চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি :
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি এলাকায় মারছা পরিবহনের দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক নারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের হোটেল ফোর সিজনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- ঝিনাইদহ জেলার সদর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের চাঁন আলীর ছেলে ও বিজিবি সদস্য নাঈমুল আব্দুল্লাহ জিহান (২১), একই গ্রামের মো. আনোয়ারের ছেলে নাঈম (২২), চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার হাবিলার টিপ এলাকার বদিউল আলমের স্ত্রী রেহেনা বেগম (৬০) ও ভোলা জেলার মনির আহমদ (২০)।
আহতরা হলেন- মানিকগঞ্জের মো. আলিম (৪৫), কক্সবাজারের করিম উল্লাহ (৪৬), কাউছার (১৪), জান্নাতুল ফেরদৌস (৩৫), ওয়াসিন (৩০), ফারিহা (১৭), ঝিনাইদহের মো. মাসুম (২৩), দ্বীপ দত্ত (৩৫) ও গাজীপুরের মো. সাইফুল (৪২)।
লোহাগাড়া থানার ওসি মো. আব্দুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মারছা পরিবহনের বাস দুটির একটি চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছিল। আর অন্যটি কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। সংঘর্ষের পর একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা গাছে ধাক্কা খায়। অন্য বাসটি সড়কের অন্য পাশে থাকা একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। এ সময় দোকানটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দোকানে থাকা লোকজনের কোনো ক্ষতি হয়নি। বাস দুটির সামনে অংশ দুমড়েমুচড়ে গেছে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করেন। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।
এদিকে দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে যানবাহন আটকা পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি সালাহ উদ্দীন চৌধুরী জানান, হতাহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি হাইওয়ে থানার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি 






















