Dhaka শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছয় জেলায় বজ্রপাতে প্রাণ গেল ১২ জনের

যোগাযোগ বিডি ডেস্ক : 

দেশের ছয় জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে নেত্রকোণায় ১ জন, ময়মনসিংহে ২ জন, রংপুরে ২ জন, হবিগঞ্জে ১ জন, কিশোরগঞ্জে ১ জন ও সুনামগঞ্জে ৫ জনসহ পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় মোট ১২ জনের প্রাণ গেছে।

প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও দিরাই উপজেলার পাগনার হাওর, মাটিয়ান হাওর, টগার হাওর ও বরাম হাওরে বজ্রাঘাতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন- ধর্মপাশা উপজেলার হাবিবুর রহমান (২২) ও রহমত উল্লাহ (১৩), জামালগঞ্জ উপজেলার নাজমুল হোসেন (২৬), তাহিরপুর উপজেলার আবুল কালাম (২৫) এবং দিরাই উপজেলার লিটন মিয়া (৩৮)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে হঠাৎ আকাশ কালো হয়ে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে হাওরে কাজ করা কৃষকরা বিপদের মুখে পড়েন। এ সময় তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরে হাঁস পাহারা দেওয়ার সময় বজ্রপাতে আবুল কালাম গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে ধর্মপাশা উপজেলার টগার হাওর এলাকায় বজ্রাঘাতে কলেজ শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান নিহত হন। তিনি পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের ফজলু রহমানের ছেলে এবং বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। একই এলাকায় আরও একজন কিশোরসহ হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

দিরাই উপজেলার কালিয়াগোটার (আতরার) হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে লিটন মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি উপজেলার পেরুয়া আশনাবাজ গ্রামের চান্দু মিয়ার ছেলে।

ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সহিদ উল্যাহ বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দিরাই উপজেলার কালিয়াগোটা (আতরার) হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে কৃষক লিটন মিয়া গুরুতর আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. প্রশান্ত দাস তালুকদার।

ময়মনসিংহ

এদিকে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর ও গফরগাঁও উপজেলায় বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তিরা হলেন গৌরীপুর উপজেলার কোনাপাড়া গ্রামের ওলি মিয়ার ছেলে রহমত আলী উজ্জ্বল (৩০) এবং গফরগাঁও উপজেলার ধাইরগাঁও গ্রামের মমতাজ আলী খান (৫৮)।

গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হযরত আলী বলেন, রহমত আলী উজ্জ্বল মুদিদোকানি। দুপুরে বজ্রপাতের সময় বোনজামাইয়ের ধানখেত দেখতে পুর্বানাপাড়া গ্রামে যান। সেখানে হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান উজ্জ্বল। পরে স্থানীয় লোকজন টের পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। নিহত ব্যক্তির দাফনে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গৌরীপুর থানার ওসি কামরুল হাসান বলেন, ‘বজ্রপাতে এক যুবক মারা যাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।’

গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, মমতাজ আলী খান উস্থি ইউনিয়নের ধাইরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। মমতাজ আলী খান জোহরের নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে হঠাৎ বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি আরও বলেন, উস্থি ইউনিয়ন পাগলা থানাধীন। বজ্রপাতে মমতাজ আলী খান নিহতের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।

পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘গফরগাঁও থানা থেকে আমাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পরে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।’

আবহাওয়া

ছয় জেলায় বজ্রপাতে প্রাণ গেল ১২ জনের

প্রকাশের সময় : ০৬:০৫:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

যোগাযোগ বিডি ডেস্ক : 

দেশের ছয় জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে নেত্রকোণায় ১ জন, ময়মনসিংহে ২ জন, রংপুরে ২ জন, হবিগঞ্জে ১ জন, কিশোরগঞ্জে ১ জন ও সুনামগঞ্জে ৫ জনসহ পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় মোট ১২ জনের প্রাণ গেছে।

প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও দিরাই উপজেলার পাগনার হাওর, মাটিয়ান হাওর, টগার হাওর ও বরাম হাওরে বজ্রাঘাতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন- ধর্মপাশা উপজেলার হাবিবুর রহমান (২২) ও রহমত উল্লাহ (১৩), জামালগঞ্জ উপজেলার নাজমুল হোসেন (২৬), তাহিরপুর উপজেলার আবুল কালাম (২৫) এবং দিরাই উপজেলার লিটন মিয়া (৩৮)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে হঠাৎ আকাশ কালো হয়ে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে হাওরে কাজ করা কৃষকরা বিপদের মুখে পড়েন। এ সময় তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরে হাঁস পাহারা দেওয়ার সময় বজ্রপাতে আবুল কালাম গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে ধর্মপাশা উপজেলার টগার হাওর এলাকায় বজ্রাঘাতে কলেজ শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান নিহত হন। তিনি পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের ফজলু রহমানের ছেলে এবং বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। একই এলাকায় আরও একজন কিশোরসহ হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

দিরাই উপজেলার কালিয়াগোটার (আতরার) হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে লিটন মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি উপজেলার পেরুয়া আশনাবাজ গ্রামের চান্দু মিয়ার ছেলে।

ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সহিদ উল্যাহ বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দিরাই উপজেলার কালিয়াগোটা (আতরার) হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে কৃষক লিটন মিয়া গুরুতর আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. প্রশান্ত দাস তালুকদার।

ময়মনসিংহ

এদিকে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর ও গফরগাঁও উপজেলায় বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তিরা হলেন গৌরীপুর উপজেলার কোনাপাড়া গ্রামের ওলি মিয়ার ছেলে রহমত আলী উজ্জ্বল (৩০) এবং গফরগাঁও উপজেলার ধাইরগাঁও গ্রামের মমতাজ আলী খান (৫৮)।

গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হযরত আলী বলেন, রহমত আলী উজ্জ্বল মুদিদোকানি। দুপুরে বজ্রপাতের সময় বোনজামাইয়ের ধানখেত দেখতে পুর্বানাপাড়া গ্রামে যান। সেখানে হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান উজ্জ্বল। পরে স্থানীয় লোকজন টের পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। নিহত ব্যক্তির দাফনে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গৌরীপুর থানার ওসি কামরুল হাসান বলেন, ‘বজ্রপাতে এক যুবক মারা যাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।’

গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, মমতাজ আলী খান উস্থি ইউনিয়নের ধাইরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। মমতাজ আলী খান জোহরের নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে হঠাৎ বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি আরও বলেন, উস্থি ইউনিয়ন পাগলা থানাধীন। বজ্রপাতে মমতাজ আলী খান নিহতের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।

পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘গফরগাঁও থানা থেকে আমাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পরে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।’