ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ আরো ৫০ মোড়ে বসছে এআই ট্রাফিক সিগন্যাল

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৮:০৬:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৮০ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এআই প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। প্রাথমিকভাবে ডিএসসিসির আওতাধীন আটটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ঢাকা মহানগরের আরো ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এ ধরনের আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) শাহবাগ মোড়ে আধুনিক এ সিগন্যাল ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় নতুন এই সিগন্যাল ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে যানবাহন চলাচলকে আরও নিয়মতান্ত্রিক ও গতিশীল করা।

ডিএসসিসির আওতাধীন প্রাথমিকভাবে আটটি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনকে এ ব্যবস্থার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো- বাংলামোটর, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, মিন্টো রোড, কাকরাইল সার্কেল, মৎস্য ভবন, কদম চত্বর, শিক্ষা ভবন ও শাহবাগ মোড়। এর মধ্যে শাহবাগ মোড়ে আজ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করা হলো।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, আধুনিক এই সিগন্যাল ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হলে মোড়গুলোতে ট্রাফিক পুলিশকে আগের মতো সার্বক্ষণিক দাঁড়িয়ে হাতে সংকেত দিতে হবে না। এতে একদিকে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে, অন্যদিকে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাস্তায় দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করা ট্রাফিক পুলিশের পেশাগত কষ্টও কমবে।

তিনি জানান, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকা মহানগরের আরও ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এ ধরনের আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসসিসির আওতাধীন আরও ২২টি মোড়ে এই সিগন্যাল চালু করা হবে।

তবে শুধু প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করলেই যানজট পুরোপুরি নিরসন সম্ভব নয় উল্লেখ করে চালক ও পথচারীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন ডিএসসিসি প্রশাসক।

আবদুস সালাম বলেন, সিগন্যাল অমান্য, নির্দিষ্ট লেন ব্যবহার না করা, জেব্রা ক্রসিংয়ে নিয়ম না মানা এবং মোড়ে অবৈধভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি মোড় এলাকায় ভাসমান দোকান বা অন্য কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা রাখা যাবে না।

শাহবাগে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করল ডিএসসিসি

ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করা হবে। বারবার কেউ আইন অমান্য করলে তার ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল এবং গাড়ির কাগজপত্র জব্দের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকা মহানগরীর তীব্র যানজট মানুষের মূল্যবান কর্মঘণ্টা কেড়ে নিচ্ছে। যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আজ ঢাকা মহানগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নে আমাদের একটি অত্যন্ত ঐতিহাসিক ও আনন্দের দিন। এই নগরের অন্যতম প্রধান সমস্যা তীব্র যানজট। এই যানজট নিরসনে আমরা একটি বিশেষ পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করেছি।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকা মহানগরীর ২০টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে প্রাথমিকভাবে পাইলট ভিত্তিতে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ উদ্যোগে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সরাসরি কারিগরি সহায়তায় এ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।

নগরবাসী ও চালকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সড়কে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং বন্ধ করতে হবে। চালক ও পথচারীদের সিগন্যাল ও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। ট্রাফিক সতর্কীকরণ সাইন, রোড মার্কিং, জেব্রা ক্রসিং ও নির্দিষ্ট লেন অনুসরণ করতে হবে। ইন্টারসেকশনে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা ভাসমান দোকান রাখা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, নতুন স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হলে মোড়গুলোতে ট্রাফিক পুলিশকে আগের মতো সার্বক্ষণিকভাবে দাঁড়িয়ে হাতে সংকেত দিতে হবে না। এতে নগরবাসীর কর্মঘণ্টা সাশ্রয়ের পাশাপাশি রোদ-বৃষ্টিতে সড়কে দায়িত্ব পালন করা ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের কষ্টও কমবে।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, এই আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকারিতা ধরে রাখতে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে। চালক ও পথচারীসহ সব নগরবাসী দায়িত্বশীল আচরণ করলে ঢাকা মহানগরীকে আরও গতিশীল ও আধুনিক স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মোয়াজ্জেম হোসেন ও প্রফেসর ড. মুহাম্মদ হাদিউজ্জামান, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোহাম্মদ আনিসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

