ভারতকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো সিরিজ জিতল আয়ারল্যান্ড

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০১:০২:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • ১৭৯ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : 

ভারতের বিপক্ষে প্রথম ১১ আন্তর্জাতিক ম্যাচে একবারও জিততে পারেনি আয়ারল্যান্ড। কিন্তু এবার সেই ভারতকেই টানা দুই ম্যাচে হারিয়ে ২-০ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে ইতিহাস গড়েছে আইরিশরা।

বেলফাস্টে দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৪ রান করে আইরিশরা। জবাবে ৯ উইকেটে ১৫৩ রান করেছে সফররত ভারত। আর এই জয়ের মাধ্যমে ইতিহাসে প্রথমবার ভারতকে টি-টোয়েন্টিতে হোয়াইটওয়াশ করল আয়াররল্যান্ড।

পরপর তিন দিন স্মরণীয় সব জয়ের সাক্ষী হলো আইরিশ ক্রিকেট। গত শুক্রবার প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে ৩৪ রানে হারায় আয়ারল্যান্ড। ভারতীয়দের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১২ বারের দেখায় তাদের প্রথম জয় সেটি।

ব্রিস্টলে শনিবার উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সাবেক চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ হারিয়ে দেয় আয়ারল্যান্ড। বিশ্বকাপে প্রথম ২১ ম্যাচে হারের পর আইরিশ মেয়েদের প্রথম জয় এটি। এবার পুরুষদের ক্রিকেটে এলো আরেকটি জয়, খর্বশক্তির দল নিয়ে পূর্ণশক্তির ভারতীয় দলের বিপক্ষে সিরিজ জয়!

চোটের কারণে জশ লিটল, মার্ক অ্যাডায়ার, কার্টিস ক্যাম্ফারসহ পাঁচ জন পেসারকে এই সিরিজে পায়নি আয়ারল্যান্ড। সেই তারাই চমক জাগিয়ে জিতল সিরিজ।

আয়ারল্যান্ডের নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে লর্কান টাকারের প্রথম সিরিজ এটি। ভারতের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে পথচলা শুরু করেন শ্রেয়াস আইয়ার। একজনের শুরুটা হলো স্বপ্নের মতো, আরেক জনের দুঃস্বপ্নের! এই পরাজয়ে ভারতের টানা ১৬ সিরিজের অপরাজেয় যাত্রা থেমে গেল।

আয়ারল্যান্ডের হয়ে এই সিরিজে অভিষেক হয় দুই পেসারের। সেই দুই জনই সিরিজ জয়ে রাখলেন বড় ভূমিকা। প্রথম ম্যাচে ২৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন ম্যাট হলার্ড। জন্মভূমির বিপক্ষে সেদিন ২৫ রানে ২ উইকেট নিয়ে পার্শ্বনায়ক ছিলেন জেয় মুন্ড্রা। দ্বিতীয় ম্যাচে তিনিই মূল নায়ক। প্রথম ওভারে দুটিসহ ৩২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরার পাশাপাশি সিরিজ সেরার পুরস্কারও জেতেন ভারতের রাজস্থানে জন্ম নেওয়া এই ক্রিকেটার।

কোভিডের সময় ভারতের অনিশ্চিত জীবন ছেড়ে পড়াশোনা ও কাজের জন্য মুন্ড্রার আয়ারল্যান্ডে পাড়ি জমানো, এরপর ক্রিকেটে সম্পৃক্ত হওয়ার চমকপ্রদ গল্প তো ক্রিকেট অনুরাগী সবারই প্রায় জানা এখন। হলার্ড এই ম্যাচে ২৬ রানে নেন ৩ উইকেট।

শেষ ওভারের নাটকীয়তাটুকু বাদ দিলে রান তাড়ায় ভারত সেভাবে আশা জাগাতে পারেনি কখনোই।

প্রথম ওভারে সাঞ্জু স্যামসন ও আভিশেক শার্মাকে ফিরিয়ে ভারতকে জোড়া ধাক্কা দেন মুন্ড্রা। দুজনই আউট হন প্রথম বলে শূন্য রানে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ইনিংসে দুই ওপেনারের এভাবে আউট হওয়ার চতুর্থ ঘটনা এটি।

অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ব্যর্থ হন আরেকবার। রস অ্যাডায়ারের সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট হন ইশান কিষান। পঞ্চম ওভারে ৩৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে ভারত।

প্রথম আট ওভারের পর বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ ছিল কিছুক্ষণ। আকসার প্যাটেলকে নিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন তিলাক। ১৮ বলে ১৪ রান করে ফেরেন আকসার।

তিলাক ও শিভাম দুবের জুটিতে কিছুটা আশা জাগে ভারতের। কিন্তু ২৪ বলে দরকার যখন ৪৬ রান, দুবে বিদায় নেন ২০ রান করে। পরের ওভারে ছক্কায় ফিফটি করার পরের বলে ফেরেন তিলাক (৪৬ বলে ৫৫)। একই ওভারে হলার্ড উইকেট নেন আরেকটি।

