বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে তারা জনগণের বন্ধু নয় : প্রধানমন্ত্রী

মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি : 

এ বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে তারা জনগণের বন্ধু নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১৭ জুন) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান বলেন, যে বাজেটে ৬০টি পণ্যের উপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে, সে বাজেটকে একটি দল গণবিরোধী বাজেট বলেছে। জনগণের জন্য যে বাজেটে সব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, সেই বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে তারা কি কখনও জনগণের বন্ধু হতে পারে? তারা জনগণের বন্ধু হতে পারে না।

তিনি বলেন, যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়, সেটা সংসদের ভেতরে হোক বা সংসদের বাইরে হোক, তাদের ব্যাপারে আপনাদেরকে সচেতন থাকতে হবে। কারণ এ লোকেরা, এ দলগুলো দেশে যদি অশান্তি করে সুযোগ পায় আমরা ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন করতে পারব না।

May be an image of one or more people, dais and text

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এই বাজেটের মধ্যে বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করেছি, যাতে জিনিসের দাম না বাড়ে। জনগণের কথা চিন্তা করে আমরা ৬০টি নিত্য-প্রয়োজনীয় দ্রব্যের উপর থেকে কর প্রত্যাহার করেছি।’

তারেক রহমান বলেন, যতবারই এই বাংলাদেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে, যতবারই দেশের জনগণ নিরপেক্ষভাবে ভোট দিতে পেরেছে, প্রত্যেকবারই মানুষ ধানের শীষকে বেছে নিয়েছে। যদি দেশের উন্নয়নকে অব্যাহত রাখতে হয়, তাহলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে পারবে না। জনগণ ও ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কেউ নষ্ট করতে পারবে না।

May be an image of speaker

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের প্রচার সিলেটের মাটি থেকে শুরু হয়েছিল। হবিগঞ্জে ঘোষণা দিয়েছিলাম চা বাগানের নারী শ্রমিকদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিব। আজ শ্রীমঙ্গলের মাটিতে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হলো।

তিনি বলেন, মাতৃভূমি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী করতে না পারলে সেটা সম্ভব নয়। তাই ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলেছি যা নির্বাচনের পরে এক মাস যাওয়ার আগেই বাস্তবায়ন শুরু করেছে সরকার। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে বিশ্বাস করে এই সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আল্লাহর কাছে আমি হাজারো শুকরিয়া জানাই, লাখো শুকরিয়া জানাই যে আল্লাহ আমাকে সেই তৌফিক দিয়েছেন আজকে যে আমি আমার কথা আজকে রাখতে পেরেছি। নির্বাচনী প্রচারণার সময় হবিগঞ্জের জনসভা থেকে চা বাগানের নারী শ্রমিকদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলাম। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষার অংশ হিসেবে এই কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান। আমরা হয়তো আজকে সবাইকে দিতে পারিনি, কিন্তু ইনশাআল্লাহ আগামী এক বছরের মধ্যে আমরা প্রায় সকল নারী শ্রমিকের কাছে, চা বাগানের সকলের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব।

May be an image of one or more people, speaker and crowd

সংসদের বাইরে ও ভেতরে ওইসব সমালোচকদের বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই সকল লোকেরা, এই সকল দলগুলো দেশে যদি অশান্তি করার সুযোগ পায়, তাহলে আমরা ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন করতে পারব না।… আজকে প্রতিবন্ধী মানুষগুলোকে যে আমরা সহযোগিতা করলাম, এই যে গরিব ছাত্র স্টুডেন্টগুলোকে যে আমরা সহযোগিতা করলাম, এই যে আমরা নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের উপর থেকে যে ৬০টি দ্রব্যের উপর থেকে যে আমরা ট্যাক্স তুলে নিতে পারলাম—এটি আমরা তাহলে কন্টিনিউ করতে পারব না। কাজেই যারা এসব কাজে বাধা দেবে, কী ব্যবস্থা করা উচিত তাদের বিরুদ্ধে? সতর্ক থাকতে হবে তাদের বিরুদ্ধে এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”

