নিজস্ব প্রতিবেদক :
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো আদু ভাই ছড়ি ঘুরাক এটা দেখতে চাই না বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধা জাতীয় সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে দা-কিরিচ-কুড়াল দেখতে চাই না। খাতা এবং কলম দেখতে চাই। এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। যদি বন্ধ না করেন, মনে রাখবেন, ‘জুলাই’ শুধু ‘২৪’ সালে ছিল না, ‘জুলাই’ প্রত্যেক বছরে আছে।
শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি প্রতিটি বিষয়ে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের রাস্তা ধরে হাঁটা শুরু করেছে। তারা হাজার চেষ্টা করলেও, ওই আওয়ামী লীগ হতে পারবে না, দুর্বল আওয়ামী লীগ হতে পারবে।
তিনি বলেন, দুইটা ভোট হয়েছে। একটা ভোট তাদের পক্ষে গেছে, সেটি তারা মেনে নিয়েছে। আরেকটা ভোটে ৭০ শতাংশ জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে, সেটি তারা মানেনি। এটা লজ্জার। ৭০ শতাংশ ভোটের রায় যেদিন বাস্তবায়িত হবে, সেদিন দেশ থেকে সত্যিকার অর্থে ফ্যাসিবাদ বিদায় নেবে।
বিএনপি পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের রাস্তা ধরে হাঁটা শুরু করেছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিএনপির সঙ্গে আমরা একসময় একসঙ্গে মজলুম ছিলাম। আমি বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই—আপনারা হাজার চেষ্টা করলেও ওই আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না; বড়জোর দুর্বল আওয়ামী লীগ হতে পারবেন। যে আওয়ামী লীগ একসময় পুরো জাতিকে নিয়ে কিংবা বিরোধী দলকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করত, আজ তাদের কী দশা? আপনারা ঠিক একই কাজ শুরু করেছেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, আওয়ামী লীগ তাদের পোষ্য লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরে কর্তৃত্ব কায়েম করেছিল। কিন্তু আজ তাদের সেই দুর্দিনে কোনো লাঠিয়াল পাশে এসে দাঁড়ায়নি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রের মৌলিক যে সমস্ত জায়গায় পরিবর্তন দরকার, সুশাসন কায়েমের জন্য, সত্যিকারের স্বাধীনতার স্বাদ জনগণকে দেওয়ার জন্য, প্রত্যেকটি বিষয়ে বিএনপি বিরোধিতা করে চলেছে। এটি জাতির সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা।
তিনি বলেন, বিএনপি তাদের ইশতেহারে দেওয়া ৩১ দফা কর্মসূচিরই বিরোধিতা করছে। আমার মনে হয়, তারা যে বিরোধিতা করছে এই জ্ঞানটাও বোধহয় তারা হারিয়ে ফেলেছে।
জামায়াতে আমির বলেন, ভুলে যাবেন না, এই জুলাই না হলে, এই মায়েদের, এই বাবাদের, এই ভাইদের, এই বোনদের সন্তান, স্বামী, ভাই, বোন জীবন না দিলে আজকে আপনারা ক্ষমতা এনজয় করতে পারতেন না। ক্ষমতায় আসার আগেই আপনারা ভুলে গিয়েছিলেন; শহীদ পরিবার যখন বুকে কষ্ট নিয়ে কান্নাকাটি করছিল, তখন তাদের কাছে আপনাদের ছুটে যাওয়ার সময় ছিল না। আপনারা ৫ আগস্টের পর ৭ আগস্ট পার্টি অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন আমাদের নির্বাচন দাও, আমরা ক্ষমতায় বসতে চাই। শহীদ পরিবারের দুঃখ আপনাদের অন্তরকে স্পর্শ করেনি। আহত বন্ধুদের নিয়ে আপনাদের কোনো কর্মসূচি, ভাবনা জাতি দেখেনি। কিন্তু এই বিপ্লবের বেনিফিশিয়ারি আপনারা।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা বিদেশে ছিলেন, স্বদেশে আসার সুযোগ পেয়েছেন। এই বিপ্লব না হলে আপনারা বোধহয় কল্পনাও করতেন না দেশে ফিরে আসার। আমার জেলের সহকর্মী পার্টনার আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা জেলে ছিলেন, একসঙ্গেই ছিলাম। তারা হতাশা ব্যক্ত করে বলতেন ৪১-এর আগে হাসিনা এবং আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরানো সম্ভব নয়। ২৪-এর অভ্যুত্থানের পর যখন বঙ্গভবনে শপথ নিলেন উপদেষ্টারা বিএনপির বাংলাদেশে উপস্থিত সর্বোচ্চ পর্যায়ের একজন নেতা আর আমি পাশাপাশি ছিলাম। উনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, এটা কী হলো? আমি কিছু না বলে আসমানের দিকে আমার এই আঙুলটা উঠালাম। তিনি বললেন আসলেই এটা খোদার দান। এটাই মিরাকল। সেই খোদার দান ভুলে গেলেন। এখন কেউ কেউ দাবি করে অমুক আন্দোলনের মাস্টার মাইন্ড। অমুকের নেতৃত্বে আন্দোলন সফল হয়েছে। এগুলো সব ভুয়া।
