শেষ মুহূর্তের মার্তিনেলির গোলে জাপানকে কাঁদিয়ে শেষ ১৬-তে ব্রাজিল

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০১:৪৯:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • ১৮৩ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক :

বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আজ মাঠে নেমেছিল ব্রাজিল। শেষ ষোলোয় ওঠার লড়াইয়ে সেলেসাওদের প্রতিপক্ষ জাপান। এশিয়ান পরাশক্তিদের বিপক্ষে মাঠে নেমে প্রথমার্ধেই এক গোল হজম করে পিছিয়ে পড়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ক্যাসেমিরোর গোলে সমতায় ফেরে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এরপর বেশ কয়েকবার দুর্দান্ত সব গোলের সুযোগ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত আর জালের দেখা পাচ্ছিলেন না ভিনিসিয়ুসরা। দুই দলের লড়াই নব্বই মিনিট শেষে অতিরিক্ত সময়ে গড়াচ্ছে, এমনই ভেবেছিলেন ভক্ত-সমর্থকরা। তবে এরপরই আসে সেই জাদুকরী মুহূর্ত। ম্যাচের ইনজুরি টাইমের অর্ধেক পেরোবার পর দুর্দান্ত এক গোল করে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি। তাঁর এই শেষ মূহুর্তের গোলেই জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল।

সোমবার (২৯ জুন) হিউস্টনে শেষ বত্রিশের রোমাঞ্চকর ম্যাচটি ২-১ জিতে বিশ্বকাপে টিকে রইল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়া দলকে সমতায় ফেরান কাসেমিরো, আর শেষ সময়ে ব্যবধান গড়ে দেন মার্তিনেলি।

প্রথমার্ধে ব্রাজিলকে একেবারেই চেনা যায়নি। বল দখল ও আক্রমণে তাদের আধিপত্য থাকলেও, জাপানের ‘চীনের প্রাচীর’ ভাঙার মতো কিছুই করতে পারেনি তারা। আর, জাপান শুরু থেকেই মূলত ঘর সামলে প্রতি-আক্রমণের কৌশল নেয়। এদিন তাদের সম্মিলিতভাবে রক্ষণ সামলানোর কৌশল ছিল এককথায় দুর্দান্ত। কিন্তু, নকআউট পর্বের শুরুর গেরো এবারও তাদের কাটল না।

৬৫ শতাংশের বেশি সময় বল দখলে রেখে, গোলের জন্য ১৯টি শট নিয়ে সাতটি লক্ষ্যে রাখতে পারে ব্রাজিল। জাপানের পাঁচ শটের দুটি ছিল লক্ষ্যে।

হাইড্রেশন ব্রেকের পরপর জাপান ব্রাজিলকে গোল দিয়েছে। মাঝমাঠে দানিলোর কাছ থেকে লুজ বল পান সানো। তিনি কাসেমিরোকে গতিতে পরাস্ত করে এগিয়ে যান এবং বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের শটে বল জালে জড়ান। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শটটি নিখুঁতভাবে পোস্টের নিচের বাম কোণ দিয়ে ভেতরে ঢুকে যায়। ২৯ মিনিটে ১-০ গোলে এগিয়ে গেল জাপান।

অথচ হাইড্রেশন ব্রেকের আগে ব্রাজিল বেশ আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে। তারা পানি পানের বিরতির আগে প্রায় ৭৫ শতাংশ বল দখলে রেখে চারটি শট নিলেও গোল পায়নি। জাপানের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেললেও স্কোরে কোনো ব্যবধান তৈরি করতে পারেনি।