বিগত আওয়ামী লীগ আমলের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের অর্থ জনগণকে না দিয়ে একটি দল বিদেশে পাচার করে দিয়েছিল। প্রিয় ভাই-বোনেরা, যারা বলে কোত্থেকে আসবে ফ্যামিলি কার্ডের টাকা, কোত্থেকে আসবে কৃষক কার্ডের টাকা, তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই—এই জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না আমরা! জনগণের টাকা দিয়ে জনগণের জন্য কাজ করা হবে, জনগণের অর্থ দিয়ে দেশের জন্য কাজ করা হবে, দেশের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করা হবে, জনগণের জন্য কাজ করা হবে। কাজেই ইনশাআল্লাহ টাকার কোনো অভাব হবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন, যারা এই দেশ থেকে টাকা পাচার করেছে, যারা এই দেশ থেকে টাকা বাইরে পাঠাতে চায়, জনগণের অর্থ টাকা বিদেশে পাঠাতে চায়, আমরা আজ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করব। আমরা যদি সকলে চোখ কান খোলা রাখি, তাহলে এই দেশের মানুষের অর্থ-সম্পদ কেউ বিদেশে পাচার করতে পারবে না এবং সেই টাকা দিয়ে আমরা সকল মিলে পরিশ্রম করব এবং সেই অর্থ দিয়ে আমরা দেশ এবং দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করব।

গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে সিলেট অঞ্চলে ভোটের প্রচারে এসে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সে কথা মনে করে বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, আমি আমার কথা আজকে রাখতে পেরেছি।… চা-বাগানের যারা নারী শ্রমিক আছেন, তাদের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিয়েছি আজকে। হ্যাঁ, আমরা হয়তো আজকে সবাইকে দিতে পারিনি, কিন্তু ইনশাআল্লাহ আগামী এক বছরের মধ্যে আমরা প্রায় সকল নারী শ্রমিকের কাছে, চা-বাগানের সকলের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব ইনশাআল্লাহ।

বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের এ অনুষ্ঠান। সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রথমে জাতীয় সঙ্গীত এবং পরে বিএনপির দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ১০ জন পরিবারের প্রধান নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে কম্পিউটারের বোতাম চেপে ফ্যামিলি কার্ড তৃতীয় পর্যায় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।

সেই সঙ্গে চা শ্রমিক আবাসন সমস্যা সমাধানে শ্রমিকদের দুই লক্ষ টাকার করে অনুদান, চা শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য বৃত্তি প্রদান, প্রতিবন্ধীদের জন্য আর্থিক অনুদানের চেক দেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, তার সরকার মনে করে, পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য সাহায্য করা না গেলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট—বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। এবং সে কারণেই আজকে শুধু ফ্যামিলি কার্ডই নয়, এই যে চা-বাগানের শ্রমিক নারী শ্রমিক যারা, তাদের ৫০ জন শ্রমিককে ঘর বানানোর জন্য ২ লক্ষ টাকা আমরা দিয়েছি। চা-শ্রমিকরা অত্যন্ত কষ্টে থাকে আমরা জানি, ধীরে ধীরে তাদেরকে একটু ভালো অবস্থায় যাতে আনা যায়, সেই জন্য আমরা ২ লক্ষ টাকা করে দিয়েছি।

এর বাইরেও চা-শ্রমিকদের সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য বিশেষ বৃত্তি দেওয়ার কথাও সরকারপ্রধান বলেন।

তিনি বলেন, জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে পারবে না। জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কেউ নষ্ট করতে পারবে না।

মৌলভীবাজারের উন্নয়নে বিএনপির অবদান স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, এই যে মৌলভীবাজারের যতগুলো বড় বড় রাস্তাঘাট, স্কুল কলেজ দেখেছেন, খোঁজ করে দেখুন, এগুলো সব বিএনপির, মরহুম সাইফুর রহমান সাহেবের সময় এই কাজগুলো হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে কয়েকজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়া দেওয়া হয়। পাশাপাশি দেশের কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে বাজেট অর্থ বরাদ্দ রাখার কথা, আগামী এক বছরে দেশের ৪০ লাখ কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও প্রধানমন্ত্রী বলেন।

তারেক রহমান বলেন, আমরা হচ্ছি খালেদা জিয়ার সৈনিক। বাংলাদেশই হচ্ছে আমাদের প্রথম ঠিকানা। বাংলাদেশই হচ্ছে আমাদের শেষ ঠিকানা আমাদের একটাই কাজ, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। আসুন এদেশ আমাদেরকেই গড়তে হবে। এ দেশ আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে। তাহলেই আমরা এই বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারব।

সমাজ কল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফরজানা শারমিন, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম নয়ন, মৌলভীবাজার ৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রাণালয়ের অতিরিক্তি সচিব কামাল উদ্দিন বিশ্বাস এবং ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নারীদের মধ্যে শিউলী রানী দাস ও ওয়াজেদা বেগম অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