তিনি বলেন, আমরা কারো ন্যায্য অবদানকে কখনো অস্বীকার করি না। আন্দোলন আমরা সবাই করেছি। কিন্তু আমরা তীরে ফিরতে পারি নাই। আমাদের তরি সমুদ্রে ভাসমান ছিল। জুলাই আন্দোলনের নায়কেরা এই তরি নিয়ে ঘাটে ভিড়েছে। জাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছে। তাদের সম্মান করতে শিখুন, ভালোবাসতে শিখুন। তাদের নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবেন না। আপামর ছাত্র সমাজ জীবন বাজি রেখে তখন ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। শ্রমিকরা পাশে দাঁড়িয়েছিল। মায়েরা রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। স্ত্রী তার স্বামীকে পানি এগিয়ে দিয়েছিল। সন্তান কোলে নিয়ে মা রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। এই দিনগুলো ভুলে যাবেন না।
জামায়াতে আমির আরও বলেন, সংসদে আমরা প্রথম দিনেই দাবি তুলেছি সংস্কার পরিষদ গঠনের। আমরা শপথ নিয়েছি, তারা শপথ নেন নাই। জাতির সঙ্গে দেওয়া ওয়াদা ভঙ্গ করে তারা প্রতারণা করেছেন। এরপরে যখন জাতিকে প্রতারিত করা হয়েছে, আমরা নোটিশ দিয়ে আলোচনার ব্যবস্থা করেছি। তারা তার বিরোধিতা করেছে। যে আইনগুলো সংশোধন না হলে অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন না হলে, ফ্যাসিবাদী শাসনের পরিবর্তন হবে না। সবগুলো আগের স্বৈরাচারী সরকারের মতো রাখার পক্ষে তারা অবস্থান নিয়েছে। আমরা বিএনপিকে পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি, সম্প্রতি কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, এমনকি এখান থেকে মাত্র কয়েক গজ দূরে মানুষের আইনের আশ্রয় থানার ভেতরে ঢুকে দুঃখজনকভাবে ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপরে হামলা করা হয়েছে। বার্তা পরিষ্কার, যেদিন তারা গণভোটের রায় অস্বীকার করেছেন, আমি বলেছিলাম বিএনপি আজ থেকে ফ্যাসিবাদের পথে যাত্রা শুরু করল। এটা ফ্যাসিবাদ।
তিনি বলেন, এই বাংলাদেশ আমরা চাই না। আমরা পরিবর্তনের বাংলাদেশ চাই। যেই বাংলাদেশে শিশু যখন ঘর থেকে বের হবে, কিশোর যখন বের হবে, যুবক যুবতীরা বের হবে, আমার মা বোনেরা বের হবে, তখন কারো বুক কাঁপবে না। নিরাপত্তার সঙ্গে বের হবে। আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমাদের সন্তানদের হাতে দা কুড়াল দেখতে চাই না। আমরা খাতা-কলম দেখতে চাই। কোনো আদুভাই, দাদুভাই, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে আমাদের সন্তানদের পথ আটকাবে, আমরা এটা দেখতে চাই না। এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। যদি বন্ধ না করেন, মনে রাখবেন জুলাই শুধু ২৪ সালে ছিল না। জুলাই প্রত্যেক বছরে আসে। সে জুলাই আবার ফিরে আসবে। তখন ফাইনালি ফ্যাসিবাদের কবর রচনা হবে। শুভ বুদ্ধির উদয় হোক, জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখান। ৭০ ভাগ মানুষের রায় মেনে নিন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন যদি না করেন, আমাদের লড়াই সংসদের ভেতরেও চলবে, খোলা ময়দানেও চলবে ইনশাআল্লাহ।
জামায়াত আমির বলেন, মহান জাতীয় সংসদে সরকারি দল মুখে ঠিকই জুলাইয়ের কথা বলেন, শহীদ হাদির কথাও বলে; কিন্তু কার্যত আমরা সরকারি দলের কাছ থেকে তার উল্টোটা দেখতে পাই। তারা দুটি ভোটের একটা ৫১% মানেন-যা তাদের নিজেদের স্বার্থের অনুকূলে, কিন্তু আরেকটি গণভোটের ৭০% মানেন না- যা শাসকগোষ্ঠীকে স্বৈরতন্ত্র হওয়া থেকে রক্ষা করবে, জাতিকে বৈষম্যমুক্ত করবে, সুশাসন কায়েম করবে এবং সত্যিকারের স্বাধীনতার স্বাদ জনগণকে দেওয়ার জন্য। তাদের এই দ্বিচারিতা জাতির জন্য লজ্জার, দুঃখের। তিনি বলেন, যেদিন ৭০ শতাংশ ভোটের রায় মানবে, সেদিন বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সেদিন আপামর ছাত্রসমাজ রাস্তায় নেমে এসেছিল। সবাই মাস্টারমাইন্ড। প্রত্যেক ব্যক্তি ও পরিবারের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা আছে। আমরা কি পারছি আর পারিনি তার জবাবদিহিতিা আছে।