শেষ ১০ বলে যখন ৩২ রান দরকার, মুন্ড্রাকে পরপর চার ও ছক্কা মারেন হার্শিত রানা। শেষ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ২০ রানের।

হ্যারি টেক্টরের এলোমেলো বোলিংয়ে জমে ওঠে লড়াই। ওয়াইড দিয়ে শুরুর একটি ‘নো’ বলও করেন তিনি। সব মিলিয়ে বৈধ প্রথম বলেই আসে ৫ রান।

দ্বিতীয় বলে ব্যাটে কানায় লেগে বাউন্ডারি পেয়ে যান হার্শিত। পরের দুই বলে দুটি সিঙ্গলের মাঝে হয় আরেকটি ওয়াইড।

শেষ দুই বলে দরকার ছিল ৮। পঞ্চম বল উড়িয়ে মারেন হার্শিত। লং-অন সীমানায় ক্যাচ নেন বোলার হ্যারি টেক্টরের ভাই টিম টেক্টর। শেষ বলে ছক্কা মারেন অভিষিক্ত প্রিন্স ইয়াদাভ।

এ দিন টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে আয়ারল্যান্ডের শুরুটাও ছিল নড়বড়ে। প্রথম তিন ওভারের মধ্যে ফেরেন দুই ওপেনার টিম টেক্টর ও রস অ্যাডায়ার।

প্রথম ১০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে কেবল ৫৮ রান তুলতে পারে স্বাগতিকরা। তবে পরের ১০ ওভারে ৯৬ রান তুলে লড়াইয়ের পুঁজি গড়ে তারা।

তিনে নেমে ৪৭ বলে ৫৩ রান করেন টেক্টর। পাঁচ নম্বরে তিন চার ও দুই ছক্কায় ২৩ বলে ৩৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন বেন কালিৎজ। জর্জ ডকরেলের ব্যাটে থেকে ১৪ বলে ১৯ রানের ক্যামিও।

প্রথম ম্যাচে ১৮৩ রানের লক্ষ্যের পর এবার ১৫৫ ভারতের নাগালেই থাকার কথা। কিন্তু ব্যাটিং ব্যর্থতায় এবারও পেরে উঠল না তারা।

 

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, যুবক আহত

ভারতকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো সিরিজ জিতল আয়ারল্যান্ড

প্রকাশের সময় : ০১:০২:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক : 

ভারতের বিপক্ষে প্রথম ১১ আন্তর্জাতিক ম্যাচে একবারও জিততে পারেনি আয়ারল্যান্ড। কিন্তু এবার সেই ভারতকেই টানা দুই ম্যাচে হারিয়ে ২-০ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে ইতিহাস গড়েছে আইরিশরা।

বেলফাস্টে দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৪ রান করে আইরিশরা। জবাবে ৯ উইকেটে ১৫৩ রান করেছে সফররত ভারত। আর এই জয়ের মাধ্যমে ইতিহাসে প্রথমবার ভারতকে টি-টোয়েন্টিতে হোয়াইটওয়াশ করল আয়াররল্যান্ড।

পরপর তিন দিন স্মরণীয় সব জয়ের সাক্ষী হলো আইরিশ ক্রিকেট। গত শুক্রবার প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে ৩৪ রানে হারায় আয়ারল্যান্ড। ভারতীয়দের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১২ বারের দেখায় তাদের প্রথম জয় সেটি।

ব্রিস্টলে শনিবার উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সাবেক চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ হারিয়ে দেয় আয়ারল্যান্ড। বিশ্বকাপে প্রথম ২১ ম্যাচে হারের পর আইরিশ মেয়েদের প্রথম জয় এটি। এবার পুরুষদের ক্রিকেটে এলো আরেকটি জয়, খর্বশক্তির দল নিয়ে পূর্ণশক্তির ভারতীয় দলের বিপক্ষে সিরিজ জয়!

চোটের কারণে জশ লিটল, মার্ক অ্যাডায়ার, কার্টিস ক্যাম্ফারসহ পাঁচ জন পেসারকে এই সিরিজে পায়নি আয়ারল্যান্ড। সেই তারাই চমক জাগিয়ে জিতল সিরিজ।

আয়ারল্যান্ডের নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে লর্কান টাকারের প্রথম সিরিজ এটি। ভারতের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে পথচলা শুরু করেন শ্রেয়াস আইয়ার। একজনের শুরুটা হলো স্বপ্নের মতো, আরেক জনের দুঃস্বপ্নের! এই পরাজয়ে ভারতের টানা ১৬ সিরিজের অপরাজেয় যাত্রা থেমে গেল।