৩ মিনিটে ব্রাজিল আক্রমণের সুযোগ পায়। বক্সের প্রান্ত থেকে গিমারায়েসের শট প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। পাঁচ মিনিটে ওপর দিয়ে বল বাড়ায় ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সামনে বল পড়ার আগেই জাপানি গোলকিপার সুজুকি সামনে এগিয়ে এসে দুই হাত দিয়ে পাঞ্চ করে বল ক্লিয়ার করেন। সম্ভবত এটি ম্যাচের শুরুর দিকের স্নায়ুচাপের লক্ষণ, কারণ তিনি চাইলেই সেখানে বলটি সহজেই ধরে ফেলতে পারতেন।

জাপান তেমন কিছুই করে উঠতে পারেনি শুরুর দিকে। তারা নিজেদের অর্ধেকের মধ্য থেকে বের হতেই হিমশিম খাচ্ছিল। ব্রাজিল একটি সুযোগের খোঁজে বল পাস করে খেলছে, তবে জাপানের রক্ষণভাগ বেশ সুসংগঠিত দেখাচ্ছে।

১০ মিনিটে দানিলো বাইলাইনে পৌঁছে বক্সের ভেতর বল বাড়ান। বলটি একজন ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়ের পায়ে পড়ে, যিনি সজোরে শট মেরে বসেন তারই সতীর্থের মুখে। চার মিনিট পর কুনহা বক্সের বাইরে থেকে শট নেন। সুজুকি বল মাঠের বাইরে পাঠিয়ে কর্নার বানান। দ্রুত কর্নার নেয় ব্রাজিল। পাকেতার শট ডানপাশের পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়।

১৬ মিনিটে বিপদজনক জায়গা থেকে ফ্রি কিক পায় জাপান। জুনিয়াকে ফাউল করেন কাসেমিরো। ডি বক্সের বাঁ পাশ থেকে কামাদার শট রক্ষণদেয়ালে লেগে মাঠের বাইরে যায়। ব্রাজিল সহজেই কর্নার কিক ফিরিয়ে দেয়।

প্রথম গোল হজমের পর সমতা ফেরাতে মরিয়া ছিল ব্রাজিল। কিছুক্ষণ পর বাম পাশ থেকে পাকেতার ফ্রি কিকে মারকুইনহোসের হেড গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। এরপর কিছুটা দূর থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট সহজেই হাতে নেন সুজুকি। ৩৯ মিনিটে কুনহার দূর থেকে নেওয়া শটও লুফে নেন জাপান কিপার।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্রাজিলকে আক্রমণে তটস্থ করে রেখেছিল জাপান। রিতসু দোয়ান ডানপ্রান্ত দিয়ে বেশ ভালোই ভোগান্তিতে ফেলেছেন তাদের। ৪৪ মিনিটে তিনি জুনিয়া ইতোকে খুঁজে নেন, যিনি বক্সের ভেতর একটি বিপজ্জনক বল বাড়ান। সেটি ক্লিয়ার করতে ব্রাজিলকে বেশ বেগ পেতে হয়।

এরপর বামপ্রান্ত থেকে হিরোকি ইতো ভেতরের দিকে একটি বাঁকানো ক্রস বাড়ান। তবে ব্রাজিল কোনোমতে সেটিও সামাল দিয়ে নেয়। এটি জাপানের জন্য বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার আরও একটি ভালো সময়।

প্রথমার্ধে গোল খাওয়া ব্রাজিল ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেছে। দলে পরিবর্তন এনেছে তারা। পাকেতার বদলে এন্দ্রিককে মাঠে নামানো হয়। বিরতির পর ব্রাজিল ছন্দে ফেরে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কয়েকটি সুযোগ নষ্ট হওয়ার পর ৫৬ মিনিটে কাসেমিরো গোল শোধ দেন।

দ্বিতীয়ার্ধে গোলশোধের আগে ব্রাজিল সুযোগও তৈরি করে একাধিকবার। ৫০ মিনিটে একটি দূর থেকে বাড়ানো বল ধরে এন্দ্রিক তার রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার পাসটি ভুল জায়গায় চলে যায় এবং সুজুকি সামনে এগিয়ে এসে বলটি গ্লাভসবন্দি করেন।

