Dhaka শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকার গণভোটের রায় নিয়ে প্রতারণা করছে : গোলাম পরওয়ার

নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি : 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার বলেন, সরকার গণভোটের রায় নিয়ে প্রতারণা করছে এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। একইসঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে জনমত দমনের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলেও এখন সেই গণরায়কে অস্বীকার করা হচ্ছে।

শনিবার (৯ মে) সকাল ৯টার দিকে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রবাদ আছে, যে যায় লঙ্কায়, সেই হয় রাবণ। বর্তমানে সেটিই বাস্তবে পরিণত হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে সেই ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। ৭০ ভাগ জনমতকে উপেক্ষা করে তারা প্রতারণায় মেতে উঠেছে।

মিয়া গোলাম পারোয়ার বলেন, তারা শুধু দেশবাসীর সঙ্গেই নয়, নিজেদের সঙ্গেও প্রতারণা করছে। নির্বাচনের আগে তারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, ভোটও দিয়েছে। এখন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বললেও গণভোটের রায় মানছে না। এটি বড় ধরনের প্রতারণা ও জনগণকে বিভ্রান্ত করার শামিল। আমরা সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের বিরোধিতা করি না, বরং উৎসাহ দিই। তবে, উন্নয়নের ক্ষেত্রে আঞ্চলিকতা কিংবা সরকারদলীয় এমপিদের অগ্রাধিকার দেওয়াকে গ্রহণযোগ্য মনে করি না। উন্নয়ন হতে হবে ন্যায্যতা ও সাম্যের ভিত্তিতে।

মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, ‘সরকার শুভঙ্করের ফাঁকি দিয়ে বলছে তারা জুলাই সনদ মানবে, কিন্তু একবারও বলছে না যে তারা গণভোটের রায় মেনে নেবে। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায়কে আলাদা করে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ও প্রতারণা তৈরি করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীসহ সরকারদলীয় নেতারাও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। গণভোটে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব ও ৪৭টি সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়ে জনগণ সমর্থন দিয়েছে। সেখানে কোনো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ ছিল না। অথচ এখন ক্ষমতায় এসে তারা ভিন্ন কথা বলছেন।

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, সংকট তৈরি করেছে বিএনপি, তাই সমাধানও করতে হবে বিএনপিকেই। তারা যদি রাজনৈতিকভাবে ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তার নেতিবাচক ফল তাদের ওপরেই বর্তাবে।

উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে জামায়াতের এই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা যেখানে, সেখানে উন্নয়ন ও বরাদ্দ বেশি হচ্ছে। শুধু সরকারি দলের লোকজনের এলাকায় উন্নয়ন হবে আর অন্য এলাকা বঞ্চিত থাকবে এটি কোনোভাবেই ন্যায্যতা নয়।

তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচিত প্রতিনিধিদের এলাকায় একযোগে সিটি করপোরেশন, নতুন উপজেলা, বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অথচ জাতীয় ও আঞ্চলিক গুরুত্ব বিবেচনায় এসব উন্নয়ন ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় হওয়া উচিত। সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করাই সবচেয়ে যৌক্তিক। এটি উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বৃহত্তর রংপুর দিনাজপুর অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি এটি।

তিনি অবিলম্বে সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার দাবি জানান। পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত বিভিন্ন প্রস্তাব বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় সৈয়দপুর বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক করা সবচেয়ে যৌক্তিক। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এতে উত্তরাঞ্চলের আর্থ সামাজিক ক্ষেত্রে প্রকৃত উন্নয়ন সাধিত হবে। যা অবহেলিত বৃহত্তর রংপুর দিনাজপুর এলাকাকে সমৃদ্ধ করবে। এটাই এ অঞ্চলের জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি এবং অধিকারও বটে।

মিয়া গোলাম পারোয়ার বলেন, এমন জনদাবিগুলো উপেক্ষা করা কখনোই কল্যাণকর নয়। বিএনপি যেভাবে সব জনস্বার্থ নিয়ে ব্যাকপাস খেলছে তাতে উল্টো গোল খাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। যা বিএনপিই শুধু নয়, দেশের জন্যও ক্ষতিকর হিসেবে দেখা দিবে।

তিনি বলেন, তারা (বিএনপি) ফ্যাসিস্ট আমলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতা নিয়ে আন্দোলন করলেও এখন সেই আত্মঘাতী ধারায় অনেক গণমাধ্যমকে কুক্ষিগত করে বেপরোয়াভাবে চাকুরিচ্যুত করাসহ সংবাদ কর্মীদের নির্যাতন করা হচ্ছে। বিশেষ করে যারা জনগণের পক্ষ নিয়ে সরকারের ভুল কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কাজ করছেন তাদেরকে টার্গেট করে হেনস্তা করা হচ্ছে।

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় মুক্ত গণমাধ্যম ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু এখন যেসব মিডিয়া সরকারের অপকর্মের সমালোচনা করছে, সেগুলো বন্ধ করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে এবং কণ্ঠরোধের চেষ্টা চলছে।

এ সময় নীলফামারী ৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম এবং জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মনিরুজ্জামান জুয়েল, সৈয়দপুর উপজেলা আমির শফিকুল ইসলামসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

আবহাওয়া

পরীক্ষা-জিপিএনির্ভর শিক্ষায় ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব নয় : শিক্ষামন্ত্রী