তিনি আরোও বলেন, যে আইন বাস্তবায়ন হলে, অধ্যাদেশ পাস করলে রাষ্ট্র সংস্কার হবে- সেগুলো বিএনপি বাতিল করে দিচ্ছে। তারা গণভোটের রায় অস্বীকার করার মধ্যদিয়ে ফ্যাসিবাদের পথে যাত্রা শুরু করেছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এমপি মাসুম মোস্তফার উপর হামলা করা হয়েছে। শাহবাগ থানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর হামলা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসীদের ক্রিস প্রদর্শনী এমন বাংলাদেশ জুলাইযোদ্ধারা চায়নি। এমন বাংলাদেশ আমরা চাই না। আমরা পরিবর্তনের বাংলাদেশ চাই। মা বোনেরা নিরাপত্তার সাথে বের হবে এবং কাজ শেষে নিরাত্তার সাথে ফিরবে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জুলাই আবার ফিরে আসবে। তখন চূড়ান্তভাবে ফ্যাসিবাদ বিদায় হবে। সেই লড়াইয়ে জনগণের বিজয় হবে। আমরা সামনের সারিতে থেকে যুদ্ধ চালিয়ে যাবো। জনতার বিজয় হবে। আমরা আশাবাদী এ বাংলাদেশ পাল্টাবে। আমাদের এই যুদ্ধ সংসদে ও রাজপথে চলমান থাকবে। আমরা দেশবাসীকে মাঠে চাই। ব্যক্তিগত কোনো দাবি দাওয়া আমাদের নেই। সব দাবি দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল দেশবাসী। ফলে সংস্কার কমিশন গঠিত হয়। কিন্তু প্রতিটি পদক্ষেপে বাধা দিয়েছে বিএনপি। সবশেষে গণভোটে রাজি হলেও নির্বাচনের পর পরই গণভোটের রায়কে অস্বীকার করছে। প্রকৃতপক্ষে বিএনপি তার অস্তিত্বকে অস্বীকার করছে। মাত্র দুই মাস বয়সে আর কোনো সরকার এত অজনপ্রিয় হয়নি, যা হয়েছে বিএনপি সরকার। আমরা জুলাইযোদ্ধাদের সম্মান আদায়ে রাজপথ ও সংসদে আছি। আমরা জনতার দাবি আদায় করে ছাড়বো।বাংলাদেশ সংবাদ
এলডিপির চেয়াম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় দেশের প্রকৃত অবস্থা তারেক রহমান জানতেন না। তাকে যা বলা হচ্ছে, তাই শুনছেন। জনগণ কৃষক কার্ড চায় না, ফ্যামিলি কার্ড চায় না। তিনি বলেন, সামনে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা রয়েছে, অর্থনীতিকে সামাল দেয়া যাবে না। যার প্রভাব জনগণের ওপর পড়বে। চাঁদাবাজিতে লিপ্ত বিএনপির লোকেরা। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, আপনাকে ঘিরে রেখেছে, বেষ্টনী থেকে বের হন। বিরোধীদলীয় নেতার সাথে বসে জাতিকে মুক্তি দিতে সেই পলিসি নির্ধারণেরও পরামর্শ দেন তিনি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, জনগণের ৭০% গণভোটে ‘হ্যাঁ’ তে রায় দিয়েছে। কিন্তু তলে তলে বিএনপি না এর পক্ষে ক্যাম্পেইন করেছে। বিএনপি মোনাফিকি করে দ্বিচারিতা করে একবার পার পেয়েছে। ভবিষ্যতে জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে তাদের। সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশনের মাধ্যমে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেন, জুলাই আন্দোলন হয়েছিল নতুন বাংলাদেশ গড়তে, আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত করতে। আজ সেই আন্দোলনকে অস্বীকার করা হচ্ছে। আজকে দুমাসের মাথায় রাজপথে নামতে হচ্ছে। এটি কারো জন্য সুখকর হবে না। জুলাইয়ে দেশ আবার স্বাধীন হয়েছে। আজকে আবার এক ব্যক্তির শাসনের দিকে নিতে চায় বিএনপি, কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ তা মেনে নেবে না। সরকার যদি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে, তাহলে ১১ দল আন্দোলনের ডাক দিলে প্রথম কাতারে থেকে প্রথম শহীদ হওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। আমরা গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য জনগণকে সাথে নিয়ে আবার দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবো। যেসব সাংবিধানিক কাঠামো ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার জন্য দায়ী, তার প্রত্যেকটি সংস্কারের জন্য যে প্রস্তাবনা, তাতে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে বিএনপি।