৫২ মিনিটে দানিলোর বাড়ানো একটি ক্রস থেকে গিমারায়েস বল পেয়ে গোল লক্ষ্য করে জোরালো হেড করেন, তবে সুজুকি দারুণভাবে ডাইভ দিয়ে সেটি রুখে দেন। ৫৫ মিনিটে কাসেমিরো খুব কাছ থেকে হেড করার পর তোমিয়াসু গোললাইনের ওপর থেকে বলটি প্রতিহত করেন এবং এরপর গোলপোস্টের সামনে জটলার সৃষ্টি হলে তিনি আবারও বল ব্লক করেন। জাপান পাল্টা আক্রমণে উঠলেও তাদের ক্রসটি একটু বেশি জোরে হয়ে যায়, যার ফলে সবাই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার সুযোগ পায়!

কিছুক্ষণ আগের সুযোগ মিস করার খেসারত চুকিয়ে ব্রাজিলের হয়ে সমতাসূচক গোলটি করেন কাসেমিরো! তার ৩ মিনিট পর ভিনিসিয়ুস বামপ্রান্ত থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ গতিতে তোমিয়াসুকে নাটমেগ করেন। বক্সের ভেতরে তিনি জাপানের আরেকজন খেলোয়াড়কে পুরোপুরি বোকা বানিয়ে ড্রিবল করে কাটিয়ে এগিয়ে যান এবং ডাইভ দেওয়া সুজুকিকে ফাঁকি দিয়ে শট নেন; কিন্তু বলটি পোস্টে লেগে ফিরে আসে এবং জাপানের রক্ষণভাগ বলটি ক্লিয়ার করে বিপদ মুক্ত করে।

৭৫ মিনিটে জাপানি কয়েকজন খেলোয়াড়কে ড্রিবলিংয়ে বোকা বানিয়ে ফাঁকি দিয়ে বামপ্রান্তের উইংয়ে থাকা ভিনিসিয়ুসকে বল বাড়ান এন্দ্রিক। ভিনিসিয়ুস গতি বাড়িয়ে বক্সের ভেতর ঢুকে তার ডান পায়ে বল নেন, কিন্তু তার পাসটি ভুল জায়গায় চলে যায় এবং জাপানের রক্ষণভাগ বলটি ক্লিয়ার করে।

এর কিছুক্ষণ পরেই গ্যাব্রিয়েল ব্যাক পোস্টে আরও একটি ডিপ ক্রস বাড়ান। এবার রায়ান হেডের মাধ্যমে বলের নাগাল পেলেও সুজুকির গায়ে লেগে বলটি পোস্টের বাইরে চলে যায় এবং ব্রাজিল একটি কর্নার পায়।

তবে জাপানের দৃঢ় রক্ষণের কারণে কর্নার থেকে কোনো সুযোগ তৈরি হতে পারেনি এবং তারা ব্রাজিলকে পেছনে হটে যেতে বাধ্য করে। ৮৯ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের একটি শট প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে কর্নার হয়।

ইনজুরি টাইম ছিল ৬ মিনিটের। একেবারে শেষ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে এক বিপজ্জনক জায়গায় তানাকা বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রতিপক্ষকে দিয়ে বসেন। গিমারায়েস মার্তিনেল্লির উদ্দেশ্যে একটি থ্রু পাস বাড়ান। চোখের পলকে বলটি নিজের বাম পা থেকে ডান পায়ে নিয়ে নেন ৬৬ মিনিটে ম্যাথিউস কুনহার বদলি নামা মার্তিনেল্লি এবং সুজুকিকে পরাস্ত করে নিখুঁত শটে পোস্টে লাগিয়ে বল জালে জড়ান। ওই গোলে জাপানের স্বপ্ন ভেঙে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ব্রাজিল। শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ আইভরি কোস্ট বা নরওয়ে।

 

