Dhaka শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরীক্ষা-জিপিএনির্ভর শিক্ষায় ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব নয় : শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

শুধু পরীক্ষা ও জিপিএনির্ভর শিক্ষা দিয়ে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব নয় উল্লেখ করে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবি। আধুনিক ও বাস্তবমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। যেখানে শিক্ষার্থীরা প্রজেক্টভিত্তিক ও হাতে-কলমে শেখার সুযোগ পাবে।

শনিবার (৯ মে) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে চীন দূতাবাস ও ‘চায়না-বাংলাদেশ এডুকেশন অ্যান্ড কালচারাল এক্সচেঞ্জ এসোসিয়েশন’ আয়োজিত চায়না-বাংলাদেশ এডুকেশন কো-অপারেশন ফোরাম-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সারা বছর শুধু ক্লাস করে শেষে পরীক্ষা দেওয়াই প্রকৃত শিক্ষা নয়। প্রতিদিনের ক্লাসে শিক্ষার্থীদের শেখানো ও মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকতে হবে। এজন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে টিচার্স ট্রেনিং ও টেকনিক্যাল শিক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন কারিকুলাম, সিলেবাস ও একাডেমিক ক্যালেন্ডার তৈরির কাজ করছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে অনেক স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও মানসম্মত শিক্ষার অভাব রয়েছে। তাই কোয়ালিটি এডুকেশনের ওপর জোর দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করতে থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ শেখাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে চাইনিজ ভাষা শিক্ষার জন্য বিভিন্ন সমঝোতা চুক্তি করা হয়েছে। বর্তমানে অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী চীনে বাস্তবমুখী ও কর্মমুখী শিক্ষা গ্রহণ করছে।

দেশের শিক্ষার মান উন্নয়নে সবার আগে শিক্ষকদের দক্ষতা ও মানোন্নয়ন জরুরি বলে জানিয়ে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষার মান উন্নত করতে হলে শিক্ষকদের মানোন্নয়ন ঘটাতে হবে। এ জন্য চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের সেতুবন্ধন আরও সুদৃঢ় হোক। সেই সেতুর অন্যতম প্রধান ভিত্তি হবে শিক্ষা।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষাক্ষেত্রের উন্নয়ন করতেই হবে। এর কোন বিকল্প নেই। এজন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করতে হবে। বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, শিক্ষার মানোন্নয়নে সিলেবাস, কারিকুলাম এবং একাডেমিক ক্যালেন্ডার পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই তাদের দেশের নেতৃত্ব গ্রহণের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষার মান উন্নত করতে হলে শিক্ষকদের মানের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এজন্য আমরা চীনের সঙ্গে যৌথভাবে সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই তাদের দেশের নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য যোগ্য হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের সেতুবন্ধন আরও সুদৃঢ় করে চাই। সেই সেতুর মূল উপকরণ হবে শিক্ষা। ফোরামে শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ ও চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিক সমঝোতা স্মারকে সই করা হয়।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের দেশে ইতিমধ্যেই ৫৭টি পাবলিক ইউনিভার্সিটি রয়েছে। ১১৬টি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রয়েছে। সংখ্যায় কিন্তু আমরা কম নই। কিন্তু আমরা কোয়ালিটি এডুকেশন দিতে ব্যর্থ হচ্ছি।

‎তিনি আরো বলেন, এই দায়িত্ব তোমাদের নয়। এ দায়িত্ব আমাদের। সর্বোপরি আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য, যা প্রয়োজন তা করব, তোমাদেরকে সহযোগিতা করার জন্য। আমরা চাই তোমরা ভালোভাবে লেখাপড়া করবে। আমরা চাই তোমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মে আগামীর বাংলাদেশকে গড়ে তুলবে।

‎চীনের সঙ্গে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষকদের এড্রেস করতে হবে কিভাবে তোমাদেরকে ক্লাসরুমে পড়াশোনা করাবে। সারা বছর বসে থাকব, বছর শেষে শুধু পরীক্ষা দেব এটাই লেখাপড়া নয়।

শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রতিদিনের ক্লাসরুমে সঠিকভাবে লেখাপড়া করাতে হবে এবং মূল্যায়িত করতে হবে তোমাদেরকে তোমরা তাদের সঙ্গে ঠিকমতো এগোতে পারছ কিনা। এই জন্য আমরা চায়নার সঙ্গে টেকনিক্যাল জেনারেল এডুকেশনে আমরা টিচার্স ট্রেনিংয়ে বিশেষ এই প্রোগ্রাম হাতে নিচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা যেহেতু নির্দেশনা পেয়েছি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর, “শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে”। অতএব তোমাদের জন্য আমরা শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন করার জন্য ইতিমধ্যেই কারিকুলাম চেঞ্জ করার ব্যবস্থা আমরা করছি। সিলেবাস পরিবর্তন করার ব্যবস্থা করছি এবং একাডেমিক ইয়ার ক্যালেন্ডার আমরা তৈরি করার চেষ্টা করছি।

‎শিক্ষা ব্যবস্থার তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

‎চীনে শিক্ষাক্ষেত্রের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের যে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রায় ১৬ হাজার এখন চায়নায় রয়েছে তারা সেখানে গিয়ে যে লেখাপড়া শিখছে এটা অত্যন্ত বাস্তবমুখী এবং কর্মমুখী শিক্ষা তারা শিখছে।

চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের ভূয়সী প্রশংসা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছেন।

বাংলাদেশ ও চীনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বহু বছর আগে থেকেই দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে এবং সময়ের সঙ্গে তা আরও গভীর হয়েছে। এই সম্পর্ক ভবিষ্যতেও আরও বিস্তৃত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। বিশাল জনগোষ্ঠীকে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হলে শিক্ষা খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে চীনের শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর মডেল হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি জানান, সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। এর মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, গবেষণা সহযোগিতা এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বাড়বে।

চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে ভবিষ্যতেও নিয়মিত বৈঠক ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শিক্ষা বাজেট বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মানবসম্পদ উন্নয়নকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, বুয়েটের উপাচার্য ড. এ বি এম বদরুজ্জামান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।

আবহাওয়া

জাপান সফর শেষে যা বললেন জামায়াত আমির

পরীক্ষা-জিপিএনির্ভর শিক্ষায় ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব নয় : শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০২:৩৯:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

শুধু পরীক্ষা ও জিপিএনির্ভর শিক্ষা দিয়ে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব নয় উল্লেখ করে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবি। আধুনিক ও বাস্তবমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। যেখানে শিক্ষার্থীরা প্রজেক্টভিত্তিক ও হাতে-কলমে শেখার সুযোগ পাবে।

শনিবার (৯ মে) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে চীন দূতাবাস ও ‘চায়না-বাংলাদেশ এডুকেশন অ্যান্ড কালচারাল এক্সচেঞ্জ এসোসিয়েশন’ আয়োজিত চায়না-বাংলাদেশ এডুকেশন কো-অপারেশন ফোরাম-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সারা বছর শুধু ক্লাস করে শেষে পরীক্ষা দেওয়াই প্রকৃত শিক্ষা নয়। প্রতিদিনের ক্লাসে শিক্ষার্থীদের শেখানো ও মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকতে হবে। এজন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে টিচার্স ট্রেনিং ও টেকনিক্যাল শিক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন কারিকুলাম, সিলেবাস ও একাডেমিক ক্যালেন্ডার তৈরির কাজ করছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে অনেক স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও মানসম্মত শিক্ষার অভাব রয়েছে। তাই কোয়ালিটি এডুকেশনের ওপর জোর দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করতে থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ শেখাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে চাইনিজ ভাষা শিক্ষার জন্য বিভিন্ন সমঝোতা চুক্তি করা হয়েছে। বর্তমানে অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী চীনে বাস্তবমুখী ও কর্মমুখী শিক্ষা গ্রহণ করছে।