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, বর্তমান সরকার মানবাধিকার কমিশন, গুম সংক্রান্ত কমিশন, পুলিশ সংস্কার কমিশন, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় অধ্যাদেশ ও গণভোট মানেন না। গায়ের জোরে তারা এসব বাতিল করে দিয়েছে। বাংলাদেশে কোনো ফ্যাসিবাদী সরকার টিকতে পারেনি। জুলাই শহীদ পরিবার, জুলাই আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী ও জুলাইযোদ্ধারা আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণভোটের পর জুলাই সনদ বাস্তবায়ের দাবি নিয়ে আবার সমাবেশ করতে হবে, তা জুলাইযোদ্ধারা চিন্তা করেনি। সংসদের প্রথম অধিবেশনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। জুলাই শহীদ পরিবার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বক্তব্য শুনতে চায় না, বরং সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন কবে ডাকবেন- তা শুনতে চায়। আমরা ১১ দল ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করে জুলাই সনদের বাস্তবায়নের দাবি আদায় করেই ছাড়বো।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, যারা ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসন করছেন তাদের পরিণতি পলাতক আওয়ামী লীগের মতোই হবে। সরকার যে মসনদে বসে আছে- সেই মসনদ জুলাইযোদ্ধাদের রক্তের মসনদ। জুলাইযোদ্ধাদের সাথে গাদ্দারি করে তাদের পা ভাঙতে আসলে আপনাদের পা ভেঙে যাবে। জুলাইযোদ্ধারা আজ শাহবাগে একত্রিত হয়ে যে আওয়াজ তুলেছে, সেই আওয়াজকে বোঝার চেষ্টা করুন। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাগপা সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, বিডিপির চেয়ারম্যান অ্য্ডাভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মুখলেসুর রহমান কাসেমি, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়াম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি অ্যাডভোকেট জসিম, জুলাইয়ের শিশু শহীদ জাবির ইবরাহিমের মা রোকেয়া বেগম, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম ও জাকসুর জিএস মাজহরুল ইসলাম।
সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, জামায়াতের নায়েবে আমিরবৃন্দ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলবৃন্দ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যবৃন্দ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্যবৃন্দ, ঢাকা মহানগরী জামায়াতের নেতৃবৃন্দ, জামায়াতের মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর দায়িত্বশীলবৃন্দ, জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলের মাননীয় এমপিবৃন্দ এবং ডাকসু, জাকসু, চাকসু, জকসু, রাকসু নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে সারা দেশ থেকে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা যোগ দেন। এছাড়াও জুলাই আন্দোলনে আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী দুই সহস্রাধিক জুলাইযোদ্ধাসহ কয়েক হাজার জুলাইযোদ্ধা সমাবেশে যোগ দেন।
সমাবেশের উদ্বোধনীতে বক্তব্য দেন জুলাইযোদ্ধা কামরুল হাসান। সমাবেশে জুলাই শহীদ পরিবার, আহত পঙ্গুত্ববরণকারী এবং জুলাইযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন, জুলাই শহীদ যুবায়ের খানের পিতা অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম খান, শহীদ আনাস ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম খান, হাত হারানো জুলাইযোদ্ধা তৌহিদ ফারাজী, জুলাই শহীদের পিতা জাকির হোসেন, শহীদের পিতা শেখ জামাল হোসাইন, শহীদের পিতা গাজিউর রহমান ও হাত হারানো জুলাইযোদ্ধা আতিউর ইসলাম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ইয়াছিন আরাফাত।বাংলাদেশ সংবাদ
সকাল ১০টায় ক্বারী এনায়েত উল্লাহ সাইফি পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। কোরআন তেলয়াওয়াতের অনুবাদ করেন শরীফ বায়জীদ মাহমুদ। ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী মশিউর রহমান।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























