Dhaka শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

না ফেরার দেশে চলে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার

  • বিনোদন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ১২:১৯:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • ২০৫ জন দেখেছেন

বিনোদন ডেস্ক : 

লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

সম্প্রতি উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়ার পর সকল চেষ্টাকে ব্যর্থ করে শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাতে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। কারিনার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বাবা ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ।

কারিনার বাবা কায়সার হামিদ একমাত্র মেয়ের মৃত্যুর খবর জানিয়ে লিখেছেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে আমার প্রাণপ্রিয় আদরের মেয়ে কারিনা কায়সার একটু আগে চেন্নাইতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের ছেড়ে ওপারে চলে গেছে।’

তিনি লেখেন, ‘আমার মেয়ের কোন ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে কিংবা কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দিবেন। যারা এই দুঃসময়ে আমাদের পাশে ছিলেন, দোয়া করেছেন, সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দোয়া করবেন সবাই, আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুক। আমিন।’

বেশ কিছুদিন ধরে লিভার জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি, সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন দেশের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি। প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় তাঁকে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয়। সেখানে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকেরা প্রথমে তাঁর ফুসফুসের চিকিৎসা শুরু করেছিলেন। এরপর লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল।

কারিনার পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হন কারিনা। পরে তাঁর শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ এবং ই-জনিত জটিলতায় তাঁর লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

ক্যারিয়ারে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন কারিনা।

স্যোশাল মিডিয়ায় তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট তরুণ দর্শকদের কাছে তাঁকে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তোলে। পরে ওটিটি ও নাটকের জগতেও ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।

আলোচিত এই কনটেন্ট ক্রিয়েটরের আকস্মিক এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন সতীর্থ, নির্মাতা ও ভক্ত সমর্থকেরা।

কারিনার এই অকালমৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশ করছেন তার সহকর্মী, দেশের বিনোদন জগতের নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও ভক্তরা।

শরিবার (১৬ মে) সকালে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া

না ফেরার দেশে চলে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার

প্রকাশের সময় : ১২:১৯:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

বিনোদন ডেস্ক : 

লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

সম্প্রতি উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়ার পর সকল চেষ্টাকে ব্যর্থ করে শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাতে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। কারিনার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বাবা ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ।

কারিনার বাবা কায়সার হামিদ একমাত্র মেয়ের মৃত্যুর খবর জানিয়ে লিখেছেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে আমার প্রাণপ্রিয় আদরের মেয়ে কারিনা কায়সার একটু আগে চেন্নাইতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের ছেড়ে ওপারে চলে গেছে।’

তিনি লেখেন, ‘আমার মেয়ের কোন ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে কিংবা কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দিবেন। যারা এই দুঃসময়ে আমাদের পাশে ছিলেন, দোয়া করেছেন, সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দোয়া করবেন সবাই, আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুক। আমিন।’

বেশ কিছুদিন ধরে লিভার জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি, সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন দেশের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি। প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় তাঁকে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয়। সেখানে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকেরা প্রথমে তাঁর ফুসফুসের চিকিৎসা শুরু করেছিলেন। এরপর লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল।

কারিনার পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হন কারিনা। পরে তাঁর শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ এবং ই-জনিত জটিলতায় তাঁর লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

ক্যারিয়ারে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন কারিনা।

স্যোশাল মিডিয়ায় তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট তরুণ দর্শকদের কাছে তাঁকে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তোলে। পরে ওটিটি ও নাটকের জগতেও ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।

আলোচিত এই কনটেন্ট ক্রিয়েটরের আকস্মিক এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন সতীর্থ, নির্মাতা ও ভক্ত সমর্থকেরা।

কারিনার এই অকালমৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশ করছেন তার সহকর্মী, দেশের বিনোদন জগতের নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও ভক্তরা।

শরিবার (১৬ মে) সকালে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।