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

শেষ মুহূর্তের মার্তিনেলির গোলে জাপানকে কাঁদিয়ে শেষ ১৬-তে ব্রাজিল

শেষ মুহূর্তের মার্তিনেলির গোলে জাপানকে কাঁদিয়ে শেষ ১৬-তে ব্রাজিল

প্রকাশের সময় : ০১:৪৯:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক :

বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আজ মাঠে নেমেছিল ব্রাজিল। শেষ ষোলোয় ওঠার লড়াইয়ে সেলেসাওদের প্রতিপক্ষ জাপান। এশিয়ান পরাশক্তিদের বিপক্ষে মাঠে নেমে প্রথমার্ধেই এক গোল হজম করে পিছিয়ে পড়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ক্যাসেমিরোর গোলে সমতায় ফেরে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এরপর বেশ কয়েকবার দুর্দান্ত সব গোলের সুযোগ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত আর জালের দেখা পাচ্ছিলেন না ভিনিসিয়ুসরা। দুই দলের লড়াই নব্বই মিনিট শেষে অতিরিক্ত সময়ে গড়াচ্ছে, এমনই ভেবেছিলেন ভক্ত-সমর্থকরা। তবে এরপরই আসে সেই জাদুকরী মুহূর্ত। ম্যাচের ইনজুরি টাইমের অর্ধেক পেরোবার পর দুর্দান্ত এক গোল করে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি। তাঁর এই শেষ মূহুর্তের গোলেই জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল।

সোমবার (২৯ জুন) হিউস্টনে শেষ বত্রিশের রোমাঞ্চকর ম্যাচটি ২-১ জিতে বিশ্বকাপে টিকে রইল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়া দলকে সমতায় ফেরান কাসেমিরো, আর শেষ সময়ে ব্যবধান গড়ে দেন মার্তিনেলি।

প্রথমার্ধে ব্রাজিলকে একেবারেই চেনা যায়নি। বল দখল ও আক্রমণে তাদের আধিপত্য থাকলেও, জাপানের ‘চীনের প্রাচীর’ ভাঙার মতো কিছুই করতে পারেনি তারা। আর, জাপান শুরু থেকেই মূলত ঘর সামলে প্রতি-আক্রমণের কৌশল নেয়। এদিন তাদের সম্মিলিতভাবে রক্ষণ সামলানোর কৌশল ছিল এককথায় দুর্দান্ত। কিন্তু, নকআউট পর্বের শুরুর গেরো এবারও তাদের কাটল না।

৬৫ শতাংশের বেশি সময় বল দখলে রেখে, গোলের জন্য ১৯টি শট নিয়ে সাতটি লক্ষ্যে রাখতে পারে ব্রাজিল। জাপানের পাঁচ শটের দুটি ছিল লক্ষ্যে।

হাইড্রেশন ব্রেকের পরপর জাপান ব্রাজিলকে গোল দিয়েছে। মাঝমাঠে দানিলোর কাছ থেকে লুজ বল পান সানো। তিনি কাসেমিরোকে গতিতে পরাস্ত করে এগিয়ে যান এবং বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের শটে বল জালে জড়ান। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শটটি নিখুঁতভাবে পোস্টের নিচের বাম কোণ দিয়ে ভেতরে ঢুকে যায়। ২৯ মিনিটে ১-০ গোলে এগিয়ে গেল জাপান।

অথচ হাইড্রেশন ব্রেকের আগে ব্রাজিল বেশ আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে। তারা পানি পানের বিরতির আগে প্রায় ৭৫ শতাংশ বল দখলে রেখে চারটি শট নিলেও গোল পায়নি। জাপানের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেললেও স্কোরে কোনো ব্যবধান তৈরি করতে পারেনি।