আয়ারল্যান্ডের হয়ে এই সিরিজে অভিষেক হয় দুই পেসারের। সেই দুই জনই সিরিজ জয়ে রাখলেন বড় ভূমিকা। প্রথম ম্যাচে ২৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন ম্যাট হলার্ড। জন্মভূমির বিপক্ষে সেদিন ২৫ রানে ২ উইকেট নিয়ে পার্শ্বনায়ক ছিলেন জেয় মুন্ড্রা। দ্বিতীয় ম্যাচে তিনিই মূল নায়ক। প্রথম ওভারে দুটিসহ ৩২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরার পাশাপাশি সিরিজ সেরার পুরস্কারও জেতেন ভারতের রাজস্থানে জন্ম নেওয়া এই ক্রিকেটার।

কোভিডের সময় ভারতের অনিশ্চিত জীবন ছেড়ে পড়াশোনা ও কাজের জন্য মুন্ড্রার আয়ারল্যান্ডে পাড়ি জমানো, এরপর ক্রিকেটে সম্পৃক্ত হওয়ার চমকপ্রদ গল্প তো ক্রিকেট অনুরাগী সবারই প্রায় জানা এখন। হলার্ড এই ম্যাচে ২৬ রানে নেন ৩ উইকেট।

শেষ ওভারের নাটকীয়তাটুকু বাদ দিলে রান তাড়ায় ভারত সেভাবে আশা জাগাতে পারেনি কখনোই।

প্রথম ওভারে সাঞ্জু স্যামসন ও আভিশেক শার্মাকে ফিরিয়ে ভারতকে জোড়া ধাক্কা দেন মুন্ড্রা। দুজনই আউট হন প্রথম বলে শূন্য রানে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ইনিংসে দুই ওপেনারের এভাবে আউট হওয়ার চতুর্থ ঘটনা এটি।

অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ব্যর্থ হন আরেকবার। রস অ্যাডায়ারের সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট হন ইশান কিষান। পঞ্চম ওভারে ৩৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে ভারত।

প্রথম আট ওভারের পর বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ ছিল কিছুক্ষণ। আকসার প্যাটেলকে নিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন তিলাক। ১৮ বলে ১৪ রান করে ফেরেন আকসার।

তিলাক ও শিভাম দুবের জুটিতে কিছুটা আশা জাগে ভারতের। কিন্তু ২৪ বলে দরকার যখন ৪৬ রান, দুবে বিদায় নেন ২০ রান করে। পরের ওভারে ছক্কায় ফিফটি করার পরের বলে ফেরেন তিলাক (৪৬ বলে ৫৫)। একই ওভারে হলার্ড উইকেট নেন আরেকটি।

শেষ ১০ বলে যখন ৩২ রান দরকার, মুন্ড্রাকে পরপর চার ও ছক্কা মারেন হার্শিত রানা। শেষ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ২০ রানের।

হ্যারি টেক্টরের এলোমেলো বোলিংয়ে জমে ওঠে লড়াই। ওয়াইড দিয়ে শুরুর একটি ‘নো’ বলও করেন তিনি। সব মিলিয়ে বৈধ প্রথম বলেই আসে ৫ রান।

দ্বিতীয় বলে ব্যাটে কানায় লেগে বাউন্ডারি পেয়ে যান হার্শিত। পরের দুই বলে দুটি সিঙ্গলের মাঝে হয় আরেকটি ওয়াইড।

শেষ দুই বলে দরকার ছিল ৮। পঞ্চম বল উড়িয়ে মারেন হার্শিত। লং-অন সীমানায় ক্যাচ নেন বোলার হ্যারি টেক্টরের ভাই টিম টেক্টর। শেষ বলে ছক্কা মারেন অভিষিক্ত প্রিন্স ইয়াদাভ।

এ দিন টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে আয়ারল্যান্ডের শুরুটাও ছিল নড়বড়ে। প্রথম তিন ওভারের মধ্যে ফেরেন দুই ওপেনার টিম টেক্টর ও রস অ্যাডায়ার।

প্রথম ১০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে কেবল ৫৮ রান তুলতে পারে স্বাগতিকরা। তবে পরের ১০ ওভারে ৯৬ রান তুলে লড়াইয়ের পুঁজি গড়ে তারা।

তিনে নেমে ৪৭ বলে ৫৩ রান করেন টেক্টর। পাঁচ নম্বরে তিন চার ও দুই ছক্কায় ২৩ বলে ৩৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন বেন কালিৎজ। জর্জ ডকরেলের ব্যাটে থেকে ১৪ বলে ১৯ রানের ক্যামিও।

প্রথম ম্যাচে ১৮৩ রানের লক্ষ্যের পর এবার ১৫৫ ভারতের নাগালেই থাকার কথা। কিন্তু ব্যাটিং ব্যর্থতায় এবারও পেরে উঠল না তারা।