রোমের হোটেলকক্ষের বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন জেমস

  • বিনোদন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৮:২৮:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৮১ জন দেখেছেন

বিনোদন ডেস্ক : 

কয়েক দিন আগে ইতালির রোমে একটি কনসার্টে অংশ নেন নগরবাউল জেমস। কনসার্ট শেষে হোটেলের কক্ষ নোংরা করে রেখে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেমস ও তার সফরসঙ্গীদের বিরুদ্ধে। কেবল তাই নয়—প্রতারণা, অর্থ আত্মসাতের মতো অভিযোগও সামনে এসেছে। এসব নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর চর্চা চলছে। জেমসের মুখপাত্র রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

নগরবাউল জেমস এখন ইতালির ভেনিসে অবস্থান করছেন। সেখানে আরেকটি কনসার্ট রয়েছে। তার আগে হোটেল রুম নোংরা করার অভিযোগ নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন এই তারকা। ভেনিসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।

গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় স্থানীয় সময় অনুযায়ী ভেনিসে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন নগরবাউল। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ ছাড়া এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

জেমস বলেন, আমি ছিলাম ৩৪৫ নাম্বার রুমে। আর যে রুম নিয়ে কথা হচ্ছে, সেটি ৫৪৯ নাম্বার রুম। এই রুমে আমাদের অতিথি গিটারিস্ট ও যে কী বোর্ড বাজায় সে ছিল। তারা তরুণ। একটি হোটেলে নিয়ম হলো রুমটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। ওরা তরুণ ছেলে, পরিষ্কার করে নাই, এটা এমন কোনো বড় বিষয় না।

হোটেল কর্তৃপক্ষের জরিমানার বিষয়টি উল্লেখ করে জেমস বলেন, তরুণ মিউজিশিয়ান, সে অতিথি গিটারিস্ট হিসেবে আমেরিকা থেকে আসছে। রুম পরিষ্কার করে নাই, অনেকে রুম এমন এলোমেলো করে রাখে! হোটেল কর্তৃপক্ষ যদি ২০০ ইউরো জরিমানা করে থাকে, তাতে এমন কী হয়েছে!

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া হোটেল কক্ষের অপরিচ্ছন্ন ছবি প্রসঙ্গে জেমস বলেন, একটা হোটেলের নিয়ম কানুন আছে। যে রুম নিয়ে অভিযোগ, সেখানে কিছু ইয়াং মিউজিশিয়ান ছিল। তাদের বয়স কম, হয়তো রুম পুরোপুরি গুছিয়ে বা ক্লিন করে রাখেনি। এটা এমন কোনো বড় বিগ ডিল নয়। এমন প্রায় সব হোটেলেই এটা ঘটে। এটা এমন কিছুই না, অনেকেই রুমে অনেক কিছু রাখে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা প্রশ্ন রাখেন, পৃথিবীর যেকোনো হোটেল রুমেই মানুষের ব্যক্তিগত প্রাইভেসি থাকে। সেক্ষেত্রে সামাজিক মাধ্যমে কক্ষের ছবি ভাইরাল হওয়াটা তার প্রাইভেসিতে আঘাত করেছে কি না। জবাবে জেমস বলেন, এটা আমার রুমই না। সেক্ষেত্রে আমার প্রাইভেসির বিষয়টি আসছেই না। যে কক্ষের ভেতরের ছবি নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, সেটি আদৌ তার কক্ষ ছিল না বলে নিশ্চিত করেন এই তারকা।

হোটেল রুম নোংরা করার ব্যাপারটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের চর্চা চলছে। এ বিষয়ে আপনি আইনি পদক্ষেপ নেবেন কি না? জবাবে জেমস বলেন, এটা এত বড় কেন করতে হবে? মানুষের হাতে ফোন আছে, তারা লিখছে; যা খুশি লিখুক, এখানে বাধা দেওয়ার কী আছে! সবারই স্বাধীনতা আছে। বড় বড় রাজনীতিবিদনের বিরুদ্ধেও তো লেখা হয়!

গত ১৬ আগস্ট রোমে একটি কনসার্টে অংশ জেমস। নগরবাউল ও তার সফরসঙ্গীরা বেস্ট ওয়েস্টার্ন হোটেলের একটি অ্যাপার্টমেন্টে ওঠেন। সেই হোটেল রুমের বেশ কিছু ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যায়, রান্নাঘরের সিঙ্কেও নোংরা থালা-বাসনের পাশাপাশি কাঁচা ডিম পড়ে আছে। রুমের মেঝেতে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের পানির বোতল ও বিভিন্ন আবর্জনা পড়ে আছে। ডাইনিং টেবিলে রয়েছে ব্যবহৃত প্লেট, পলিথিনের ব্যাগ ও খাবারের উচ্ছিষ্ট।

হোটেল কর্তৃপক্ষ আয়োজক প্রতিনিধিকে পাঠানো বার্তায় রুমটির অবস্থা জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে হোটেলটির সুবিধা নিতে হলে চূড়ান্ত পরিচ্ছন্নতার জন্য অন্তত ২০০ ইউরো দিতে হবে বলেও তারা জানায়।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা প্রযুক্তিগত পর্যায়ে অব্যাহত রয়েছে : জয়সওয়াল