দেশের শিক্ষার মান উন্নয়নে সবার আগে শিক্ষকদের দক্ষতা ও মানোন্নয়ন জরুরি বলে জানিয়ে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষার মান উন্নত করতে হলে শিক্ষকদের মানোন্নয়ন ঘটাতে হবে। এ জন্য চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের সেতুবন্ধন আরও সুদৃঢ় হোক। সেই সেতুর অন্যতম প্রধান ভিত্তি হবে শিক্ষা।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষাক্ষেত্রের উন্নয়ন করতেই হবে। এর কোন বিকল্প নেই। এজন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করতে হবে। বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, শিক্ষার মানোন্নয়নে সিলেবাস, কারিকুলাম এবং একাডেমিক ক্যালেন্ডার পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই তাদের দেশের নেতৃত্ব গ্রহণের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষার মান উন্নত করতে হলে শিক্ষকদের মানের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এজন্য আমরা চীনের সঙ্গে যৌথভাবে সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই তাদের দেশের নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য যোগ্য হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের সেতুবন্ধন আরও সুদৃঢ় করে চাই। সেই সেতুর মূল উপকরণ হবে শিক্ষা। ফোরামে শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ ও চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিক সমঝোতা স্মারকে সই করা হয়।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের দেশে ইতিমধ্যেই ৫৭টি পাবলিক ইউনিভার্সিটি রয়েছে। ১১৬টি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রয়েছে। সংখ্যায় কিন্তু আমরা কম নই। কিন্তু আমরা কোয়ালিটি এডুকেশন দিতে ব্যর্থ হচ্ছি।

‎তিনি আরো বলেন, এই দায়িত্ব তোমাদের নয়। এ দায়িত্ব আমাদের। সর্বোপরি আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য, যা প্রয়োজন তা করব, তোমাদেরকে সহযোগিতা করার জন্য। আমরা চাই তোমরা ভালোভাবে লেখাপড়া করবে। আমরা চাই তোমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মে আগামীর বাংলাদেশকে গড়ে তুলবে।

‎চীনের সঙ্গে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষকদের এড্রেস করতে হবে কিভাবে তোমাদেরকে ক্লাসরুমে পড়াশোনা করাবে। সারা বছর বসে থাকব, বছর শেষে শুধু পরীক্ষা দেব এটাই লেখাপড়া নয়।

শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রতিদিনের ক্লাসরুমে সঠিকভাবে লেখাপড়া করাতে হবে এবং মূল্যায়িত করতে হবে তোমাদেরকে তোমরা তাদের সঙ্গে ঠিকমতো এগোতে পারছ কিনা। এই জন্য আমরা চায়নার সঙ্গে টেকনিক্যাল জেনারেল এডুকেশনে আমরা টিচার্স ট্রেনিংয়ে বিশেষ এই প্রোগ্রাম হাতে নিচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা যেহেতু নির্দেশনা পেয়েছি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর, “শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে”। অতএব তোমাদের জন্য আমরা শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন করার জন্য ইতিমধ্যেই কারিকুলাম চেঞ্জ করার ব্যবস্থা আমরা করছি। সিলেবাস পরিবর্তন করার ব্যবস্থা করছি এবং একাডেমিক ইয়ার ক্যালেন্ডার আমরা তৈরি করার চেষ্টা করছি।

‎শিক্ষা ব্যবস্থার তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

‎চীনে শিক্ষাক্ষেত্রের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের যে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রায় ১৬ হাজার এখন চায়নায় রয়েছে তারা সেখানে গিয়ে যে লেখাপড়া শিখছে এটা অত্যন্ত বাস্তবমুখী এবং কর্মমুখী শিক্ষা তারা শিখছে।

চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের ভূয়সী প্রশংসা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছেন।

বাংলাদেশ ও চীনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বহু বছর আগে থেকেই দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে এবং সময়ের সঙ্গে তা আরও গভীর হয়েছে। এই সম্পর্ক ভবিষ্যতেও আরও বিস্তৃত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। বিশাল জনগোষ্ঠীকে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হলে শিক্ষা খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে চীনের শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর মডেল হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি জানান, সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। এর মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, গবেষণা সহযোগিতা এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বাড়বে।

চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে ভবিষ্যতেও নিয়মিত বৈঠক ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শিক্ষা বাজেট বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মানবসম্পদ উন্নয়নকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, বুয়েটের উপাচার্য ড. এ বি এম বদরুজ্জামান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।