পাবনা জেলা প্রতিনিধি :
চলতি বছরের আগস্টে বহুল প্রতীক্ষিত ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চলাচল শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে পাবনা সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসন এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলাপ শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
তিনি বলেন, চলতি বছরের আগস্টে দুটি রুটে নতুন করে ট্রেন চলাচল শুরু হবে। এর মধ্যে প্রথমে চালু হবে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চলাচল। পরে চলাচল শুরু হবে ঢাকা-খুলনা সরাসরি ট্রেন। ইতোমধ্যে লোকোমোটিভ প্রস্তুত রয়েছে। দ্রুতই কোচ আসছে।
রেলমন্ত্রী বলেন, একে-অপরের প্রতিপক্ষ হয়ে নয়, বরং মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগে পরিবহণ খাতে শৃঙ্খলা আনা হবে। এখানে কোনো বিশেষ শ্রেণিকে লালন করা হবে না; প্রাধান্য পাবে কেবলই জনস্বার্থ ও জনআকাঙ্ক্ষা। খুব দ্রুতই দেশে আন্তর্জাতিক মানের মাল্টি মোডাল যোগাযোগ ব্যবস্থা দৃশ্যমান হবে।
রেল যোগাযোগ নিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা-পাবনা রুটের লোকোমোটিভ প্রস্তুত আছে; আগামী মাসে কোচ এলেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরাসরি ট্রেন চালু হবে। এ ছাড়া ঢাকার সঙ্গে সহজ যোগাযোগে আরিচা-খাসচর সড়ক প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি ও ডিপিপি প্রণয়নের কাজও এরইমধ্যে চালু হয়েছে।
কাজিরহাট ফেরীঘাট স্থানান্তর প্রসঙ্গে সড়কমন্ত্রী বলেন, এটি বাস্তবায়ন করার জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে যে সমস্ত কার্যক্রম থাকে, সেটা ইতোমধ্যে চালু হয়েছে। ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি, ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি যেহেতু পাবনাবাসীর দাবি, এছাড়া এখানে বৃহত্তর বা জনস্বার্থ রয়েছে। ফলে বর্তমান সরকার দ্রুত সময়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ।
এক প্রশ্নের জবাবে পরিবহনখাতে শৃঙ্খলা ফেরানো প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, একে অপরের প্রতিপক্ষ হয়ে নয়, বরং মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগে পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা আনা হবে। এখানে কোনো বিশেষ শ্রেণিকে লালন করা হবে না, প্রাধান্য পাবে কেবলই জনস্বার্থ ও জনআকাঙ্ক্ষা। খুব দ্রুতই দেশে আন্তর্জাতিক মানের ‘মাল্টি-মোডাল’ যোগাযোগ ব্যবস্থা দৃশ্যমান হবে।
তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, সরকারের এই অভিপ্রায়ের মধ্যে কোনো বিশেষ শ্রেণিকে লালন করার সুযোগ নেই, এখানে শুধুই জনস্বার্থ ও জনআকাঙ্ক্ষা লালন করা আছে। খুব শিগগিরই আন্তর্জাতিক বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত ও স্বীকৃত ‘মাল্টি-মোডাল যোগাযোগ ব্যবস্থা’ বাংলাদেশে বাস্তবায়িত ও দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পাবনাবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ঢাকার সঙ্গে রেল যোগাযোগ চালুর বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ঢাকা-পাবনা সরাসরি রেল যোগাযোগের জন্য লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) ইতোমধ্যে প্রস্তুত রয়েছে। আগামী মাসেই নতুন রেল কোচগুলো এসে পৌঁছাবে। কোচ পাওয়ার পরপরই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রথমে ঢাকা-পাবনা এবং পরবর্তীতে ঢাকা-খুলনা লাইন চালু করা হবে।
নিজেকে খুলনার সন্তান উল্লেখ করে মন্ত্রী মন্তব্য করেন, আমি খুলনার মানুষ হওয়া সত্ত্বেও মনে করেছি পাবনার অগ্রাধিকার অনেক বেশি, কারণ তাদের সাফারিংটাও বেশি।
পাবনাবাসীর প্রাণের দাবি আরিচা-খাসচর ফেরি ও সড়ক যোগাযোগ প্রকল্প বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, পাবনা সদর আসনের এমপি শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এ প্রকল্পের কাজ অনেক এগিয়ে নিয়েছেন। বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে এই বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়েছে। প্রকল্পের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি’ (সম্ভাব্যতা যাচাই) এবং ‘ডিপিপি’ প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে চালু হয়েছে। নৌ ও সড়ক— দুই খাতের সমন্বয়ে এই প্রকল্পটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
এসময় পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য এড. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা -৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালেব মণ্ডল, পাবনা-সিরাজগঞ্জ সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরেফা সুলতানা রুমা, জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহসহ রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পাবনা জেলা প্রতিনিধি 



















