ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৮ মে) গভীর রাতে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে এ গুলির ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- মোরছালিন গোপীনাথপুর ইউনিয়নেন ধজনগরের বাতেনবাড়ি গ্রামের হেবজু মিয়ার ছেলে। তিনি গোপীনাথপুর শাহআলম ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আরেক নিহত নবীর হোসেনের (৪০) বাড়ি মধুপুর গ্রামে। দু’জনের মরদেহ আগরতলার জিবি হাসপাতালে রয়েছে বলে পারিবারিক সূত্র জানায়।
নিহতরা চোরাকারবারের সাথে জড়িত বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নিহত মোরছালিনের পরিবারের সদস্যরা জানান, রাতে স্থানীয় কয়েকজন এসে মোরছালিনকে বাড়ি থেকে ডেকে সীমান্তে নিয়ে যায়। সেখানে যাওয়ার পর সীমান্তের ভারত অংশে টহলরত বিএসএফ সদস্যরা তাদেরকে লক্ষ্য করে গুলি করে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় মোরছালিন। পরে তার মরদেহ ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায় বিএসএফ সদস্যরা।
বিজিবির ৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস. এম. শরিফুল ইসলাম জানান, গতকাল রাতে আনুমানিক ১৫ জন বাংলাদেশি চোরাকারবারি ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহায়তায় চোরাচালানের উদ্দেশ্যে ধজনগর সীমান্ত দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে যায়। পরবর্তীতে চোরাচালানি মালামাল নিয়ে ফেরার সময় বিএসএফের ৪৯ ব্যাটালিয়নের পাথারিয়াদ্বার ক্যাম্পের টহলরত সদস্যরা তাদের বাধা দিলে চোরাকারবারিরা বিএসএফ সদস্যদের উপর চড়াও হয়। এ সময় বিএসএফ সদস্যর সাথে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে বিএসএফ সদস্য চোরাকারবারিদের উপর গুলি চালায়। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ বাংলাদেশি চোরাকারবারি মো. মোরছালিন (২২) ও আরেক আহত চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভারতের হাসপাতালে মারা যায়।
তিনি আরও বলেন, বিএসএফ কমান্ডেন্টের সাথে যোগাযোগ করে নিহতদের মরদেহ বাংলাদেশে ফেরত আনার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় বিএসএফকে প্রটেস্ট নোট পাঠানোসহ পতাকা বৈঠকের প্রক্রিয়া চলছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি 



