বিশাল জনসংখ্যা জনসম্পদে পরিণত করতে পারেন শিক্ষকেরাই : শিক্ষামন্ত্রী

বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে তারা জনগণের বন্ধু নয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৩:২৯:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি : 

এ বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে তারা জনগণের বন্ধু নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১৭ জুন) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান বলেন, যে বাজেটে ৬০টি পণ্যের উপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে, সে বাজেটকে একটি দল গণবিরোধী বাজেট বলেছে। জনগণের জন্য যে বাজেটে সব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, সেই বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে তারা কি কখনও জনগণের বন্ধু হতে পারে? তারা জনগণের বন্ধু হতে পারে না।

তিনি বলেন, যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়, সেটা সংসদের ভেতরে হোক বা সংসদের বাইরে হোক, তাদের ব্যাপারে আপনাদেরকে সচেতন থাকতে হবে। কারণ এ লোকেরা, এ দলগুলো দেশে যদি অশান্তি করে সুযোগ পায় আমরা ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন করতে পারব না।

May be an image of one or more people, dais and text

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এই বাজেটের মধ্যে বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করেছি, যাতে জিনিসের দাম না বাড়ে। জনগণের কথা চিন্তা করে আমরা ৬০টি নিত্য-প্রয়োজনীয় দ্রব্যের উপর থেকে কর প্রত্যাহার করেছি।’

তারেক রহমান বলেন, যতবারই এই বাংলাদেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে, যতবারই দেশের জনগণ নিরপেক্ষভাবে ভোট দিতে পেরেছে, প্রত্যেকবারই মানুষ ধানের শীষকে বেছে নিয়েছে। যদি দেশের উন্নয়নকে অব্যাহত রাখতে হয়, তাহলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে পারবে না। জনগণ ও ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কেউ নষ্ট করতে পারবে না।

May be an image of speaker

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের প্রচার সিলেটের মাটি থেকে শুরু হয়েছিল। হবিগঞ্জে ঘোষণা দিয়েছিলাম চা বাগানের নারী শ্রমিকদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিব। আজ শ্রীমঙ্গলের মাটিতে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হলো।

তিনি বলেন, মাতৃভূমি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী করতে না পারলে সেটা সম্ভব নয়। তাই ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলেছি যা নির্বাচনের পরে এক মাস যাওয়ার আগেই বাস্তবায়ন শুরু করেছে সরকার। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে বিশ্বাস করে এই সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আল্লাহর কাছে আমি হাজারো শুকরিয়া জানাই, লাখো শুকরিয়া জানাই যে আল্লাহ আমাকে সেই তৌফিক দিয়েছেন আজকে যে আমি আমার কথা আজকে রাখতে পেরেছি। নির্বাচনী প্রচারণার সময় হবিগঞ্জের জনসভা থেকে চা বাগানের নারী শ্রমিকদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলাম। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষার অংশ হিসেবে এই কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান। আমরা হয়তো আজকে সবাইকে দিতে পারিনি, কিন্তু ইনশাআল্লাহ আগামী এক বছরের মধ্যে আমরা প্রায় সকল নারী শ্রমিকের কাছে, চা বাগানের সকলের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব।

May be an image of one or more people, speaker and crowd

সংসদের বাইরে ও ভেতরে ওইসব সমালোচকদের বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই সকল লোকেরা, এই সকল দলগুলো দেশে যদি অশান্তি করার সুযোগ পায়, তাহলে আমরা ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন করতে পারব না।… আজকে প্রতিবন্ধী মানুষগুলোকে যে আমরা সহযোগিতা করলাম, এই যে গরিব ছাত্র স্টুডেন্টগুলোকে যে আমরা সহযোগিতা করলাম, এই যে আমরা নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের উপর থেকে যে ৬০টি দ্রব্যের উপর থেকে যে আমরা ট্যাক্স তুলে নিতে পারলাম—এটি আমরা তাহলে কন্টিনিউ করতে পারব না। কাজেই যারা এসব কাজে বাধা দেবে, কী ব্যবস্থা করা উচিত তাদের বিরুদ্ধে? সতর্ক থাকতে হবে তাদের বিরুদ্ধে এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”