৩ মিনিটে ব্রাজিল আক্রমণের সুযোগ পায়। বক্সের প্রান্ত থেকে গিমারায়েসের শট প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। পাঁচ মিনিটে ওপর দিয়ে বল বাড়ায় ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সামনে বল পড়ার আগেই জাপানি গোলকিপার সুজুকি সামনে এগিয়ে এসে দুই হাত দিয়ে পাঞ্চ করে বল ক্লিয়ার করেন। সম্ভবত এটি ম্যাচের শুরুর দিকের স্নায়ুচাপের লক্ষণ, কারণ তিনি চাইলেই সেখানে বলটি সহজেই ধরে ফেলতে পারতেন।

জাপান তেমন কিছুই করে উঠতে পারেনি শুরুর দিকে। তারা নিজেদের অর্ধেকের মধ্য থেকে বের হতেই হিমশিম খাচ্ছিল। ব্রাজিল একটি সুযোগের খোঁজে বল পাস করে খেলছে, তবে জাপানের রক্ষণভাগ বেশ সুসংগঠিত দেখাচ্ছে।

১০ মিনিটে দানিলো বাইলাইনে পৌঁছে বক্সের ভেতর বল বাড়ান। বলটি একজন ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়ের পায়ে পড়ে, যিনি সজোরে শট মেরে বসেন তারই সতীর্থের মুখে। চার মিনিট পর কুনহা বক্সের বাইরে থেকে শট নেন। সুজুকি বল মাঠের বাইরে পাঠিয়ে কর্নার বানান। দ্রুত কর্নার নেয় ব্রাজিল। পাকেতার শট ডানপাশের পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়।

১৬ মিনিটে বিপদজনক জায়গা থেকে ফ্রি কিক পায় জাপান। জুনিয়াকে ফাউল করেন কাসেমিরো। ডি বক্সের বাঁ পাশ থেকে কামাদার শট রক্ষণদেয়ালে লেগে মাঠের বাইরে যায়। ব্রাজিল সহজেই কর্নার কিক ফিরিয়ে দেয়।

প্রথম গোল হজমের পর সমতা ফেরাতে মরিয়া ছিল ব্রাজিল। কিছুক্ষণ পর বাম পাশ থেকে পাকেতার ফ্রি কিকে মারকুইনহোসের হেড গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। এরপর কিছুটা দূর থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট সহজেই হাতে নেন সুজুকি। ৩৯ মিনিটে কুনহার দূর থেকে নেওয়া শটও লুফে নেন জাপান কিপার।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্রাজিলকে আক্রমণে তটস্থ করে রেখেছিল জাপান। রিতসু দোয়ান ডানপ্রান্ত দিয়ে বেশ ভালোই ভোগান্তিতে ফেলেছেন তাদের। ৪৪ মিনিটে তিনি জুনিয়া ইতোকে খুঁজে নেন, যিনি বক্সের ভেতর একটি বিপজ্জনক বল বাড়ান। সেটি ক্লিয়ার করতে ব্রাজিলকে বেশ বেগ পেতে হয়।

এরপর বামপ্রান্ত থেকে হিরোকি ইতো ভেতরের দিকে একটি বাঁকানো ক্রস বাড়ান। তবে ব্রাজিল কোনোমতে সেটিও সামাল দিয়ে নেয়। এটি জাপানের জন্য বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার আরও একটি ভালো সময়।

প্রথমার্ধে গোল খাওয়া ব্রাজিল ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেছে। দলে পরিবর্তন এনেছে তারা। পাকেতার বদলে এন্দ্রিককে মাঠে নামানো হয়। বিরতির পর ব্রাজিল ছন্দে ফেরে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কয়েকটি সুযোগ নষ্ট হওয়ার পর ৫৬ মিনিটে কাসেমিরো গোল শোধ দেন।

দ্বিতীয়ার্ধে গোলশোধের আগে ব্রাজিল সুযোগও তৈরি করে একাধিকবার। ৫০ মিনিটে একটি দূর থেকে বাড়ানো বল ধরে এন্দ্রিক তার রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার পাসটি ভুল জায়গায় চলে যায় এবং সুজুকি সামনে এগিয়ে এসে বলটি গ্লাভসবন্দি করেন।

