এখন সময়মতো অফিসে উপস্থিত হচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী মাঝেমধ্যে বিভিন্ন অফিসেও আকস্মিকভাবে ঢুকে পড়ছেন।

প্রশাসনের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে নজরুল ইসলাম খান বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের প্রশাসনকে ‘ধ্বংস’ ও ‘পলিউটেড’ করে ফেলা হয়েছে। দলীয় ও আঞ্চলিক বিবেচনায় অযোগ্যদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে এবং যোগ্যদের বিদায় করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা ও অগোছালো প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে কাজ শুরু করেছে। গত ১৭ বছরের ‘জঞ্জাল’ পরিষ্কার করে প্রশাসনকে পুনর্গঠন করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। এ জন্য আমরা দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানাচ্ছি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য জনদুর্ভোগ কমানো এবং সমস্যার সমাধান করা। রাজনৈতিক উসকানি বা প্ররোচনার পরিস্থিতিও প্রধানমন্ত্রী শান্তভাবে মোকাবিলা করছেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, জনগণকে সেবা দেওয়ার মানসিকতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা ছাড়া দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দার। তিনি বলেন, দেশের সামনে নানা ধরনের সমস্যা ও সংকট দেখা দিয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চেষ্টা করছেন। তবে সংকট মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব কাজী মো. নাহিদ, কো-চেয়ারম্যান আহসান হাবীব লিংকন, নওয়াব আলী আব্বাস খান, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোস্তফা জুবায়ের হায়দার ও সেলিম মাস্টার, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন পারভেজ, জমিয়তে উলামায়ে বাংলাদেশ-এর মহাসচিব মহিউদ্দিন একরাম, জাতীয় পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ এস এম শামীম, যুগ্ম মহাসচিব কাজী মোহাম্মদ নজরুল, দপ্তর সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, প্রয়াত কাজী জাফর আহমেদের কন্যা কাজী জয়া, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আব্দুল্লাহ চৌধুরী পাশা, জাতীয় যুব সংহতির আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিন সরকার, জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক মামুন আসিফ ভূঁইয়া, জাতীয় ছাত্র সমাজের আহ্বায়ক কাজী ফয়েজ আহমেদ ও সদস্য সচিব মেহেদি হাসান অভি প্রমুখ।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

পাঁচ তারকা হোটেলের পার্কিং থেকে ৩টি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ

দেশ পুনর্গঠনে সব দলের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব চান প্রধানমন্ত্রী : নজরুল ইসলাম

প্রকাশের সময় : ০৬:২৪:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

দেশ পুনর্গঠনের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মরহুম কাজী জাফর আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্মরণসভাটির আয়োজন করে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর অংশ)।

তিনি বলেন, দেশের সমস্যা সমাধানে সরকার কোনো অনমনীয় অবস্থানে নেই। দেশ পুনর্গঠনে সব রাজনৈতিক দল, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ নিতে সরকার আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে দেশ পুনর্গঠনে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব চেয়েছেন। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে বিভিন্ন পক্ষের পরামর্শ ও প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে দেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করা।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, শুধু রাজনৈতিক দল নয়, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের কাছ থেকেও সুনির্দিষ্ট পরামর্শ নিতে সরকার আগ্রহী। দেশের মানুষের দুর্ভোগ কমাতে এবং দেশকে এগিয়ে নিতে পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সরকার কোনো নির্দিষ্ট অবস্থানে অনড় না থেকে দেশের স্বার্থে কার্যকর প্রস্তাব ও পরামর্শ গ্রহণ করতে প্রস্তুত।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তেজগাঁওয়ের বড় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে না বসে সচিবালয়ে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একই ভবনে একটি ছোট অফিসে বসছেন। এতে সচিবদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে তেজগাঁওয়ে যেতে হচ্ছে না।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে পৌঁছে যাচ্ছেন। ফলে সচিবালয়ের পিয়ন থেকে শুরু করে সচিব পর্যন্ত সবাই এখন সময়মতো অফিসে উপস্থিত হচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী মাঝেমধ্যে বিভিন্ন অফিসেও আকস্মিকভাবে ঢুকে পড়ছেন।

প্রশাসনের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে নজরুল ইসলাম খান বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের প্রশাসনকে ‘ধ্বংস’ ও ‘পলিউটেড’ করে ফেলা হয়েছে। দলীয় ও আঞ্চলিক বিবেচনায় অযোগ্যদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে এবং যোগ্যদের বিদায় করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা ও অগোছালো প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে কাজ শুরু করেছে। গত ১৭ বছরের ‘জঞ্জাল’ পরিষ্কার করে প্রশাসনকে পুনর্গঠন করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। এ জন্য আমরা দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানাচ্ছি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য জনদুর্ভোগ কমানো এবং সমস্যার সমাধান করা। রাজনৈতিক উসকানি বা প্ররোচনার পরিস্থিতিও প্রধানমন্ত্রী শান্তভাবে মোকাবিলা করছেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, জনগণকে সেবা দেওয়ার মানসিকতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা ছাড়া দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দার। তিনি বলেন, দেশের সামনে নানা ধরনের সমস্যা ও সংকট দেখা দিয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চেষ্টা করছেন। তবে সংকট মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব কাজী মো. নাহিদ, কো-চেয়ারম্যান আহসান হাবীব লিংকন, নওয়াব আলী আব্বাস খান, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোস্তফা জুবায়ের হায়দার ও সেলিম মাস্টার, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন পারভেজ, জমিয়তে উলামায়ে বাংলাদেশ-এর মহাসচিব মহিউদ্দিন একরাম, জাতীয় পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ এস এম শামীম, যুগ্ম মহাসচিব কাজী মোহাম্মদ নজরুল, দপ্তর সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, প্রয়াত কাজী জাফর আহমেদের কন্যা কাজী জয়া, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আব্দুল্লাহ চৌধুরী পাশা, জাতীয় যুব সংহতির আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিন সরকার, জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক মামুন আসিফ ভূঁইয়া, জাতীয় ছাত্র সমাজের আহ্বায়ক কাজী ফয়েজ আহমেদ ও সদস্য সচিব মেহেদি হাসান অভি প্রমুখ।