বর্জ্য অপসারণ এখন ডিএসসিসির প্রধান অগ্রাধিকার : ডিএসসিসি প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, বর্তমানে বর্জ্য অপসারণই সংস্থাটির এক নম্বর অগ্রাধিকার।

মঙ্গলবার (১৭ জুন) নগর ভবন অডিটোরিয়ামে ঈদুল আজহা উপলক্ষে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ঈদ অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির ৪ হাজার ৯৫০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সিটি করপোরেশনের সবচেয়ে কঠিন ও কষ্টসাধ্য কাজটি করেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। নাগরিকদের সচেতনতা এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে আগামী দুই বছরের মধ্যে ঢাকার চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব।

তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদেরও জনসচেতনতা তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

বাসাবাড়ির বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে মো. আবদুস সালাম বলেন, ওয়ার্ডভিত্তিক টেন্ডারের মাধ্যমে পরিচালিত বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও নির্ধারিত সময়ে ময়লা তোলা হচ্ছে না, আবার কোথাও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। আগামী বছর বর্তমান ব্যবস্থা বহাল থাকবে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। জনগণ কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেলে প্রয়োজনে নতুন ব্যবস্থা চালু করা হবে।

এবারের ঈদুল আজহায় স্বল্প সময়ে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রশাসক বলেন, দ্রুত বর্জ্য অপসারণের ফলে এবার নগরবাসী দুর্গন্ধ থেকে রেহাই পেয়েছে, যা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে প্রশাসক জানান, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি ইতোমধ্যে এক হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ‘হেলথ কার্ড’ দেওয়া হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে ছয় হাজারে উন্নীত করা হবে। এছাড়া, আর্থিক সংকটের কারণে কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সন্তান যেন উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যে সিটি করপোরেশন সহযোগিতা করবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।

তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ে তোলা শুধু সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়, এটি নাগরিকদেরও দায়িত্ব। সবাই মিলে কাজ করলে রাজধানীকে আরও পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদারসহ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে একদিনে ডিএমপির ২১১৪ মামলা

বর্জ্য অপসারণ এখন ডিএসসিসির প্রধান অগ্রাধিকার : ডিএসসিসি প্রশাসক

প্রকাশের সময় : ১০:১১:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, বর্তমানে বর্জ্য অপসারণই সংস্থাটির এক নম্বর অগ্রাধিকার।

মঙ্গলবার (১৭ জুন) নগর ভবন অডিটোরিয়ামে ঈদুল আজহা উপলক্ষে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ঈদ অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির ৪ হাজার ৯৫০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সিটি করপোরেশনের সবচেয়ে কঠিন ও কষ্টসাধ্য কাজটি করেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। নাগরিকদের সচেতনতা এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে আগামী দুই বছরের মধ্যে ঢাকার চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব।

তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদেরও জনসচেতনতা তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

বাসাবাড়ির বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে মো. আবদুস সালাম বলেন, ওয়ার্ডভিত্তিক টেন্ডারের মাধ্যমে পরিচালিত বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও নির্ধারিত সময়ে ময়লা তোলা হচ্ছে না, আবার কোথাও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। আগামী বছর বর্তমান ব্যবস্থা বহাল থাকবে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। জনগণ কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেলে প্রয়োজনে নতুন ব্যবস্থা চালু করা হবে।

এবারের ঈদুল আজহায় স্বল্প সময়ে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রশাসক বলেন, দ্রুত বর্জ্য অপসারণের ফলে এবার নগরবাসী দুর্গন্ধ থেকে রেহাই পেয়েছে, যা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে প্রশাসক জানান, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি ইতোমধ্যে এক হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ‘হেলথ কার্ড’ দেওয়া হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে ছয় হাজারে উন্নীত করা হবে। এছাড়া, আর্থিক সংকটের কারণে কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সন্তান যেন উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যে সিটি করপোরেশন সহযোগিতা করবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।

তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ে তোলা শুধু সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়, এটি নাগরিকদেরও দায়িত্ব। সবাই মিলে কাজ করলে রাজধানীকে আরও পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদারসহ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।