বিগত আওয়ামী লীগ আমলের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের অর্থ জনগণকে না দিয়ে একটি দল বিদেশে পাচার করে দিয়েছিল। প্রিয় ভাই-বোনেরা, যারা বলে কোত্থেকে আসবে ফ্যামিলি কার্ডের টাকা, কোত্থেকে আসবে কৃষক কার্ডের টাকা, তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই—এই জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না আমরা! জনগণের টাকা দিয়ে জনগণের জন্য কাজ করা হবে, জনগণের অর্থ দিয়ে দেশের জন্য কাজ করা হবে, দেশের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করা হবে, জনগণের জন্য কাজ করা হবে। কাজেই ইনশাআল্লাহ টাকার কোনো অভাব হবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন, যারা এই দেশ থেকে টাকা পাচার করেছে, যারা এই দেশ থেকে টাকা বাইরে পাঠাতে চায়, জনগণের অর্থ টাকা বিদেশে পাঠাতে চায়, আমরা আজ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করব। আমরা যদি সকলে চোখ কান খোলা রাখি, তাহলে এই দেশের মানুষের অর্থ-সম্পদ কেউ বিদেশে পাচার করতে পারবে না এবং সেই টাকা দিয়ে আমরা সকল মিলে পরিশ্রম করব এবং সেই অর্থ দিয়ে আমরা দেশ এবং দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করব।

গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে সিলেট অঞ্চলে ভোটের প্রচারে এসে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সে কথা মনে করে বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, আমি আমার কথা আজকে রাখতে পেরেছি।… চা-বাগানের যারা নারী শ্রমিক আছেন, তাদের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিয়েছি আজকে। হ্যাঁ, আমরা হয়তো আজকে সবাইকে দিতে পারিনি, কিন্তু ইনশাআল্লাহ আগামী এক বছরের মধ্যে আমরা প্রায় সকল নারী শ্রমিকের কাছে, চা-বাগানের সকলের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব ইনশাআল্লাহ।

বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের এ অনুষ্ঠান। সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রথমে জাতীয় সঙ্গীত এবং পরে বিএনপির দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ১০ জন পরিবারের প্রধান নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে কম্পিউটারের বোতাম চেপে ফ্যামিলি কার্ড তৃতীয় পর্যায় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।

সেই সঙ্গে চা শ্রমিক আবাসন সমস্যা সমাধানে শ্রমিকদের দুই লক্ষ টাকার করে অনুদান, চা শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য বৃত্তি প্রদান, প্রতিবন্ধীদের জন্য আর্থিক অনুদানের চেক দেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, তার সরকার মনে করে, পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য সাহায্য করা না গেলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট—বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। এবং সে কারণেই আজকে শুধু ফ্যামিলি কার্ডই নয়, এই যে চা-বাগানের শ্রমিক নারী শ্রমিক যারা, তাদের ৫০ জন শ্রমিককে ঘর বানানোর জন্য ২ লক্ষ টাকা আমরা দিয়েছি। চা-শ্রমিকরা অত্যন্ত কষ্টে থাকে আমরা জানি, ধীরে ধীরে তাদেরকে একটু ভালো অবস্থায় যাতে আনা যায়, সেই জন্য আমরা ২ লক্ষ টাকা করে দিয়েছি।

এর বাইরেও চা-শ্রমিকদের সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য বিশেষ বৃত্তি দেওয়ার কথাও সরকারপ্রধান বলেন।

তিনি বলেন, জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে পারবে না। জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কেউ নষ্ট করতে পারবে না।

মৌলভীবাজারের উন্নয়নে বিএনপির অবদান স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, এই যে মৌলভীবাজারের যতগুলো বড় বড় রাস্তাঘাট, স্কুল কলেজ দেখেছেন, খোঁজ করে দেখুন, এগুলো সব বিএনপির, মরহুম সাইফুর রহমান সাহেবের সময় এই কাজগুলো হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে কয়েকজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়া দেওয়া হয়। পাশাপাশি দেশের কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে বাজেট অর্থ বরাদ্দ রাখার কথা, আগামী এক বছরে দেশের ৪০ লাখ কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও প্রধানমন্ত্রী বলেন।

তারেক রহমান বলেন, আমরা হচ্ছি খালেদা জিয়ার সৈনিক। বাংলাদেশই হচ্ছে আমাদের প্রথম ঠিকানা। বাংলাদেশই হচ্ছে আমাদের শেষ ঠিকানা আমাদের একটাই কাজ, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। আসুন এদেশ আমাদেরকেই গড়তে হবে। এ দেশ আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে। তাহলেই আমরা এই বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারব।

সমাজ কল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফরজানা শারমিন, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম নয়ন, মৌলভীবাজার ৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রাণালয়ের অতিরিক্তি সচিব কামাল উদ্দিন বিশ্বাস এবং ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নারীদের মধ্যে শিউলী রানী দাস ও ওয়াজেদা বেগম অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।