সরকার গণভোটের রায় নিয়ে প্রতারণা করছে : গোলাম পরওয়ার

প্রকাশের সময় : ০১:৪৯:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি : 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার বলেন, সরকার গণভোটের রায় নিয়ে প্রতারণা করছে এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। একইসঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে জনমত দমনের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলেও এখন সেই গণরায়কে অস্বীকার করা হচ্ছে।

শনিবার (৯ মে) সকাল ৯টার দিকে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রবাদ আছে, যে যায় লঙ্কায়, সেই হয় রাবণ। বর্তমানে সেটিই বাস্তবে পরিণত হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে সেই ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। ৭০ ভাগ জনমতকে উপেক্ষা করে তারা প্রতারণায় মেতে উঠেছে।

মিয়া গোলাম পারোয়ার বলেন, তারা শুধু দেশবাসীর সঙ্গেই নয়, নিজেদের সঙ্গেও প্রতারণা করছে। নির্বাচনের আগে তারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, ভোটও দিয়েছে। এখন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বললেও গণভোটের রায় মানছে না। এটি বড় ধরনের প্রতারণা ও জনগণকে বিভ্রান্ত করার শামিল। আমরা সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের বিরোধিতা করি না, বরং উৎসাহ দিই। তবে, উন্নয়নের ক্ষেত্রে আঞ্চলিকতা কিংবা সরকারদলীয় এমপিদের অগ্রাধিকার দেওয়াকে গ্রহণযোগ্য মনে করি না। উন্নয়ন হতে হবে ন্যায্যতা ও সাম্যের ভিত্তিতে।

মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, ‘সরকার শুভঙ্করের ফাঁকি দিয়ে বলছে তারা জুলাই সনদ মানবে, কিন্তু একবারও বলছে না যে তারা গণভোটের রায় মেনে নেবে। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায়কে আলাদা করে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ও প্রতারণা তৈরি করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীসহ সরকারদলীয় নেতারাও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। গণভোটে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব ও ৪৭টি সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়ে জনগণ সমর্থন দিয়েছে। সেখানে কোনো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ ছিল না। অথচ এখন ক্ষমতায় এসে তারা ভিন্ন কথা বলছেন।

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, সংকট তৈরি করেছে বিএনপি, তাই সমাধানও করতে হবে বিএনপিকেই। তারা যদি রাজনৈতিকভাবে ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তার নেতিবাচক ফল তাদের ওপরেই বর্তাবে।

উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে জামায়াতের এই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা যেখানে, সেখানে উন্নয়ন ও বরাদ্দ বেশি হচ্ছে। শুধু সরকারি দলের লোকজনের এলাকায় উন্নয়ন হবে আর অন্য এলাকা বঞ্চিত থাকবে এটি কোনোভাবেই ন্যায্যতা নয়।

তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচিত প্রতিনিধিদের এলাকায় একযোগে সিটি করপোরেশন, নতুন উপজেলা, বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অথচ জাতীয় ও আঞ্চলিক গুরুত্ব বিবেচনায় এসব উন্নয়ন ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় হওয়া উচিত। সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করাই সবচেয়ে যৌক্তিক। এটি উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বৃহত্তর রংপুর দিনাজপুর অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি এটি।

তিনি অবিলম্বে সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার দাবি জানান। পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত বিভিন্ন প্রস্তাব বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় সৈয়দপুর বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক করা সবচেয়ে যৌক্তিক। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এতে উত্তরাঞ্চলের আর্থ সামাজিক ক্ষেত্রে প্রকৃত উন্নয়ন সাধিত হবে। যা অবহেলিত বৃহত্তর রংপুর দিনাজপুর এলাকাকে সমৃদ্ধ করবে। এটাই এ অঞ্চলের জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি এবং অধিকারও বটে।

মিয়া গোলাম পারোয়ার বলেন, এমন জনদাবিগুলো উপেক্ষা করা কখনোই কল্যাণকর নয়। বিএনপি যেভাবে সব জনস্বার্থ নিয়ে ব্যাকপাস খেলছে তাতে উল্টো গোল খাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। যা বিএনপিই শুধু নয়, দেশের জন্যও ক্ষতিকর হিসেবে দেখা দিবে।

তিনি বলেন, তারা (বিএনপি) ফ্যাসিস্ট আমলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতা নিয়ে আন্দোলন করলেও এখন সেই আত্মঘাতী ধারায় অনেক গণমাধ্যমকে কুক্ষিগত করে বেপরোয়াভাবে চাকুরিচ্যুত করাসহ সংবাদ কর্মীদের নির্যাতন করা হচ্ছে। বিশেষ করে যারা জনগণের পক্ষ নিয়ে সরকারের ভুল কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কাজ করছেন তাদেরকে টার্গেট করে হেনস্তা করা হচ্ছে।

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় মুক্ত গণমাধ্যম ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু এখন যেসব মিডিয়া সরকারের অপকর্মের সমালোচনা করছে, সেগুলো বন্ধ করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে এবং কণ্ঠরোধের চেষ্টা চলছে।

এ সময় নীলফামারী ৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম এবং জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মনিরুজ্জামান জুয়েল, সৈয়দপুর উপজেলা আমির শফিকুল ইসলামসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।