স্পোর্টস ডেস্ক :
গ্রুপসেরা হওয়ার নিশ্চয়তা আগেই মিলেছিল। তাই জর্ডানের বিপক্ষে একাধিক পরিবর্তন এনে দল নামিয়েও দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে শক্তিশালী আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসি বদলি হিসেবে নেমে আরও একটি গোল করেন। ফলে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শতভাগ জয়ের রেকর্ড নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব শেষ করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
রোববার (২৮ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় ডালাসে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘জে’-এর শেষ ম্যাচে বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলা জর্ডানের বিপক্ষে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে আর্জেন্টিনা। গ্রুপের শীর্ষস্থান আগেই নিশ্চিত হওয়ায় কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি এই ম্যাচে রিজার্ভ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেন এবং কয়েকটি কৌশলগত পরীক্ষাও চালান। তবু পুরো ম্যাচজুড়েই আধিপত্য ছিল আলবিসেলেস্তেদের।
ম্যাচের শুরুতেই জিওভানি লো সেলসো দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক থেকে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। এরপর লাউতারো মার্তিনেজের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। দ্বিতীয়ার্ধে জর্ডান একটি গোল শোধ দিলেও শেষ দিকে বদলি হিসেবে নেমে আরেকটি দৃষ্টিনন্দন ফ্রি-কিক থেকে গোল করেন লিওনেল মেসি। তার গোলেই ৩-১ ব্যবধানে সহজ জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
চলতি বিশ্বকাপে মেসির দুর্দান্ত ছন্দও অব্যাহত রয়েছে। তিন ম্যাচে ছয় গোল করে এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা পারফর্মার তিনি। জর্ডানের বিপক্ষেও নিচু শটে দেয়ালের ফাঁক গলে করা তার ফ্রি-কিকটি ছিল অনবদ্য। নকআউট পর্বের আগে তাকে পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী ও চাপমুক্ত বলেই মনে হচ্ছে।
ম্যাচটিতেই জর্ডানের এক গোল বাদে তারা আর লড়াই জমিয়ে তোলার মতো তেমন কিছুই করতে পারেনি। ৭৪ শতাংশ পজেশনের পাশাপাশি আর্জেন্টাইনদের ১১ শটের তিনটি লক্ষ্যে ছিল। বিপরীতে ৪ শটের স্রেফ একটি লক্ষ্যে রাখতে পারে জর্ডান। উল্টো আর্জেন্টিনার তিন গোলের সবকটিই নিজেদের বক্সের সামনে এবং গোলমুখে ফাউলের মাধ্যমে তারা সুযোগ করে দেয়।
ম্যাচের শুরুতে জর্ডান আগ্রাসী প্রেসিং করে আর্জেন্টিনার খেলায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে বলের দখল বেশিরভাগ সময়ই ছিল আর্জেন্টিনার পায়ে। অষ্টম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের পাস থেকে লো সেলসো বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
এরপর ১৩তম মিনিটে কর্নার থেকে নিকোলাস ওতামেন্দি হেড নিলেও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। আক্রমণের চাপ অব্যাহত রাখার ফল মেলে ১৯তম মিনিটে। বক্সের বাইরে পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে দারুণ এক শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে দলের হয়ে প্রথম গোল করেন লো সেলসো। যদিও এই ফ্রি-কিকের সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছুটা বিতর্ক ছিল, কারণ রিপ্লেতে দেখা যায় জর্ডানের ডিফেন্ডার আগে বলে স্পর্শ করেছিলেন।
গোলের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। ২৯তম মিনিটে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর পাস থেকে লাউতারো মার্টিনেজের শট ক্রসবারে লাগে। ফিরতি বলে মার্কোস সেনেসির প্রচেষ্টাও বারে আঘাত করে। ওই সময় সেনেসির মাথায় প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের পা লাগার ঘটনায় ভিএআর দেখে রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন।
৩১তম মিনিটে স্পট কিক থেকে কোনো ভুল করেননি মার্টিনেজ। নিচু শটে গোলরক্ষককে ভুল পথে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। লিওনেল মেসি মাঠে না থাকলেও পেনাল্টির দায়িত্ব নিয়ে সফল হন এই ফরোয়ার্ড।
প্রথমার্ধের বাকি সময়েও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল আর্জেন্টিনার হাতেই। জর্ডান মাঝেমধ্যে আক্রমণে উঠলেও শেষ পাস ও ফিনিশিংয়ের দুর্বলতায় বড় কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ফলে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে তেমন কোনো কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি। তাতে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আলবিসেলেস্তেরা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই জালের দেখা পান আলভারেস। মার্তিনেসের কাটব্যাকে জাল খুঁজে নেন তিনি। কিন্তু আক্রমণের শুরুতে মার্তিনেস অফসাইডে থাকায় মেলেনি গোল।
৫৪তম মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে মার্তিনেসের শট বেরিয়ে যায় ক্রসবার ছুঁয়ে!
পরের মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে গোল করে ব্যবধান কমায় জর্ডান। এহসান হাদ্দাদের ক্রসে বদলি খেলোয়াড় মৌসা আল-তামারি খুঁজে নেন জাল। ঝাঁপিয়ে হাত ছোঁয়ালেও বল ঠেকাতে পারেননি এমিলিয়ানো মার্তিনেস।
পাঁচ মিনিট পর তুমুল করতালির মধ্যে মাঠে নামেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ৬৪তম মিনিটে ফ্রি কিক লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি।
৮০তম মিনিটে বুদ্ধিদীপ্ত ফ্রি-কিকে জাল খুঁজে নেন মেসি। গোলরক্ষক ভেবেছিলেন দেওয়ালের উপর দিয়ে শট নেবেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। সেটা করেননি তিনি, দেওয়ালের পাশ ঘেঁষে বাঁকানো শট খুঁজে নেন জাল!
চেষ্টা করলেও পরে আর গোল করতে পারেনি আর্জেন্টিনা।
আগামী শনিবার মায়ামিতে শেষ বত্রিশে এই আসরের চমক কেইপ ভার্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।
স্পোর্টস ডেস্ক 
