রোমের হোটেলকক্ষের বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন জেমস

প্রকাশের সময় : ০৮:২৮:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

বিনোদন ডেস্ক : 

কয়েক দিন আগে ইতালির রোমে একটি কনসার্টে অংশ নেন নগরবাউল জেমস। কনসার্ট শেষে হোটেলের কক্ষ নোংরা করে রেখে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেমস ও তার সফরসঙ্গীদের বিরুদ্ধে। কেবল তাই নয়—প্রতারণা, অর্থ আত্মসাতের মতো অভিযোগও সামনে এসেছে। এসব নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর চর্চা চলছে। জেমসের মুখপাত্র রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

নগরবাউল জেমস এখন ইতালির ভেনিসে অবস্থান করছেন। সেখানে আরেকটি কনসার্ট রয়েছে। তার আগে হোটেল রুম নোংরা করার অভিযোগ নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন এই তারকা। ভেনিসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।

গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় স্থানীয় সময় অনুযায়ী ভেনিসে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন নগরবাউল। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ ছাড়া এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

জেমস বলেন, আমি ছিলাম ৩৪৫ নাম্বার রুমে। আর যে রুম নিয়ে কথা হচ্ছে, সেটি ৫৪৯ নাম্বার রুম। এই রুমে আমাদের অতিথি গিটারিস্ট ও যে কী বোর্ড বাজায় সে ছিল। তারা তরুণ। একটি হোটেলে নিয়ম হলো রুমটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। ওরা তরুণ ছেলে, পরিষ্কার করে নাই, এটা এমন কোনো বড় বিষয় না।

হোটেল কর্তৃপক্ষের জরিমানার বিষয়টি উল্লেখ করে জেমস বলেন, তরুণ মিউজিশিয়ান, সে অতিথি গিটারিস্ট হিসেবে আমেরিকা থেকে আসছে। রুম পরিষ্কার করে নাই, অনেকে রুম এমন এলোমেলো করে রাখে! হোটেল কর্তৃপক্ষ যদি ২০০ ইউরো জরিমানা করে থাকে, তাতে এমন কী হয়েছে!

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া হোটেল কক্ষের অপরিচ্ছন্ন ছবি প্রসঙ্গে জেমস বলেন, একটা হোটেলের নিয়ম কানুন আছে। যে রুম নিয়ে অভিযোগ, সেখানে কিছু ইয়াং মিউজিশিয়ান ছিল। তাদের বয়স কম, হয়তো রুম পুরোপুরি গুছিয়ে বা ক্লিন করে রাখেনি। এটা এমন কোনো বড় বিগ ডিল নয়। এমন প্রায় সব হোটেলেই এটা ঘটে। এটা এমন কিছুই না, অনেকেই রুমে অনেক কিছু রাখে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা প্রশ্ন রাখেন, পৃথিবীর যেকোনো হোটেল রুমেই মানুষের ব্যক্তিগত প্রাইভেসি থাকে। সেক্ষেত্রে সামাজিক মাধ্যমে কক্ষের ছবি ভাইরাল হওয়াটা তার প্রাইভেসিতে আঘাত করেছে কি না। জবাবে জেমস বলেন, এটা আমার রুমই না। সেক্ষেত্রে আমার প্রাইভেসির বিষয়টি আসছেই না। যে কক্ষের ভেতরের ছবি নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, সেটি আদৌ তার কক্ষ ছিল না বলে নিশ্চিত করেন এই তারকা।

হোটেল রুম নোংরা করার ব্যাপারটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের চর্চা চলছে। এ বিষয়ে আপনি আইনি পদক্ষেপ নেবেন কি না? জবাবে জেমস বলেন, এটা এত বড় কেন করতে হবে? মানুষের হাতে ফোন আছে, তারা লিখছে; যা খুশি লিখুক, এখানে বাধা দেওয়ার কী আছে! সবারই স্বাধীনতা আছে। বড় বড় রাজনীতিবিদনের বিরুদ্ধেও তো লেখা হয়!

গত ১৬ আগস্ট রোমে একটি কনসার্টে অংশ জেমস। নগরবাউল ও তার সফরসঙ্গীরা বেস্ট ওয়েস্টার্ন হোটেলের একটি অ্যাপার্টমেন্টে ওঠেন। সেই হোটেল রুমের বেশ কিছু ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যায়, রান্নাঘরের সিঙ্কেও নোংরা থালা-বাসনের পাশাপাশি কাঁচা ডিম পড়ে আছে। রুমের মেঝেতে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের পানির বোতল ও বিভিন্ন আবর্জনা পড়ে আছে। ডাইনিং টেবিলে রয়েছে ব্যবহৃত প্লেট, পলিথিনের ব্যাগ ও খাবারের উচ্ছিষ্ট।

হোটেল কর্তৃপক্ষ আয়োজক প্রতিনিধিকে পাঠানো বার্তায় রুমটির অবস্থা জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে হোটেলটির সুবিধা নিতে হলে চূড়ান্ত পরিচ্ছন্নতার জন্য অন্তত ২০০ ইউরো দিতে হবে বলেও তারা জানায়।