৫২ মিনিটে দানিলোর বাড়ানো একটি ক্রস থেকে গিমারায়েস বল পেয়ে গোল লক্ষ্য করে জোরালো হেড করেন, তবে সুজুকি দারুণভাবে ডাইভ দিয়ে সেটি রুখে দেন। ৫৫ মিনিটে কাসেমিরো খুব কাছ থেকে হেড করার পর তোমিয়াসু গোললাইনের ওপর থেকে বলটি প্রতিহত করেন এবং এরপর গোলপোস্টের সামনে জটলার সৃষ্টি হলে তিনি আবারও বল ব্লক করেন। জাপান পাল্টা আক্রমণে উঠলেও তাদের ক্রসটি একটু বেশি জোরে হয়ে যায়, যার ফলে সবাই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার সুযোগ পায়!

কিছুক্ষণ আগের সুযোগ মিস করার খেসারত চুকিয়ে ব্রাজিলের হয়ে সমতাসূচক গোলটি করেন কাসেমিরো! তার ৩ মিনিট পর ভিনিসিয়ুস বামপ্রান্ত থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ গতিতে তোমিয়াসুকে নাটমেগ করেন। বক্সের ভেতরে তিনি জাপানের আরেকজন খেলোয়াড়কে পুরোপুরি বোকা বানিয়ে ড্রিবল করে কাটিয়ে এগিয়ে যান এবং ডাইভ দেওয়া সুজুকিকে ফাঁকি দিয়ে শট নেন; কিন্তু বলটি পোস্টে লেগে ফিরে আসে এবং জাপানের রক্ষণভাগ বলটি ক্লিয়ার করে বিপদ মুক্ত করে।

৭৫ মিনিটে জাপানি কয়েকজন খেলোয়াড়কে ড্রিবলিংয়ে বোকা বানিয়ে ফাঁকি দিয়ে বামপ্রান্তের উইংয়ে থাকা ভিনিসিয়ুসকে বল বাড়ান এন্দ্রিক। ভিনিসিয়ুস গতি বাড়িয়ে বক্সের ভেতর ঢুকে তার ডান পায়ে বল নেন, কিন্তু তার পাসটি ভুল জায়গায় চলে যায় এবং জাপানের রক্ষণভাগ বলটি ক্লিয়ার করে।

এর কিছুক্ষণ পরেই গ্যাব্রিয়েল ব্যাক পোস্টে আরও একটি ডিপ ক্রস বাড়ান। এবার রায়ান হেডের মাধ্যমে বলের নাগাল পেলেও সুজুকির গায়ে লেগে বলটি পোস্টের বাইরে চলে যায় এবং ব্রাজিল একটি কর্নার পায়।

তবে জাপানের দৃঢ় রক্ষণের কারণে কর্নার থেকে কোনো সুযোগ তৈরি হতে পারেনি এবং তারা ব্রাজিলকে পেছনে হটে যেতে বাধ্য করে। ৮৯ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের একটি শট প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে কর্নার হয়।

ইনজুরি টাইম ছিল ৬ মিনিটের। একেবারে শেষ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে এক বিপজ্জনক জায়গায় তানাকা বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রতিপক্ষকে দিয়ে বসেন। গিমারায়েস মার্তিনেল্লির উদ্দেশ্যে একটি থ্রু পাস বাড়ান। চোখের পলকে বলটি নিজের বাম পা থেকে ডান পায়ে নিয়ে নেন ৬৬ মিনিটে ম্যাথিউস কুনহার বদলি নামা মার্তিনেল্লি এবং সুজুকিকে পরাস্ত করে নিখুঁত শটে পোস্টে লাগিয়ে বল জালে জড়ান। ওই গোলে জাপানের স্বপ্ন ভেঙে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ব্রাজিল। শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ আইভরি কোস্ট বা নরওয়ে।