নেত্রকোনায় পিকআপভ্যান-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৪

ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ আরো ৫০ মোড়ে বসছে এআই ট্রাফিক সিগন্যাল

প্রকাশের সময় : ০৮:০৬:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এআই প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। প্রাথমিকভাবে ডিএসসিসির আওতাধীন আটটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ঢাকা মহানগরের আরো ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এ ধরনের আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) শাহবাগ মোড়ে আধুনিক এ সিগন্যাল ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় নতুন এই সিগন্যাল ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে যানবাহন চলাচলকে আরও নিয়মতান্ত্রিক ও গতিশীল করা।

ডিএসসিসির আওতাধীন প্রাথমিকভাবে আটটি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনকে এ ব্যবস্থার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো- বাংলামোটর, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, মিন্টো রোড, কাকরাইল সার্কেল, মৎস্য ভবন, কদম চত্বর, শিক্ষা ভবন ও শাহবাগ মোড়। এর মধ্যে শাহবাগ মোড়ে আজ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করা হলো।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, আধুনিক এই সিগন্যাল ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হলে মোড়গুলোতে ট্রাফিক পুলিশকে আগের মতো সার্বক্ষণিক দাঁড়িয়ে হাতে সংকেত দিতে হবে না। এতে একদিকে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে, অন্যদিকে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাস্তায় দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করা ট্রাফিক পুলিশের পেশাগত কষ্টও কমবে।

তিনি জানান, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকা মহানগরের আরও ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এ ধরনের আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসসিসির আওতাধীন আরও ২২টি মোড়ে এই সিগন্যাল চালু করা হবে।

তবে শুধু প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করলেই যানজট পুরোপুরি নিরসন সম্ভব নয় উল্লেখ করে চালক ও পথচারীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন ডিএসসিসি প্রশাসক।

আবদুস সালাম বলেন, সিগন্যাল অমান্য, নির্দিষ্ট লেন ব্যবহার না করা, জেব্রা ক্রসিংয়ে নিয়ম না মানা এবং মোড়ে অবৈধভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি মোড় এলাকায় ভাসমান দোকান বা অন্য কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা রাখা যাবে না।

শাহবাগে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করল ডিএসসিসি

ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করা হবে। বারবার কেউ আইন অমান্য করলে তার ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল এবং গাড়ির কাগজপত্র জব্দের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকা মহানগরীর তীব্র যানজট মানুষের মূল্যবান কর্মঘণ্টা কেড়ে নিচ্ছে। যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আজ ঢাকা মহানগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নে আমাদের একটি অত্যন্ত ঐতিহাসিক ও আনন্দের দিন। এই নগরের অন্যতম প্রধান সমস্যা তীব্র যানজট। এই যানজট নিরসনে আমরা একটি বিশেষ পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করেছি।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকা মহানগরীর ২০টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে প্রাথমিকভাবে পাইলট ভিত্তিতে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ উদ্যোগে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সরাসরি কারিগরি সহায়তায় এ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।

নগরবাসী ও চালকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সড়কে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং বন্ধ করতে হবে। চালক ও পথচারীদের সিগন্যাল ও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। ট্রাফিক সতর্কীকরণ সাইন, রোড মার্কিং, জেব্রা ক্রসিং ও নির্দিষ্ট লেন অনুসরণ করতে হবে। ইন্টারসেকশনে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা ভাসমান দোকান রাখা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, নতুন স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হলে মোড়গুলোতে ট্রাফিক পুলিশকে আগের মতো সার্বক্ষণিকভাবে দাঁড়িয়ে হাতে সংকেত দিতে হবে না। এতে নগরবাসীর কর্মঘণ্টা সাশ্রয়ের পাশাপাশি রোদ-বৃষ্টিতে সড়কে দায়িত্ব পালন করা ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের কষ্টও কমবে।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, এই আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকারিতা ধরে রাখতে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে। চালক ও পথচারীসহ সব নগরবাসী দায়িত্বশীল আচরণ করলে ঢাকা মহানগরীকে আরও গতিশীল ও আধুনিক স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মোয়াজ্জেম হোসেন ও প্রফেসর ড. মুহাম্মদ হাদিউজ্জামান, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোহাম্মদ আনিসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।